শিরোনাম

টানা বৃষ্টিতে জমে ওঠেনি উত্তরার দিয়াবাড়ি পশুর হাট

নিজস্ব প্রতিবেদক
টানা বৃষ্টিতে জমে ওঠেনি উত্তরার দিয়াবাড়ি পশুর হাট
রাজধানীর উত্তরার দিয়াবাড়ি পশুর হাট। ছবি: সিটিজেন জার্নাল

রাজধানীর উত্তরার দিয়াবাড়ি পশুর হাটে এবার নেই ঈদের চিরচেনা জমজমাট রূপ। টানা বর্ষায় কর্দমাক্ত পুরো হাটের মাঠ। ‌এর সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে বেচাকেনায়। সোমবার (২৫ মে) উত্তরা ১৬ ও ১৮ নম্বর সেক্টর সংলগ্ন বউ বাজার অস্থায়ী পশুর হাটে গিয়ে দেখা যায়, বৈরী আবহাওয়ার কারণে ক্রেতা ও বিক্রেতা উভয়ের উপস্থিতিই তুলনামূলক কম। পর্যাপ্ত পশু নিয়ে খামারি ও বেপারিরা অপেক্ষার প্রহর গুনলেও মিলছে না কাঙ্ক্ষিত ক্রেতা।

সরেজমিনে মাঠের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে দেখা গেছে, হাটের মূল সীমানার মাঠের ভেতর বৃষ্টির পানি ও কাদা জমে থাকায় সেখানে দাঁড়ানোর কোনো পরিবেশ নেই। বাধ্য হয়ে হাটের নির্ধারিত সীমানার বাইরে রাস্তার দুই পাশে সারি সারি গরু বেঁধে রেখেছেন বেপারিরা। এমনকি উত্তরা মেট্রো স্টেশন ও মেট্রো লাইনের নিচের খালি জায়গাতেও পশুর পসরা সাজিয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে তাদের।

হতাশাজনক এ পরিস্থিতির মধ্যেও হাটের ইজারাদাররা জানিয়েছেন, গত কয়েক দিনে এ হাটে প্রায় এক লাখের মতো গরু ও ছাগল এসেছে এবং এখনো নতুন নতুন পশুর চালান আসছে। হাটে সব ধরনের ক্রেতার বাজেট উপযোগী ছোট, মাঝারি ও বড় আকারের পশু থাকলেও বর্তমানে বড় গরুর চাহিদা একেবারেই কম। ক্রেতারা মূলত ছোট ও মাঝারি গরুই বেশি খুঁজছে। তবে বৈরি আবহাওয়ার কারণে অনেক ক্রেতা ঘর থেকেই বের হতে পারছেন না বলে মনে করছেন তারা।

সার্বিক অব্যবস্থাপনা ও ভোগান্তির বিষয়ে জানতে চাইলে ইজারাদারের সহকারী চান মিয়া জানান, হাট পরিচালনায় প্রায় ২ হাজার স্বেচ্ছাসেবক সার্বক্ষণিক মাঠে কাজ করছেন। কিন্তু প্রাকৃতিক দুর্যোগের ওপর তো কারও হাত নেই, তাও তারা সাধ্যমতো সবার প্রয়োজন মেটানোর চেষ্টা করছেন। মেট্রো স্টেশনের নিচে গরু রাখার বিষয়ে তিনি বলেন, তারা বারবার মাইকিং করে স্টেশনের নিচ থেকে গরু সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দিচ্ছেন, কিন্তু বেপারিরা তা মানছেন না। তবে ১৬ নম্বর সেক্টরের রাস্তায় গরু রাখার বিষয়টি স্বীকার করে তিনি জানান, এ রাস্তাটি ইজারার শর্তের মধ্যেই অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

এদিকে হাটে আসা বিক্রেতারা পড়েছেন চরম বিপাকে। বেপারি খোরশেদ ইসলাম আক্ষেপ করে বলেন, শুরুর দিকে হাটের সবকিছু ঠিকঠাক থাকলেও টানা বৃষ্টিতে সবকিছু এলোমেলো হয়ে গেছে। এই কাদা ও পানির মধ্যে দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকা যেমন কষ্টকর, তেমনি সময়মতো প্রয়োজনীয় জিনিস পেতেও দেরি হচ্ছে। ক্রেতা না থাকায় সময় কাটানো কঠিন হয়ে পড়েছে, আর যারাও বা আসছেন, তারা গরুর উপযুক্ত দাম বলছেন না।

জামালপুর থেকে ১৩টি গরু নিয়ে আসা আবু হোসেন জানান, বৃষ্টির মধ্যে নিজেকে এবং সাধের পশুগুলোকে সুস্থ রাখাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। একই জেলা থেকে তিনটি গরু নিয়ে আসা খামারি মামুন জানান, ৩ দিন ধরে হাটে বসে থেকেও তিনি একটি গরুও বিক্রি করতে পারেননি। হাটের অধিকাংশ খামারি ও বেপারির অভিযোগ একই রকম। পশুর সরবরাহ প্রচুর হলেও ক্রেতা সংকট এবং আবহাওয়ার বৈরিতার কারণে তারা চরম লোকসানের শঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন।

তবে বিক্রেতাদের এমন অভিযোগের বিপরীতে ভিন্ন সুর শোনা গেল ক্রেতাদের কণ্ঠে। হাটে আসা কয়েকজন ক্রেতার মতে, ঈদের বাকি এখনো দুই দিন। বিক্রেতারা শেষ মুহূর্তে আরও বেশি দাম পাওয়ার আশায় এখন দাম ছাড়ছেন না এবং বেশি দামের আশায় গরু ধরে রাখছেন। মূলত এই দরকষাকষি ও বৃষ্টির কারণেই হাটের বেচাকেনা এখনো পুরোপুরি জমে ওঠেনি।

/এমএকে/