ডাকসুর মেয়াদ প্রায় শেষ, অধিকাংশ প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন হয়নি

ডাকসুর মেয়াদ প্রায় শেষ, অধিকাংশ প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন হয়নি
ঢাবি সংবাদদাতা

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনের সময় ছাত্রশিবিরের নেতৃত্বে গঠিত ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোটের পক্ষ থেকে ৩৬ দফা সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। এসব প্রতিশ্রুতির মধ্যে ডাকসু নির্বাচনকে অ্যাকাডেমিক ক্যালেন্ডারের অন্তর্ভুক্ত করে প্রতি বছর নির্ধারিত সময়ে নির্বাচন আয়োজন করা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে ফ্যাসিবাদের দোসরমুক্ত করা, ফ্যাসিবাদের চিহ্ন ও ফ্যাসিবাদী কাঠামো ব্যবস্থার সংস্কৃতি ও চর্চার পুনরুৎপাদন রোধ করা এবং গেস্টরুম, গণরুম সংস্কৃতি ফিরে আসার সব পথ রুদ্ধ করার প্রস্তাব ছিল।
এছাড়া অন্যান্য সংস্কার প্রস্তাবগুলোর মধ্যে ছিল—ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ কর্তৃক নৃশংস হামলায় জড়িত সন্ত্রাসীদের অ্যাকাডেমিক, প্রশাসনিক ও আইনি শাস্তি নিশ্চিত করা; সাম্য, মোফাজ্জল ও আবু বকর হত্যাসহ ফ্যাসিবাদী আমলে সংঘটিত সব নিপীড়নের সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত করা, প্রথম বর্ষ থেকে প্রত্যেক শিক্ষার্থীর বৈধ সিট নিশ্চিত করা, আবাসন সংকটের অস্থায়ী সমাধান হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রাইভেট প্রতিষ্ঠানের সমন্বয়ে অস্থায়ী হোস্টেল বা মাসিক আবাসন ভাতার ব্যবস্থা করা এবং স্থায়ী সমাধান হিসেবে হল নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করা।
এছাড়া নিরাপদ ও স্বাস্থ্যকর খাদ্য নিশ্চিতকরণে হল ও অন্যান্য ক্যান্টিন-ক্যাফেটেরিয়ায় পুষ্টিবিদের মাধ্যমে স্বল্পমূল্যে পুষ্টিকর খাবারের মেন্যু প্রণয়ন এবং ৩ মাস অন্তর অন্তর খাবারের মান পরীক্ষা করা, প্রত্যেক ফ্যাকাল্টিতে মানসম্মত ক্যাফেটেরিয়া ও ক্যান্টিনের ব্যবস্থা করা, আর্থিক সংকটে থাকা শিক্ষার্থীদের জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিশেষ ‘মিল ভাউচার’ চালু করা, নারী শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ পরিবহণ নিশ্চিত করারও প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল।
সংস্কার প্রস্তাবে ছাত্রী হলে পুরুষ কর্মচারী যথাসম্ভব কমিয়ে আনা এবং প্রক্টরিয়াল টিমে প্রয়োজনীয়সংখ্যক নারী সদস্য নিয়োগ দেওয়া, ছাত্রীদের জন্য ছাত্রী হলে প্রবেশের বিধিনিষেধ শিথিল করা, বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচয়পত্র প্রদর্শন সাপেক্ষে অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের হলে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া, ছাত্রী হলে অভিভাবকদের জন্য ‘গার্ডিয়ান লাউঞ্জ’ স্থাপন করা, ছাত্রীদের জন্য মাতৃত্বকালীন ছুটির বিধান কার্যকর করা, মাতৃত্বকালীন সময়ে পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য ক্লাসে উপস্থিতির বাধ্যবাধকতা শিথিল করা, কমনরুমে নারী কর্মচারী নিয়োগ দেওয়া, মা শিক্ষার্থীদের জন্য ব্রেস্ট ফিডিং রুম এবং চাইল্ড কেয়ার কর্নার স্থাপন করার কথা বলা হয়েছিল।
এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সেবাকেন্দ্রিক লালফিতার দৌরাত্ম্য নিরসন করে ‘পেপারলেস রেজিস্ট্রার বিল্ডিং’ গড়ে তোলা এবং উচ্চশিক্ষায় বিদেশে গমনেচ্ছু শিক্ষার্থীদের জন্য ওয়ান-স্টপ সার্ভিস চালু করার কথা বলা হয়েছিল।
তবে ডাকসুর মেয়াদ প্রায় শেষ হতে চললেও অনেক মৌলিক সমস্যার সমাধান হয়নি বলে মনে করছেন শিক্ষার্থীরা। আবার নানা ভালো উদ্যোগও নিয়েছে ডাকসু, যা প্রশংসা পাওয়ার যোগ্য বলে শিক্ষার্থীরা মনে করেন।
এ ব্যাপারে ডাকসু সদস্য শাহিনুর রহমান জানান, ‘ডাকসু তো আসলে এতদিনে মোটামুটি অসংখ্য কাজ করেছে। তো এটা শুধু রাজনৈতিক বক্তব্য না। আসলেই কোয়ান্টিটির ভেতরে অনেক বেশি কাজ করেছি আমরা। কিন্তু আমাদের জায়গা থেকে আমরা নিজেরাও মনে করি যে অনেক কিছু আমরা করতে পারিনি। এর কারণ অনেক ক্ষেত্রেই প্রশাসনের কাছ থেকে আমরা তেমন সহযোগিতা পাইনি।’
এ বিষয়ে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী মাশনুন স্নিগ্ধ বলেন, ডাকসুর ভিপি ইশতেহারের কয়েক গুণ বেশি কাজ করবেন বলে প্রতিশ্রুতি দিলেও এখন অবধি ইশতেহারের অর্ধেক প্রতিশ্রুতিও পূরণ করতে পারেননি।
আবাসন সংকট
শামসুন্নাহার হলের শিক্ষার্থী মেহেরুন নিসা ইলেন জানান, এক বছর পার হওয়া সত্ত্বেও হলে সিট পাননি। প্রথম ৬ মাসের জন্য আবাসন ভাতা বাবদ প্রতি মাসে মাত্র ৩ হাজার টাকা করে পেয়েছেন, যা আবাসন ভাতা হিসেবে নগণ্য। কিন্তু গত ৪ মাসে এই আবাসন ভাতাও তিনি পাননি।
জুলাইয়ের পর অবৈধভাবে অবস্থানকারী অনেকে হল ছাড়ায় ছেলেদের হলের পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলেও ছাত্রীদের জন্য সিট-সংকট এখনো তীব্র। ছাত্রশিবিরের পক্ষ থেকে প্রথম বর্ষ থেকে বৈধ সিট নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিলেও তা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি।
২০২৫ সালের জুলাইয়ে অনুমোদিত ২ হাজার ৮৪০ কোটি টাকার মেগা প্রকল্পের আওতায় পাঁচটি ছাত্র হল ও চারটি ছাত্রী হল নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি চীনের অর্থায়নে আরও একটি ছাত্রী হল অনুমোদন পেয়েছে ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে। তবে এখনো প্রকল্পগুলোর কাজ শুরু না হওয়ায় আবাসন সমস্যার দীর্ঘমেয়াদি সমাধান নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।
ছাত্রী হলে সান্ধ্য আইন
ইশতেহারে ছাত্রীদের জন্য ছাত্রী হলে প্রবেশের বিধিনিষেধ শিথিল করা, বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচয়পত্র প্রদর্শন সাপেক্ষে অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের হলে প্রবেশের অনুমতি দেওয়ার উল্লেখ থাকলেও তা পূরণে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে ডাকসু। ছাত্রী হলে নিয়মের কড়াকড়ির ফলে ছাত্রীরা সান্ধ্য আইন বাতিলের দাবি নিয়ে আন্দোলন করছে।
ছাত্রীদের প্ল্যাটফর্ম ‘অবরোধবাসিনী’ বলেছে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫৭ শতাংশ ছাত্রী আবাসিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত। নিয়মিত হলের ফি দেওয়ার পরও অনাবাসিক ছাত্রীদের হলে ঢুকে বিশ্রাম নেওয়া, খাওয়া বা রাতে থাকার সুযোগ না দেওয়ার নিয়ম নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তারা।
ছাত্রীদের মা, বোনসহ নারী স্বজনদের হলে প্রবেশের ক্ষেত্রেও যে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে, তার সমালোচনা করেছে তারা।
প্ল্যাটফর্মটির দাবি, নিরাপত্তার কথা বলে রাত ১০টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত হলে প্রবেশে যে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে, তা উল্টো রাতে চলাফেরার কারণে ছাত্রীদের হয়রানির সুযোগ তৈরি করছে।
নিরাপদ ও স্বাস্থ্যকর খাদ্যের অভাব
হল ও ক্যাফেটেরিয়ার খাবারের মান ঠিক করার প্রতিশ্রুতি দিলেও শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, খাবারের মানে কোনো উন্নতি ঘটেনি। হলগুলোর খাবার নিম্নমানের এবং ক্যান্টিন পরিচালনার দায়িত্ব যাদের কাছে দেওয়া হয়েছে, তারাও তা পূরণ করতে পারেনি।
বিভিন্ন হলের ক্যান্টিনের খাবারে কেঁচো, ব্লেড, তেলাপোকা, কাঁকড়া ও নানা ধরনের পোকামাকড় পাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, এসব ঘটনার পেছনে রয়েছে নিম্নমানের খাদ্যব্যবস্থা, দুর্বল তদারকি ও জবাবদিহির সংকট।
সম্প্রতি ৫ জুলাই শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হলের প্রধান ক্যান্টিনের তরকারিতে ধারালো ব্লেড পাওয়ার অভিযোগ করেন এক শিক্ষার্থী। অভিযোগের পর হল সংসদ ক্যান্টিনটি সাময়িকভাবে বন্ধ করে দিলেও কয়েক দিন পর আবার চালু হয়। চালুর পর ওই ক্যান্টিনের খাবারে ২৩ জুলাই তেলাপোকা ও ২৫ জুলাই কেঁচো পাওয়ার অভিযোগ ওঠে। একই অবস্থা বেশিরভাগ হলের।
রোকেয়া হলের শিক্ষার্থী ফারিয়া আজাদ নোভা বলেন, ‘হলের খাবার অনেক নিম্নমানের। কিছুদিন আগেও হলের খাবার খেয়ে ফুড পয়জনিং হয়েছে। আমার হলের অনেকেরই এই একই অবস্থা।’
মানসম্মত ক্যাফেটেরিয়া ও ক্যান্টিনের অভাব
ইশতেহারে প্রত্যেক ফ্যাকাল্টিতে মানসম্মত ক্যাফেটেরিয়া ও ক্যান্টিনের ব্যবস্থা করার উল্লেখ থাকলেও তার তেমন অগ্রগতি দেখা যায়নি। ঢাবির সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদে ১৬টি বিভাগ রয়েছে। এই ১৬টি বিভাগের শিক্ষার্থীদের অনেক দিনের দাবি ছিল অনুষদের নিচতলায় একটি মানসম্মত ক্যাফেটেরিয়া স্থাপন। অথচ ডাকসু এ ব্যাপারে কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করেনি। এছাড়া অ্যানেক্স ভবনে ক্যান্টিন না থাকায় আইন বিভাগের শিক্ষার্থীদের বিড়ম্বনায় পড়তে হয়।
আর্থিক সংকটে থাকা শিক্ষার্থীদের জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিশেষ ‘মিল ভাউচার’ চালু করার কথা বলা হলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি।
এ ব্যাপারে ডাকসু সদস্য শাহিনুর রহমান জানান, ‘ সমস্যায় থাকা শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ মিল ভাউচার চালু করতে পারিনি। এটা একটা বড় প্রতিশ্রুতি ছিল। আমরা বিভিন্ন সময় আলাপ করেছি, উদ্যোগ নিয়েছি। কিন্তু আমরা যে উদ্যোগ নিতে চাই, সেটাতেই প্রশাসনসহযোগিতা করতে চায় না। দেখা গেছে যে, আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের যে কোষাগার কিংবা বিশ্ববিদ্যালয়ের যে আর্থিক ব্যাপার-সাপার, সবগুলো ট্রেজারার দেখেন। উনার কাছে যাওয়ার পরই আমাদের সবকিছু উনি আটকে দেন।’
ডাকসু সদস্য সর্বমিত্র চাকমা জানান, ‘প্রশাসনের কাছে আমরা ক্যান্টিনের দাবি নিয়ে গিয়েছিলাম, তবে প্রশাসন এ ব্যাপারে আমাদের সহযোগিতা করেনি।’
অবাস্তব ‘পেপারলেস রেজিস্ট্রার বিল্ডিং’
প্রশাসনিক জটিলতা নিয়েও শিক্ষার্থীদের অসন্তোষ রয়েছে। বিভিন্ন দপ্তরে দীর্ঘসূত্রতা, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা এবং অসদাচরণের অভিযোগ প্রায়ই উঠে আসে। ডাকসু ইশতেহারে ‘পেপারলেস রেজিস্ট্রার বিল্ডিং’ এবং উচ্চশিক্ষায় আগ্রহী শিক্ষার্থীদের জন্য ‘ওয়ান-স্টপ সার্ভিস’ চালুর প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। তবে এসব উদ্যোগ এখনো বাস্তবায়নের মুখ দেখেনি।
সম্প্রতি নথি যাচাই জটিলতায় কয়েকজন শিক্ষার্থীর বিদেশে উচ্চশিক্ষার সুযোগ হারানোর ঘটনাও প্রশাসনিক সংস্কারের প্রয়োজনীয়তাকে সামনে এনেছে। অ্যাকাডেমিক ক্ষেত্রেও অসন্তোষ বাড়ছে। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, কিছু শিক্ষকের মধ্যে অ্যাকাডেমিক দায়বদ্ধতার অভাব, বিতর্কিত নিয়োগপ্রক্রিয়া এবং কার্যকর মেন্টরশিপ ব্যবস্থার অনুপস্থিতি শিক্ষার পরিবেশকে ব্যাহত করছে।
সাম্য, মোফাজ্জল ও আবু বকর হত্যার বিচার নিশ্চিতে ব্যর্থতা
ইশতেহারে সাম্য, মোফাজ্জল ও আবু বকরের হত্যাকাণ্ডের বিচার নিশ্চিতে ব্যবস্থা করার কথা থাকলেও এখনো এ ব্যাপারে বেশিদূর যেতে পারেনি ডাকসু।
ডাকসু জিএস এস এম ফরহাদ জানান, ‘আমরা এ ব্যাপারে চেষ্টা চালিয়ে গিয়েছি। কিছুদিন আগেও ভিসির সঙ্গে এ ব্যাপারে মিটিংয়ে বসেছি।’
ডাকসু সদস্য শাহিনুর রহমান বলেন, ‘আমাদের ব্যর্থতা আমরা স্বীকার করি যে এখনো এর সুষ্ঠু বিচার আদায় করা সম্ভব হয়নি। ডাকসু শুরু থেকেই এ বিষয়ে নানা কর্মসূচি ও বিবৃতি দিয়ে আসছে। এমনকি শহীদ আবু বকরের শাহাদাতবার্ষিকীতেও কর্মসূচি পালন করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান,‘‘গত সরকারের আমলে আমরা দেখেছি সাম্য হত্যাকে দলীয়করণ করে সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা হয়েছিল। কিন্তু বর্তমান বিএনপি সরকারের আমলেও এ-সংক্রান্ত কোনো কার্যকর উদ্যোগ বা তদন্ত কমিটির সঠিক রিপোর্ট পাওয়া যায়নি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে বারবার দাবি জানানো হলেও দৃশ্যমান কোনো ফিডব্যাক মেলেনি। এছাড়া সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদ ক্যান্টিন স্থাপনের বিষয়টি নিয়ে আমি ব্যক্তিগতভাবে কাজ করে যাচ্ছি।’
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের পপুলেশন সায়েন্সের শিক্ষার্থী শাহরিয়ার কবির জানান, ‘শিবির প্যানেল থেকে প্রদত্ত ইশতেহারে গুরুত্বপূর্ণ একটি পয়েন্ট ছিল ছাত্রদল নেতা শাহরিয়ার সাম্য হত্যার বিচার করা। কিন্তু দুঃখের বিষয়, তারা একজন মৃত মানুষকে কেন্দ্র করে রাজনীতি করলেও এক বছরে এ বিষয়ে কোনো রকমের পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি। যা একজন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থী হিসেবে পীড়া দেয়।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনের সময় ছাত্রশিবিরের নেতৃত্বে গঠিত ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোটের পক্ষ থেকে ৩৬ দফা সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। এসব প্রতিশ্রুতির মধ্যে ডাকসু নির্বাচনকে অ্যাকাডেমিক ক্যালেন্ডারের অন্তর্ভুক্ত করে প্রতি বছর নির্ধারিত সময়ে নির্বাচন আয়োজন করা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে ফ্যাসিবাদের দোসরমুক্ত করা, ফ্যাসিবাদের চিহ্ন ও ফ্যাসিবাদী কাঠামো ব্যবস্থার সংস্কৃতি ও চর্চার পুনরুৎপাদন রোধ করা এবং গেস্টরুম, গণরুম সংস্কৃতি ফিরে আসার সব পথ রুদ্ধ করার প্রস্তাব ছিল।
এছাড়া অন্যান্য সংস্কার প্রস্তাবগুলোর মধ্যে ছিল—ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ কর্তৃক নৃশংস হামলায় জড়িত সন্ত্রাসীদের অ্যাকাডেমিক, প্রশাসনিক ও আইনি শাস্তি নিশ্চিত করা; সাম্য, মোফাজ্জল ও আবু বকর হত্যাসহ ফ্যাসিবাদী আমলে সংঘটিত সব নিপীড়নের সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত করা, প্রথম বর্ষ থেকে প্রত্যেক শিক্ষার্থীর বৈধ সিট নিশ্চিত করা, আবাসন সংকটের অস্থায়ী সমাধান হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রাইভেট প্রতিষ্ঠানের সমন্বয়ে অস্থায়ী হোস্টেল বা মাসিক আবাসন ভাতার ব্যবস্থা করা এবং স্থায়ী সমাধান হিসেবে হল নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করা।
এছাড়া নিরাপদ ও স্বাস্থ্যকর খাদ্য নিশ্চিতকরণে হল ও অন্যান্য ক্যান্টিন-ক্যাফেটেরিয়ায় পুষ্টিবিদের মাধ্যমে স্বল্পমূল্যে পুষ্টিকর খাবারের মেন্যু প্রণয়ন এবং ৩ মাস অন্তর অন্তর খাবারের মান পরীক্ষা করা, প্রত্যেক ফ্যাকাল্টিতে মানসম্মত ক্যাফেটেরিয়া ও ক্যান্টিনের ব্যবস্থা করা, আর্থিক সংকটে থাকা শিক্ষার্থীদের জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিশেষ ‘মিল ভাউচার’ চালু করা, নারী শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ পরিবহণ নিশ্চিত করারও প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল।
সংস্কার প্রস্তাবে ছাত্রী হলে পুরুষ কর্মচারী যথাসম্ভব কমিয়ে আনা এবং প্রক্টরিয়াল টিমে প্রয়োজনীয়সংখ্যক নারী সদস্য নিয়োগ দেওয়া, ছাত্রীদের জন্য ছাত্রী হলে প্রবেশের বিধিনিষেধ শিথিল করা, বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচয়পত্র প্রদর্শন সাপেক্ষে অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের হলে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া, ছাত্রী হলে অভিভাবকদের জন্য ‘গার্ডিয়ান লাউঞ্জ’ স্থাপন করা, ছাত্রীদের জন্য মাতৃত্বকালীন ছুটির বিধান কার্যকর করা, মাতৃত্বকালীন সময়ে পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য ক্লাসে উপস্থিতির বাধ্যবাধকতা শিথিল করা, কমনরুমে নারী কর্মচারী নিয়োগ দেওয়া, মা শিক্ষার্থীদের জন্য ব্রেস্ট ফিডিং রুম এবং চাইল্ড কেয়ার কর্নার স্থাপন করার কথা বলা হয়েছিল।
এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সেবাকেন্দ্রিক লালফিতার দৌরাত্ম্য নিরসন করে ‘পেপারলেস রেজিস্ট্রার বিল্ডিং’ গড়ে তোলা এবং উচ্চশিক্ষায় বিদেশে গমনেচ্ছু শিক্ষার্থীদের জন্য ওয়ান-স্টপ সার্ভিস চালু করার কথা বলা হয়েছিল।
তবে ডাকসুর মেয়াদ প্রায় শেষ হতে চললেও অনেক মৌলিক সমস্যার সমাধান হয়নি বলে মনে করছেন শিক্ষার্থীরা। আবার নানা ভালো উদ্যোগও নিয়েছে ডাকসু, যা প্রশংসা পাওয়ার যোগ্য বলে শিক্ষার্থীরা মনে করেন।
এ ব্যাপারে ডাকসু সদস্য শাহিনুর রহমান জানান, ‘ডাকসু তো আসলে এতদিনে মোটামুটি অসংখ্য কাজ করেছে। তো এটা শুধু রাজনৈতিক বক্তব্য না। আসলেই কোয়ান্টিটির ভেতরে অনেক বেশি কাজ করেছি আমরা। কিন্তু আমাদের জায়গা থেকে আমরা নিজেরাও মনে করি যে অনেক কিছু আমরা করতে পারিনি। এর কারণ অনেক ক্ষেত্রেই প্রশাসনের কাছ থেকে আমরা তেমন সহযোগিতা পাইনি।’
এ বিষয়ে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী মাশনুন স্নিগ্ধ বলেন, ডাকসুর ভিপি ইশতেহারের কয়েক গুণ বেশি কাজ করবেন বলে প্রতিশ্রুতি দিলেও এখন অবধি ইশতেহারের অর্ধেক প্রতিশ্রুতিও পূরণ করতে পারেননি।
আবাসন সংকট
শামসুন্নাহার হলের শিক্ষার্থী মেহেরুন নিসা ইলেন জানান, এক বছর পার হওয়া সত্ত্বেও হলে সিট পাননি। প্রথম ৬ মাসের জন্য আবাসন ভাতা বাবদ প্রতি মাসে মাত্র ৩ হাজার টাকা করে পেয়েছেন, যা আবাসন ভাতা হিসেবে নগণ্য। কিন্তু গত ৪ মাসে এই আবাসন ভাতাও তিনি পাননি।
জুলাইয়ের পর অবৈধভাবে অবস্থানকারী অনেকে হল ছাড়ায় ছেলেদের হলের পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলেও ছাত্রীদের জন্য সিট-সংকট এখনো তীব্র। ছাত্রশিবিরের পক্ষ থেকে প্রথম বর্ষ থেকে বৈধ সিট নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিলেও তা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি।
২০২৫ সালের জুলাইয়ে অনুমোদিত ২ হাজার ৮৪০ কোটি টাকার মেগা প্রকল্পের আওতায় পাঁচটি ছাত্র হল ও চারটি ছাত্রী হল নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি চীনের অর্থায়নে আরও একটি ছাত্রী হল অনুমোদন পেয়েছে ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে। তবে এখনো প্রকল্পগুলোর কাজ শুরু না হওয়ায় আবাসন সমস্যার দীর্ঘমেয়াদি সমাধান নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।
ছাত্রী হলে সান্ধ্য আইন
ইশতেহারে ছাত্রীদের জন্য ছাত্রী হলে প্রবেশের বিধিনিষেধ শিথিল করা, বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচয়পত্র প্রদর্শন সাপেক্ষে অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের হলে প্রবেশের অনুমতি দেওয়ার উল্লেখ থাকলেও তা পূরণে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে ডাকসু। ছাত্রী হলে নিয়মের কড়াকড়ির ফলে ছাত্রীরা সান্ধ্য আইন বাতিলের দাবি নিয়ে আন্দোলন করছে।
ছাত্রীদের প্ল্যাটফর্ম ‘অবরোধবাসিনী’ বলেছে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫৭ শতাংশ ছাত্রী আবাসিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত। নিয়মিত হলের ফি দেওয়ার পরও অনাবাসিক ছাত্রীদের হলে ঢুকে বিশ্রাম নেওয়া, খাওয়া বা রাতে থাকার সুযোগ না দেওয়ার নিয়ম নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তারা।
ছাত্রীদের মা, বোনসহ নারী স্বজনদের হলে প্রবেশের ক্ষেত্রেও যে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে, তার সমালোচনা করেছে তারা।
প্ল্যাটফর্মটির দাবি, নিরাপত্তার কথা বলে রাত ১০টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত হলে প্রবেশে যে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে, তা উল্টো রাতে চলাফেরার কারণে ছাত্রীদের হয়রানির সুযোগ তৈরি করছে।
নিরাপদ ও স্বাস্থ্যকর খাদ্যের অভাব
হল ও ক্যাফেটেরিয়ার খাবারের মান ঠিক করার প্রতিশ্রুতি দিলেও শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, খাবারের মানে কোনো উন্নতি ঘটেনি। হলগুলোর খাবার নিম্নমানের এবং ক্যান্টিন পরিচালনার দায়িত্ব যাদের কাছে দেওয়া হয়েছে, তারাও তা পূরণ করতে পারেনি।
বিভিন্ন হলের ক্যান্টিনের খাবারে কেঁচো, ব্লেড, তেলাপোকা, কাঁকড়া ও নানা ধরনের পোকামাকড় পাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, এসব ঘটনার পেছনে রয়েছে নিম্নমানের খাদ্যব্যবস্থা, দুর্বল তদারকি ও জবাবদিহির সংকট।
সম্প্রতি ৫ জুলাই শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হলের প্রধান ক্যান্টিনের তরকারিতে ধারালো ব্লেড পাওয়ার অভিযোগ করেন এক শিক্ষার্থী। অভিযোগের পর হল সংসদ ক্যান্টিনটি সাময়িকভাবে বন্ধ করে দিলেও কয়েক দিন পর আবার চালু হয়। চালুর পর ওই ক্যান্টিনের খাবারে ২৩ জুলাই তেলাপোকা ও ২৫ জুলাই কেঁচো পাওয়ার অভিযোগ ওঠে। একই অবস্থা বেশিরভাগ হলের।
রোকেয়া হলের শিক্ষার্থী ফারিয়া আজাদ নোভা বলেন, ‘হলের খাবার অনেক নিম্নমানের। কিছুদিন আগেও হলের খাবার খেয়ে ফুড পয়জনিং হয়েছে। আমার হলের অনেকেরই এই একই অবস্থা।’
মানসম্মত ক্যাফেটেরিয়া ও ক্যান্টিনের অভাব
ইশতেহারে প্রত্যেক ফ্যাকাল্টিতে মানসম্মত ক্যাফেটেরিয়া ও ক্যান্টিনের ব্যবস্থা করার উল্লেখ থাকলেও তার তেমন অগ্রগতি দেখা যায়নি। ঢাবির সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদে ১৬টি বিভাগ রয়েছে। এই ১৬টি বিভাগের শিক্ষার্থীদের অনেক দিনের দাবি ছিল অনুষদের নিচতলায় একটি মানসম্মত ক্যাফেটেরিয়া স্থাপন। অথচ ডাকসু এ ব্যাপারে কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করেনি। এছাড়া অ্যানেক্স ভবনে ক্যান্টিন না থাকায় আইন বিভাগের শিক্ষার্থীদের বিড়ম্বনায় পড়তে হয়।
আর্থিক সংকটে থাকা শিক্ষার্থীদের জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিশেষ ‘মিল ভাউচার’ চালু করার কথা বলা হলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি।
এ ব্যাপারে ডাকসু সদস্য শাহিনুর রহমান জানান, ‘ সমস্যায় থাকা শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ মিল ভাউচার চালু করতে পারিনি। এটা একটা বড় প্রতিশ্রুতি ছিল। আমরা বিভিন্ন সময় আলাপ করেছি, উদ্যোগ নিয়েছি। কিন্তু আমরা যে উদ্যোগ নিতে চাই, সেটাতেই প্রশাসনসহযোগিতা করতে চায় না। দেখা গেছে যে, আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের যে কোষাগার কিংবা বিশ্ববিদ্যালয়ের যে আর্থিক ব্যাপার-সাপার, সবগুলো ট্রেজারার দেখেন। উনার কাছে যাওয়ার পরই আমাদের সবকিছু উনি আটকে দেন।’
ডাকসু সদস্য সর্বমিত্র চাকমা জানান, ‘প্রশাসনের কাছে আমরা ক্যান্টিনের দাবি নিয়ে গিয়েছিলাম, তবে প্রশাসন এ ব্যাপারে আমাদের সহযোগিতা করেনি।’
অবাস্তব ‘পেপারলেস রেজিস্ট্রার বিল্ডিং’
প্রশাসনিক জটিলতা নিয়েও শিক্ষার্থীদের অসন্তোষ রয়েছে। বিভিন্ন দপ্তরে দীর্ঘসূত্রতা, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা এবং অসদাচরণের অভিযোগ প্রায়ই উঠে আসে। ডাকসু ইশতেহারে ‘পেপারলেস রেজিস্ট্রার বিল্ডিং’ এবং উচ্চশিক্ষায় আগ্রহী শিক্ষার্থীদের জন্য ‘ওয়ান-স্টপ সার্ভিস’ চালুর প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। তবে এসব উদ্যোগ এখনো বাস্তবায়নের মুখ দেখেনি।
সম্প্রতি নথি যাচাই জটিলতায় কয়েকজন শিক্ষার্থীর বিদেশে উচ্চশিক্ষার সুযোগ হারানোর ঘটনাও প্রশাসনিক সংস্কারের প্রয়োজনীয়তাকে সামনে এনেছে। অ্যাকাডেমিক ক্ষেত্রেও অসন্তোষ বাড়ছে। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, কিছু শিক্ষকের মধ্যে অ্যাকাডেমিক দায়বদ্ধতার অভাব, বিতর্কিত নিয়োগপ্রক্রিয়া এবং কার্যকর মেন্টরশিপ ব্যবস্থার অনুপস্থিতি শিক্ষার পরিবেশকে ব্যাহত করছে।
সাম্য, মোফাজ্জল ও আবু বকর হত্যার বিচার নিশ্চিতে ব্যর্থতা
ইশতেহারে সাম্য, মোফাজ্জল ও আবু বকরের হত্যাকাণ্ডের বিচার নিশ্চিতে ব্যবস্থা করার কথা থাকলেও এখনো এ ব্যাপারে বেশিদূর যেতে পারেনি ডাকসু।
ডাকসু জিএস এস এম ফরহাদ জানান, ‘আমরা এ ব্যাপারে চেষ্টা চালিয়ে গিয়েছি। কিছুদিন আগেও ভিসির সঙ্গে এ ব্যাপারে মিটিংয়ে বসেছি।’
ডাকসু সদস্য শাহিনুর রহমান বলেন, ‘আমাদের ব্যর্থতা আমরা স্বীকার করি যে এখনো এর সুষ্ঠু বিচার আদায় করা সম্ভব হয়নি। ডাকসু শুরু থেকেই এ বিষয়ে নানা কর্মসূচি ও বিবৃতি দিয়ে আসছে। এমনকি শহীদ আবু বকরের শাহাদাতবার্ষিকীতেও কর্মসূচি পালন করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান,‘‘গত সরকারের আমলে আমরা দেখেছি সাম্য হত্যাকে দলীয়করণ করে সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা হয়েছিল। কিন্তু বর্তমান বিএনপি সরকারের আমলেও এ-সংক্রান্ত কোনো কার্যকর উদ্যোগ বা তদন্ত কমিটির সঠিক রিপোর্ট পাওয়া যায়নি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে বারবার দাবি জানানো হলেও দৃশ্যমান কোনো ফিডব্যাক মেলেনি। এছাড়া সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদ ক্যান্টিন স্থাপনের বিষয়টি নিয়ে আমি ব্যক্তিগতভাবে কাজ করে যাচ্ছি।’
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের পপুলেশন সায়েন্সের শিক্ষার্থী শাহরিয়ার কবির জানান, ‘শিবির প্যানেল থেকে প্রদত্ত ইশতেহারে গুরুত্বপূর্ণ একটি পয়েন্ট ছিল ছাত্রদল নেতা শাহরিয়ার সাম্য হত্যার বিচার করা। কিন্তু দুঃখের বিষয়, তারা একজন মৃত মানুষকে কেন্দ্র করে রাজনীতি করলেও এক বছরে এ বিষয়ে কোনো রকমের পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি। যা একজন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থী হিসেবে পীড়া দেয়।’

ডাকসুর মেয়াদ প্রায় শেষ, অধিকাংশ প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন হয়নি
ঢাবি সংবাদদাতা

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনের সময় ছাত্রশিবিরের নেতৃত্বে গঠিত ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোটের পক্ষ থেকে ৩৬ দফা সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। এসব প্রতিশ্রুতির মধ্যে ডাকসু নির্বাচনকে অ্যাকাডেমিক ক্যালেন্ডারের অন্তর্ভুক্ত করে প্রতি বছর নির্ধারিত সময়ে নির্বাচন আয়োজন করা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে ফ্যাসিবাদের দোসরমুক্ত করা, ফ্যাসিবাদের চিহ্ন ও ফ্যাসিবাদী কাঠামো ব্যবস্থার সংস্কৃতি ও চর্চার পুনরুৎপাদন রোধ করা এবং গেস্টরুম, গণরুম সংস্কৃতি ফিরে আসার সব পথ রুদ্ধ করার প্রস্তাব ছিল।
এছাড়া অন্যান্য সংস্কার প্রস্তাবগুলোর মধ্যে ছিল—ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ কর্তৃক নৃশংস হামলায় জড়িত সন্ত্রাসীদের অ্যাকাডেমিক, প্রশাসনিক ও আইনি শাস্তি নিশ্চিত করা; সাম্য, মোফাজ্জল ও আবু বকর হত্যাসহ ফ্যাসিবাদী আমলে সংঘটিত সব নিপীড়নের সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত করা, প্রথম বর্ষ থেকে প্রত্যেক শিক্ষার্থীর বৈধ সিট নিশ্চিত করা, আবাসন সংকটের অস্থায়ী সমাধান হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রাইভেট প্রতিষ্ঠানের সমন্বয়ে অস্থায়ী হোস্টেল বা মাসিক আবাসন ভাতার ব্যবস্থা করা এবং স্থায়ী সমাধান হিসেবে হল নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করা।
এছাড়া নিরাপদ ও স্বাস্থ্যকর খাদ্য নিশ্চিতকরণে হল ও অন্যান্য ক্যান্টিন-ক্যাফেটেরিয়ায় পুষ্টিবিদের মাধ্যমে স্বল্পমূল্যে পুষ্টিকর খাবারের মেন্যু প্রণয়ন এবং ৩ মাস অন্তর অন্তর খাবারের মান পরীক্ষা করা, প্রত্যেক ফ্যাকাল্টিতে মানসম্মত ক্যাফেটেরিয়া ও ক্যান্টিনের ব্যবস্থা করা, আর্থিক সংকটে থাকা শিক্ষার্থীদের জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিশেষ ‘মিল ভাউচার’ চালু করা, নারী শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ পরিবহণ নিশ্চিত করারও প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল।
সংস্কার প্রস্তাবে ছাত্রী হলে পুরুষ কর্মচারী যথাসম্ভব কমিয়ে আনা এবং প্রক্টরিয়াল টিমে প্রয়োজনীয়সংখ্যক নারী সদস্য নিয়োগ দেওয়া, ছাত্রীদের জন্য ছাত্রী হলে প্রবেশের বিধিনিষেধ শিথিল করা, বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচয়পত্র প্রদর্শন সাপেক্ষে অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের হলে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া, ছাত্রী হলে অভিভাবকদের জন্য ‘গার্ডিয়ান লাউঞ্জ’ স্থাপন করা, ছাত্রীদের জন্য মাতৃত্বকালীন ছুটির বিধান কার্যকর করা, মাতৃত্বকালীন সময়ে পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য ক্লাসে উপস্থিতির বাধ্যবাধকতা শিথিল করা, কমনরুমে নারী কর্মচারী নিয়োগ দেওয়া, মা শিক্ষার্থীদের জন্য ব্রেস্ট ফিডিং রুম এবং চাইল্ড কেয়ার কর্নার স্থাপন করার কথা বলা হয়েছিল।
এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সেবাকেন্দ্রিক লালফিতার দৌরাত্ম্য নিরসন করে ‘পেপারলেস রেজিস্ট্রার বিল্ডিং’ গড়ে তোলা এবং উচ্চশিক্ষায় বিদেশে গমনেচ্ছু শিক্ষার্থীদের জন্য ওয়ান-স্টপ সার্ভিস চালু করার কথা বলা হয়েছিল।
তবে ডাকসুর মেয়াদ প্রায় শেষ হতে চললেও অনেক মৌলিক সমস্যার সমাধান হয়নি বলে মনে করছেন শিক্ষার্থীরা। আবার নানা ভালো উদ্যোগও নিয়েছে ডাকসু, যা প্রশংসা পাওয়ার যোগ্য বলে শিক্ষার্থীরা মনে করেন।
এ ব্যাপারে ডাকসু সদস্য শাহিনুর রহমান জানান, ‘ডাকসু তো আসলে এতদিনে মোটামুটি অসংখ্য কাজ করেছে। তো এটা শুধু রাজনৈতিক বক্তব্য না। আসলেই কোয়ান্টিটির ভেতরে অনেক বেশি কাজ করেছি আমরা। কিন্তু আমাদের জায়গা থেকে আমরা নিজেরাও মনে করি যে অনেক কিছু আমরা করতে পারিনি। এর কারণ অনেক ক্ষেত্রেই প্রশাসনের কাছ থেকে আমরা তেমন সহযোগিতা পাইনি।’
এ বিষয়ে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী মাশনুন স্নিগ্ধ বলেন, ডাকসুর ভিপি ইশতেহারের কয়েক গুণ বেশি কাজ করবেন বলে প্রতিশ্রুতি দিলেও এখন অবধি ইশতেহারের অর্ধেক প্রতিশ্রুতিও পূরণ করতে পারেননি।
আবাসন সংকট
শামসুন্নাহার হলের শিক্ষার্থী মেহেরুন নিসা ইলেন জানান, এক বছর পার হওয়া সত্ত্বেও হলে সিট পাননি। প্রথম ৬ মাসের জন্য আবাসন ভাতা বাবদ প্রতি মাসে মাত্র ৩ হাজার টাকা করে পেয়েছেন, যা আবাসন ভাতা হিসেবে নগণ্য। কিন্তু গত ৪ মাসে এই আবাসন ভাতাও তিনি পাননি।
জুলাইয়ের পর অবৈধভাবে অবস্থানকারী অনেকে হল ছাড়ায় ছেলেদের হলের পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলেও ছাত্রীদের জন্য সিট-সংকট এখনো তীব্র। ছাত্রশিবিরের পক্ষ থেকে প্রথম বর্ষ থেকে বৈধ সিট নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিলেও তা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি।
২০২৫ সালের জুলাইয়ে অনুমোদিত ২ হাজার ৮৪০ কোটি টাকার মেগা প্রকল্পের আওতায় পাঁচটি ছাত্র হল ও চারটি ছাত্রী হল নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি চীনের অর্থায়নে আরও একটি ছাত্রী হল অনুমোদন পেয়েছে ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে। তবে এখনো প্রকল্পগুলোর কাজ শুরু না হওয়ায় আবাসন সমস্যার দীর্ঘমেয়াদি সমাধান নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।
ছাত্রী হলে সান্ধ্য আইন
ইশতেহারে ছাত্রীদের জন্য ছাত্রী হলে প্রবেশের বিধিনিষেধ শিথিল করা, বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচয়পত্র প্রদর্শন সাপেক্ষে অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের হলে প্রবেশের অনুমতি দেওয়ার উল্লেখ থাকলেও তা পূরণে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে ডাকসু। ছাত্রী হলে নিয়মের কড়াকড়ির ফলে ছাত্রীরা সান্ধ্য আইন বাতিলের দাবি নিয়ে আন্দোলন করছে।
ছাত্রীদের প্ল্যাটফর্ম ‘অবরোধবাসিনী’ বলেছে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫৭ শতাংশ ছাত্রী আবাসিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত। নিয়মিত হলের ফি দেওয়ার পরও অনাবাসিক ছাত্রীদের হলে ঢুকে বিশ্রাম নেওয়া, খাওয়া বা রাতে থাকার সুযোগ না দেওয়ার নিয়ম নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তারা।
ছাত্রীদের মা, বোনসহ নারী স্বজনদের হলে প্রবেশের ক্ষেত্রেও যে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে, তার সমালোচনা করেছে তারা।
প্ল্যাটফর্মটির দাবি, নিরাপত্তার কথা বলে রাত ১০টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত হলে প্রবেশে যে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে, তা উল্টো রাতে চলাফেরার কারণে ছাত্রীদের হয়রানির সুযোগ তৈরি করছে।
নিরাপদ ও স্বাস্থ্যকর খাদ্যের অভাব
হল ও ক্যাফেটেরিয়ার খাবারের মান ঠিক করার প্রতিশ্রুতি দিলেও শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, খাবারের মানে কোনো উন্নতি ঘটেনি। হলগুলোর খাবার নিম্নমানের এবং ক্যান্টিন পরিচালনার দায়িত্ব যাদের কাছে দেওয়া হয়েছে, তারাও তা পূরণ করতে পারেনি।
বিভিন্ন হলের ক্যান্টিনের খাবারে কেঁচো, ব্লেড, তেলাপোকা, কাঁকড়া ও নানা ধরনের পোকামাকড় পাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, এসব ঘটনার পেছনে রয়েছে নিম্নমানের খাদ্যব্যবস্থা, দুর্বল তদারকি ও জবাবদিহির সংকট।
সম্প্রতি ৫ জুলাই শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হলের প্রধান ক্যান্টিনের তরকারিতে ধারালো ব্লেড পাওয়ার অভিযোগ করেন এক শিক্ষার্থী। অভিযোগের পর হল সংসদ ক্যান্টিনটি সাময়িকভাবে বন্ধ করে দিলেও কয়েক দিন পর আবার চালু হয়। চালুর পর ওই ক্যান্টিনের খাবারে ২৩ জুলাই তেলাপোকা ও ২৫ জুলাই কেঁচো পাওয়ার অভিযোগ ওঠে। একই অবস্থা বেশিরভাগ হলের।
রোকেয়া হলের শিক্ষার্থী ফারিয়া আজাদ নোভা বলেন, ‘হলের খাবার অনেক নিম্নমানের। কিছুদিন আগেও হলের খাবার খেয়ে ফুড পয়জনিং হয়েছে। আমার হলের অনেকেরই এই একই অবস্থা।’
মানসম্মত ক্যাফেটেরিয়া ও ক্যান্টিনের অভাব
ইশতেহারে প্রত্যেক ফ্যাকাল্টিতে মানসম্মত ক্যাফেটেরিয়া ও ক্যান্টিনের ব্যবস্থা করার উল্লেখ থাকলেও তার তেমন অগ্রগতি দেখা যায়নি। ঢাবির সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদে ১৬টি বিভাগ রয়েছে। এই ১৬টি বিভাগের শিক্ষার্থীদের অনেক দিনের দাবি ছিল অনুষদের নিচতলায় একটি মানসম্মত ক্যাফেটেরিয়া স্থাপন। অথচ ডাকসু এ ব্যাপারে কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করেনি। এছাড়া অ্যানেক্স ভবনে ক্যান্টিন না থাকায় আইন বিভাগের শিক্ষার্থীদের বিড়ম্বনায় পড়তে হয়।
আর্থিক সংকটে থাকা শিক্ষার্থীদের জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিশেষ ‘মিল ভাউচার’ চালু করার কথা বলা হলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি।
এ ব্যাপারে ডাকসু সদস্য শাহিনুর রহমান জানান, ‘ সমস্যায় থাকা শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ মিল ভাউচার চালু করতে পারিনি। এটা একটা বড় প্রতিশ্রুতি ছিল। আমরা বিভিন্ন সময় আলাপ করেছি, উদ্যোগ নিয়েছি। কিন্তু আমরা যে উদ্যোগ নিতে চাই, সেটাতেই প্রশাসনসহযোগিতা করতে চায় না। দেখা গেছে যে, আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের যে কোষাগার কিংবা বিশ্ববিদ্যালয়ের যে আর্থিক ব্যাপার-সাপার, সবগুলো ট্রেজারার দেখেন। উনার কাছে যাওয়ার পরই আমাদের সবকিছু উনি আটকে দেন।’
ডাকসু সদস্য সর্বমিত্র চাকমা জানান, ‘প্রশাসনের কাছে আমরা ক্যান্টিনের দাবি নিয়ে গিয়েছিলাম, তবে প্রশাসন এ ব্যাপারে আমাদের সহযোগিতা করেনি।’
অবাস্তব ‘পেপারলেস রেজিস্ট্রার বিল্ডিং’
প্রশাসনিক জটিলতা নিয়েও শিক্ষার্থীদের অসন্তোষ রয়েছে। বিভিন্ন দপ্তরে দীর্ঘসূত্রতা, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা এবং অসদাচরণের অভিযোগ প্রায়ই উঠে আসে। ডাকসু ইশতেহারে ‘পেপারলেস রেজিস্ট্রার বিল্ডিং’ এবং উচ্চশিক্ষায় আগ্রহী শিক্ষার্থীদের জন্য ‘ওয়ান-স্টপ সার্ভিস’ চালুর প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। তবে এসব উদ্যোগ এখনো বাস্তবায়নের মুখ দেখেনি।
সম্প্রতি নথি যাচাই জটিলতায় কয়েকজন শিক্ষার্থীর বিদেশে উচ্চশিক্ষার সুযোগ হারানোর ঘটনাও প্রশাসনিক সংস্কারের প্রয়োজনীয়তাকে সামনে এনেছে। অ্যাকাডেমিক ক্ষেত্রেও অসন্তোষ বাড়ছে। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, কিছু শিক্ষকের মধ্যে অ্যাকাডেমিক দায়বদ্ধতার অভাব, বিতর্কিত নিয়োগপ্রক্রিয়া এবং কার্যকর মেন্টরশিপ ব্যবস্থার অনুপস্থিতি শিক্ষার পরিবেশকে ব্যাহত করছে।
সাম্য, মোফাজ্জল ও আবু বকর হত্যার বিচার নিশ্চিতে ব্যর্থতা
ইশতেহারে সাম্য, মোফাজ্জল ও আবু বকরের হত্যাকাণ্ডের বিচার নিশ্চিতে ব্যবস্থা করার কথা থাকলেও এখনো এ ব্যাপারে বেশিদূর যেতে পারেনি ডাকসু।
ডাকসু জিএস এস এম ফরহাদ জানান, ‘আমরা এ ব্যাপারে চেষ্টা চালিয়ে গিয়েছি। কিছুদিন আগেও ভিসির সঙ্গে এ ব্যাপারে মিটিংয়ে বসেছি।’
ডাকসু সদস্য শাহিনুর রহমান বলেন, ‘আমাদের ব্যর্থতা আমরা স্বীকার করি যে এখনো এর সুষ্ঠু বিচার আদায় করা সম্ভব হয়নি। ডাকসু শুরু থেকেই এ বিষয়ে নানা কর্মসূচি ও বিবৃতি দিয়ে আসছে। এমনকি শহীদ আবু বকরের শাহাদাতবার্ষিকীতেও কর্মসূচি পালন করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান,‘‘গত সরকারের আমলে আমরা দেখেছি সাম্য হত্যাকে দলীয়করণ করে সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা হয়েছিল। কিন্তু বর্তমান বিএনপি সরকারের আমলেও এ-সংক্রান্ত কোনো কার্যকর উদ্যোগ বা তদন্ত কমিটির সঠিক রিপোর্ট পাওয়া যায়নি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে বারবার দাবি জানানো হলেও দৃশ্যমান কোনো ফিডব্যাক মেলেনি। এছাড়া সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদ ক্যান্টিন স্থাপনের বিষয়টি নিয়ে আমি ব্যক্তিগতভাবে কাজ করে যাচ্ছি।’
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের পপুলেশন সায়েন্সের শিক্ষার্থী শাহরিয়ার কবির জানান, ‘শিবির প্যানেল থেকে প্রদত্ত ইশতেহারে গুরুত্বপূর্ণ একটি পয়েন্ট ছিল ছাত্রদল নেতা শাহরিয়ার সাম্য হত্যার বিচার করা। কিন্তু দুঃখের বিষয়, তারা একজন মৃত মানুষকে কেন্দ্র করে রাজনীতি করলেও এক বছরে এ বিষয়ে কোনো রকমের পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি। যা একজন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থী হিসেবে পীড়া দেয়।’








