শিরোনাম

জাবিতে দোকানের মালিকানা নিয়ে দুই হলে সংঘর্ষ, আহত ১৫

জাবি প্রতিনিধি
জাবি প্রতিনিধি
জাবিতে দোকানের মালিকানা নিয়ে দুই হলে সংঘর্ষ, আহত ১৫
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে দুই হলের শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষ। ছবি: সিজেডএন টোয়েন্টিফোর

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) দোকানের মালিকানা ও বরাদ্দকে কেন্দ্র করে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম হল ও বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে দুই হলের অন্তত ১৫ জন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন বলে বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সূত্রে জানা গেছে।

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দুপুর আড়াইটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের এসআরজে চত্বরে দুই হলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। একপর্যায়ে সেটা হাতাহাতি ও পরে সংঘর্ষে রূপ নেয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসাকেন্দ্রের উপ-প্রধান চিকিৎসা কর্মকর্তা রিজওয়ানুর রহমান বলেন, আহতদের মধ্যে দুজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাদের সাভারের একটি হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। বাকিরা বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসাকেন্দ্রে চিকিৎসাধীন।

জানা যায়, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম হল নির্মাণের আগে ওই এলাকার সংশ্লিষ্ট দোকানগুলো বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হলের অধীনে পরিচালিত হয়ে আসছিল। নজরুল ইসলাম হল নির্মাণের পর হলটির শিক্ষার্থীরা নিজেদের হলের সামনে ও আশপাশের দোকানগুলোর মালিকানা ও বরাদ্দ দাবি করেন। এ নিয়ে দুই হলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর আব্দুস সাত্তার খান বলেন, তিনি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেছিলেন। তবে একপর্যায়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।

তিনি বলেন, প্রথমে রবীন্দ্রনাথ হলের শিক্ষার্থীরা কাজী নজরুল ইসলাম হলের দোকানের সামনে গিয়ে উস্কানিমূলক স্লোগান দিতে থাকে। এরপর দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এতে বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হন।

সহকারী প্রক্টর বলেন, একপর্যায়ে কাজী নজরুল ইসলাম হলের প্রভোস্ট তার হলের শিক্ষার্থীদের নিয়ে ফেরার চেষ্টা করেন। তবে শিক্ষার্থীরা আবার রবীন্দ্র চত্বরে ফিরে আসেন। সেখানে কীভাবে যেনো এক শিক্ষার্থী মাথায় গুরুতর আঘাত পান। পরে তাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। এরপর প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রক্টর মহোদয়সহ দুই হলের ওয়ার্ডেন ও হাউস টিউটররা ঘটনাস্থলে আসেন। প্রক্টরিয়াল টিম ও নিরাপত্তাকর্মীরাও সেখানে উপস্থিত হই। আমরা সেখানে দুই হলের শিক্ষার্থীদের নিজ নিজ হলে ফিরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করি এবং উভয় পক্ষের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা করি।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের উদ্যোগের বিষয়ে আব্দুস সাত্তার খান বলেন, এক পক্ষ বলছে তারা আগে গেলে আমরা যাব। অন্য পক্ষও একই কথা বলছে। ফলে কেউই আগে যেতে চাচ্ছিল না। তবে এখন পর্যন্ত পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। দুই হলের শিক্ষার্থীদের নিজ নিজ হলে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।

এদিকে দোকানগুলোর মালিকানা ও বরাদ্দ নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের স্থায়ী সমাধানের জন্য এখন প্রশাসনের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

/জেএইচ/