শিরোনাম

শিশুসাহিত্যিক রোকনুজ্জামানের স্মরণে জাবিতে সেমিনার

জাবি প্রতিনিধি
জাবি প্রতিনিধি
শিশুসাহিত্যিক রোকনুজ্জামানের স্মরণে জাবিতে সেমিনার
সেমিনার অংশগ্রহণকারীরা। ছবি: সিজেডএন টোয়েন্টিফোর

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) প্রখ্যাত শিশুসাহিত্যিক, সাংবাদিক ও শিশু সংগঠক রোকনুজ্জামান খানের (দাদাভাই) স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে একটি সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। অনুষ্ঠানে তার সাহিত্যকর্ম, জীবনদর্শন এবং দেশের শিশুকিশোরদের বিকাশে অসামান্য অবদানের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন বক্তারা।

রবিবার (২১ জুন) সকাল ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন কলাভবনের বাংলা বিভাগের সেমিনার কক্ষে এ সেমিনারের আয়োজন করা হয়। সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পৃষ্ঠপোষকতায় ‘রোকনুজ্জামান খান: বাস্তবতাবোধ ও জীবনদর্শন’ শীর্ষক এ সেমিনারটি বাংলা একাডেমি ও জাবির বাংলা বিভাগ যৌথভাবে আয়োজন করে।

সেমিনারে আলোচকরা বলেন, রোকনুজ্জামান খান শুধু একজন জনপ্রিয় শিশুসাহিত্যিক ছিলেন না; তিনি ছিলেন এমন একজন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, যিনি বাংলাদেশের শিশুকিশোরদের মানবিক ও প্রগতিশীল চিন্তাচেতনা বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। ‘দাদাভাই’ নামেই তিনি দেশের কয়েক প্রজন্মের কাছে পরিচিত ও প্রিয় হয়ে উঠেছিলেন। শিশু-কিশোর সংগঠন ‘কচিকাঁচার মেলা’ এবং দৈনিক ইত্তেফাকের ‘কচিকাঁচার আসর’-এর সঙ্গে তার নাম অবিচ্ছেদ্যভাবে জড়িয়ে আছে।

বক্তারা আরও বলেন, সংখ্যায় তুলনামূলকভাবে কম হলেও তার রচিত ছড়া ও কবিতা ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করেছে। এসব রচনায় যেমন ছিল শিশুমনের সহজ প্রকাশ, তেমনি ছিল সমাজ ও রাষ্ট্রের নানা অসঙ্গতির বিরুদ্ধে সুস্পষ্ট অবস্থান। তার সাহিত্যকর্ম ও আদর্শ নতুন প্রজন্মকে এখনো অনুপ্রাণিত করে চলেছে।

বক্তারা মনে করেন, রোকনুজ্জামান খানকে স্মরণ করার প্রকৃত তাৎপর্য নিহিত রয়েছে তার আদর্শ ধারণের মধ্যে। শিশুকিশোরদের জন্য একটি নিরাপদ, মানবিক ও সুন্দর সমাজ গঠনের যে স্বপ্ন তিনি লালন করেছিলেন– তা বাস্তবায়নের প্রচেষ্টাই হতে পারে তার প্রতি সর্বোত্তম শ্রদ্ধাঞ্জলি।

অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. ফারহানা আখতার। সেমিনারের মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন কথাসাহিত্যিক ও গবেষক ড. আনিস রহমান।

বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. খালেদ হোসাইনের সভাপতিত্বে সেমিনারে আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. রশীদ হারুন এবং বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. এ. এস. এম. আবু দায়েন।

এছাড়া বাংলা একাডেমির সহপরিচালক (চলতি দায়িত্ব) পিয়াস মজিদ শুভেচ্ছা বক্তব্য প্রদান করেন।

/এফআর/