শিরোনাম

জুলাইয়ে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা: শাস্তি পেলো জাবির ১১ শিক্ষক

জাবি প্রতিনিধি
জাবি প্রতিনিধি
জুলাইয়ে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা: শাস্তি পেলো জাবির ১১ শিক্ষক
সংবাদ সম্মেলনে কথা বলছেন জাবি উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ কামরুল আহসান। ছবি: সিজেডএন টোয়েন্টিফোর

২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের সময় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা এবং হামলায় মদদ দেওয়ার অভিযোগে অভিযুক্ত শিক্ষক-কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রশাসন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, অভিযুক্ত এক শিক্ষককে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়েছে। এছাড়া দশ শিক্ষক ও একজন কর্মকর্তাকে বিভিন্ন ধরনের প্রশাসনিক ও আর্থিক শাস্তি দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে আটজন শিক্ষক ও একজন কর্মকর্তাকে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৬ জুন) ভোর প্রায় পাঁচটার দিকে টানা ১২ ঘণ্টাব্যাপী সিন্ডিকেট সভা শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন প্রশাসনিক ভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান জাবি উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ কামরুল আহসান।

সিন্ডিকেট সূত্রে জানা গেছে, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা, হামলায় অংশগ্রহণ এবং মদদ দেওয়ার অভিযোগে মোট ১৯ জন শিক্ষক ও দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে তদন্ত পরিচালিত হয়। তদন্ত প্রতিবেদন পর্যালোচনা শেষে সিন্ডিকেট তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।

সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মেহেদী ইকবালকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়েছে।

নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মহিবুর রৌফ শৈবালকে পদাবনতি দিয়ে প্রভাষক করা হয়েছে। একই বিভাগের অধ্যাপক ইস্রাফিল আহমেদের বেতন বর্তমান পদের প্রারম্ভিক স্কেলে নামিয়ে আনা হয়েছে।

এ ছাড়া, বাংলা বিভাগের অধ্যাপক নাজমুল হোসেন তালুকদারের দুই বছরের বার্ষিক বেতন বৃদ্ধি (ইনক্রিমেন্ট) বাতিল করে নিম্নতর বেতনস্তর নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগের প্রভাষক কানন কুমার সেনেরও দুই বছরের ইনক্রিমেন্ট বাতিল করা হয়েছে।

জাবির সাবেক প্রক্টর ও প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক আলমগীর কবিরের বেতন বর্তমান পদের প্রারম্ভিক স্কেলে নামিয়ে দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি আগামী পাঁচ বছর তিনি কোনো প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করতে পারবেন না বলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই ধরনের শাস্তি দেওয়া হয়েছে পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক এ এ মামুনকে। তাকে সতর্কীকরণের পাশাপাশি পাঁচ বছরের জন্য প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনে অযোগ্য ঘোষণা করা হয়েছে।

সরকার ও রাজনীতি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আ স ম ফিরোজ-উল-হাসানের বেতনও প্রারম্ভিক স্কেলে নামিয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে দুই বছর পর তিনি পুনরায় পদোন্নতির জন্য আবেদন করতে পারবেন। একই সঙ্গে পাঁচ বছরের জন্য প্রশাসনিক দায়িত্ব থেকে বিরত রাখা হয়েছে তাকে। একই বিভাগের অধ্যাপক বশির আহমেদের ক্ষেত্রেও অনুরূপ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তার বেতন প্রারম্ভিক স্কেলে নামিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি দুই বছর পর গ্রেড উন্নয়নের আবেদন করার সুযোগ রাখা হয়েছে এবং পাঁচ বছরের জন্য প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনে অযোগ্য ঘোষণা করা হয়েছে।

পাবলিক হেলথ অ্যান্ড ইনফরমেটিকস বিভাগের অধ্যাপক তাজউদ্দীন শিকদারের বেতনও প্রারম্ভিক স্কেলে নামিয়ে আনা হয়েছে। পাশাপাশি দুই বছর পর গ্রেড উন্নয়নের আবেদন করার সুযোগ রেখে তাকেও পাঁচ বছরের জন্য প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনে অযোগ্য ঘোষণা করা হয়েছে।

জাবি উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ কামরুল আহসান জানান, সাবেক উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক মোহাম্মদ মোস্তফা ফিরোজের বেতন দ্বিতীয় গ্রেডে অবনমিত করা হয়েছে। একই সঙ্গে তাকে পাঁচ বছরের জন্য প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনে অযোগ্য ঘোষণা করা হয়েছে। অন্যদিকে ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক হোসনে আরাকে সতর্কীকরণ করা হয়েছে।

তবে তদন্ত শেষে ইনস্টিটিউট অব বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (আইবিএ) সহকারী অধ্যাপক পলাশ সাহা, পরিবেশবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক শফি মোহাম্মদ তারেক, পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক জহিরুল ইসলাম খোন্দকার, লোকপ্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ ছায়েদুর রহমান ও সহযোগী অধ্যাপক মনির উদ্দিন শিকদার, অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম এবং মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের অধ্যাপক আনোয়ার খসরু পারভেজ অভিযোগ থেকে অব্যাহতি পেয়েছেন।

দুই কর্মকর্তার মধ্যে একজনকে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হলেও ডেপুটি রেজিস্ট্রার নাহিদুর রহমান খানকে পদাবনতি দিয়ে সহকারী রেজিস্ট্রার করা হয়েছে। একই সঙ্গে তাকে দুই বছর পর পুনরায় পদোন্নতির আবেদন করার সুযোগ দেওয়া হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে উপাচার্য আরও জানান, প্রাথমিক তদন্ত প্রতিবেদনে নাম আসায় বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন উপাচার্য অধ্যাপক মো. নুরুল আলম, সাবেক উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক মনজুরুল ইসলাম এবং সাবেক কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক রাশেদ আখতারের ভূমিকা পৃথকভাবে তদন্তের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সিন্ডিকেট। এ লক্ষ্যে তাদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে পৃথক তিনটি স্ট্রাকচারাল কমিটি গঠন করা হবে। ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে তাদের সংশ্লিষ্টতা ও ভূমিকা বিস্তারিতভাবে পর্যালোচনা করা হবে বলে জানান তিনি।

/এফআর/