শিরোনাম

সংগ্রামী এক বটবৃক্ষের নাম বাবা

তিতুমীর কলেজ সংবাদদাতা
তিতুমীর কলেজ সংবাদদাতা
সংগ্রামী এক বটবৃক্ষের নাম বাবা
(উপরের বাম পাশ থেকে) সুস্মিতা ও নাবীহা তাসনীম লাবণ্য এবং (নিচে বাম পাশ থেকে) অনুপমা দাস বন্যা ও ফারিনা হক। কোলাজ: সিজেডএন টোয়েন্টিফোর

আজ বিশ্ব বাবা দিবস। বাবার প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে প্রতি বছর জুন মাসের তৃতীয় রবিবার বিশ্বব্যাপী দিবসটি পালন করা হয়।

বাবা একটি আবেগ, ভালোবাসা ও শ্রদ্ধার নাম। পৃথিবীর সব থেকে মধুর সম্পর্ক গুলোর একটি হলো বাবা। বাবাকে ঘিরে তৈরি হয় শৈশবের হাজারো স্মৃতি। বাবাকে আঁকড়ে ধরেই বেড়ে ওঠে একটি সান্তান। বাবা সন্তানে সম্পর্ক সব সম্পর্কের মতো সব সময় মুখে প্রকাশ পায় না। কেমন একটা নীরবে বেড়ে উঠা ভালোবাসা, মুখে কখনো না বললেও মনের গহীনে এই চিমটি রোদের মতো ঝলমলে হয়ে থাকে। এ যেন পৃথিবীর সব থেকে সুন্দর সম্পর্ক, যা গড়ে উঠে সম্মান, শ্রদ্ধা, আনুগত্যের মাধ্যমে।

বাবা থেকে দূরে ঢাকার বুকে পড়াশোনা করা সরকারি তিতুমীর কলেজ শিক্ষার্থীদের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল বাবা নিয়ে তাদের আবেগ, অনুভূতি ও স্মৃতিমাখা গল্পগুলো। তাই নিয়ে আমাদের আজকের আয়োজন।

‘যখন থেকে বুঝতে শিখলাম পৃথিবীতে নিরাপদ এবং অনিরাপদ বলে দুটো বিপরীত শব্দ আছে, সেদিন থেকে বাবার চেয়ে নিরাপদ স্থান আর কোনো জায়গাকে মনে হলো না।’

‘ছোটোবেলায় যখন আশেপাশের মানুষজন বাবাকে বলতো– মেয়ে মানুষ, এত লায় দিতে নেই। বাবাকে খুব শান্তভাবে বলতে শুনছি, যেহেতু আমার মেয়ে সেটা নাহয় আমি বুঝে নেবো। যেকোনো পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে সাহায্যের জন্য সৃষ্টিকর্তার পর বাবাকে মনে হয়েছে, নিরাশ হয়েছি এমনও হয়নি কখনও। সবসময় বলে এসেছে- ‘মা, তুমি যা চাও, যেভাবে চাও তাই হবে।’

‘যখন স্কুলে পড়ি, কোনো একটা পরীক্ষায় রেজাল্ট খারাপ করে বসলে বাবা কখনও জিজ্ঞেস করেনি কেন খারাপ হলো বরং বুঝিয়ে এসেছে- দেখো, তুমি যা করেছ তাও তো অনেকে করতে পারেনি। নিশ্চয়ই যারা তোমার সামনে ওরা ভালো, তুমিও চেষ্টা করো তার মানে এই না যে তুমি হেরে যাচ্ছো। যখন কলেজের গণ্ডিতে পা দিলাম, প্রথম বাবা পুনরায় মনে করিয়ে দিলো– মা তোমাকে যেন কখনও মাথা নিচু করে হাঁটতে না দেখি। নিজের জন্য বাঁচো, যতদূর সামনে এগোনো যায়– এগিয়ে যাও।’

‘তারপর কলেজের গণ্ডিও পার করে এসেছি কয়েক বছর হলো। এখন অব্দি বাবা আস্থা দিয়েই যাচ্ছে, বুকের ভেতর যতটুকু সাহস সঞ্চার করে চলি তার পুরোটা তার কারণে।’

‘জানিনা এই ধ্বংসস্তূপ পৃথিবীতে দাঁড়িয়ে এমন করে আর কে সাহস দিতে পারে, মাথার উপর ভরসার হাত রাখতে পারে। এখনও জানিনা জীবনে সফলতার স্বাদ কেমন, তবে সফল হতে পারলে সবটুকু অর্জন বাবার কাছে এনে দিতে চাই।’

‘বাবাকে ভালোবাসি– এ যেমন সত্য তারচেয়ে বড় সত্য হলো, ভালোবাসা বলতে যা কিছু, তা সবচেয়ে বেশি পেয়েছি বাবার থেকেই। আমাদের সবার বাবা ভালো থাকুক, এমন শীতল ছায়া দিয়ে যাক আমৃত্যু এই প্রার্থনা।’

সুস্মিতা

শিক্ষার্থী, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ, সরকারি তিতুমীর কলেজ।


‘বাবা মানে এমন একজন মানুষ, যিনি নিজের সব ক্লান্তি আড়াল করে সন্তানের মুখে হাসি ফোটানোর চেষ্টা করেন। জন্মের পর থেকেই আমি ছিলাম তার প্রথম অগ্রাধিকার। নিজের স্বপ্ন, চাওয়া-পাওয়া আর আরামকে পাশে রেখে তিনি প্রতিদিন পরিশ্রম করেছেন শুধু আমাকে একটি সুন্দর জীবন দেওয়ার জন্য।’

‘আমি যা চেয়েছি, তার অনেক কিছুই পেয়েছি। কিন্তু কখনোই তিনি আমাকে বিলাসিতার মধ্যে হারিয়ে যেতে দেননি বরং শিখিয়েছেন মূল্যবোধ, সততা আর মানুষ হয়ে বাঁচার সৌন্দর্য। তার হাত ধরেই শিখেছি জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পাঠগুলো। বাবাকে আমি কতটা ভালোবাসি, তা শব্দে প্রকাশ করা অসম্ভব। কারণ ভালোবাসার কিছু অনুভূতি ভাষার চেয়েও গভীর হয়।’

‘বাবাকে আমি কতটা ভালোবাসি, তা শব্দে প্রকাশ করা অসম্ভব। কারণ কিছু অনুভূতি ভাষার চেয়েও গভীর হয়। আমার জীবনে তিনি শুধু একজন বাবা নন, তিনি আমার সাহস, আমার ভরসা, আমার সবচেয়ে নিরাপদ আশ্রয়। পৃথিবীটা যত বড়ই হোক না কেন, বাবার ছায়ার চেয়ে নিরাপদ কোনো ঠিকানা আজও খুঁজে পাইনি।’

নাবীহা তাসনীম লাবণ্য

শিক্ষার্থী, ইংরেজি বিভাগ, সরকারি তিতুমীর কলেজ।


‘বাবা আমার জীবনের সবচেয়ে নিরাপদ ঠিকানা। আমি আমার বাবার একমাত্র মেয়ে, কিন্তু ছোটবেলা থেকে তিনি কখনো আমাকে শুধুমাত্র মেয়ে হিসেবে পরিচয় দেননি; তিনি সবসময় বলেছেন, আমি তার একমাত্র সন্তান।’

‘আমার পরিবারে একসময় ছেলে-মেয়ের ভেদাভেদ থাকলেও, আমি কখনো সেই বৈষম্যের শিকার হইনি। বাবা আমাকে শিখিয়েছেন, একজন মানুষের প্রকৃত পরিচয় তার লিঙ্গে নয়, তার যোগ্যতায়। তিনি কখনও মেয়ে হিসাবে কখনও পিছিয়ে থাকতে দেন নাই।’

‘ভয়ের সঙ্গে লড়াই করতে আমাকে বাবাই শিখিয়েছেন। যে সমাজে এখনো অনেক মেয়েকে চার দেয়ালের মধ্যে সীমাবদ্ধ জীবন আর অন্যের ওপর নির্ভরশীল হওয়ার শিক্ষা দেওয়া হয়, সেখানে স্বাধীনভাবে বাঁচার স্বপ্ন এবং স্বাবলম্বী হওয়ার লক্ষ্য আমার বাবা-ই আমার মধ্যে গড়ে দিয়েছেন। মেয়েকে বোঝা মনে করে তাড়াতাড়ি বিয়ে না দিয়ে মেয়েকে স্বাবলম্বী করায় বিশ্বাসী আমার বাবা।’

‘বাবা সবসময় চেয়েছেন, তার মেয়েকে যেন কেউ কখনো অবহেলা বা আঘাত করতে না পারে। তাই ছোটবেলা থেকেই তিনি আমাকে জীবনের নানা বাস্তবতার সঙ্গে পরিচয় করিয়েছেন। বাবা আমাকে আজ পর্যন্ত কখনোই নাম ধরে ডাকে নাই, তার কাছে আমি সব সময় ‘মামনি’। বাবা আমাকে এক মুক্ত আকাশ দিয়েছেন আর উড়ার জন্য দুটো ডানা দিয়েছেন। আজ সেই ডানায় ভর করেই আমি একদিন আমার বাবার সব স্বপ্ন পূরণ করতে চাই। আমি আমার বাবার নিরাপদ আশ্রয় হয়ে উঠতে চাই।’

অনুপমা দাস বন্যা

শিক্ষার্থী, অর্থনীতি বিভাগ, সরকারি তিতুমীর কলেজ।


‘আজ বাবা দিবস। এই বিশেষ দিনে আমার জীবনের সবচেয়ে শক্তিশালী আশ্রয়, আমার বাবাকে বলতে চাই– আমি তোমাকে কতটা ভালোবাসি এবং তোমার প্রতি কতটা কৃতজ্ঞ। তুমি সবসময় আমার পাশে এক বিশাল ছায়ার মতো থেকেছো, আমাকে আগলে রেখেছো নিঃশব্দে। কখনো আমার স্বপ্নের পথে বাধা হয়ে দাঁড়াওনি, বরং আমাকে নিজের মতো করে বড় হওয়ার স্বাধীনতা দিয়েছো। তুমি আমাকে শিখিয়েছো কীভাবে জীবনের কঠিন পথগুলো সাহসের সাথে পাড়ি দিতে হয়, কীভাবে একজন বড় মেয়ে হিসেবে দায়িত্ব নিতে হয় এবং পরিবারের জন্য দৃঢ় হয়ে দাঁড়াতে হয়।’

‘আজ আমি যে মানুষটি হয়ে উঠেছি, তার পেছনে তোমার ভালোবাসা, ত্যাগ আর শিক্ষার অবদান অপরিসীম। হয়তো প্রতিদিন বলা হয় না, কিন্তু আমি তোমাকে ভীষণ ভালোবাসি, বাবা।’

‘তোমার মেয়ে হতে পারা আমার জীবনের সবচেয়ে বড় আশীর্বাদ। আল্লাহ তোমাকে সুস্থ, সুখী এবং দীর্ঘায়ু করুন। বাবা দিবসের অনেক অনেক শুভেচ্ছা, আমার সবচেয়ে নিরাপদ ঠিকানা।’

ফারিনা হক

শিক্ষার্থী, ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগ, সরকারি তিতুমীর কলেজ।

/এফআর/