শিরোনাম

সেই সাদ্দামের পাশে জবি ছাত্রদল

জবি প্রতিনিধি
জবি প্রতিনিধি
সেই সাদ্দামের পাশে জবি ছাত্রদল
অসহায় সাদ্দামের পাশে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. শাহরিয়ার হোসেন

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় গেটের পাশের ব্যস্ত সড়কে ছোট্ট একটি পানের দোকান। দোকানটিতে প্রতিদিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত বসে থাকে ১০ বছর বয়সি সাদ্দাম। যে বয়সে বই-খাতা হাতে স্কুলের বেঞ্চে বসার কথা, সেই বয়সেই পরিবারের দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিয়েছে সে। চার ভাইবোন, অসুস্থ ও অভাবগ্রস্ত পরিবার, সব মিলিয়ে ছোট্ট এই শিশুর জীবন যেন এক নিরন্তর সংগ্রামের গল্প।

সাদ্দামের বাবা দীর্ঘদিন ধরে পরিবারের খোঁজখবর নেন না। অন্যদিকে বড় ভাই জন্ম থেকেই প্রতিবন্ধী। ফলে সংসারের ভার অনেকটাই এসে পড়ে সাদ্দামের কাঁধে। পরিবারের মুখে দু-মুঠো খাবার তুলে দিতে প্রতিদিনই তাকে পানের দোকানে বসতে হয়। অভাব-অনটনের মধ্যেও থেমে নেই তার জীবনযুদ্ধ।

সম্প্রতি গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয় সাদ্দামের জীবনসংগ্রামের গল্প। সংবাদটি ছড়িয়ে পড়ার পর তা নজরে আসে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের। শিশুটির কঠিন বাস্তবতার কথা জানতে পেরে তার পাশে দাঁড়ানোর উদ্যোগ নেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. শাহরিয়ার হোসেন।

রবিবার (২০ জুন) সাদ্দামের দোকানে গিয়ে তার সঙ্গে কথা বলেন শাহরিয়ার হোসেন। খোঁজ নেন পরিবারের সার্বিক অবস্থার। এ সময় তিনি সাদ্দামের হাতে নগদ অর্থ সহায়তা তুলে দেন এবং ভবিষ্যতেও পাশে থাকার আশ্বাস দেন।

শাহরিয়ার হোসেন বলেন, ‘সাদ্দামের গল্প শুনে খুব কষ্ট পেয়েছি। যে বয়সে তার স্কুলে থাকার কথা, সেই বয়সে তাকে পরিবারের দায়িত্ব নিতে হচ্ছে। সমাজের বিত্তবান ও দায়িত্বশীল মানুষদের এমন শিশুদের পাশে দাঁড়ানো উচিত। আমার সামর্থ্যের জায়গা থেকে কিছু করার চেষ্টা করেছি।’

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান হিমেল বলেন, ‘সাদ্দামের মতো অসংখ্য শিশু দারিদ্র্যের কারণে শৈশব হারাচ্ছে। তাদের শিক্ষা ও মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করতে সমাজের সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। ছাত্রদল সবসময় অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করে।’

ছাত্রদলের সদস্য সচিব শামসুল আরেফিন বলেন, ‘মানবিক দায়িত্ববোধ থেকেই আমরা সাদ্দামের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছি। সমাজের অন্যান্য সংগঠন ও সামর্থ্যবান ব্যক্তিরাও এগিয়ে এলে এমন শিশুদের জন্য একটি সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়ে তোলা সম্ভব।’

সহায়তা পেয়ে আনন্দ প্রকাশ করেছে সাদ্দাম ও তার পরিবার। তাদের প্রত্যাশা, সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এভাবে এগিয়ে এলে তাদের মতো অসহায় পরিবারগুলোর কষ্ট অনেকটাই কমে আসবে।

/এমআর/