বাজেটে কম ও মধ্যম আয়ের মানুষের ওপর করের বোঝা বেশি: সিপিডি

বাজেটে কম ও মধ্যম আয়ের মানুষের ওপর করের বোঝা বেশি: সিপিডি
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

কর ব্যবস্থার অন্যতম উদ্দেশ্য হলো আয় বৈষম্য কমানো এবং সামাজিক ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা। কিন্তু প্রস্তাবিত প্রস্তাবিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে কর কাঠামোতে সেই লক্ষ্য যথাযথভাবে প্রতিফলিত হয়নি। বরং তুলনামূলক কম আয়ের মানুষ বেশি চাপে পড়বেন বলে মন্তব্য করেছে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)। সংস্থাটির মতে, নতুন কর কাঠামোয় তুলনামূলক কম ও মধ্যম আয়ের মানুষের ওপর করের বোঝা বেশি বাড়ানো হয়েছে, অথচ উচ্চ আয়ের করদাতাদের ক্ষেত্রে কর দায় বৃদ্ধির হার তুলনামূলকভাবে অনেক কম রাখা হয়েছে।
রবিবার (২১ জুন) রাজধানীর গুলশানের লেকশোর হোটেলে আয়োজিত ‘প্রস্তাবিত বাজেট ২০২৬-২৭ পর্যালোচনা’ শীর্ষক সংলাপে এসব পর্যবেক্ষণ তুলে ধরা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো মোস্তাফিজুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সংলাপে বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন জোনায়েদ আবদুর রহিম সাকি এবং জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য আখতার হোসেন। এছাড়া বিভিন্ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান, ব্যবসায়ী সংগঠন ও শ্রমিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা আলোচনায় অংশ নেন। অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, সরকার দেশের সামগ্রিক জনঅর্থায়ন কাঠামো সংস্কারের মাধ্যমে স্থানীয় ব্যাংকগুলোর ওপর নির্ভরতা কমিয়ে বিকল্প অর্থায়নের পথে হাঁটছে। তিনি বলেন, স্থানীয় ব্যাংক থেকে উচ্চ সুদে ঋণ নেওয়ার ফলে বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ বাধাগ্রস্ত হয়। আমরা ২০২৫-২৬ ও ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে ব্যাংক ঋণ নেওয়ার প্রবণতা কমিয়ে আনার উদ্যোগ নিয়েছি।
অর্থমন্ত্রী বলেন, বিগত ১০ বছর ধরেই আমি বলে আসছি যে, স্থানীয় ব্যাংক থেকে সরকারের অতিরিক্ত ঋণ নেওয়া উচিত নয়। সরকার ১০ থেকে ১৩ শতাংশ সুদে ব্যাংক থেকে টাকা নিলে বেসরকারি খাতের জন্য টিকে থাকা মুশকিল হয়ে পড়ে। সরকার এই উচ্চ সুদে টাকা নিয়ে কীভাবে তা পরিশোধ করবে, তখন সেটি বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়ায়। তাই আমরা ধীরে ধীরে ব্যাংক নির্ভরতা কমিয়ে বাজারভিত্তিক ও বিকল্প অর্থায়নের দিকে নজর দিচ্ছি।
বাজেট প্রণয়ন ও বকেয়া চ্যালেঞ্জ নিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, বর্তমান প্রেক্ষাপটে মাত্র দেড় মাসের প্রস্তুতিতে এই বাজেট প্রণয়ন করতে হয়েছে, যা সাধারণত ছয় মাসের একটি দীর্ঘ প্রক্রিয়া। আমরা পূর্ববর্তী সরকারের কাছ থেকে অনেক বকেয়া বিল উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়েছি। যেমন- প্রায় ৫০০ কোটি টাকার বিদ্যুৎ বিল বাকি পড়ে রয়েছে।
এই বাজেটের প্রায় ১ লাখ ২৫ হাজার কোটি টাকা ব্যয় করতে হবে ঋণের সুদ বা ডেট সার্ভিসিংয়ে, যার ফলে সরকারের খরচের জায়গা বা ‘ফিসকাল স্পেস’ সংকুচিত হয়ে আসছে বলেও জানান অর্থমন্ত্রী।
মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনকালে ফাহমিদা খাতুন বলেন, করযোগ্য আয়ের বিভিন্ন স্তরের ওপর করের প্রভাব বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, যাদের বার্ষিক আয় ৬ লাখ থেকে ১৫ লাখ টাকার মধ্যে, তাদের কর দায় ১২ দশমিক ৫ শতাংশ থেকে ১৬ দশমিক ৭ শতাংশ পর্যন্ত বাড়বে। অন্যদিকে বছরে ৩০ লাখ টাকার বেশি আয়কারীদের ক্ষেত্রে করের দায় বাড়বে মাত্র ৭ দশমিক ৬ শতাংশ।
তিনি বলেন, ‘কর ব্যবস্থার অন্যতম উদ্দেশ্য হলো আয় বৈষম্য কমানো এবং সামাজিক ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা। কিন্তু প্রস্তাবিত কর কাঠামোতে সেই লক্ষ্য যথাযথভাবে প্রতিফলিত হয়নি। বরং তুলনামূলক কম আয়ের মানুষ বেশি চাপে পড়বেন।’
সরকারের নির্বাচনি অঙ্গীকার অনুযায়ী আগামী ১৮ মাসে এক কোটি নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যের বিষয়েও প্রশ্ন তুলেছে সিপিডি। সংস্থাটির মতে, প্রস্তাবিত বাজেটে এ লক্ষ্য বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় নীতি ও অর্থ বরাদ্দের স্পষ্ট প্রতিফলন নেই। ফাহমিদা খাতুন বলেন, শ্রম, প্রবাসী কল্যাণ, শিল্প এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের বাজেট বরাদ্দ মোট ব্যয়ের অনুপাতে হয় কমেছে, নয়তো স্থবির রয়েছে। একই সঙ্গে কর্মসংস্থানমুখী গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প যেমন: পটুয়াখালী ইপিজেড ও জামদানি ভিলেজ দীর্ঘদিন ধরে বাস্তবায়নের অপেক্ষায় রয়েছে। সুনির্দিষ্ট জাতীয় কর্মসংস্থান কর্মসূচি, দক্ষতা উন্নয়ন এবং প্রয়োজনীয় সংস্কার ছাড়া এক কোটি কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্য রাজনৈতিক আকাঙ্ক্ষা হিসাবেই থেকে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।
প্রস্তাবিত বাজেটে আগামী অর্থবছরে মূল্যস্ফীতি ৭ দশমিক ৫ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার। তবে সিপিডির মতে, বিদায়ি অর্থবছরের মে মাস পর্যন্ত গড় মূল্যস্ফীতি ছিল ৮ দশমিক ৬৩ শতাংশ, ফলে লক্ষ্য অর্জন সহজ হবে না।
ফাহমিদা খাতুন বলেন, খাদ্য ও জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার উন্নয়ন, বাজার ব্যবস্থাপনায় কার্যকর পদক্ষেপ এবং বিচক্ষণ মুদ্রানীতি ছাড়া মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন কঠিন হবে।
সিপিডির মূল্যায়নে, নতুন সরকারের প্রথম বাজেটে অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের যে লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে তা ইতিবাচক হলেও সামষ্টিক অর্থনীতির বিভিন্ন সূচক নিয়ে সরকারের পূর্বাভাস বেশ আশাবাদী।
সংস্থাটি মনে করে, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসহ মানবসম্পদ উন্নয়ন খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি প্রশংসনীয় উদ্যোগ। তবে অতীত অভিজ্ঞতা অনুযায়ী এসব বরাদ্দের কার্যকর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে।
বাজেট সংলাপে অংশগ্রহণকারীরা কর কাঠামো, কর্মসংস্থান, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, শিল্পায়ন ও বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নয়নের বিষয়ে বিভিন্ন সুপারিশ তুলে ধরেন। তাদের মতে, অর্থনীতিকে টেকসই প্রবৃদ্ধির পথে ফিরিয়ে আনতে হলে রাজস্ব ব্যবস্থার সংস্কার, কর্মসংস্থান সৃষ্টির কার্যকর উদ্যোগ এবং মানবসম্পদ উন্নয়নে বরাদ্দের সঠিক বাস্তবায়নের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে।
সংলাপে বাজেটের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টারের (পিপিআরসি) নির্বাহী চেয়ারম্যান হোসেন জিল্লুর রহমান, রিসার্চ অ্যান্ড পলিসি ইন্টিগ্রেশন ফর ডেভেলপমেন্টের (র্যাপিড) চেয়ারম্যান এমএ রাজ্জাক, বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি আনোয়ার-উল-আলম চৌধুরী পারভেজ, বিজিএমইএর জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি ইনামুল হক খান, গার্মেন্টস শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের সভাপতি মন্টু ঘোষ।

কর ব্যবস্থার অন্যতম উদ্দেশ্য হলো আয় বৈষম্য কমানো এবং সামাজিক ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা। কিন্তু প্রস্তাবিত প্রস্তাবিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে কর কাঠামোতে সেই লক্ষ্য যথাযথভাবে প্রতিফলিত হয়নি। বরং তুলনামূলক কম আয়ের মানুষ বেশি চাপে পড়বেন বলে মন্তব্য করেছে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)। সংস্থাটির মতে, নতুন কর কাঠামোয় তুলনামূলক কম ও মধ্যম আয়ের মানুষের ওপর করের বোঝা বেশি বাড়ানো হয়েছে, অথচ উচ্চ আয়ের করদাতাদের ক্ষেত্রে কর দায় বৃদ্ধির হার তুলনামূলকভাবে অনেক কম রাখা হয়েছে।
রবিবার (২১ জুন) রাজধানীর গুলশানের লেকশোর হোটেলে আয়োজিত ‘প্রস্তাবিত বাজেট ২০২৬-২৭ পর্যালোচনা’ শীর্ষক সংলাপে এসব পর্যবেক্ষণ তুলে ধরা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো মোস্তাফিজুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সংলাপে বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন জোনায়েদ আবদুর রহিম সাকি এবং জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য আখতার হোসেন। এছাড়া বিভিন্ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান, ব্যবসায়ী সংগঠন ও শ্রমিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা আলোচনায় অংশ নেন। অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, সরকার দেশের সামগ্রিক জনঅর্থায়ন কাঠামো সংস্কারের মাধ্যমে স্থানীয় ব্যাংকগুলোর ওপর নির্ভরতা কমিয়ে বিকল্প অর্থায়নের পথে হাঁটছে। তিনি বলেন, স্থানীয় ব্যাংক থেকে উচ্চ সুদে ঋণ নেওয়ার ফলে বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ বাধাগ্রস্ত হয়। আমরা ২০২৫-২৬ ও ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে ব্যাংক ঋণ নেওয়ার প্রবণতা কমিয়ে আনার উদ্যোগ নিয়েছি।
অর্থমন্ত্রী বলেন, বিগত ১০ বছর ধরেই আমি বলে আসছি যে, স্থানীয় ব্যাংক থেকে সরকারের অতিরিক্ত ঋণ নেওয়া উচিত নয়। সরকার ১০ থেকে ১৩ শতাংশ সুদে ব্যাংক থেকে টাকা নিলে বেসরকারি খাতের জন্য টিকে থাকা মুশকিল হয়ে পড়ে। সরকার এই উচ্চ সুদে টাকা নিয়ে কীভাবে তা পরিশোধ করবে, তখন সেটি বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়ায়। তাই আমরা ধীরে ধীরে ব্যাংক নির্ভরতা কমিয়ে বাজারভিত্তিক ও বিকল্প অর্থায়নের দিকে নজর দিচ্ছি।
বাজেট প্রণয়ন ও বকেয়া চ্যালেঞ্জ নিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, বর্তমান প্রেক্ষাপটে মাত্র দেড় মাসের প্রস্তুতিতে এই বাজেট প্রণয়ন করতে হয়েছে, যা সাধারণত ছয় মাসের একটি দীর্ঘ প্রক্রিয়া। আমরা পূর্ববর্তী সরকারের কাছ থেকে অনেক বকেয়া বিল উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়েছি। যেমন- প্রায় ৫০০ কোটি টাকার বিদ্যুৎ বিল বাকি পড়ে রয়েছে।
এই বাজেটের প্রায় ১ লাখ ২৫ হাজার কোটি টাকা ব্যয় করতে হবে ঋণের সুদ বা ডেট সার্ভিসিংয়ে, যার ফলে সরকারের খরচের জায়গা বা ‘ফিসকাল স্পেস’ সংকুচিত হয়ে আসছে বলেও জানান অর্থমন্ত্রী।
মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনকালে ফাহমিদা খাতুন বলেন, করযোগ্য আয়ের বিভিন্ন স্তরের ওপর করের প্রভাব বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, যাদের বার্ষিক আয় ৬ লাখ থেকে ১৫ লাখ টাকার মধ্যে, তাদের কর দায় ১২ দশমিক ৫ শতাংশ থেকে ১৬ দশমিক ৭ শতাংশ পর্যন্ত বাড়বে। অন্যদিকে বছরে ৩০ লাখ টাকার বেশি আয়কারীদের ক্ষেত্রে করের দায় বাড়বে মাত্র ৭ দশমিক ৬ শতাংশ।
তিনি বলেন, ‘কর ব্যবস্থার অন্যতম উদ্দেশ্য হলো আয় বৈষম্য কমানো এবং সামাজিক ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা। কিন্তু প্রস্তাবিত কর কাঠামোতে সেই লক্ষ্য যথাযথভাবে প্রতিফলিত হয়নি। বরং তুলনামূলক কম আয়ের মানুষ বেশি চাপে পড়বেন।’
সরকারের নির্বাচনি অঙ্গীকার অনুযায়ী আগামী ১৮ মাসে এক কোটি নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যের বিষয়েও প্রশ্ন তুলেছে সিপিডি। সংস্থাটির মতে, প্রস্তাবিত বাজেটে এ লক্ষ্য বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় নীতি ও অর্থ বরাদ্দের স্পষ্ট প্রতিফলন নেই। ফাহমিদা খাতুন বলেন, শ্রম, প্রবাসী কল্যাণ, শিল্প এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের বাজেট বরাদ্দ মোট ব্যয়ের অনুপাতে হয় কমেছে, নয়তো স্থবির রয়েছে। একই সঙ্গে কর্মসংস্থানমুখী গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প যেমন: পটুয়াখালী ইপিজেড ও জামদানি ভিলেজ দীর্ঘদিন ধরে বাস্তবায়নের অপেক্ষায় রয়েছে। সুনির্দিষ্ট জাতীয় কর্মসংস্থান কর্মসূচি, দক্ষতা উন্নয়ন এবং প্রয়োজনীয় সংস্কার ছাড়া এক কোটি কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্য রাজনৈতিক আকাঙ্ক্ষা হিসাবেই থেকে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।
প্রস্তাবিত বাজেটে আগামী অর্থবছরে মূল্যস্ফীতি ৭ দশমিক ৫ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার। তবে সিপিডির মতে, বিদায়ি অর্থবছরের মে মাস পর্যন্ত গড় মূল্যস্ফীতি ছিল ৮ দশমিক ৬৩ শতাংশ, ফলে লক্ষ্য অর্জন সহজ হবে না।
ফাহমিদা খাতুন বলেন, খাদ্য ও জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার উন্নয়ন, বাজার ব্যবস্থাপনায় কার্যকর পদক্ষেপ এবং বিচক্ষণ মুদ্রানীতি ছাড়া মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন কঠিন হবে।
সিপিডির মূল্যায়নে, নতুন সরকারের প্রথম বাজেটে অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের যে লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে তা ইতিবাচক হলেও সামষ্টিক অর্থনীতির বিভিন্ন সূচক নিয়ে সরকারের পূর্বাভাস বেশ আশাবাদী।
সংস্থাটি মনে করে, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসহ মানবসম্পদ উন্নয়ন খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি প্রশংসনীয় উদ্যোগ। তবে অতীত অভিজ্ঞতা অনুযায়ী এসব বরাদ্দের কার্যকর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে।
বাজেট সংলাপে অংশগ্রহণকারীরা কর কাঠামো, কর্মসংস্থান, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, শিল্পায়ন ও বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নয়নের বিষয়ে বিভিন্ন সুপারিশ তুলে ধরেন। তাদের মতে, অর্থনীতিকে টেকসই প্রবৃদ্ধির পথে ফিরিয়ে আনতে হলে রাজস্ব ব্যবস্থার সংস্কার, কর্মসংস্থান সৃষ্টির কার্যকর উদ্যোগ এবং মানবসম্পদ উন্নয়নে বরাদ্দের সঠিক বাস্তবায়নের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে।
সংলাপে বাজেটের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টারের (পিপিআরসি) নির্বাহী চেয়ারম্যান হোসেন জিল্লুর রহমান, রিসার্চ অ্যান্ড পলিসি ইন্টিগ্রেশন ফর ডেভেলপমেন্টের (র্যাপিড) চেয়ারম্যান এমএ রাজ্জাক, বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি আনোয়ার-উল-আলম চৌধুরী পারভেজ, বিজিএমইএর জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি ইনামুল হক খান, গার্মেন্টস শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের সভাপতি মন্টু ঘোষ।

বাজেটে কম ও মধ্যম আয়ের মানুষের ওপর করের বোঝা বেশি: সিপিডি
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

কর ব্যবস্থার অন্যতম উদ্দেশ্য হলো আয় বৈষম্য কমানো এবং সামাজিক ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা। কিন্তু প্রস্তাবিত প্রস্তাবিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে কর কাঠামোতে সেই লক্ষ্য যথাযথভাবে প্রতিফলিত হয়নি। বরং তুলনামূলক কম আয়ের মানুষ বেশি চাপে পড়বেন বলে মন্তব্য করেছে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)। সংস্থাটির মতে, নতুন কর কাঠামোয় তুলনামূলক কম ও মধ্যম আয়ের মানুষের ওপর করের বোঝা বেশি বাড়ানো হয়েছে, অথচ উচ্চ আয়ের করদাতাদের ক্ষেত্রে কর দায় বৃদ্ধির হার তুলনামূলকভাবে অনেক কম রাখা হয়েছে।
রবিবার (২১ জুন) রাজধানীর গুলশানের লেকশোর হোটেলে আয়োজিত ‘প্রস্তাবিত বাজেট ২০২৬-২৭ পর্যালোচনা’ শীর্ষক সংলাপে এসব পর্যবেক্ষণ তুলে ধরা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো মোস্তাফিজুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সংলাপে বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন জোনায়েদ আবদুর রহিম সাকি এবং জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য আখতার হোসেন। এছাড়া বিভিন্ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান, ব্যবসায়ী সংগঠন ও শ্রমিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা আলোচনায় অংশ নেন। অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, সরকার দেশের সামগ্রিক জনঅর্থায়ন কাঠামো সংস্কারের মাধ্যমে স্থানীয় ব্যাংকগুলোর ওপর নির্ভরতা কমিয়ে বিকল্প অর্থায়নের পথে হাঁটছে। তিনি বলেন, স্থানীয় ব্যাংক থেকে উচ্চ সুদে ঋণ নেওয়ার ফলে বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ বাধাগ্রস্ত হয়। আমরা ২০২৫-২৬ ও ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে ব্যাংক ঋণ নেওয়ার প্রবণতা কমিয়ে আনার উদ্যোগ নিয়েছি।
অর্থমন্ত্রী বলেন, বিগত ১০ বছর ধরেই আমি বলে আসছি যে, স্থানীয় ব্যাংক থেকে সরকারের অতিরিক্ত ঋণ নেওয়া উচিত নয়। সরকার ১০ থেকে ১৩ শতাংশ সুদে ব্যাংক থেকে টাকা নিলে বেসরকারি খাতের জন্য টিকে থাকা মুশকিল হয়ে পড়ে। সরকার এই উচ্চ সুদে টাকা নিয়ে কীভাবে তা পরিশোধ করবে, তখন সেটি বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়ায়। তাই আমরা ধীরে ধীরে ব্যাংক নির্ভরতা কমিয়ে বাজারভিত্তিক ও বিকল্প অর্থায়নের দিকে নজর দিচ্ছি।
বাজেট প্রণয়ন ও বকেয়া চ্যালেঞ্জ নিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, বর্তমান প্রেক্ষাপটে মাত্র দেড় মাসের প্রস্তুতিতে এই বাজেট প্রণয়ন করতে হয়েছে, যা সাধারণত ছয় মাসের একটি দীর্ঘ প্রক্রিয়া। আমরা পূর্ববর্তী সরকারের কাছ থেকে অনেক বকেয়া বিল উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়েছি। যেমন- প্রায় ৫০০ কোটি টাকার বিদ্যুৎ বিল বাকি পড়ে রয়েছে।
এই বাজেটের প্রায় ১ লাখ ২৫ হাজার কোটি টাকা ব্যয় করতে হবে ঋণের সুদ বা ডেট সার্ভিসিংয়ে, যার ফলে সরকারের খরচের জায়গা বা ‘ফিসকাল স্পেস’ সংকুচিত হয়ে আসছে বলেও জানান অর্থমন্ত্রী।
মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনকালে ফাহমিদা খাতুন বলেন, করযোগ্য আয়ের বিভিন্ন স্তরের ওপর করের প্রভাব বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, যাদের বার্ষিক আয় ৬ লাখ থেকে ১৫ লাখ টাকার মধ্যে, তাদের কর দায় ১২ দশমিক ৫ শতাংশ থেকে ১৬ দশমিক ৭ শতাংশ পর্যন্ত বাড়বে। অন্যদিকে বছরে ৩০ লাখ টাকার বেশি আয়কারীদের ক্ষেত্রে করের দায় বাড়বে মাত্র ৭ দশমিক ৬ শতাংশ।
তিনি বলেন, ‘কর ব্যবস্থার অন্যতম উদ্দেশ্য হলো আয় বৈষম্য কমানো এবং সামাজিক ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা। কিন্তু প্রস্তাবিত কর কাঠামোতে সেই লক্ষ্য যথাযথভাবে প্রতিফলিত হয়নি। বরং তুলনামূলক কম আয়ের মানুষ বেশি চাপে পড়বেন।’
সরকারের নির্বাচনি অঙ্গীকার অনুযায়ী আগামী ১৮ মাসে এক কোটি নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যের বিষয়েও প্রশ্ন তুলেছে সিপিডি। সংস্থাটির মতে, প্রস্তাবিত বাজেটে এ লক্ষ্য বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় নীতি ও অর্থ বরাদ্দের স্পষ্ট প্রতিফলন নেই। ফাহমিদা খাতুন বলেন, শ্রম, প্রবাসী কল্যাণ, শিল্প এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের বাজেট বরাদ্দ মোট ব্যয়ের অনুপাতে হয় কমেছে, নয়তো স্থবির রয়েছে। একই সঙ্গে কর্মসংস্থানমুখী গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প যেমন: পটুয়াখালী ইপিজেড ও জামদানি ভিলেজ দীর্ঘদিন ধরে বাস্তবায়নের অপেক্ষায় রয়েছে। সুনির্দিষ্ট জাতীয় কর্মসংস্থান কর্মসূচি, দক্ষতা উন্নয়ন এবং প্রয়োজনীয় সংস্কার ছাড়া এক কোটি কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্য রাজনৈতিক আকাঙ্ক্ষা হিসাবেই থেকে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।
প্রস্তাবিত বাজেটে আগামী অর্থবছরে মূল্যস্ফীতি ৭ দশমিক ৫ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার। তবে সিপিডির মতে, বিদায়ি অর্থবছরের মে মাস পর্যন্ত গড় মূল্যস্ফীতি ছিল ৮ দশমিক ৬৩ শতাংশ, ফলে লক্ষ্য অর্জন সহজ হবে না।
ফাহমিদা খাতুন বলেন, খাদ্য ও জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার উন্নয়ন, বাজার ব্যবস্থাপনায় কার্যকর পদক্ষেপ এবং বিচক্ষণ মুদ্রানীতি ছাড়া মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন কঠিন হবে।
সিপিডির মূল্যায়নে, নতুন সরকারের প্রথম বাজেটে অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের যে লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে তা ইতিবাচক হলেও সামষ্টিক অর্থনীতির বিভিন্ন সূচক নিয়ে সরকারের পূর্বাভাস বেশ আশাবাদী।
সংস্থাটি মনে করে, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসহ মানবসম্পদ উন্নয়ন খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি প্রশংসনীয় উদ্যোগ। তবে অতীত অভিজ্ঞতা অনুযায়ী এসব বরাদ্দের কার্যকর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে।
বাজেট সংলাপে অংশগ্রহণকারীরা কর কাঠামো, কর্মসংস্থান, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, শিল্পায়ন ও বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নয়নের বিষয়ে বিভিন্ন সুপারিশ তুলে ধরেন। তাদের মতে, অর্থনীতিকে টেকসই প্রবৃদ্ধির পথে ফিরিয়ে আনতে হলে রাজস্ব ব্যবস্থার সংস্কার, কর্মসংস্থান সৃষ্টির কার্যকর উদ্যোগ এবং মানবসম্পদ উন্নয়নে বরাদ্দের সঠিক বাস্তবায়নের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে।
সংলাপে বাজেটের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টারের (পিপিআরসি) নির্বাহী চেয়ারম্যান হোসেন জিল্লুর রহমান, রিসার্চ অ্যান্ড পলিসি ইন্টিগ্রেশন ফর ডেভেলপমেন্টের (র্যাপিড) চেয়ারম্যান এমএ রাজ্জাক, বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি আনোয়ার-উল-আলম চৌধুরী পারভেজ, বিজিএমইএর জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি ইনামুল হক খান, গার্মেন্টস শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের সভাপতি মন্টু ঘোষ।




