শিরোনাম

ঢাবির বাসে দম্পতির পাশাপাশি বসা নিয়ে হামলা, থানা হেফাজতে ছাত্রী

ঢাবি সংবাদদাতা
ঢাবি সংবাদদাতা
ঢাবির বাসে দম্পতির পাশাপাশি বসা নিয়ে হামলা, থানা হেফাজতে ছাত্রী
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লোগো

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ‘আনন্দ’ নামের বাসে এক দম্পতির পাশাপাশি বসাকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে শিক্ষার্থীদের ওপর স্থানীয়দের হামলা ও বাস ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় মামলা দায়ের করা হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রীকে থানা হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। একই ঘটনায় তার স্বামীসহ কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে। ওই ছাত্রী বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট বিভাগের ৯ম ব্যাচের শিক্ষার্থী।

বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে নারায়ণগঞ্জের ভূইগড় স্টপেজে এ ঘটনা ঘটে।

বাসে থাকা শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ঢাবির আনন্দ বাসে এক দম্পতি পাশাপাশি বসে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী ছেলে ও মেয়েকে পাশাপাশি বসতে দেখে তাদের আলাদা বসতে বলা হয়। তখন ওই ছাত্রী জানান, পাশে বসা ব্যক্তি তার স্বামী। পরে তাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হিসেবে পরিচয় নিশ্চিত করতে বলা হলে উভয় পক্ষের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে ওই ছাত্রী নিজেকে ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট বিভাগের শিক্ষার্থী বলে পরিচয় দেন। এ ঘটনার জেরে তিনি ফোন করে নারায়ণগঞ্জের ভূইগড় স্টপেজে ৩০ থেকে ৪০ জনকে জড়ো করেন। বাসটি স্টপেজে পৌছালে তারা শিক্ষার্থীদের মারধর করে এবং বাসে ভাঙচুর চালায়। এ সময় কয়েকজন ছাত্রী হেনস্তার শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এ ঘটনায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) পরিবহন সম্পাদক মো. আসিফ আব্দুল্লাহ নিজের ফেসবুক একাউন্টে এক স্ট্যাটাসে লেখেন, বাসে হামলা করার ঘটনায় ফতুল্লা থানায় মামলা করা হয়েছে। অভিযুক্ত শিক্ষার্থীকে থানায় হেফাজতে রাখা হয়েছে। শুক্রবার (৭ আগস্ট) সকাল ১১টার মধ্যে তার স্বামীকে থানায় হাজির করবে বলেছে। আজ দিনের বেলা আনন্দ রুটের শিক্ষার্থীদের নিয়ে আমরা প্রক্টর বরাবর অফিশিয়াল অভিযোগ দাখিল করবো ইনশাআল্লাহ।

এদিকে অভিযুক্ত ছাত্রী মাহিকা দীপ্তি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সংসদ গ্রুপে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন। সেখানে তিনি লেখেন, নারায়ণগঞ্জে বসবাস করার কারণে আমি নিয়মিত আনন্দ বাসে যাতায়াত করি। আজ ক্যাম্পাসে থিসিসের কাজ শেষে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার বাসে বাসায় ফিরছিলাম। রাত হওয়ার কারণে আমার স্বামী সঙ্গে ছিলেন। রাতের বাসে সাধারণত যাত্রী কম থাকে। তাই আমি ও আমার স্বামী পাশাপাশি একটি সিটে বসি। কিন্তু বাসের প্রেসিডেন্ট তারেক আমাদের বলেন, ছেলে-মেয়ে একসঙ্গে বসা যাবে না। তখন আমি বলি, আমরা স্বামী-স্ত্রী। কিন্তু তারা বলেন, তবুও একসঙ্গে বসা যাবে না। এরপর আমার স্বামী পেছনের একটি সিটে গিয়ে বসেন।

তার অভিযোগ, এ ঘটনার পর তারা আমার ছাত্রত্ব নিয়ে প্রশ্ন তোলে এবং পরিচয়পত্র দেখতে চান। আমি পরিচয়পত্র, বিশ্ববিদ্যালয়ের ই-মেইল, রেজিস্ট্রেশনসহ প্রয়োজনীয় তথ্য দেখালেও তারা বিশ্বাস করেনি। এ সময় তার সঙ্গে অসৌজন্যমূলক ও আক্রমণাত্মক আচরণ করা হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

দীপ্তি লেখেন, বাসের পেছনের দিকে বসে থাকা কয়েকজন ছেলে আমার সম্পর্কে আজেবাজে মন্তব্য করছিল। আমি সেগুলো শুনেছি। পরে আমার স্টপেজে নামার আগে আমি তারেককে বলি, একজন সিনিয়র হিসেবে তিনি আমার সঙ্গে যে আচরণ করেছেন, তা মোটেই কাম্য নয়। আমি পরিবহন অফিসে এ বিষয়ে অভিযোগ করব। এর মধ্যে বাসে থাকা আরেকজন মেয়ে আমার সঙ্গে শিষ্টাচার নিয়ে কথা বলতে শুরু করেন। তিনি আমাকে ভদ্রতা শেখার পরামর্শ দেন। একপর্যায়ে ওই মেয়ের সঙ্গে আমার তর্ক হয়। ঠিক তখনই আমার বাবা এলাকার একজন পরিচিত ব্যক্তি হওয়ায় তার পরিচিত এক-দুইজন বাসে উঠে আসেন। 

তিনি আরও বলেন, আমি ও আমার স্বামী পরিস্থিতি সামাল দিয়ে বলি, এটি আমাদের ব্যক্তিগত বিষয়। এরপর আমরা বাস থেকে নেমে যাই। কিন্তু এখন আমার নিজের বাসের সহপাঠীরাই আমার বিরুদ্ধে ফতুল্লা থানায় মামলা করেছেন। তাদের অভিযোগ, আমি নাকি ছেলেপেলে দিয়ে তাদের মারধর করিয়েছি। এত রাতে একজন মেয়ে হিসেবে আমাকে এখন থানায় যেতে হচ্ছে।

উল্লেখ্য, তিনি পরবর্তীতে এটি ডিলিট করে দিয়েছিলেন এবং শিক্ষার্থীরা তার এ ঘটনাকে ‘ভুয়া’ ও ‘বানোয়াট’ বলে অভিযোগ করে।

এ বিষয়ে ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মাহবুব আলম বলেন, প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী বাসে বসা নিয়ে বিরোধের পর ওই ছাত্রীর স্বামী স্থানীয় কয়েকজনকে ঘটনাস্থলে ডেকে আনেন। পরে তারা বাসে উঠে শিক্ষার্থীদের মারধর ও বাস ভাঙচুর করেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় কয়েকজনের নাম উল্লেখ করে এবং ২৫ থেকে ৩০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে মামলা করা হয়েছে। তদন্তের ভিত্তিতে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর সহযোগী অধ্যাপক মো. ইসরাফিল বলেন, ঘটনার বিষয়ে লিখিত অভিযোগ দিতে বলা হয়েছে। অভিযোগ পাওয়ার পর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তদন্ত করবে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুযায়ী সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

/জেএইচ/