শিরোনাম

গবিসাসের আয়োজনে প্রথমবারের মতো ‘চিঠি উৎসব’

গবি সংবাদদাতা
গবি সংবাদদাতা
গবিসাসের আয়োজনে প্রথমবারের মতো ‘চিঠি উৎসব’
চিঠি উৎসবে শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ আয়োজকরা। ছবি: সিজেডএন টোয়েন্টিফো

বিশ্ব চিঠি দিবস উপলক্ষে গণ বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির (গবিসাস) আয়োজনে ব্যতিক্রমী ‘চিঠি উৎসব’ পালিত হয়েছে। দিবসটি ঘিরে মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) গবির মিডিয়া চত্বরে দিনব্যাপী নানা আয়োজন করা হয়।

আয়োজকরা জানান, ক্যাম্পাসের কাউকে চিঠি লিখে প্রাপকের কাছে তা পৌঁছে দেওয়ার উদ্দেশ্যেই এই আয়োজন। আয়োজনটির শুরুতে আগত অতিথিদের হাতে চিঠি তুলে দেওয়া হয়।

উৎসবটিতে অংশ নিতে আসা শিক্ষার্থী তামান্না লিপি বলেন, চিঠি লেখার মতো হারিয়ে যেতে বসা একটি সুন্দর ঐতিহ্যকে ক্যাম্পাসে আবারও ফিরিয়ে আনার উদ্যোগটি সত্যিই প্রশংসনীয়। ব্যস্ত জীবনের মাঝে হাতে লেখা চিঠির মাধ্যমে মনের কথা প্রকাশ করার সুযোগ আমাদের জন্য এক ভিন্নধর্মী ও স্মরণীয় অভিজ্ঞতা তৈরি করেছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক নিলয় কুমার দে বলেন, আমার যখন বয়স ৩ বছর, তখন আমার মা মারা যায়। খালা-ফুফু-চাচিদের কাছেই আমি বড় হয়েছি৷ ছাত্র অবস্থায় রাজনীতিতে জরিয়ে গেলে আমার ফুফু আমাকে একটি চিঠি লিখে বলেন, ‘প্রিয় নিলয় আমি বিশ্বাস করি তুমি চেষ্টা করলেই সব পারবে। আর সবাই যা বলে আমি তা বিশ্বাস করি না।’ ঐ দুইটি লাইন আজকে আমাকে এই যায়গায় নিয়ে এসেছে।

আয়োজকদের পক্ষে গবিসাসের সভাপতি মুজাহিদুল নিরব বলেন, আমাদের কাছে চিঠির বিষয়টা গল্পের মতো। সোশ্যাল মিডিয়ার যুগে চিঠির অনুভূতিগুলো আমরা বুঝবো না। আগে চিঠি পাঠানো হতো ডাকযোগে। তারপর পোস্ট অফিসে হয়ে যেতো প্রাপকের কাছে। আর এখন ম্যাসেজ পাঠানোর পরে স্যাটেলাইট যায়, সেখান থেকে গন্তব্যে। তবে প্রযুক্তি এই ধারণা কিন্তু পুরনো চিঠির যুগ থেকেই নেওয়া। তাই আমরা চেষ্টা করেছি পুরনো ঐতিহ্যকে তুলে ধরতে।

দিনব্যাপী আয়োজিত উৎসবটি গণ বিশ্ববিদ্যালয় কালচারাল ক্লাবের সদস্যদের মনজ্ঞ সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মধ্য দিয়ে শেষ হয়।

/এফআর/