ওসমান হাদির বক্তব্য সংকলন ‘বারুদমাখা কথামালা’-এর মোড়ক উন্মোচন

ওসমান হাদির বক্তব্য সংকলন ‘বারুদমাখা কথামালা’-এর মোড়ক উন্মোচন
ঢাবি সংবাদদাতা

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) কর্তৃক প্রকাশিত শহিদ শরিফ ওসমান হাদির বক্তব্য সংকলন ‘বারুদমাখা কথামালা’-এর মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের জুলাই শহিদ স্মৃতি ভবন অডিটোরিয়ামে এ মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দৈনিক আমার দেশ-এর সম্পাদক ড. মাহমুদুর রহমান।
এ ছাড়া অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংসদ সদস্য ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ, ডেইলি ওয়াদাহ-এর সম্পাদক ও সাবেক প্রেস সচিব শফিকুল আলম; এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসিরুদ্দিন পাটোয়ারী; সংসদ সদস্য ডা. মাহমুদা মিতু, ডা. মারদিয়া মমতাজ; ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক জহিরুল ইসলাম; ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক আব্দুল্লাহ আল জাবেরসহ ডাকসুর ভিপি, জিএসসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে দৈনিক আমার দেশ-এর সম্পাদক ড. মাহমুদুর রহমান বলেন, বাংলাদেশের বিভিন্ন হত্যাকাণ্ড, গুম-নির্যাতন ও জুলাই গণহত্যার দায়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের আশ্রয়স্থল হিসেবে ভারত বারবার সামনে আসছে।
তিনি বলেন, ‘শেখ হাসিনা ভারতে, হাদির হত্যাকারীরা ভারতে, আয়নাঘরের সঙ্গে জড়িত জেনারেলরা ভারতে এবং জুলাই গণহত্যা চালানোর অভিযোগে অভিযুক্ত এমপি-মন্ত্রীরাও ভারতে রয়েছেন। প্রশ্ন হচ্ছে, পৃথিবীতে এত দেশ থাকতে অভিযুক্তরা কেন বারবার ভারতেই আশ্রয় নিচ্ছেন?’
মাহমুদুর রহমান বলেন, শহিদ শরিফ ওসমান হাদি বাঙালি মুসলমানের নিজস্ব পরিচয় ও সাংস্কৃতিক সত্তাকে প্রতিষ্ঠিত করতে চেয়েছিলেন। সংখ্যাগরিষ্ঠ হওয়া সত্ত্বেও বাঙালি মুসলমানের নিজস্ব সাংস্কৃতিক পরিচয় নিয়ে দীর্ঘদিনের সংকট রয়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
তার ভাষ্য, বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বকে আরও সংহত করতে নিজস্ব সাংস্কৃতিক পরিচয় শক্তিশালী করার বিকল্প নেই। এ কারণেই ওসমান হাদি একটি ‘কালচারাল রেভল্যুশন’ বা সাংস্কৃতিক বিপ্লবের কথা বলতেন।
ব্যক্তিগত স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে মাহমুদুর রহমান বলেন, তিনি ও ওসমান হাদি একসঙ্গে হাদির মায়ের লাশ কবরে রেখেছিলেন। কিন্তু কিছুদিন পর তাকেই ওসমান হাদির লাশ কবরে রাখতে হয়েছে। জুলাই বিপ্লবের একটি শক্তিশালী প্রতীক বা আইকন হয়ে ওঠার কারণেই হাদি হত্যার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছেন বলে তিনি মনে করেন।
সংসদ সদস্য ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ বলেন, ওসমান হাদি প্রায়ই বলতেন, সংসদে যেতে পারলে তিনি বাকি ২৯৯ সংসদ সদস্যের ঘুম হারাম করে দেবেন। কিন্তু আজ সংসদে দাঁড়িয়েও তার হত্যার বিচার পাওয়া যাচ্ছে না। তিনি ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানান।
ডেইলি ওয়াদাহ-এর সম্পাদক শফিকুল আলম বলেন, ওসমান হাদি যেভাবে বাংলাদেশের আজাদি বা স্বাধীনতার প্রশ্নটি উপস্থাপন করতেন, এ দেশে খুব কম মানুষই আগে এভাবে বিষয়টি সামনে এনেছেন।
তিনি বলেন, হাদি বিশ্বাস করতেন জুলাই এখনো শেষ হয়নি এবং মানুষের লড়াই মূলত একটি সাংস্কৃতিক লড়াই। বাংলাদেশের মানুষের প্রকৃত মুক্তির জন্য সাংস্কৃতিক সচেতনতা প্রয়োজন বলেও তিনি মনে করতেন।
এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসিরুদ্দিন পাটোয়ারী বলেন, ওসমান হাদি ইনকিলাব মঞ্চ থেকে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতেন এবং তাদের নানা পরামর্শ দিতেন। তবে রাজনৈতিক দলগুলো অনেক সময় তার চিন্তা ও পরামর্শকে যথেষ্ট গুরুত্ব দেয়নি।
তিনি বলেন, হাদি যে বাংলাদেশপন্থী রাজনীতির রূপরেখা রেখে গেছেন, তার মৃত্যুর পর তা আরও বেশি মানুষের হৃদয়ে দাগ কেটেছে।
ভারতে আশ্রয় নেওয়া অভিযুক্তদের প্রসঙ্গে নাসিরুদ্দিন পাটোয়ারী বলেন, খুনিদের আশ্রয় দিয়ে ভারতও একটি জটিল পরিস্থিতিতে পড়েছে। তাদের অন্য দেশে হস্তান্তর করলে ভারতের সমর্থকদের একটি অংশ ক্ষুব্ধ হতে পারে, আবার বাংলাদেশে না ফিরিয়ে রাখলে বাংলাদেশের জনগণের আকাঙ্ক্ষার বিপরীতে অবস্থান নেওয়া হয়।
সংসদ সদস্য ডা. মারদিয়া মমতাজ বলেন, ওসমান হাদি তাদের ওপর অনেক দায়িত্ব দিয়ে গেছেন। তার বক্তব্য ও চিন্তাভাবনার সমালোচনামূলক বিশ্লেষণ প্রয়োজন। দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার স্বার্থে তার চিন্তা থেকে প্রয়োজনীয় বিষয় বাস্তবায়নের কথাও বলেন তিনি।
সংসদ সদস্য ডা. মাহমুদা মিতু বলেন, ভারতের সঙ্গে ন্যায্য পানি বণ্টন নিশ্চিত করা, ওসমান হাদির হত্যাকারীদের ফিরিয়ে আনা এবং জুলাই গণহত্যার সঙ্গে জড়িতদের দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের আওতায় আনার বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে দেখতে হবে।
সভাপতির বক্তব্যে ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম বলেন, শহিদ ওসমান হাদির বক্তব্যগুলো প্রত্যেকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং প্রত্যেকটি জায়গায় ছড়িয়ে দিতে হবে।
‘যারা জুলাইয়ের বেশি সেবায়, তারা জুলাইয়ের সঙ্গে প্রতারণা করবে। আজকে আমরা দেখতে পাচ্ছি একটি দল নির্বাচিত হয়েছে। নির্বাচিত হওয়ার পর ছয় মাসের মধ্যে যারা আজকে জনগণের সাথে তারা প্রতারণা করছে।’
এই ক্যাম্পাসে যদি আবার কেউ গেস্টরুম-গণরুম ফিরিয়ে নিয়ে আসতে চায়, যদি শিক্ষার্থীদের ওপর নিপীড়ন করতে চায়, তাহলে ওসমান হাদি আমাদের শিখিয়েছেন, আমাদের জীবন দিয়ে হলেও এই অন্যায় প্রতিরোধ করতে হবে।
ডাকসু ভিপি আরও বলেন, শহিদ ওসমান হাদি যে পরিবর্তনের স্বপ্ন দেখেছিলেন, সেই স্বপ্নকে শুধু কথার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে কাজের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করতে হবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) কর্তৃক প্রকাশিত শহিদ শরিফ ওসমান হাদির বক্তব্য সংকলন ‘বারুদমাখা কথামালা’-এর মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের জুলাই শহিদ স্মৃতি ভবন অডিটোরিয়ামে এ মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দৈনিক আমার দেশ-এর সম্পাদক ড. মাহমুদুর রহমান।
এ ছাড়া অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংসদ সদস্য ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ, ডেইলি ওয়াদাহ-এর সম্পাদক ও সাবেক প্রেস সচিব শফিকুল আলম; এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসিরুদ্দিন পাটোয়ারী; সংসদ সদস্য ডা. মাহমুদা মিতু, ডা. মারদিয়া মমতাজ; ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক জহিরুল ইসলাম; ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক আব্দুল্লাহ আল জাবেরসহ ডাকসুর ভিপি, জিএসসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে দৈনিক আমার দেশ-এর সম্পাদক ড. মাহমুদুর রহমান বলেন, বাংলাদেশের বিভিন্ন হত্যাকাণ্ড, গুম-নির্যাতন ও জুলাই গণহত্যার দায়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের আশ্রয়স্থল হিসেবে ভারত বারবার সামনে আসছে।
তিনি বলেন, ‘শেখ হাসিনা ভারতে, হাদির হত্যাকারীরা ভারতে, আয়নাঘরের সঙ্গে জড়িত জেনারেলরা ভারতে এবং জুলাই গণহত্যা চালানোর অভিযোগে অভিযুক্ত এমপি-মন্ত্রীরাও ভারতে রয়েছেন। প্রশ্ন হচ্ছে, পৃথিবীতে এত দেশ থাকতে অভিযুক্তরা কেন বারবার ভারতেই আশ্রয় নিচ্ছেন?’
মাহমুদুর রহমান বলেন, শহিদ শরিফ ওসমান হাদি বাঙালি মুসলমানের নিজস্ব পরিচয় ও সাংস্কৃতিক সত্তাকে প্রতিষ্ঠিত করতে চেয়েছিলেন। সংখ্যাগরিষ্ঠ হওয়া সত্ত্বেও বাঙালি মুসলমানের নিজস্ব সাংস্কৃতিক পরিচয় নিয়ে দীর্ঘদিনের সংকট রয়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
তার ভাষ্য, বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বকে আরও সংহত করতে নিজস্ব সাংস্কৃতিক পরিচয় শক্তিশালী করার বিকল্প নেই। এ কারণেই ওসমান হাদি একটি ‘কালচারাল রেভল্যুশন’ বা সাংস্কৃতিক বিপ্লবের কথা বলতেন।
ব্যক্তিগত স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে মাহমুদুর রহমান বলেন, তিনি ও ওসমান হাদি একসঙ্গে হাদির মায়ের লাশ কবরে রেখেছিলেন। কিন্তু কিছুদিন পর তাকেই ওসমান হাদির লাশ কবরে রাখতে হয়েছে। জুলাই বিপ্লবের একটি শক্তিশালী প্রতীক বা আইকন হয়ে ওঠার কারণেই হাদি হত্যার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছেন বলে তিনি মনে করেন।
সংসদ সদস্য ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ বলেন, ওসমান হাদি প্রায়ই বলতেন, সংসদে যেতে পারলে তিনি বাকি ২৯৯ সংসদ সদস্যের ঘুম হারাম করে দেবেন। কিন্তু আজ সংসদে দাঁড়িয়েও তার হত্যার বিচার পাওয়া যাচ্ছে না। তিনি ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানান।
ডেইলি ওয়াদাহ-এর সম্পাদক শফিকুল আলম বলেন, ওসমান হাদি যেভাবে বাংলাদেশের আজাদি বা স্বাধীনতার প্রশ্নটি উপস্থাপন করতেন, এ দেশে খুব কম মানুষই আগে এভাবে বিষয়টি সামনে এনেছেন।
তিনি বলেন, হাদি বিশ্বাস করতেন জুলাই এখনো শেষ হয়নি এবং মানুষের লড়াই মূলত একটি সাংস্কৃতিক লড়াই। বাংলাদেশের মানুষের প্রকৃত মুক্তির জন্য সাংস্কৃতিক সচেতনতা প্রয়োজন বলেও তিনি মনে করতেন।
এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসিরুদ্দিন পাটোয়ারী বলেন, ওসমান হাদি ইনকিলাব মঞ্চ থেকে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতেন এবং তাদের নানা পরামর্শ দিতেন। তবে রাজনৈতিক দলগুলো অনেক সময় তার চিন্তা ও পরামর্শকে যথেষ্ট গুরুত্ব দেয়নি।
তিনি বলেন, হাদি যে বাংলাদেশপন্থী রাজনীতির রূপরেখা রেখে গেছেন, তার মৃত্যুর পর তা আরও বেশি মানুষের হৃদয়ে দাগ কেটেছে।
ভারতে আশ্রয় নেওয়া অভিযুক্তদের প্রসঙ্গে নাসিরুদ্দিন পাটোয়ারী বলেন, খুনিদের আশ্রয় দিয়ে ভারতও একটি জটিল পরিস্থিতিতে পড়েছে। তাদের অন্য দেশে হস্তান্তর করলে ভারতের সমর্থকদের একটি অংশ ক্ষুব্ধ হতে পারে, আবার বাংলাদেশে না ফিরিয়ে রাখলে বাংলাদেশের জনগণের আকাঙ্ক্ষার বিপরীতে অবস্থান নেওয়া হয়।
সংসদ সদস্য ডা. মারদিয়া মমতাজ বলেন, ওসমান হাদি তাদের ওপর অনেক দায়িত্ব দিয়ে গেছেন। তার বক্তব্য ও চিন্তাভাবনার সমালোচনামূলক বিশ্লেষণ প্রয়োজন। দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার স্বার্থে তার চিন্তা থেকে প্রয়োজনীয় বিষয় বাস্তবায়নের কথাও বলেন তিনি।
সংসদ সদস্য ডা. মাহমুদা মিতু বলেন, ভারতের সঙ্গে ন্যায্য পানি বণ্টন নিশ্চিত করা, ওসমান হাদির হত্যাকারীদের ফিরিয়ে আনা এবং জুলাই গণহত্যার সঙ্গে জড়িতদের দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের আওতায় আনার বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে দেখতে হবে।
সভাপতির বক্তব্যে ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম বলেন, শহিদ ওসমান হাদির বক্তব্যগুলো প্রত্যেকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং প্রত্যেকটি জায়গায় ছড়িয়ে দিতে হবে।
‘যারা জুলাইয়ের বেশি সেবায়, তারা জুলাইয়ের সঙ্গে প্রতারণা করবে। আজকে আমরা দেখতে পাচ্ছি একটি দল নির্বাচিত হয়েছে। নির্বাচিত হওয়ার পর ছয় মাসের মধ্যে যারা আজকে জনগণের সাথে তারা প্রতারণা করছে।’
এই ক্যাম্পাসে যদি আবার কেউ গেস্টরুম-গণরুম ফিরিয়ে নিয়ে আসতে চায়, যদি শিক্ষার্থীদের ওপর নিপীড়ন করতে চায়, তাহলে ওসমান হাদি আমাদের শিখিয়েছেন, আমাদের জীবন দিয়ে হলেও এই অন্যায় প্রতিরোধ করতে হবে।
ডাকসু ভিপি আরও বলেন, শহিদ ওসমান হাদি যে পরিবর্তনের স্বপ্ন দেখেছিলেন, সেই স্বপ্নকে শুধু কথার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে কাজের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করতে হবে।

ওসমান হাদির বক্তব্য সংকলন ‘বারুদমাখা কথামালা’-এর মোড়ক উন্মোচন
ঢাবি সংবাদদাতা

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) কর্তৃক প্রকাশিত শহিদ শরিফ ওসমান হাদির বক্তব্য সংকলন ‘বারুদমাখা কথামালা’-এর মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের জুলাই শহিদ স্মৃতি ভবন অডিটোরিয়ামে এ মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দৈনিক আমার দেশ-এর সম্পাদক ড. মাহমুদুর রহমান।
এ ছাড়া অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংসদ সদস্য ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ, ডেইলি ওয়াদাহ-এর সম্পাদক ও সাবেক প্রেস সচিব শফিকুল আলম; এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসিরুদ্দিন পাটোয়ারী; সংসদ সদস্য ডা. মাহমুদা মিতু, ডা. মারদিয়া মমতাজ; ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক জহিরুল ইসলাম; ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক আব্দুল্লাহ আল জাবেরসহ ডাকসুর ভিপি, জিএসসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে দৈনিক আমার দেশ-এর সম্পাদক ড. মাহমুদুর রহমান বলেন, বাংলাদেশের বিভিন্ন হত্যাকাণ্ড, গুম-নির্যাতন ও জুলাই গণহত্যার দায়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের আশ্রয়স্থল হিসেবে ভারত বারবার সামনে আসছে।
তিনি বলেন, ‘শেখ হাসিনা ভারতে, হাদির হত্যাকারীরা ভারতে, আয়নাঘরের সঙ্গে জড়িত জেনারেলরা ভারতে এবং জুলাই গণহত্যা চালানোর অভিযোগে অভিযুক্ত এমপি-মন্ত্রীরাও ভারতে রয়েছেন। প্রশ্ন হচ্ছে, পৃথিবীতে এত দেশ থাকতে অভিযুক্তরা কেন বারবার ভারতেই আশ্রয় নিচ্ছেন?’
মাহমুদুর রহমান বলেন, শহিদ শরিফ ওসমান হাদি বাঙালি মুসলমানের নিজস্ব পরিচয় ও সাংস্কৃতিক সত্তাকে প্রতিষ্ঠিত করতে চেয়েছিলেন। সংখ্যাগরিষ্ঠ হওয়া সত্ত্বেও বাঙালি মুসলমানের নিজস্ব সাংস্কৃতিক পরিচয় নিয়ে দীর্ঘদিনের সংকট রয়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
তার ভাষ্য, বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বকে আরও সংহত করতে নিজস্ব সাংস্কৃতিক পরিচয় শক্তিশালী করার বিকল্প নেই। এ কারণেই ওসমান হাদি একটি ‘কালচারাল রেভল্যুশন’ বা সাংস্কৃতিক বিপ্লবের কথা বলতেন।
ব্যক্তিগত স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে মাহমুদুর রহমান বলেন, তিনি ও ওসমান হাদি একসঙ্গে হাদির মায়ের লাশ কবরে রেখেছিলেন। কিন্তু কিছুদিন পর তাকেই ওসমান হাদির লাশ কবরে রাখতে হয়েছে। জুলাই বিপ্লবের একটি শক্তিশালী প্রতীক বা আইকন হয়ে ওঠার কারণেই হাদি হত্যার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছেন বলে তিনি মনে করেন।
সংসদ সদস্য ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ বলেন, ওসমান হাদি প্রায়ই বলতেন, সংসদে যেতে পারলে তিনি বাকি ২৯৯ সংসদ সদস্যের ঘুম হারাম করে দেবেন। কিন্তু আজ সংসদে দাঁড়িয়েও তার হত্যার বিচার পাওয়া যাচ্ছে না। তিনি ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানান।
ডেইলি ওয়াদাহ-এর সম্পাদক শফিকুল আলম বলেন, ওসমান হাদি যেভাবে বাংলাদেশের আজাদি বা স্বাধীনতার প্রশ্নটি উপস্থাপন করতেন, এ দেশে খুব কম মানুষই আগে এভাবে বিষয়টি সামনে এনেছেন।
তিনি বলেন, হাদি বিশ্বাস করতেন জুলাই এখনো শেষ হয়নি এবং মানুষের লড়াই মূলত একটি সাংস্কৃতিক লড়াই। বাংলাদেশের মানুষের প্রকৃত মুক্তির জন্য সাংস্কৃতিক সচেতনতা প্রয়োজন বলেও তিনি মনে করতেন।
এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসিরুদ্দিন পাটোয়ারী বলেন, ওসমান হাদি ইনকিলাব মঞ্চ থেকে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতেন এবং তাদের নানা পরামর্শ দিতেন। তবে রাজনৈতিক দলগুলো অনেক সময় তার চিন্তা ও পরামর্শকে যথেষ্ট গুরুত্ব দেয়নি।
তিনি বলেন, হাদি যে বাংলাদেশপন্থী রাজনীতির রূপরেখা রেখে গেছেন, তার মৃত্যুর পর তা আরও বেশি মানুষের হৃদয়ে দাগ কেটেছে।
ভারতে আশ্রয় নেওয়া অভিযুক্তদের প্রসঙ্গে নাসিরুদ্দিন পাটোয়ারী বলেন, খুনিদের আশ্রয় দিয়ে ভারতও একটি জটিল পরিস্থিতিতে পড়েছে। তাদের অন্য দেশে হস্তান্তর করলে ভারতের সমর্থকদের একটি অংশ ক্ষুব্ধ হতে পারে, আবার বাংলাদেশে না ফিরিয়ে রাখলে বাংলাদেশের জনগণের আকাঙ্ক্ষার বিপরীতে অবস্থান নেওয়া হয়।
সংসদ সদস্য ডা. মারদিয়া মমতাজ বলেন, ওসমান হাদি তাদের ওপর অনেক দায়িত্ব দিয়ে গেছেন। তার বক্তব্য ও চিন্তাভাবনার সমালোচনামূলক বিশ্লেষণ প্রয়োজন। দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার স্বার্থে তার চিন্তা থেকে প্রয়োজনীয় বিষয় বাস্তবায়নের কথাও বলেন তিনি।
সংসদ সদস্য ডা. মাহমুদা মিতু বলেন, ভারতের সঙ্গে ন্যায্য পানি বণ্টন নিশ্চিত করা, ওসমান হাদির হত্যাকারীদের ফিরিয়ে আনা এবং জুলাই গণহত্যার সঙ্গে জড়িতদের দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের আওতায় আনার বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে দেখতে হবে।
সভাপতির বক্তব্যে ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম বলেন, শহিদ ওসমান হাদির বক্তব্যগুলো প্রত্যেকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং প্রত্যেকটি জায়গায় ছড়িয়ে দিতে হবে।
‘যারা জুলাইয়ের বেশি সেবায়, তারা জুলাইয়ের সঙ্গে প্রতারণা করবে। আজকে আমরা দেখতে পাচ্ছি একটি দল নির্বাচিত হয়েছে। নির্বাচিত হওয়ার পর ছয় মাসের মধ্যে যারা আজকে জনগণের সাথে তারা প্রতারণা করছে।’
এই ক্যাম্পাসে যদি আবার কেউ গেস্টরুম-গণরুম ফিরিয়ে নিয়ে আসতে চায়, যদি শিক্ষার্থীদের ওপর নিপীড়ন করতে চায়, তাহলে ওসমান হাদি আমাদের শিখিয়েছেন, আমাদের জীবন দিয়ে হলেও এই অন্যায় প্রতিরোধ করতে হবে।
ডাকসু ভিপি আরও বলেন, শহিদ ওসমান হাদি যে পরিবর্তনের স্বপ্ন দেখেছিলেন, সেই স্বপ্নকে শুধু কথার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে কাজের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করতে হবে।




আদর্শেন্যায়ভিত্তিকসমাজগড়ারআহ্বানরাষ্ট্রপতির-CznNewsLab-25c269.jpg)



