২০ বছরেও নিজস্ব অডিটোরিয়াম পায়নি কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়

২০ বছরেও নিজস্ব অডিটোরিয়াম পায়নি কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়
কুবি সংবাদদাতা

প্রতিষ্ঠার দীর্ঘ দুই দশক পূর্ণ হলেও এখনো নিজস্ব কেন্দ্রীয় অডিটোরিয়াম পায়নি কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় (কুবি)। ফলে সেমিনার, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, নাটক, বিতর্ক, আন্তর্জাতিক সম্মেলন, কর্মশালাসহ বিভিন্ন জাতীয় দিবসের কর্মসূচি আয়োজন করতে গিয়ে প্রতিবছরই ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং বিভিন্ন সংগঠনকে।
২০০৬ সালের ২৮ মে দেশের ২৬তম পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে যাত্রা শুরু করে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৯টি বিভাগে প্রায় ৬ হাজার ৪৪৫ জন শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছেন। পাশাপাশি নিবন্ধিত, অনিবন্ধিত ও আঞ্চলিক মিলিয়ে প্রায় শতাধিক ছাত্রসংগঠন ও ক্লাব নিয়মিত অ্যাকাডেমিক, সাংস্কৃতিক ও সহশিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করছে। কিন্তু একটি কেন্দ্রীয় অডিটোরিয়ামের অভাবে বড় পরিসরের অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য এসব সংগঠনকে প্রায়ই ক্যাম্পাসের বাইরে ভাড়া করা ভেন্যুর ওপর নির্ভর করতে হয়, যা অতিরিক্ত ব্যয় ও নানা ধরনের লজিস্টিক জটিলতা সৃষ্টি করে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্টদের দাবি, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও সংগঠনের সংখ্যা বাড়লেও সে অনুপাতে অবকাঠামোগত সুবিধা বৃদ্ধি পায়নি। এর সবচেয়ে বড় উদাহরণ কেন্দ্রীয় অডিটোরিয়ামের অনুপস্থিতি। ফলে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মানের অনুষ্ঠান আয়োজনেও পিছিয়ে পড়ছে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, কেন্দ্রীয় অডিটোরিয়াম না থাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাডেমিক, সাংস্কৃতিক ও সহশিক্ষা কার্যক্রম বারবার বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রেই বাধ্য হয়ে খোলা মাঠ, অস্থায়ী মঞ্চ কিংবা সীমিত ধারণক্ষমতার কনফারেন্স কক্ষে অনুষ্ঠান আয়োজন করতে হচ্ছে। বড় পরিসরের কোনো সেমিনার, কর্মশালা, বিতর্ক, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান কিংবা আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় আয়োজন করতে গেলেই ভেন্যু-সংকটে পড়তে হয়। অনেক সময় ক্যাম্পাসের বাইরে ভাড়া করা অডিটোরিয়ামের ওপর নির্ভর করতে হওয়ায় ব্যয় বেড়ে যায়, সমন্বয় জটিল হয়ে পড়ে এবং অংশগ্রহণকারীদের উপস্থিতি নিশ্চিত করাও কঠিন হয়ে যায়। তাদের মতে, বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই দশকের পথচলায় একটি আধুনিক কেন্দ্রীয় অডিটোরিয়াম এখন সময়ের দাবি।
জানা যায়, সমসাময়িক অনেক পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ইতোমধ্যে আধুনিক কেন্দ্রীয় অডিটোরিয়াম নির্মিত হয়েছে। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়, পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এবং পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় এ সুবিধা রয়েছে। অথচ দুই দশক পেরিয়েও কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে এখনো কেন্দ্রীয় অডিটোরিয়াম নির্মিত হয়নি।
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় মডেল ইউনাইটেড নেশনের (এমইউএন) সাধারণ সম্পাদক আবির হাসান বলেন, ‘কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি অডিটোরিয়ামের অভাবে আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের সেমিনার, ন্যাশনাল এমইউএন (এমইউএন) কনফারেন্স, সাংস্কৃতিক ও অ্যাকাডেমিক অনুষ্ঠান আয়োজন করতে প্রায়ই ভেন্যু-সংকটে পড়তে হয়। একটি স্থায়ী অডিটোরিয়াম থাকলে এসব কার্যক্রম আরও সুষ্ঠু ও পেশাদারভাবে আয়োজন করা সম্ভব হতো। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হওয়ার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের সহশিক্ষা কার্যক্রম ও নেতৃত্ব বিকাশেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতো।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের ইএলডিসির সভাপতি আব্দুল্লাহ আল নোমান বলেন, ‘আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে এখনো কোনো অডিটোরিয়াম নেই, যা একজন ক্লাব সভাপতি ও শিক্ষার্থী হিসেবে বড় একটি চ্যালেঞ্জ। আমরা (ইএলডিসি) নিয়মিত সেমিনার, ওয়ার্কশপ, লিডারশিপ ট্রেনিং ও জাতীয় পর্যায়ের বিভিন্ন আয়োজন করি। কিন্তু বড় কোনো অনুষ্ঠান পরিকল্পনা করলেই ভেন্যু-সংকটে পড়তে হয়। কনফারেন্স রুমের সীমিত ধারণক্ষমতার কারণে বাধ্য হয়ে বাইরের ভেন্যুর ওপর নির্ভর করতে হয়, যা ব্যয়, লজিস্টিক ও সমন্বয়ের ক্ষেত্রে বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করে।’
তিনি আরও বলেন, "অডিটোরিয়াম না থাকায় অনেক সময় বড় পরিসরের ও মানসম্মত অনুষ্ঠান আয়োজন সম্ভব হয় না। একটি আধুনিক কেন্দ্রীয় অডিটোরিয়াম থাকলে বড় আয়োজন, কর্পোরেট সংযোগ এবং স্পন্সরশিপ পাওয়া সহজ হতো। এতে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ ও অভিজ্ঞতা বাড়ার পাশাপাশি ক্লাবগুলোর কার্যক্রম আরও শক্তিশালী হতো এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সামগ্রিক ব্র্যান্ডিংও উন্নত হতো।’
কুবি ডিবেটিং ক্লাবের সভাপতি আব্দুর রহমান আস-সাদী বলেন, ‘ক্যাম্পাসে একটি আধুনিক অডিটোরিয়াম থাকলে আন্তর্জাতিক মানের অনুষ্ঠান আয়োজন ও স্পন্সরশিপ সংগ্রহ অনেক সহজ হতো। এতে ক্লাবগুলোর আর্থিক চাপ কমার পাশাপাশি ক্যাম্পাসের সহশিক্ষা কার্যক্রমও আরও গতিশীল হয়ে উঠত।’
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মাসুদা কামাল বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের সমস্যাগুলো আমরা বুঝতে পারছি। নতুন ক্যাম্পাসে একটি আধুনিক অডিটোরিয়াম নির্মাণের কাজ চলছে। বর্তমান ক্যাম্পাসে নতুন করে অডিটোরিয়াম নির্মাণের মতো পর্যাপ্ত জায়গা নেই। তা ছাড়া নতুন ক্যাম্পাসে অডিটোরিয়াম নির্মাণ হওয়ায় এ ক্যাম্পাসের জন্য আলাদা সরকারি বাজেট পাওয়ার সম্ভাবনাও নেই।’

প্রতিষ্ঠার দীর্ঘ দুই দশক পূর্ণ হলেও এখনো নিজস্ব কেন্দ্রীয় অডিটোরিয়াম পায়নি কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় (কুবি)। ফলে সেমিনার, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, নাটক, বিতর্ক, আন্তর্জাতিক সম্মেলন, কর্মশালাসহ বিভিন্ন জাতীয় দিবসের কর্মসূচি আয়োজন করতে গিয়ে প্রতিবছরই ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং বিভিন্ন সংগঠনকে।
২০০৬ সালের ২৮ মে দেশের ২৬তম পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে যাত্রা শুরু করে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৯টি বিভাগে প্রায় ৬ হাজার ৪৪৫ জন শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছেন। পাশাপাশি নিবন্ধিত, অনিবন্ধিত ও আঞ্চলিক মিলিয়ে প্রায় শতাধিক ছাত্রসংগঠন ও ক্লাব নিয়মিত অ্যাকাডেমিক, সাংস্কৃতিক ও সহশিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করছে। কিন্তু একটি কেন্দ্রীয় অডিটোরিয়ামের অভাবে বড় পরিসরের অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য এসব সংগঠনকে প্রায়ই ক্যাম্পাসের বাইরে ভাড়া করা ভেন্যুর ওপর নির্ভর করতে হয়, যা অতিরিক্ত ব্যয় ও নানা ধরনের লজিস্টিক জটিলতা সৃষ্টি করে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্টদের দাবি, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও সংগঠনের সংখ্যা বাড়লেও সে অনুপাতে অবকাঠামোগত সুবিধা বৃদ্ধি পায়নি। এর সবচেয়ে বড় উদাহরণ কেন্দ্রীয় অডিটোরিয়ামের অনুপস্থিতি। ফলে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মানের অনুষ্ঠান আয়োজনেও পিছিয়ে পড়ছে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, কেন্দ্রীয় অডিটোরিয়াম না থাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাডেমিক, সাংস্কৃতিক ও সহশিক্ষা কার্যক্রম বারবার বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রেই বাধ্য হয়ে খোলা মাঠ, অস্থায়ী মঞ্চ কিংবা সীমিত ধারণক্ষমতার কনফারেন্স কক্ষে অনুষ্ঠান আয়োজন করতে হচ্ছে। বড় পরিসরের কোনো সেমিনার, কর্মশালা, বিতর্ক, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান কিংবা আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় আয়োজন করতে গেলেই ভেন্যু-সংকটে পড়তে হয়। অনেক সময় ক্যাম্পাসের বাইরে ভাড়া করা অডিটোরিয়ামের ওপর নির্ভর করতে হওয়ায় ব্যয় বেড়ে যায়, সমন্বয় জটিল হয়ে পড়ে এবং অংশগ্রহণকারীদের উপস্থিতি নিশ্চিত করাও কঠিন হয়ে যায়। তাদের মতে, বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই দশকের পথচলায় একটি আধুনিক কেন্দ্রীয় অডিটোরিয়াম এখন সময়ের দাবি।
জানা যায়, সমসাময়িক অনেক পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ইতোমধ্যে আধুনিক কেন্দ্রীয় অডিটোরিয়াম নির্মিত হয়েছে। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়, পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এবং পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় এ সুবিধা রয়েছে। অথচ দুই দশক পেরিয়েও কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে এখনো কেন্দ্রীয় অডিটোরিয়াম নির্মিত হয়নি।
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় মডেল ইউনাইটেড নেশনের (এমইউএন) সাধারণ সম্পাদক আবির হাসান বলেন, ‘কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি অডিটোরিয়ামের অভাবে আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের সেমিনার, ন্যাশনাল এমইউএন (এমইউএন) কনফারেন্স, সাংস্কৃতিক ও অ্যাকাডেমিক অনুষ্ঠান আয়োজন করতে প্রায়ই ভেন্যু-সংকটে পড়তে হয়। একটি স্থায়ী অডিটোরিয়াম থাকলে এসব কার্যক্রম আরও সুষ্ঠু ও পেশাদারভাবে আয়োজন করা সম্ভব হতো। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হওয়ার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের সহশিক্ষা কার্যক্রম ও নেতৃত্ব বিকাশেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতো।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের ইএলডিসির সভাপতি আব্দুল্লাহ আল নোমান বলেন, ‘আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে এখনো কোনো অডিটোরিয়াম নেই, যা একজন ক্লাব সভাপতি ও শিক্ষার্থী হিসেবে বড় একটি চ্যালেঞ্জ। আমরা (ইএলডিসি) নিয়মিত সেমিনার, ওয়ার্কশপ, লিডারশিপ ট্রেনিং ও জাতীয় পর্যায়ের বিভিন্ন আয়োজন করি। কিন্তু বড় কোনো অনুষ্ঠান পরিকল্পনা করলেই ভেন্যু-সংকটে পড়তে হয়। কনফারেন্স রুমের সীমিত ধারণক্ষমতার কারণে বাধ্য হয়ে বাইরের ভেন্যুর ওপর নির্ভর করতে হয়, যা ব্যয়, লজিস্টিক ও সমন্বয়ের ক্ষেত্রে বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করে।’
তিনি আরও বলেন, "অডিটোরিয়াম না থাকায় অনেক সময় বড় পরিসরের ও মানসম্মত অনুষ্ঠান আয়োজন সম্ভব হয় না। একটি আধুনিক কেন্দ্রীয় অডিটোরিয়াম থাকলে বড় আয়োজন, কর্পোরেট সংযোগ এবং স্পন্সরশিপ পাওয়া সহজ হতো। এতে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ ও অভিজ্ঞতা বাড়ার পাশাপাশি ক্লাবগুলোর কার্যক্রম আরও শক্তিশালী হতো এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সামগ্রিক ব্র্যান্ডিংও উন্নত হতো।’
কুবি ডিবেটিং ক্লাবের সভাপতি আব্দুর রহমান আস-সাদী বলেন, ‘ক্যাম্পাসে একটি আধুনিক অডিটোরিয়াম থাকলে আন্তর্জাতিক মানের অনুষ্ঠান আয়োজন ও স্পন্সরশিপ সংগ্রহ অনেক সহজ হতো। এতে ক্লাবগুলোর আর্থিক চাপ কমার পাশাপাশি ক্যাম্পাসের সহশিক্ষা কার্যক্রমও আরও গতিশীল হয়ে উঠত।’
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মাসুদা কামাল বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের সমস্যাগুলো আমরা বুঝতে পারছি। নতুন ক্যাম্পাসে একটি আধুনিক অডিটোরিয়াম নির্মাণের কাজ চলছে। বর্তমান ক্যাম্পাসে নতুন করে অডিটোরিয়াম নির্মাণের মতো পর্যাপ্ত জায়গা নেই। তা ছাড়া নতুন ক্যাম্পাসে অডিটোরিয়াম নির্মাণ হওয়ায় এ ক্যাম্পাসের জন্য আলাদা সরকারি বাজেট পাওয়ার সম্ভাবনাও নেই।’

২০ বছরেও নিজস্ব অডিটোরিয়াম পায়নি কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়
কুবি সংবাদদাতা

প্রতিষ্ঠার দীর্ঘ দুই দশক পূর্ণ হলেও এখনো নিজস্ব কেন্দ্রীয় অডিটোরিয়াম পায়নি কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় (কুবি)। ফলে সেমিনার, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, নাটক, বিতর্ক, আন্তর্জাতিক সম্মেলন, কর্মশালাসহ বিভিন্ন জাতীয় দিবসের কর্মসূচি আয়োজন করতে গিয়ে প্রতিবছরই ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং বিভিন্ন সংগঠনকে।
২০০৬ সালের ২৮ মে দেশের ২৬তম পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে যাত্রা শুরু করে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৯টি বিভাগে প্রায় ৬ হাজার ৪৪৫ জন শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছেন। পাশাপাশি নিবন্ধিত, অনিবন্ধিত ও আঞ্চলিক মিলিয়ে প্রায় শতাধিক ছাত্রসংগঠন ও ক্লাব নিয়মিত অ্যাকাডেমিক, সাংস্কৃতিক ও সহশিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করছে। কিন্তু একটি কেন্দ্রীয় অডিটোরিয়ামের অভাবে বড় পরিসরের অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য এসব সংগঠনকে প্রায়ই ক্যাম্পাসের বাইরে ভাড়া করা ভেন্যুর ওপর নির্ভর করতে হয়, যা অতিরিক্ত ব্যয় ও নানা ধরনের লজিস্টিক জটিলতা সৃষ্টি করে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্টদের দাবি, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও সংগঠনের সংখ্যা বাড়লেও সে অনুপাতে অবকাঠামোগত সুবিধা বৃদ্ধি পায়নি। এর সবচেয়ে বড় উদাহরণ কেন্দ্রীয় অডিটোরিয়ামের অনুপস্থিতি। ফলে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মানের অনুষ্ঠান আয়োজনেও পিছিয়ে পড়ছে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, কেন্দ্রীয় অডিটোরিয়াম না থাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাডেমিক, সাংস্কৃতিক ও সহশিক্ষা কার্যক্রম বারবার বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রেই বাধ্য হয়ে খোলা মাঠ, অস্থায়ী মঞ্চ কিংবা সীমিত ধারণক্ষমতার কনফারেন্স কক্ষে অনুষ্ঠান আয়োজন করতে হচ্ছে। বড় পরিসরের কোনো সেমিনার, কর্মশালা, বিতর্ক, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান কিংবা আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় আয়োজন করতে গেলেই ভেন্যু-সংকটে পড়তে হয়। অনেক সময় ক্যাম্পাসের বাইরে ভাড়া করা অডিটোরিয়ামের ওপর নির্ভর করতে হওয়ায় ব্যয় বেড়ে যায়, সমন্বয় জটিল হয়ে পড়ে এবং অংশগ্রহণকারীদের উপস্থিতি নিশ্চিত করাও কঠিন হয়ে যায়। তাদের মতে, বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই দশকের পথচলায় একটি আধুনিক কেন্দ্রীয় অডিটোরিয়াম এখন সময়ের দাবি।
জানা যায়, সমসাময়িক অনেক পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ইতোমধ্যে আধুনিক কেন্দ্রীয় অডিটোরিয়াম নির্মিত হয়েছে। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়, পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এবং পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় এ সুবিধা রয়েছে। অথচ দুই দশক পেরিয়েও কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে এখনো কেন্দ্রীয় অডিটোরিয়াম নির্মিত হয়নি।
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় মডেল ইউনাইটেড নেশনের (এমইউএন) সাধারণ সম্পাদক আবির হাসান বলেন, ‘কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি অডিটোরিয়ামের অভাবে আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের সেমিনার, ন্যাশনাল এমইউএন (এমইউএন) কনফারেন্স, সাংস্কৃতিক ও অ্যাকাডেমিক অনুষ্ঠান আয়োজন করতে প্রায়ই ভেন্যু-সংকটে পড়তে হয়। একটি স্থায়ী অডিটোরিয়াম থাকলে এসব কার্যক্রম আরও সুষ্ঠু ও পেশাদারভাবে আয়োজন করা সম্ভব হতো। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হওয়ার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের সহশিক্ষা কার্যক্রম ও নেতৃত্ব বিকাশেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতো।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের ইএলডিসির সভাপতি আব্দুল্লাহ আল নোমান বলেন, ‘আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে এখনো কোনো অডিটোরিয়াম নেই, যা একজন ক্লাব সভাপতি ও শিক্ষার্থী হিসেবে বড় একটি চ্যালেঞ্জ। আমরা (ইএলডিসি) নিয়মিত সেমিনার, ওয়ার্কশপ, লিডারশিপ ট্রেনিং ও জাতীয় পর্যায়ের বিভিন্ন আয়োজন করি। কিন্তু বড় কোনো অনুষ্ঠান পরিকল্পনা করলেই ভেন্যু-সংকটে পড়তে হয়। কনফারেন্স রুমের সীমিত ধারণক্ষমতার কারণে বাধ্য হয়ে বাইরের ভেন্যুর ওপর নির্ভর করতে হয়, যা ব্যয়, লজিস্টিক ও সমন্বয়ের ক্ষেত্রে বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করে।’
তিনি আরও বলেন, "অডিটোরিয়াম না থাকায় অনেক সময় বড় পরিসরের ও মানসম্মত অনুষ্ঠান আয়োজন সম্ভব হয় না। একটি আধুনিক কেন্দ্রীয় অডিটোরিয়াম থাকলে বড় আয়োজন, কর্পোরেট সংযোগ এবং স্পন্সরশিপ পাওয়া সহজ হতো। এতে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ ও অভিজ্ঞতা বাড়ার পাশাপাশি ক্লাবগুলোর কার্যক্রম আরও শক্তিশালী হতো এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সামগ্রিক ব্র্যান্ডিংও উন্নত হতো।’
কুবি ডিবেটিং ক্লাবের সভাপতি আব্দুর রহমান আস-সাদী বলেন, ‘ক্যাম্পাসে একটি আধুনিক অডিটোরিয়াম থাকলে আন্তর্জাতিক মানের অনুষ্ঠান আয়োজন ও স্পন্সরশিপ সংগ্রহ অনেক সহজ হতো। এতে ক্লাবগুলোর আর্থিক চাপ কমার পাশাপাশি ক্যাম্পাসের সহশিক্ষা কার্যক্রমও আরও গতিশীল হয়ে উঠত।’
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মাসুদা কামাল বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের সমস্যাগুলো আমরা বুঝতে পারছি। নতুন ক্যাম্পাসে একটি আধুনিক অডিটোরিয়াম নির্মাণের কাজ চলছে। বর্তমান ক্যাম্পাসে নতুন করে অডিটোরিয়াম নির্মাণের মতো পর্যাপ্ত জায়গা নেই। তা ছাড়া নতুন ক্যাম্পাসে অডিটোরিয়াম নির্মাণ হওয়ায় এ ক্যাম্পাসের জন্য আলাদা সরকারি বাজেট পাওয়ার সম্ভাবনাও নেই।’

এক দশকেও কুবিতে চালু হয়নি নতুন কোনো বিভাগ






