শিরোনাম

এক দশকেও কুবিতে চালু হয়নি নতুন কোনো বিভাগ

কুবি সংবাদদাতা
কুবি সংবাদদাতা
এক দশকেও কুবিতে চালু হয়নি নতুন কোনো বিভাগ
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়।

দীর্ঘ এক দশকেও কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুবি) চালু হয়নি নতুন কোনো অ্যাকাডেমিক বিভাগ। ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষে সর্বশেষ দুটি বিভাগ চালুর পর থেকে নতুন বিভাগ সংযোজনে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। ফলে উচ্চশিক্ষার চাহিদা, গবেষণার ক্ষেত্র সম্প্রসারণ এবং শিক্ষার্থীদের বিষয়ভিত্তিক পছন্দের সুযোগ বৃদ্ধির ক্ষেত্রে পিছিয়ে পড়ছে বিশ্ববিদ্যালয়টি।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দুইটি বিভাগের অনুমোদন পেলেও শিক্ষক নিয়োগের পদ বরাদ্দ না থাকায় নতুন বিভাগ চালু করা সম্ভব হয়নি।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, প্রতিষ্ঠাকালে সাতটি বিভাগ নিয়ে যাত্রা শুরু করে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়। সর্বশেষ ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাডেমিক কার্যক্রমে যুক্ত হয় গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ এবং আইন বিভাগ। এরপর ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বরে বিজ্ঞান অনুষদের অধীনে বন ও পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগ এবং ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের অধীনে মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনা বিভাগ চালুর অনুমোদন দেওয়া হলেও শিক্ষক সংকট, অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা ও শ্রেণিকক্ষের অভাবে বিভাগ দুটি চালু করা সম্ভব হয়নি।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, দুই বিভাগের কার্যক্রম বন্ধ থাকায় উচ্চশিক্ষার চাহিদা, গবেষণার ক্ষেত্র সম্প্রসারণ ও শিক্ষার্থীদের বিষয় নির্বাচনের সুযোগ বাড়ানোর ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়টি প্রত্যাশিত অগ্রগতি অর্জন করতে পারেনি।

এদিকে, বিশ্ববিদ্যালয়ের ৮৯তম অ্যাকাডেমিক কাউন্সিল সভায় নতুন ১৮টি বিভাগ ও ৪টি ইনস্টিটিউট চালুর সুপারিশ করা হয়। ওই প্রস্তাবে পূর্ব অনুমোদিত মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনা বিভাগের পরিবর্তে লজিস্টিকস অ্যান্ড মার্চেন্ডাইজিং বিভাগ এবং বন ও পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের পরিবর্তে পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগ করার প্রস্তাব করা হয়। তবে এরপর এসব বিভাগ চালুর বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি হয়নি।

এসব কারণে দীর্ঘদিন ধরে নতুন বিভাগ না চালু হওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাডেমিক সম্প্রসারণ নিয়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্টদের মধ্যে হতাশা তৈরি হয়েছে। তারা দ্রুত প্রয়োজনীয় জনবল, অবকাঠামো ও সরকারি অনুমোদনের মাধ্যমে নতুন বিভাগ চালুর উদ্যোগ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

তথ্যমতে, সমসাময়িক ও একই সময়ে প্রতিষ্ঠিত অন্য পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে নিয়মিত নতুন বিভাগ এবং ইনস্টিটিউট চালু হলেও কুবিতে নতুন বিভাগের দেখা নেই। সর্বশেষ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) ২০২৩ সালে চারুকলা বিভাগকে অনুষদ করে এর অধীনে তিনটি নতুন বিভাগ ( ড্রয়িং অ্যান্ড পেইন্টিং, প্রিন্টমেকিং ও ভাস্কর্য) চালু করা হয় এবং নোয়াখালী বিজ্ঞান প্রযুক্তি প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০২৩ সালে ৩টি নতুন বিভাগ (রসায়ন, মৃত্তিকা, পানি ও পরিবেশ বিজ্ঞান ও পদার্থবিজ্ঞান) চালু করা হয়। পাশাপাশি বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষে ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেম বিভাগ চালু হয়।

কুবির পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মো. সাকিব হোসেন বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন উপাচার্যের নেতৃত্বে দীর্ঘদিনের অবকাঠামোগত ও অ্যাকাডেমিক সংকটের কার্যকর সমাধান হবে বলে আশা করছি। অনুমোদনের ১০ বছর পরও কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের দুটি বিভাগ চালু হয়নি, আর প্রস্তাবিত ১৮টি বিভাগের ভবিষ্যৎও অনিশ্চিত। সীমিত অবকাঠামো ও শ্রেণিকক্ষ-ল্যাব সংকটের কারণে বিদ্যমান বিভাগগুলোও অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম পরিচালনায় হিমশিম খাচ্ছে। নতুন ক্যাম্পাসের কাজ শেষ হলে এ স্থবিরতা কাটবে বলে মনে করি।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনফরমেশন অ্যান্ড কমিউনিকেশন টেকনোলজি বিভাগের ২০২০-২০২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী প্রমা বড়ুয়া মতে, সময়োপযোগী ও চাহিদাসম্পন্ন বিষয় না থাকায় বিশ্ববিদ্যালয়টি অন্যান্য পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের তুলনায় পিছিয়ে পড়ছে।

​তিনি বলেন আরও বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন কোনো বিভাগ চালু না হওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়টি সমসাময়িক পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর তুলনায় পিছিয়ে পড়ছে। ফিশারিজ, বায়োটেকনোলজি ও মাইক্রোবায়োলজির মতো চাহিদাসম্পন্ন বিষয় না থাকায় মেধাবী শিক্ষার্থীরা অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের দিকে ঝুঁকছে। একই সঙ্গে সীমিত বিভাগের কারণে শিক্ষার্থীদের অ্যাকাডেমিক ও কর্মক্ষেত্রের সুযোগও সংকুচিত হচ্ছে।’

বন ও পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগ চালুর প্রস্তাবকারী রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সৈয়দুর রহমান বলেন, ‘আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন বিভাগ চালু প্রধান প্রতিবন্ধকতা হচ্ছে আবকাঠামোগত সংকট। আমি বিজ্ঞান অনুষদের ডিন থাকাকালীন বন ও পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগ চালু করার প্রস্তাব জানালে তা অ্যাকাডেমিক কাউন্সিল এবং ইউজিসি থেকে অনুমোদন পায়। আমরা ভর্তির জন্য বিজ্ঞপ্তিও দিয়েছিলাম। কিন্তু অবকাঠামোগত সংকটের কারণে তখন এ বিভাগটি চালু করা সম্ভব হয়নি। তা ছাড়া গুণগত মান নিশ্চিত না করে নামে মাত্র নতুন বিভাগ চালু করে আমরা শিক্ষার্থীদের ক্ষতি করতে চায়নি।’

‎নতুন বিভাগ চালুর বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য ড. মাসুদা কামাল জানান, ‘আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন বিভাগ খোলার অনুমতি দিলেও প্রয়োজনীয় শিক্ষক নিয়োগের পদ বরাদ্দ দেয়নি বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)। ফলে প্রশাসনিক অনুমোদন থাকা সত্ত্বেও এখন পর্যন্ত কোনো নতুন বিভাগ চালু করা সম্ভব হয়নি। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন পুনরায় নতুন করে ১৮টি বিভাগ এবং ৪টি অনুষদ চালুর অনুমতি চেয়ে ইউজিসির কাছে আবেদন জমা দিয়েছে। ইউজিসি থেকে অনুমোদন পেলেই বিভাগগুলো চালুর প্রক্রিয়া শুরু হবে।’

/এফআর/