শিরোনাম

জবির দ্বিতীয় ক্যাম্পাস প্রকল্পে নেই দৃশ্যমান অগ্রগতি, ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা

জবি প্রতিনিধি
জবির দ্বিতীয় ক্যাম্পাস প্রকল্পে নেই দৃশ্যমান অগ্রগতি, ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা
জবির দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের জন্য নির্মাণাধীন ভবন। ছবি: সিটিজেন জার্নাল

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত দ্বিতীয় ক্যাম্পাস নির্মাণ প্রকল্প কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। কেরানীগঞ্জে বাস্তবায়নাধীন এ প্রকল্প শুরু হওয়ার ৬ বছর পেরিয়ে গেলেও দৃশ্যমান অগ্রগতি না থাকায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে বাড়ছে হতাশা ও ক্ষোভ। সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে দ্রুত কাজ শেষ করার আশ্বাস দেওয়া হলেও এখনো প্রকল্পের বাস্তব অগ্রগতি নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।

দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের কাজ সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তরসহ তিন দফা দাবিতে ২০২৫ সালের ১২ জানুয়ারি ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করে গণ-অনশনে বসেন জবি শিক্ষার্থীরা। প্রায় ৩৫ ঘণ্টাব্যাপী চলা ওই কর্মসূচির পর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আশ্বাসে অনশন ভাঙেন আন্দোলনকারীরা। পরে ‘জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন ক্যাম্পাস স্থাপন: ভূমি অধিগ্রহণ ও উন্নয়ন’ শীর্ষক প্রকল্পের অবশিষ্ট কার্যক্রম বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর মাধ্যমে বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে চিঠি ইস্যু করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। তবে বছর পেরিয়ে গেলেও প্রকল্পের কাজ দৃশ্যমানভাবে এগোয়নি।

জানা গেছে, প্রকল্পের প্রথম ধাপে ভূমি অধিগ্রহণ, বালু ভরাট, প্রকৌশল ভবন নির্মাণ, সীমানা প্রাচীর নির্মাণ, পুকুরঘাট তৈরি, গভীর নলকূপ খনন এবং বহির্বিদ্যুতায়নের মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজ রয়েছে। সরেজমিনে দেখা গেছে, বালু ভরাটের কাজ আংশিকভাবে চলমান থাকলেও তা ধীরগতির। প্রকৌশল ভবনের নির্মাণকাজ সীমিত পরিসরে চলছে। বেজক্যাম্প নির্মাণেও দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই। আগের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের অধীনে পুকুরঘাট নির্মাণ কাজ এগিয়ে চলছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বালু ভরাট শেষ হলে দ্বিতীয় ধাপে ভবন নির্মাণের কাজ পুরোদমে শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।

এদিকে আন্দোলনের এতদিন পরও দ্বিতীয় ক্যাম্পাস প্রকল্পে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন শিক্ষার্থীরা। দর্শন বিভাগের শিক্ষার্থী রাহুল শেখ বলেন, ‘জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বহু প্রতীক্ষিত নতুন ক্যাম্পাস ও আবাসন প্রকল্পের বাস্তবায়ন দৃশ্যমান নয়। পুরান ঢাকার যানজট, ভোগান্তি আর সীমাহীন কষ্টের মধ্য দিয়ে প্রতিদিন ক্লাস করতে আসা শিক্ষার্থীদের স্বপ্ন আজও অনিশ্চয়তার মধ্যে আটকে আছে।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যানেজমেন্ট বিভাগের ১৭তম ব্যাচের শিক্ষার্থী শিহাব সরকার বলেন, ‘রাস্তায় নেমে আন্দোলন করে সেনাবাহিনীর কাছে প্রকল্পের কাজ দেওয়ার মূল উদ্দেশ্য ছিল দ্রুত কাজ এগিয়ে নেওয়া। কিন্তু এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি নেই। প্রশাসন বারবার আশ্বাস দিলেও বাস্তবে কাজের গতি দেখা যাচ্ছে না। প্রয়োজনে শিক্ষার্থীরা আবারও আন্দোলনে নামবে।’

এ বিষয়ে জকসুর এজিএস মাসুদ রানা বলেন, ‘আমরা জকসুর প্রতিনিধিরা কয়েকদিন আগে নতুন ক্যাম্পাস পরিদর্শনে গিয়েছিলাম। সেখানে প্রকৌশল ভবনের নির্মাণকাজ চলমান রয়েছে। বালু ভরাটের কাজ নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই শেষ হবে বলে মনে হচ্ছে। তবে অন্যান্য কাজে কিছুটা ধীরগতি লক্ষ্য করেছি। বালু ভরাট শেষ হলে আশা করি ভবন নির্মাণের কাজও পুরোদমে শুরু হবে।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদ্দীন সিটিজেন জার্নালকে বলেন, ‘সেনাবাহিনীকে কাজ দেওয়ার পর যথেষ্ট সময় পার হয়েছে। এখন প্রকল্পের অগ্রগতি মূল্যায়নের সময় এসেছে। আমি দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই আর্থিক স্বচ্ছতার বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে আসছি। ঠিকাদার হোক বা কোনো বাহিনী, সব ক্ষেত্রেই জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে চাই।’

তিনি আরও বলেন, ‘প্রকল্পের পিডিকে একাধিকবার ডাকা হয়েছে। সেনাবাহিনীর প্রতিনিধিদের সঙ্গে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে কয়েকটি দ্বিপাক্ষিক বৈঠকও হয়েছে। তাদের কতটুকু কাজ সম্পন্ন হয়েছে এবং যে বিল উত্তোলন করা হয়েছে তা কোন পর্যায়ের কাজের বিপরীতে তা জানতে চেয়েছি। প্রকল্পের মেয়াদ আগামী ডিসেম্বর পর্যন্ত। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করা সম্ভব কি না, সেটিও জানতে চাওয়া হয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখনো পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন পাওয়া যায়নি।’