শিরোনাম

তারেক মাসুদ-মিশুক মুনীরের স্মরণে মোমবাতি প্রজ্বালন

ঢাবি সংবাদদাতা
ঢাবি সংবাদদাতা
তারেক মাসুদ-মিশুক মুনীরের স্মরণে মোমবাতি প্রজ্বালন
তারেক মাসুদ-মিশুক মুনীরের স্মরণে মোমবাতি প্রজ্বালন। ছবি: সিজেডএন টোয়েন্টিফোর

চলচ্চিত্র নির্মাতা তারেক মাসুদ ও চিত্রগ্রাহক আশফাক মুনীর মিশুকসহ ২০১১ সালের সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত পাঁচজনকে স্মরণ করেছে বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্ট (ব্লাস্ট) ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চলচ্চিত্র সংসদ (ডিইউএফএস)। দুর্ঘটনার ১৫তম বার্ষিকী উপলক্ষে বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) পৃথক কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

কর্মসূচি অংশ হিসেবে সন্ধ্যায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শামসুন নাহার হলের কাছে অবস্থিত তারেক মাসুদ-মিশুক মুনীর স্মৃতিসৌধে মোমবাতি প্রজ্বালন করে ‘ব্লাস্ট’। একই স্থানে দুই চলচ্চিত্র নির্মাতার স্মরণে চলচ্চিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করে ডিইউএফএস।

মোমবাতি প্রজ্বালন কর্মসূচিতে নিহতদের পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধি, আইনজীবী, মানবাধিকারকর্মী, শিক্ষক, শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।

জানা গেছে, ২০১১ সালের ১৩ আগস্ট মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার জোকা এলাকায় ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে যাত্রীবাহী একটি বাসের সঙ্গে তারেক মাসুদ ও মিশুক মুনীরদের বহনকারী মাইক্রোবাসের সংঘর্ষ হয়। এতে তারেক মাসুদ, মিশুক মুনীর, চলচ্চিত্রকর্মী ওয়াসিম ও জামাল এবং মাইক্রোবাসের চালক মোস্তাফিজুর রহমান নিহত হন। দুর্ঘটনায় তারেক মাসুদের স্ত্রী ও চলচ্চিত্র নির্মাতা ক্যাথরিন মাসুদসহ আরও কয়েকজন আহত হন।

স্মরণ অনুষ্ঠানে বক্তারা সড়ক দুর্ঘটনা রোধে কার্যকর পদক্ষেপ, নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করা এবং দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের ন্যায়বিচার ও ক্ষতিপূরণের দাবি পুনর্ব্যক্ত করেন।

পরে স্মৃতিসৌধ প্রাঙ্গণে তারেক মাসুদের নির্মিত চলচ্চিত্র ‘মুক্তির গান’ ও ‘ফেরা’ প্রদর্শন করে ডিইউএফএস। সংগঠনটি জানিয়েছে, প্রতিবছরই তারেক মাসুদ ও মিশুক মুনীরের স্মরণে সেখানে চলচ্চিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে মিশুক মুনীরের ভাই আসিফ মুনীর বলেন, আজ আমরা পাঁচজনকে হারানো পরিবারের পক্ষ থেকে কথা বলছি। এই দিনে কথা বলা আমাদের জন্য আসলে কঠিন।

তিনি বলেন, বড় কোনো দুর্ঘটনা বা বিপর্যয়ের কারণে তৈরি হওয়া মানসিক আঘাত সময়ের সঙ্গে পুরোপুরি দূর হয়ে যায় না। তারেক মাসুদ, মিশুক মুনীর ও অন্য তিনজনকে স্মরণ এবং তাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো গুরুত্বপূর্ণ বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

ব্লাস্ট ও অন্যান্য সংগঠনকে নিয়মিতভাবে নিহতদের স্মরণ করার উদ্যোগ অব্যাহত রাখায় ধন্যবাদ জানান আসিফ মুনীর। তিনি বলেন, এ ধরনের উদ্যোগ নিহতদের পরিবারের সদস্যদের হৃদয় ছুঁয়ে যায়। অনুষ্ঠানে বিদেশে অবস্থানরত ক্যাথরিন মাসুদও মানসিকভাবে তাঁদের সঙ্গে রয়েছেন বলে উল্লেখ করেন তিনি।

স্মরণ অনুষ্ঠানের পাশাপাশি সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের দ্রুত ও যথাযথ ক্ষতিপূরণের দাবিও পুনর্ব্যক্ত করেছে ব্লাস্ট।

সংগঠনটি বলেছে, সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮ এবং সংশ্লিষ্ট বিধিমালার আওতায় ক্ষতিপূরণকে কোনো ‘অনুদান’ বা ‘আর্থিক সহায়তা’ হিসেবে নয়, বরং দুর্ঘটনার শিকার ব্যক্তি ও তাদের পরিবারের ন্যায্য অধিকার হিসেবে বিবেচনা করতে হবে। একই সঙ্গে ক্ষতিপূরণের পরিমাণ বাস্তবসম্মত ও ক্ষতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করতে তা পুনর্মূল্যায়নের দাবি জানানো হয়।

/এফআর/