ঢাবির ছাত্রী হলে ‘সান্ধ্য আইন’ বাতিলের দাবিতে ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম

ঢাবির ছাত্রী হলে ‘সান্ধ্য আইন’ বাতিলের দাবিতে ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম
ঢাবি সংবাদদাতা

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ছাত্রী হলগুলোতে প্রচলিত ‘সান্ধ্য আইন’ বাতিল, নারী শিক্ষার্থীদের এক হল থেকে অন্য হলে প্রবেশের সুযোগ এবং মা-বোনসহ (নারী স্বজন) হলে প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করার ৩ দফা দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়েছে শিক্ষার্থী প্ল্যাটফর্ম ‘অবরোধবাসিনী’।
সোমবার (১০ আগস্ট) বিকাল সাড়ে পাঁচটায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সন্ত্রাসবিরোধী রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে এক সংহতি সমাবেশ আয়োজিত হয়। সমাবেশে এ আন্দোলনকে ‘সময়ের শেকল ভাঙার’ লড়াই আখ্যা দিয়ে সবাইকে যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানানো হয়। এসময় টিএসসিভিত্তিক ও সাংস্কৃতিক বিভিন্ন সংগঠনের নেতাকর্মী এবং শিক্ষকরা সংহতি জানান।
সংহতি জানানো সংগঠনগুলোর মধ্যে রয়েছে—রোকেয়া হল কেন্দ্রীয় সংস্কৃতি সংসদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চলচ্চিত্র সংসদ, নারীপক্ষ, রেড ফেমিনিস্ট ব্লগ, নারী অঙ্গন, বিপ্লবী নারী মুক্তি, বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশন, বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রী, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট, বিপ্লবী ছাত্র যুব-আন্দোলন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ফোকলোর সোসাইটি, বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন (ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সংসদ), বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক নেটওয়ার্ক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাহিত্য সংসদ এবং স্বরধ্বনি।
সমাবেশে ‘অবরোধবাসিনী’র পক্ষ থেকে জানানো হয়, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দাবি বাস্তবায়নে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হলে অবস্থান কর্মসূচিসহ কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
তাদের দাবিগুলো হলো: ছাত্রী হলে বৈষম্যমূলক সান্ধ্য আইন বাতিল করা এবং ২৪ ঘণ্টা যাতায়াতের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা; বৈধ আইডি কার্ড প্রদর্শনপূর্বক সব ছাত্রীকে যেকোনো হলে প্রবেশ এবং অনুমতিসাপেক্ষে রাতযাপনের সুযোগ দেওয়া। এছাড়াও, ছাত্রীদের মা-বোনদের (নারী স্বজন) হলে প্রবেশের অধিকার নিশ্চিত করা।
সমাবেশে বলা হয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ১০৫ বছর পেরিয়ে গেলেও নারী শিক্ষার্থীদের জন্য অব্যাহত থাকা ঔপনিবেশিক ‘সান্ধ্য আইন’ (রাত ১০টা থেকে ভোর ৬টা) বাতিলসহ ৩ দফা বাস্তবায়নে প্রশাসন কালক্ষেপণ করছে। জুলাই অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে একাধিকবার দাবি তোলা হলেও এবং নবনিযুক্ত উপাচার্যের (ভিসি) সাথে দফায় দফায় আলোচনা সত্ত্বেও কার্যকর পদক্ষেপ না নিয়ে আবারও টালবাহানা করা হচ্ছে।
তারা আরও উল্লেখ করেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫৭ শতাংশ নারী শিক্ষার্থী আবাসন সুবিধা বঞ্চিত। সেখানে নিয়মিত হল ফি দেওয়া সত্ত্বেও অনাবাসিক ছাত্রীদের নিজ হলে প্রবেশাধিকার দেওয়া হয় না। এছাড়া পুরুষ হলগুলোতে অতিথি প্রবেশের নিয়ম সহজ হলেও, নারী শিক্ষার্থীদের নিজ মা-বোন কিংবা অন্য হলের ছাত্রীদের প্রবেশাধিকার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ রেখে একটি অগণতান্ত্রিক দ্বৈতনীতি বহাল রাখা হয়েছে।
সংগঠনটির মতে, নিরাপত্তার দোহাই দিয়ে রাত ১০টা থেকে হলে প্রবেশ বন্ধ রাখা হলেও মাঝরাতে দূরপাল্লার যাত্রা শেষে গেটে আটকে থাকা কিংবা জরুরি চিকিৎসায় বের হতে গিয়ে নারী শিক্ষার্থীরা প্রায়ই প্রশাসনিক হেনস্তা, হয়রানি ও চরিত্র হননের শিকার হন। ক্যাম্পাসে সার্বজনীন নিরাপত্তা নিশ্চিত না করে কেবল শিক্ষার্থীদের যাতায়াত সীমিত করা প্রশাসনিক ব্যর্থতারই নামান্তর। এই অমানবিক বিধিনিষেধ নারী শিক্ষার্থীদের স্বাধীন বিচরণ এবং সামাজিক, সাংস্কৃতিক, বুদ্ধিবৃত্তিক ও রাজনৈতিক পরিসরে অংশগ্রহণকে ব্যাপকভাবে সংকুচিত করছে।
অবরোধবাসিনী’র পক্ষে বক্তব্য দেন ইশরাত জাহান ইমু। তিনি বলেন, ‘২০১৫ সালে বঙ্গমাতা হলে এক ছাত্রী অসুস্থ অবস্থায় প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক অনুমতি ও প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে না পারায় চিকিৎসার অভাবে হলের ভেতরেই মারা যান।’
এ ধরনের ঘটনা থেকে সান্ধ্য আইন বাতিলের প্রয়োজনীয়তা স্পষ্ট হয় বলেও দাবি করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বলছে তারা ১৬ ঘণ্টা নিরাপত্তার দায়িত্ব নেবে, বাকি ৮ ঘণ্টা ছাত্রীদের হলের ভেতরেই থাকতে হবে। অথচ পুরুষদের ক্ষেত্রে ২৪ ঘণ্টাই নিরাপত্তার বিধান আছে। এই বৈষম্য এবং ছাত্রীদের চরিত্র হননসহ প্রশাসনিক হয়রানি চরম লিঙ্গ বৈষম্য।’
সমাবেশে বিপ্লবী নারী মুক্তির পক্ষে তাসনিয়া নেবুলা বলেন, ‘রাত ১০টায় হল গেট বন্ধ করে দেওয়ার এই প্রথা কোনো নিরাপত্তার ব্যবস্থা নয়। এই ব্যবস্থা একটি নারীকে ঘরবন্দি করে রাখার মাধ্যমে সামন্তীয়, ঔপনিবেশিক এবং ধর্মীয় মৌলবাদী চেতনার এক জীবন্ত নমুনা।’
তিনি জানান, নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব শিক্ষার্থীদের চলাচল সীমিত করার মাধ্যমে নয়, বরং কার্যকর নিরাপত্তা-ব্যবস্থা নিশ্চিত করার মাধ্যমে পালন করা উচিত।
নারীপক্ষের সদস্য শিবীন হক বলেন, প্রায় ২৫-৩০ বছর আগে তারাও সান্ধ্য আইনের বিরুদ্ধে আন্দোলন করে সন্ধ্যা ৬টার বিধিনিষেধ রাত ১০টা পর্যন্ত করাতে পেরেছিলেন; কিন্তু বৈষম্য দূর হয়নি। তাই বর্তমান শিক্ষার্থীদের সোজাসাপটা আন্দোলনকে তিনি সাধুবাদ জানান।
আলোকচিত্রী ও বাংলাদেশের সাম্যবাদী আন্দোলনের জান্নাতুল মাওয়া বলেন, ২০২৬ সালেও নারীদের চলাচলের ওপর এমন বিধিনিষেধ থাকা হতাশাজনক। তিনি বলেন, আমি একজন নারী হয়ে ভাবতেই পারি না, শুধুমাত্র নারী হওয়ার কারণে, শুধুমাত্র লিঙ্গের কারণে আমাকে বৈষম্যে রাখা হবে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. রুশাদ ফরিদী শিক্ষক নেটওয়ার্কের পক্ষ থেকে বলেন, ২০২৪-এর জুলাই অভ্যুত্থানের পরে আগস্টে আমাদের একটি নতুন স্বাধীনতার সূচনা হয়েছিল। তো সেই বাংলাদেশেও এখনো এই ধরনের বৈষম্যমূলক এবং বন্দিত্বমূলক একটি আইন রয়ে গেছে, এটা খুবই আমাদের জন্য শিক্ষক হিসেবে লজ্জার বিষয়। তিনি অবিলম্বে সান্ধ্য আইন বাতিলের দাবি জানান।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ছাত্রী হলগুলোতে প্রচলিত ‘সান্ধ্য আইন’ বাতিল, নারী শিক্ষার্থীদের এক হল থেকে অন্য হলে প্রবেশের সুযোগ এবং মা-বোনসহ (নারী স্বজন) হলে প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করার ৩ দফা দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়েছে শিক্ষার্থী প্ল্যাটফর্ম ‘অবরোধবাসিনী’।
সোমবার (১০ আগস্ট) বিকাল সাড়ে পাঁচটায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সন্ত্রাসবিরোধী রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে এক সংহতি সমাবেশ আয়োজিত হয়। সমাবেশে এ আন্দোলনকে ‘সময়ের শেকল ভাঙার’ লড়াই আখ্যা দিয়ে সবাইকে যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানানো হয়। এসময় টিএসসিভিত্তিক ও সাংস্কৃতিক বিভিন্ন সংগঠনের নেতাকর্মী এবং শিক্ষকরা সংহতি জানান।
সংহতি জানানো সংগঠনগুলোর মধ্যে রয়েছে—রোকেয়া হল কেন্দ্রীয় সংস্কৃতি সংসদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চলচ্চিত্র সংসদ, নারীপক্ষ, রেড ফেমিনিস্ট ব্লগ, নারী অঙ্গন, বিপ্লবী নারী মুক্তি, বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশন, বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রী, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট, বিপ্লবী ছাত্র যুব-আন্দোলন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ফোকলোর সোসাইটি, বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন (ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সংসদ), বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক নেটওয়ার্ক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাহিত্য সংসদ এবং স্বরধ্বনি।
সমাবেশে ‘অবরোধবাসিনী’র পক্ষ থেকে জানানো হয়, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দাবি বাস্তবায়নে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হলে অবস্থান কর্মসূচিসহ কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
তাদের দাবিগুলো হলো: ছাত্রী হলে বৈষম্যমূলক সান্ধ্য আইন বাতিল করা এবং ২৪ ঘণ্টা যাতায়াতের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা; বৈধ আইডি কার্ড প্রদর্শনপূর্বক সব ছাত্রীকে যেকোনো হলে প্রবেশ এবং অনুমতিসাপেক্ষে রাতযাপনের সুযোগ দেওয়া। এছাড়াও, ছাত্রীদের মা-বোনদের (নারী স্বজন) হলে প্রবেশের অধিকার নিশ্চিত করা।
সমাবেশে বলা হয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ১০৫ বছর পেরিয়ে গেলেও নারী শিক্ষার্থীদের জন্য অব্যাহত থাকা ঔপনিবেশিক ‘সান্ধ্য আইন’ (রাত ১০টা থেকে ভোর ৬টা) বাতিলসহ ৩ দফা বাস্তবায়নে প্রশাসন কালক্ষেপণ করছে। জুলাই অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে একাধিকবার দাবি তোলা হলেও এবং নবনিযুক্ত উপাচার্যের (ভিসি) সাথে দফায় দফায় আলোচনা সত্ত্বেও কার্যকর পদক্ষেপ না নিয়ে আবারও টালবাহানা করা হচ্ছে।
তারা আরও উল্লেখ করেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫৭ শতাংশ নারী শিক্ষার্থী আবাসন সুবিধা বঞ্চিত। সেখানে নিয়মিত হল ফি দেওয়া সত্ত্বেও অনাবাসিক ছাত্রীদের নিজ হলে প্রবেশাধিকার দেওয়া হয় না। এছাড়া পুরুষ হলগুলোতে অতিথি প্রবেশের নিয়ম সহজ হলেও, নারী শিক্ষার্থীদের নিজ মা-বোন কিংবা অন্য হলের ছাত্রীদের প্রবেশাধিকার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ রেখে একটি অগণতান্ত্রিক দ্বৈতনীতি বহাল রাখা হয়েছে।
সংগঠনটির মতে, নিরাপত্তার দোহাই দিয়ে রাত ১০টা থেকে হলে প্রবেশ বন্ধ রাখা হলেও মাঝরাতে দূরপাল্লার যাত্রা শেষে গেটে আটকে থাকা কিংবা জরুরি চিকিৎসায় বের হতে গিয়ে নারী শিক্ষার্থীরা প্রায়ই প্রশাসনিক হেনস্তা, হয়রানি ও চরিত্র হননের শিকার হন। ক্যাম্পাসে সার্বজনীন নিরাপত্তা নিশ্চিত না করে কেবল শিক্ষার্থীদের যাতায়াত সীমিত করা প্রশাসনিক ব্যর্থতারই নামান্তর। এই অমানবিক বিধিনিষেধ নারী শিক্ষার্থীদের স্বাধীন বিচরণ এবং সামাজিক, সাংস্কৃতিক, বুদ্ধিবৃত্তিক ও রাজনৈতিক পরিসরে অংশগ্রহণকে ব্যাপকভাবে সংকুচিত করছে।
অবরোধবাসিনী’র পক্ষে বক্তব্য দেন ইশরাত জাহান ইমু। তিনি বলেন, ‘২০১৫ সালে বঙ্গমাতা হলে এক ছাত্রী অসুস্থ অবস্থায় প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক অনুমতি ও প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে না পারায় চিকিৎসার অভাবে হলের ভেতরেই মারা যান।’
এ ধরনের ঘটনা থেকে সান্ধ্য আইন বাতিলের প্রয়োজনীয়তা স্পষ্ট হয় বলেও দাবি করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বলছে তারা ১৬ ঘণ্টা নিরাপত্তার দায়িত্ব নেবে, বাকি ৮ ঘণ্টা ছাত্রীদের হলের ভেতরেই থাকতে হবে। অথচ পুরুষদের ক্ষেত্রে ২৪ ঘণ্টাই নিরাপত্তার বিধান আছে। এই বৈষম্য এবং ছাত্রীদের চরিত্র হননসহ প্রশাসনিক হয়রানি চরম লিঙ্গ বৈষম্য।’
সমাবেশে বিপ্লবী নারী মুক্তির পক্ষে তাসনিয়া নেবুলা বলেন, ‘রাত ১০টায় হল গেট বন্ধ করে দেওয়ার এই প্রথা কোনো নিরাপত্তার ব্যবস্থা নয়। এই ব্যবস্থা একটি নারীকে ঘরবন্দি করে রাখার মাধ্যমে সামন্তীয়, ঔপনিবেশিক এবং ধর্মীয় মৌলবাদী চেতনার এক জীবন্ত নমুনা।’
তিনি জানান, নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব শিক্ষার্থীদের চলাচল সীমিত করার মাধ্যমে নয়, বরং কার্যকর নিরাপত্তা-ব্যবস্থা নিশ্চিত করার মাধ্যমে পালন করা উচিত।
নারীপক্ষের সদস্য শিবীন হক বলেন, প্রায় ২৫-৩০ বছর আগে তারাও সান্ধ্য আইনের বিরুদ্ধে আন্দোলন করে সন্ধ্যা ৬টার বিধিনিষেধ রাত ১০টা পর্যন্ত করাতে পেরেছিলেন; কিন্তু বৈষম্য দূর হয়নি। তাই বর্তমান শিক্ষার্থীদের সোজাসাপটা আন্দোলনকে তিনি সাধুবাদ জানান।
আলোকচিত্রী ও বাংলাদেশের সাম্যবাদী আন্দোলনের জান্নাতুল মাওয়া বলেন, ২০২৬ সালেও নারীদের চলাচলের ওপর এমন বিধিনিষেধ থাকা হতাশাজনক। তিনি বলেন, আমি একজন নারী হয়ে ভাবতেই পারি না, শুধুমাত্র নারী হওয়ার কারণে, শুধুমাত্র লিঙ্গের কারণে আমাকে বৈষম্যে রাখা হবে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. রুশাদ ফরিদী শিক্ষক নেটওয়ার্কের পক্ষ থেকে বলেন, ২০২৪-এর জুলাই অভ্যুত্থানের পরে আগস্টে আমাদের একটি নতুন স্বাধীনতার সূচনা হয়েছিল। তো সেই বাংলাদেশেও এখনো এই ধরনের বৈষম্যমূলক এবং বন্দিত্বমূলক একটি আইন রয়ে গেছে, এটা খুবই আমাদের জন্য শিক্ষক হিসেবে লজ্জার বিষয়। তিনি অবিলম্বে সান্ধ্য আইন বাতিলের দাবি জানান।

ঢাবির ছাত্রী হলে ‘সান্ধ্য আইন’ বাতিলের দাবিতে ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম
ঢাবি সংবাদদাতা

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ছাত্রী হলগুলোতে প্রচলিত ‘সান্ধ্য আইন’ বাতিল, নারী শিক্ষার্থীদের এক হল থেকে অন্য হলে প্রবেশের সুযোগ এবং মা-বোনসহ (নারী স্বজন) হলে প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করার ৩ দফা দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়েছে শিক্ষার্থী প্ল্যাটফর্ম ‘অবরোধবাসিনী’।
সোমবার (১০ আগস্ট) বিকাল সাড়ে পাঁচটায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সন্ত্রাসবিরোধী রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে এক সংহতি সমাবেশ আয়োজিত হয়। সমাবেশে এ আন্দোলনকে ‘সময়ের শেকল ভাঙার’ লড়াই আখ্যা দিয়ে সবাইকে যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানানো হয়। এসময় টিএসসিভিত্তিক ও সাংস্কৃতিক বিভিন্ন সংগঠনের নেতাকর্মী এবং শিক্ষকরা সংহতি জানান।
সংহতি জানানো সংগঠনগুলোর মধ্যে রয়েছে—রোকেয়া হল কেন্দ্রীয় সংস্কৃতি সংসদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চলচ্চিত্র সংসদ, নারীপক্ষ, রেড ফেমিনিস্ট ব্লগ, নারী অঙ্গন, বিপ্লবী নারী মুক্তি, বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশন, বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রী, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট, বিপ্লবী ছাত্র যুব-আন্দোলন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ফোকলোর সোসাইটি, বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন (ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সংসদ), বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক নেটওয়ার্ক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাহিত্য সংসদ এবং স্বরধ্বনি।
সমাবেশে ‘অবরোধবাসিনী’র পক্ষ থেকে জানানো হয়, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দাবি বাস্তবায়নে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হলে অবস্থান কর্মসূচিসহ কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
তাদের দাবিগুলো হলো: ছাত্রী হলে বৈষম্যমূলক সান্ধ্য আইন বাতিল করা এবং ২৪ ঘণ্টা যাতায়াতের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা; বৈধ আইডি কার্ড প্রদর্শনপূর্বক সব ছাত্রীকে যেকোনো হলে প্রবেশ এবং অনুমতিসাপেক্ষে রাতযাপনের সুযোগ দেওয়া। এছাড়াও, ছাত্রীদের মা-বোনদের (নারী স্বজন) হলে প্রবেশের অধিকার নিশ্চিত করা।
সমাবেশে বলা হয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ১০৫ বছর পেরিয়ে গেলেও নারী শিক্ষার্থীদের জন্য অব্যাহত থাকা ঔপনিবেশিক ‘সান্ধ্য আইন’ (রাত ১০টা থেকে ভোর ৬টা) বাতিলসহ ৩ দফা বাস্তবায়নে প্রশাসন কালক্ষেপণ করছে। জুলাই অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে একাধিকবার দাবি তোলা হলেও এবং নবনিযুক্ত উপাচার্যের (ভিসি) সাথে দফায় দফায় আলোচনা সত্ত্বেও কার্যকর পদক্ষেপ না নিয়ে আবারও টালবাহানা করা হচ্ছে।
তারা আরও উল্লেখ করেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫৭ শতাংশ নারী শিক্ষার্থী আবাসন সুবিধা বঞ্চিত। সেখানে নিয়মিত হল ফি দেওয়া সত্ত্বেও অনাবাসিক ছাত্রীদের নিজ হলে প্রবেশাধিকার দেওয়া হয় না। এছাড়া পুরুষ হলগুলোতে অতিথি প্রবেশের নিয়ম সহজ হলেও, নারী শিক্ষার্থীদের নিজ মা-বোন কিংবা অন্য হলের ছাত্রীদের প্রবেশাধিকার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ রেখে একটি অগণতান্ত্রিক দ্বৈতনীতি বহাল রাখা হয়েছে।
সংগঠনটির মতে, নিরাপত্তার দোহাই দিয়ে রাত ১০টা থেকে হলে প্রবেশ বন্ধ রাখা হলেও মাঝরাতে দূরপাল্লার যাত্রা শেষে গেটে আটকে থাকা কিংবা জরুরি চিকিৎসায় বের হতে গিয়ে নারী শিক্ষার্থীরা প্রায়ই প্রশাসনিক হেনস্তা, হয়রানি ও চরিত্র হননের শিকার হন। ক্যাম্পাসে সার্বজনীন নিরাপত্তা নিশ্চিত না করে কেবল শিক্ষার্থীদের যাতায়াত সীমিত করা প্রশাসনিক ব্যর্থতারই নামান্তর। এই অমানবিক বিধিনিষেধ নারী শিক্ষার্থীদের স্বাধীন বিচরণ এবং সামাজিক, সাংস্কৃতিক, বুদ্ধিবৃত্তিক ও রাজনৈতিক পরিসরে অংশগ্রহণকে ব্যাপকভাবে সংকুচিত করছে।
অবরোধবাসিনী’র পক্ষে বক্তব্য দেন ইশরাত জাহান ইমু। তিনি বলেন, ‘২০১৫ সালে বঙ্গমাতা হলে এক ছাত্রী অসুস্থ অবস্থায় প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক অনুমতি ও প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে না পারায় চিকিৎসার অভাবে হলের ভেতরেই মারা যান।’
এ ধরনের ঘটনা থেকে সান্ধ্য আইন বাতিলের প্রয়োজনীয়তা স্পষ্ট হয় বলেও দাবি করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বলছে তারা ১৬ ঘণ্টা নিরাপত্তার দায়িত্ব নেবে, বাকি ৮ ঘণ্টা ছাত্রীদের হলের ভেতরেই থাকতে হবে। অথচ পুরুষদের ক্ষেত্রে ২৪ ঘণ্টাই নিরাপত্তার বিধান আছে। এই বৈষম্য এবং ছাত্রীদের চরিত্র হননসহ প্রশাসনিক হয়রানি চরম লিঙ্গ বৈষম্য।’
সমাবেশে বিপ্লবী নারী মুক্তির পক্ষে তাসনিয়া নেবুলা বলেন, ‘রাত ১০টায় হল গেট বন্ধ করে দেওয়ার এই প্রথা কোনো নিরাপত্তার ব্যবস্থা নয়। এই ব্যবস্থা একটি নারীকে ঘরবন্দি করে রাখার মাধ্যমে সামন্তীয়, ঔপনিবেশিক এবং ধর্মীয় মৌলবাদী চেতনার এক জীবন্ত নমুনা।’
তিনি জানান, নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব শিক্ষার্থীদের চলাচল সীমিত করার মাধ্যমে নয়, বরং কার্যকর নিরাপত্তা-ব্যবস্থা নিশ্চিত করার মাধ্যমে পালন করা উচিত।
নারীপক্ষের সদস্য শিবীন হক বলেন, প্রায় ২৫-৩০ বছর আগে তারাও সান্ধ্য আইনের বিরুদ্ধে আন্দোলন করে সন্ধ্যা ৬টার বিধিনিষেধ রাত ১০টা পর্যন্ত করাতে পেরেছিলেন; কিন্তু বৈষম্য দূর হয়নি। তাই বর্তমান শিক্ষার্থীদের সোজাসাপটা আন্দোলনকে তিনি সাধুবাদ জানান।
আলোকচিত্রী ও বাংলাদেশের সাম্যবাদী আন্দোলনের জান্নাতুল মাওয়া বলেন, ২০২৬ সালেও নারীদের চলাচলের ওপর এমন বিধিনিষেধ থাকা হতাশাজনক। তিনি বলেন, আমি একজন নারী হয়ে ভাবতেই পারি না, শুধুমাত্র নারী হওয়ার কারণে, শুধুমাত্র লিঙ্গের কারণে আমাকে বৈষম্যে রাখা হবে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. রুশাদ ফরিদী শিক্ষক নেটওয়ার্কের পক্ষ থেকে বলেন, ২০২৪-এর জুলাই অভ্যুত্থানের পরে আগস্টে আমাদের একটি নতুন স্বাধীনতার সূচনা হয়েছিল। তো সেই বাংলাদেশেও এখনো এই ধরনের বৈষম্যমূলক এবং বন্দিত্বমূলক একটি আইন রয়ে গেছে, এটা খুবই আমাদের জন্য শিক্ষক হিসেবে লজ্জার বিষয়। তিনি অবিলম্বে সান্ধ্য আইন বাতিলের দাবি জানান।








