শিরোনাম

বেরোবির এক বাস মেরামতেই খরচ ২৮ লাখ টাকা, সমালোচনার ঝড়

বেরোবি সংবাদদাতা
বেরোবি সংবাদদাতা
বেরোবির এক বাস মেরামতেই খরচ ২৮ লাখ টাকা, সমালোচনার ঝড়
পরিবহন পুলে রাখা বেরোবির বাস। ছবি: সিজেডএন টোয়েন্টিফোর

রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) একটি বাস মেরামতে প্রায় ২৮ লাখ টাকা ব্যয় করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। মেরামতের পিছনে বিপুল এই অর্থ ব্যয় নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ সংশ্লিষ্টদের মধ্যে চলছে নানা আলোচনা-সমালোচনা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশল দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, বাসটি মেরামতের জন্য ফ্রেন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কশপকে দেওয়া হয়। মেরামতে ব্যয় হিসেবে ২৭ লাখ ৯৯ হাজার টাকা পরিশোধও করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এর আগে বাসটি মেরামতের জন্য পত্রিকায় দরপত্র বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়।

এদিকে, মাত্র একটি বাস মেরামতে বিপুল পরিমাণ ব্যয় নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন শিক্ষার্থীরা। বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষার্থী বলেন, যেখানে প্রায় ৩০ লাখ টাকায় একটি নতুন বাস পাওয়া যায়, সেখানে মাত্র এক মাসের মেরামতকাজে কীভাবে এত টাকা ব্যয় হলো, তা আমাদের জানা নেই। বাসে কী কী কাজ করা হয়েছে, তার বিস্তারিত প্রকাশ করা উচিত। আমরাও বিষয়টি জানতে চাই।

একাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগের শিক্ষার্থী আহমেদুল হক আলবির বলেন, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিবহন সংকটের পাশাপাশি দুর্নীতির তিক্ত অভিজ্ঞতাও রয়েছে। সম্প্রতি আমরা জানতে পেরেছি, বেরোবিতে একটি বাস মেরামতে ২৮ লাখ টাকা ব্যয় করা হয়েছে। বাস মেরামতে এত টাকা ব্যয় আমাদের মনে সন্দেহের সৃষ্টি করে। স্বাভাবিকভাবে একটি বাস মেরামতে এত টাকা প্রয়োজন হতে পারে বলে আমরা মনে করি না। সুতরাং এখানে দুর্নীতি নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক।

তিনি আরও বলেন, মেরামতেই যদি এত টাকা খরচ করতে হয়, তাহলে এর সঙ্গে আরও কিছু টাকা যোগ করে নতুন বাস কেনা সম্ভব ছিল। সুতরাং পরিবহন মেরামতের মতো বিষয়ে এমন সিদ্ধান্ত গ্রহণ আমাদের কাছে সন্দেহজনক মনে হচ্ছে।

তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন পুলের পরিচালক মাসুদ রানা বলেন, ‘নতুন বাস ৫৫ লাখ টাকার নিচে পাওয়া যায় না। আর এই বাসের সম্পূর্ণ বডি ঠিক করা হয়েছে। যার কারণে এত টাকা খরচ হয়েছে।’

মেরামতের কাজের প্রক্রিয়া সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘কাজটি কমিটির মাধ্যমে হয়েছে। উপাচার্য স্যার কমিটি করে দিয়েছেন। কমিটি পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দেয়। এরপর যারা সর্বনিম্ন দরপত্র দিয়েছে, তাদেরই কাজটি দেওয়া হয়েছে।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. শওকাত আলী বলেন, ‘এইটা নিয়ে পরিবহন পুলে যোগাযোগ করো।’

/এফআর/