কত ঘণ্টা ঘুমান বিশ্বনেতারা

কত ঘণ্টা ঘুমান বিশ্বনেতারা
সিজেডএন ডেস্ক

একটি দেশ পরিচালনা করা কখনোই সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত চলা কোনো সাধারণ চাকরি নয়। গভীর রাতে জরুরি বৈঠক, ভোরের ব্রিফিং, হঠাৎ তৈরি হওয়া আন্তর্জাতিক সংকট, বক্তৃতা ও বিদেশ সফর-সব মিলিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের কর্মঘণ্টার কোনো নির্দিষ্ট সীমা নেই। কিন্তু এত ব্যস্ততার মধ্যে একজন রাষ্ট্রনেতা সর্বনিম্ন কত ঘণ্টা ঘুমিয়ে স্বাভাবিকভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারেন? এই প্রশ্নই নতুন করে আলোচনায় এসেছে জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানা তাকাইচির এক অকপট স্বীকারোক্তির পর।
দায়িত্ব নেওয়ার পর নিজের ঘুমের অভিজ্ঞতা জানাতে গিয়ে তাকাইচি বলেছেন, এমন বহু রাত গেছে যখন তিনি একেবারেই ঘুমানোর সুযোগ পাননি।
জুলাইয়ে সরকারি ছুটির দিনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি লিখেন, অবশেষে তিনি টানা পাঁচ ঘণ্টা ঘুমাতে পেরেছেন। তার কাছে এই পাঁচ ঘণ্টার ঘুমও ছিল যেন বিরল কোনো সুযোগ। কারণ প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর নিয়মিত রাতে তার ঘুম নেমে এসেছে শূন্য থেকে তিন ঘণ্টায়।
তাকাইচির এই বক্তব্য উদ্বেগ তৈরি করেছে জাপানে। দেশটিতে দীর্ঘ কর্মঘণ্টা ও অতিরিক্ত কাজের কারণে মৃত্যুর ঘটনা, যা ‘কারোশি’ নামে পরিচিত, বহু বছর ধরে গুরুতর সামাজিক সমস্যা হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে।
তাই তাকাইচির মন্তব্য শুধু একজন প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত ঘুমের অভ্যাসের বিষয় হয়ে থাকেনি। এর মধ্য দিয়ে সামনে এসেছে আরও গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রশ্ন-কম ঘুমিয়ে দীর্ঘ সময় কাজ করাকে কি সত্যিই নেতৃত্বের দক্ষতা, নিষ্ঠা ও সহনশীলতার প্রতীক হিসেবে দেখা উচিত? নাকি পর্যাপ্ত ঘুমের অভাব এমন সিদ্ধান্ত গ্রহণের ঝুঁকি বাড়ায়, যার প্রভাব পড়ে কোটি কোটি মানুষের জীবনে?
বিশ্বের বিভিন্ন দেশের কয়েকজন প্রভাবশালী নেতা তাদের ঘুমের অভ্যাস নিয়ে অতীতে যেসব তথ্য জানিয়েছেন, সেগুলোও বেশ চমকপ্রদ।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরেই নিজেকে কম ঘুমানো ব্যক্তি হিসেবে তুলে ধরেছেন। ২০১৭ সালে ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, সাধারণত রাতে চার থেকে পাঁচ ঘণ্টার মতো ঘুমান। ট্রাম্প নদডস , তিনি প্রায়ই রাত ১২টা বা ১টা পর্যন্ত কাজ করেন এবং ভোর ৫টার দিকে ঘুম থেকে উঠেন।
যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামাও হোয়াইট হাউসে থাকাকালে গভীর রাত পর্যন্ত কাজ করার জন্য পরিচিত ছিলেন। ২০১৬ সালে দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওবামা সাধারণত রাতে প্রায় পাঁচ ঘণ্টা ঘুমাতেন। পরিবারের সঙ্গে রাতের খাবার শেষ করার পর তিনি একা নিজের কাজে বসতেন। নথিপত্র পড়া, বক্তৃতা লেখা এবং পরদিনের কর্মসূচির প্রস্তুতি নেওয়ার জন্য গভীর রাতের নিরিবিলি সময়কে কাজে লাগাতেন তিনি।
ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁকেও কম ঘুমানো বিশ্বনেতাদের মধ্যে অন্যতম। তার প্রেসিডেন্সির শুরুর দিকে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, তিনি রাতে মাত্র তিন থেকে চার ঘণ্টা ঘুমাতেন।
জার্মানির সাবেক চ্যান্সেলর অ্যাঞ্জেলা মার্কেলের ঘুমের অভ্যাসও ছিল ভিন্ন ধরনের। দীর্ঘ সময় কম ঘুমিয়েও কাজ চালিয়ে যাওয়ার ক্ষমতা বোঝাতে তিনি একবার নিজেকে ‘উটের’ সঙ্গে তুলনা করেছিলেন।
রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, কাজের চাপ বেশি থাকলে তিনি টানা কয়েক দিন অল্প ঘুমিয়েও দায়িত্ব সামলাতে পারতেন। তবে পরে সুযোগ পেলে ঘুমের ঘাটতি পূরণ করে নিতেন। অর্থাৎ নিজেকে স্থায়ীভাবে কম ঘুমের মানুষ হিসেবে দাবি করেননি মার্কেল।
আধুনিক প্রযুক্তি ও ২৪ ঘণ্টার সংবাদব্যবস্থা চালুর বহু আগেই কম ঘুমিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনার নজির তৈরি করেছিলেন যুক্তরাজ্যের সাবেক প্রধানমন্ত্রী মার্গারেট থ্যাচার। ‘আয়রন লেডি’ হিসেবে পরিচিত থ্যাচার রাতে মাত্র চার ঘণ্টা ঘুমানোর জন্য সুপরিচিত ছিলেন। ১৯৮৯ সালে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারেও তিনি জানিয়েছিলেন, চার ঘণ্টার বেশি ঘুমানো তার জন্য কঠিন ছিল।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও প্রকাশ্যে নিজের কম ঘুমানোর অভ্যাসের কথা বলেছেন। ২০১৯ সালে বলিউড অভিনেতা অক্ষয় কুমারের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে মোদি জানান, তার বায়োলজিক্যাল ক্লক এমনভাবে অভ্যস্ত হয়ে গেছে যে তিনি রাতে সাধারণত তিন থেকে চার ঘণ্টা ঘুমান। তবে তার দাবি, অল্প সময় ঘুমালেও সেই ঘুম বেশ গভীর হয়।
বিশ্বনেতাদের কম ঘুমানোর এসব গল্প মানুষের মধ্যে এক ধরনের আগ্রহ তৈরি করে। অনেকের কাছেই অল্প ঘুমিয়ে দীর্ঘ সময় কাজ করা মানে কঠোর পরিশ্রম, অসাধারণ কর্মক্ষমতা কিংবা দায়িত্বের প্রতি গভীর নিষ্ঠা। কিন্তু চিকিৎসাবিজ্ঞান বিষয়টিকে এতটা সরলভাবে দেখে না।
গবেষণায় দেখা গেছে, খুব অল্পসংখ্যক মানুষের জিনগত বৈশিষ্ট্যের কারণে তারা স্বাভাবিকের তুলনায় কম ঘুমিয়েও সুস্থ থাকতে পারেন। তবে এমন মানুষ অত্যন্ত বিরল। অধিকাংশ মানুষের ক্ষেত্রে নিয়মিত ঘুমের ঘাটতি কোনো বাড়তি সক্ষমতার প্রমাণ নয়; বরং এটি শরীর ও মস্তিষ্কের স্বাভাবিক কার্যক্রমে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
মার্কিন রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্র (সিডিসি) ১৮ থেকে ৬০ বছর বয়সী প্রাপ্তবয়স্কদের নিয়মিতভাবে প্রতি রাতে অন্তত সাত ঘণ্টা ঘুমানোর পরামর্শ দেয়। পর্যাপ্ত ঘুম মনোযোগ ধরে রাখা, স্মৃতিশক্তি, মানসিক স্থিতিশীলতা এবং সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার সক্ষমতার সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত। রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে সিদ্ধান্তের গুরুত্ব যখন কোটি কোটি মানুষের জীবন, অর্থনীতি, নিরাপত্তা ও ভবিষ্যতের সঙ্গে যুক্ত, তখন বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। তাই একজন বিশ্বনেতা কতক্ষণ জেগে থেকে কাজ করতে পারেন-সেটি হয়তো নেতৃত্বের সবচেয়ে বড় মাপকাঠি নয়। বরং গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো, দীর্ঘ সময় না ঘুমিয়ে জেগে থাকার পরও তিনি কতটা পরিষ্কারভাবে চিন্তা করতে, পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করতে এবং সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারছেন। কারণ রাষ্ট্র পরিচালনায় শুধু বেশি সময় কাজ করাই নয়, সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য পর্যাপ্ত বিশ্রামও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

একটি দেশ পরিচালনা করা কখনোই সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত চলা কোনো সাধারণ চাকরি নয়। গভীর রাতে জরুরি বৈঠক, ভোরের ব্রিফিং, হঠাৎ তৈরি হওয়া আন্তর্জাতিক সংকট, বক্তৃতা ও বিদেশ সফর-সব মিলিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের কর্মঘণ্টার কোনো নির্দিষ্ট সীমা নেই। কিন্তু এত ব্যস্ততার মধ্যে একজন রাষ্ট্রনেতা সর্বনিম্ন কত ঘণ্টা ঘুমিয়ে স্বাভাবিকভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারেন? এই প্রশ্নই নতুন করে আলোচনায় এসেছে জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানা তাকাইচির এক অকপট স্বীকারোক্তির পর।
দায়িত্ব নেওয়ার পর নিজের ঘুমের অভিজ্ঞতা জানাতে গিয়ে তাকাইচি বলেছেন, এমন বহু রাত গেছে যখন তিনি একেবারেই ঘুমানোর সুযোগ পাননি।
জুলাইয়ে সরকারি ছুটির দিনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি লিখেন, অবশেষে তিনি টানা পাঁচ ঘণ্টা ঘুমাতে পেরেছেন। তার কাছে এই পাঁচ ঘণ্টার ঘুমও ছিল যেন বিরল কোনো সুযোগ। কারণ প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর নিয়মিত রাতে তার ঘুম নেমে এসেছে শূন্য থেকে তিন ঘণ্টায়।
তাকাইচির এই বক্তব্য উদ্বেগ তৈরি করেছে জাপানে। দেশটিতে দীর্ঘ কর্মঘণ্টা ও অতিরিক্ত কাজের কারণে মৃত্যুর ঘটনা, যা ‘কারোশি’ নামে পরিচিত, বহু বছর ধরে গুরুতর সামাজিক সমস্যা হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে।
তাই তাকাইচির মন্তব্য শুধু একজন প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত ঘুমের অভ্যাসের বিষয় হয়ে থাকেনি। এর মধ্য দিয়ে সামনে এসেছে আরও গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রশ্ন-কম ঘুমিয়ে দীর্ঘ সময় কাজ করাকে কি সত্যিই নেতৃত্বের দক্ষতা, নিষ্ঠা ও সহনশীলতার প্রতীক হিসেবে দেখা উচিত? নাকি পর্যাপ্ত ঘুমের অভাব এমন সিদ্ধান্ত গ্রহণের ঝুঁকি বাড়ায়, যার প্রভাব পড়ে কোটি কোটি মানুষের জীবনে?
বিশ্বের বিভিন্ন দেশের কয়েকজন প্রভাবশালী নেতা তাদের ঘুমের অভ্যাস নিয়ে অতীতে যেসব তথ্য জানিয়েছেন, সেগুলোও বেশ চমকপ্রদ।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরেই নিজেকে কম ঘুমানো ব্যক্তি হিসেবে তুলে ধরেছেন। ২০১৭ সালে ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, সাধারণত রাতে চার থেকে পাঁচ ঘণ্টার মতো ঘুমান। ট্রাম্প নদডস , তিনি প্রায়ই রাত ১২টা বা ১টা পর্যন্ত কাজ করেন এবং ভোর ৫টার দিকে ঘুম থেকে উঠেন।
যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামাও হোয়াইট হাউসে থাকাকালে গভীর রাত পর্যন্ত কাজ করার জন্য পরিচিত ছিলেন। ২০১৬ সালে দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওবামা সাধারণত রাতে প্রায় পাঁচ ঘণ্টা ঘুমাতেন। পরিবারের সঙ্গে রাতের খাবার শেষ করার পর তিনি একা নিজের কাজে বসতেন। নথিপত্র পড়া, বক্তৃতা লেখা এবং পরদিনের কর্মসূচির প্রস্তুতি নেওয়ার জন্য গভীর রাতের নিরিবিলি সময়কে কাজে লাগাতেন তিনি।
ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁকেও কম ঘুমানো বিশ্বনেতাদের মধ্যে অন্যতম। তার প্রেসিডেন্সির শুরুর দিকে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, তিনি রাতে মাত্র তিন থেকে চার ঘণ্টা ঘুমাতেন।
জার্মানির সাবেক চ্যান্সেলর অ্যাঞ্জেলা মার্কেলের ঘুমের অভ্যাসও ছিল ভিন্ন ধরনের। দীর্ঘ সময় কম ঘুমিয়েও কাজ চালিয়ে যাওয়ার ক্ষমতা বোঝাতে তিনি একবার নিজেকে ‘উটের’ সঙ্গে তুলনা করেছিলেন।
রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, কাজের চাপ বেশি থাকলে তিনি টানা কয়েক দিন অল্প ঘুমিয়েও দায়িত্ব সামলাতে পারতেন। তবে পরে সুযোগ পেলে ঘুমের ঘাটতি পূরণ করে নিতেন। অর্থাৎ নিজেকে স্থায়ীভাবে কম ঘুমের মানুষ হিসেবে দাবি করেননি মার্কেল।
আধুনিক প্রযুক্তি ও ২৪ ঘণ্টার সংবাদব্যবস্থা চালুর বহু আগেই কম ঘুমিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনার নজির তৈরি করেছিলেন যুক্তরাজ্যের সাবেক প্রধানমন্ত্রী মার্গারেট থ্যাচার। ‘আয়রন লেডি’ হিসেবে পরিচিত থ্যাচার রাতে মাত্র চার ঘণ্টা ঘুমানোর জন্য সুপরিচিত ছিলেন। ১৯৮৯ সালে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারেও তিনি জানিয়েছিলেন, চার ঘণ্টার বেশি ঘুমানো তার জন্য কঠিন ছিল।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও প্রকাশ্যে নিজের কম ঘুমানোর অভ্যাসের কথা বলেছেন। ২০১৯ সালে বলিউড অভিনেতা অক্ষয় কুমারের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে মোদি জানান, তার বায়োলজিক্যাল ক্লক এমনভাবে অভ্যস্ত হয়ে গেছে যে তিনি রাতে সাধারণত তিন থেকে চার ঘণ্টা ঘুমান। তবে তার দাবি, অল্প সময় ঘুমালেও সেই ঘুম বেশ গভীর হয়।
বিশ্বনেতাদের কম ঘুমানোর এসব গল্প মানুষের মধ্যে এক ধরনের আগ্রহ তৈরি করে। অনেকের কাছেই অল্প ঘুমিয়ে দীর্ঘ সময় কাজ করা মানে কঠোর পরিশ্রম, অসাধারণ কর্মক্ষমতা কিংবা দায়িত্বের প্রতি গভীর নিষ্ঠা। কিন্তু চিকিৎসাবিজ্ঞান বিষয়টিকে এতটা সরলভাবে দেখে না।
গবেষণায় দেখা গেছে, খুব অল্পসংখ্যক মানুষের জিনগত বৈশিষ্ট্যের কারণে তারা স্বাভাবিকের তুলনায় কম ঘুমিয়েও সুস্থ থাকতে পারেন। তবে এমন মানুষ অত্যন্ত বিরল। অধিকাংশ মানুষের ক্ষেত্রে নিয়মিত ঘুমের ঘাটতি কোনো বাড়তি সক্ষমতার প্রমাণ নয়; বরং এটি শরীর ও মস্তিষ্কের স্বাভাবিক কার্যক্রমে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
মার্কিন রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্র (সিডিসি) ১৮ থেকে ৬০ বছর বয়সী প্রাপ্তবয়স্কদের নিয়মিতভাবে প্রতি রাতে অন্তত সাত ঘণ্টা ঘুমানোর পরামর্শ দেয়। পর্যাপ্ত ঘুম মনোযোগ ধরে রাখা, স্মৃতিশক্তি, মানসিক স্থিতিশীলতা এবং সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার সক্ষমতার সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত। রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে সিদ্ধান্তের গুরুত্ব যখন কোটি কোটি মানুষের জীবন, অর্থনীতি, নিরাপত্তা ও ভবিষ্যতের সঙ্গে যুক্ত, তখন বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। তাই একজন বিশ্বনেতা কতক্ষণ জেগে থেকে কাজ করতে পারেন-সেটি হয়তো নেতৃত্বের সবচেয়ে বড় মাপকাঠি নয়। বরং গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো, দীর্ঘ সময় না ঘুমিয়ে জেগে থাকার পরও তিনি কতটা পরিষ্কারভাবে চিন্তা করতে, পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করতে এবং সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারছেন। কারণ রাষ্ট্র পরিচালনায় শুধু বেশি সময় কাজ করাই নয়, সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য পর্যাপ্ত বিশ্রামও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

কত ঘণ্টা ঘুমান বিশ্বনেতারা
সিজেডএন ডেস্ক

একটি দেশ পরিচালনা করা কখনোই সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত চলা কোনো সাধারণ চাকরি নয়। গভীর রাতে জরুরি বৈঠক, ভোরের ব্রিফিং, হঠাৎ তৈরি হওয়া আন্তর্জাতিক সংকট, বক্তৃতা ও বিদেশ সফর-সব মিলিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের কর্মঘণ্টার কোনো নির্দিষ্ট সীমা নেই। কিন্তু এত ব্যস্ততার মধ্যে একজন রাষ্ট্রনেতা সর্বনিম্ন কত ঘণ্টা ঘুমিয়ে স্বাভাবিকভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারেন? এই প্রশ্নই নতুন করে আলোচনায় এসেছে জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানা তাকাইচির এক অকপট স্বীকারোক্তির পর।
দায়িত্ব নেওয়ার পর নিজের ঘুমের অভিজ্ঞতা জানাতে গিয়ে তাকাইচি বলেছেন, এমন বহু রাত গেছে যখন তিনি একেবারেই ঘুমানোর সুযোগ পাননি।
জুলাইয়ে সরকারি ছুটির দিনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি লিখেন, অবশেষে তিনি টানা পাঁচ ঘণ্টা ঘুমাতে পেরেছেন। তার কাছে এই পাঁচ ঘণ্টার ঘুমও ছিল যেন বিরল কোনো সুযোগ। কারণ প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর নিয়মিত রাতে তার ঘুম নেমে এসেছে শূন্য থেকে তিন ঘণ্টায়।
তাকাইচির এই বক্তব্য উদ্বেগ তৈরি করেছে জাপানে। দেশটিতে দীর্ঘ কর্মঘণ্টা ও অতিরিক্ত কাজের কারণে মৃত্যুর ঘটনা, যা ‘কারোশি’ নামে পরিচিত, বহু বছর ধরে গুরুতর সামাজিক সমস্যা হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে।
তাই তাকাইচির মন্তব্য শুধু একজন প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত ঘুমের অভ্যাসের বিষয় হয়ে থাকেনি। এর মধ্য দিয়ে সামনে এসেছে আরও গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রশ্ন-কম ঘুমিয়ে দীর্ঘ সময় কাজ করাকে কি সত্যিই নেতৃত্বের দক্ষতা, নিষ্ঠা ও সহনশীলতার প্রতীক হিসেবে দেখা উচিত? নাকি পর্যাপ্ত ঘুমের অভাব এমন সিদ্ধান্ত গ্রহণের ঝুঁকি বাড়ায়, যার প্রভাব পড়ে কোটি কোটি মানুষের জীবনে?
বিশ্বের বিভিন্ন দেশের কয়েকজন প্রভাবশালী নেতা তাদের ঘুমের অভ্যাস নিয়ে অতীতে যেসব তথ্য জানিয়েছেন, সেগুলোও বেশ চমকপ্রদ।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরেই নিজেকে কম ঘুমানো ব্যক্তি হিসেবে তুলে ধরেছেন। ২০১৭ সালে ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, সাধারণত রাতে চার থেকে পাঁচ ঘণ্টার মতো ঘুমান। ট্রাম্প নদডস , তিনি প্রায়ই রাত ১২টা বা ১টা পর্যন্ত কাজ করেন এবং ভোর ৫টার দিকে ঘুম থেকে উঠেন।
যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামাও হোয়াইট হাউসে থাকাকালে গভীর রাত পর্যন্ত কাজ করার জন্য পরিচিত ছিলেন। ২০১৬ সালে দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওবামা সাধারণত রাতে প্রায় পাঁচ ঘণ্টা ঘুমাতেন। পরিবারের সঙ্গে রাতের খাবার শেষ করার পর তিনি একা নিজের কাজে বসতেন। নথিপত্র পড়া, বক্তৃতা লেখা এবং পরদিনের কর্মসূচির প্রস্তুতি নেওয়ার জন্য গভীর রাতের নিরিবিলি সময়কে কাজে লাগাতেন তিনি।
ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁকেও কম ঘুমানো বিশ্বনেতাদের মধ্যে অন্যতম। তার প্রেসিডেন্সির শুরুর দিকে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, তিনি রাতে মাত্র তিন থেকে চার ঘণ্টা ঘুমাতেন।
জার্মানির সাবেক চ্যান্সেলর অ্যাঞ্জেলা মার্কেলের ঘুমের অভ্যাসও ছিল ভিন্ন ধরনের। দীর্ঘ সময় কম ঘুমিয়েও কাজ চালিয়ে যাওয়ার ক্ষমতা বোঝাতে তিনি একবার নিজেকে ‘উটের’ সঙ্গে তুলনা করেছিলেন।
রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, কাজের চাপ বেশি থাকলে তিনি টানা কয়েক দিন অল্প ঘুমিয়েও দায়িত্ব সামলাতে পারতেন। তবে পরে সুযোগ পেলে ঘুমের ঘাটতি পূরণ করে নিতেন। অর্থাৎ নিজেকে স্থায়ীভাবে কম ঘুমের মানুষ হিসেবে দাবি করেননি মার্কেল।
আধুনিক প্রযুক্তি ও ২৪ ঘণ্টার সংবাদব্যবস্থা চালুর বহু আগেই কম ঘুমিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনার নজির তৈরি করেছিলেন যুক্তরাজ্যের সাবেক প্রধানমন্ত্রী মার্গারেট থ্যাচার। ‘আয়রন লেডি’ হিসেবে পরিচিত থ্যাচার রাতে মাত্র চার ঘণ্টা ঘুমানোর জন্য সুপরিচিত ছিলেন। ১৯৮৯ সালে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারেও তিনি জানিয়েছিলেন, চার ঘণ্টার বেশি ঘুমানো তার জন্য কঠিন ছিল।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও প্রকাশ্যে নিজের কম ঘুমানোর অভ্যাসের কথা বলেছেন। ২০১৯ সালে বলিউড অভিনেতা অক্ষয় কুমারের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে মোদি জানান, তার বায়োলজিক্যাল ক্লক এমনভাবে অভ্যস্ত হয়ে গেছে যে তিনি রাতে সাধারণত তিন থেকে চার ঘণ্টা ঘুমান। তবে তার দাবি, অল্প সময় ঘুমালেও সেই ঘুম বেশ গভীর হয়।
বিশ্বনেতাদের কম ঘুমানোর এসব গল্প মানুষের মধ্যে এক ধরনের আগ্রহ তৈরি করে। অনেকের কাছেই অল্প ঘুমিয়ে দীর্ঘ সময় কাজ করা মানে কঠোর পরিশ্রম, অসাধারণ কর্মক্ষমতা কিংবা দায়িত্বের প্রতি গভীর নিষ্ঠা। কিন্তু চিকিৎসাবিজ্ঞান বিষয়টিকে এতটা সরলভাবে দেখে না।
গবেষণায় দেখা গেছে, খুব অল্পসংখ্যক মানুষের জিনগত বৈশিষ্ট্যের কারণে তারা স্বাভাবিকের তুলনায় কম ঘুমিয়েও সুস্থ থাকতে পারেন। তবে এমন মানুষ অত্যন্ত বিরল। অধিকাংশ মানুষের ক্ষেত্রে নিয়মিত ঘুমের ঘাটতি কোনো বাড়তি সক্ষমতার প্রমাণ নয়; বরং এটি শরীর ও মস্তিষ্কের স্বাভাবিক কার্যক্রমে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
মার্কিন রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্র (সিডিসি) ১৮ থেকে ৬০ বছর বয়সী প্রাপ্তবয়স্কদের নিয়মিতভাবে প্রতি রাতে অন্তত সাত ঘণ্টা ঘুমানোর পরামর্শ দেয়। পর্যাপ্ত ঘুম মনোযোগ ধরে রাখা, স্মৃতিশক্তি, মানসিক স্থিতিশীলতা এবং সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার সক্ষমতার সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত। রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে সিদ্ধান্তের গুরুত্ব যখন কোটি কোটি মানুষের জীবন, অর্থনীতি, নিরাপত্তা ও ভবিষ্যতের সঙ্গে যুক্ত, তখন বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। তাই একজন বিশ্বনেতা কতক্ষণ জেগে থেকে কাজ করতে পারেন-সেটি হয়তো নেতৃত্বের সবচেয়ে বড় মাপকাঠি নয়। বরং গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো, দীর্ঘ সময় না ঘুমিয়ে জেগে থাকার পরও তিনি কতটা পরিষ্কারভাবে চিন্তা করতে, পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করতে এবং সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারছেন। কারণ রাষ্ট্র পরিচালনায় শুধু বেশি সময় কাজ করাই নয়, সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য পর্যাপ্ত বিশ্রামও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

ফ্লাইট বিলম্ব বা বাতিল হলে যাত্রীদের কী সেবা দেয় বিভিন্ন এয়ারলাইনস





