শিরোনাম

কুবিতে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের পোস্টারিং, ছাত্রদলের নিন্দা

কুবি সংবাদদাতা
কুবি সংবাদদাতা
কুবিতে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের পোস্টারিং, ছাত্রদলের নিন্দা
প্রতীকী ছবি

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় (কুবি) ক্যাম্পাসে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের পোস্টার সাঁটানোরে ঘটনার নিন্দা, প্রতিবাদ ও বিচারের দাবি জানিয়েছে শাখা ছাত্রদল।

বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) কুবি শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মোস্তাফিজুর রহমান শুভ ও সদস্যসচিব মো. আবুল বাশার স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানো হয়।

এতে বলা হয়, একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদ পরিবেশ বজায় রাখতে ক্যাম্পাসে নিষিদ্ধ কোনো সংগঠনের কার্যক্রম, প্রচারণা কিংবা পোস্টার-ব্যানার প্রদর্শন গ্রহণযোগ্য নয়। এ ধরনের কর্মকাণ্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক পরিবেশ ও শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার জন্য উদ্বেগজনক এবং আইন ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলাবিধির পরিপন্থী।

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, আমরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি-ঘটনাটি দ্রুত তদন্ত করে পোস্টার লাগানোর সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করুন এবং প্রচলিত আইন ও বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করুন। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে যাতে ক্যাম্পাসে নিষিদ্ধ কোনো সংগঠনের কার্যক্রম পরিচালিত বা প্রচারিত হতে না পারে, সে বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানাচ্ছি।

এ বিষয়ে কুবি শাখা ছাত্রদলের সদস্য-সচিব মো. আবুল বাশার বলেন, ‘যদি-কিন্তু ছাড়াই, আমরা স্পষ্ট করে বলতে চাই– নিষিদ্ধ ও পতিত আওয়ামী লীগের কোনো কার্যক্রম কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় বা এর আশপাশে করতে দেওয়া হবে না। গত ১৭ বছরে সংঘটিত সব অনিয়ম, দমন-পীড়ন ও অপরাধের সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের বিচার নিশ্চিত করতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘ক্যাম্পাসের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কোনো ব্যক্তি যদি পতিত আওয়ামী লীগের কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়, তাহলে আইন ও বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধিবিধান অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। কোনো অপশক্তিকে ক্যাম্পাসের শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নষ্ট করার সুযোগ দেওয়া হবে না।’

শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মোস্তাফিজুর রহমান শুভ বলেন, ‘গত জুলাই অভ্যুত্থানে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা, গুলিবর্ষণ ও নির্যাতনের অভিযোগে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ছাত্রলীগকে নিষিদ্ধ সংগঠন ঘোষণা করেছে। ফলে আইন অনুযায়ী তাদের কোনো ধরনের রাজনৈতিক বা সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ নেই। কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস ও এর আশপাশে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের যেকোনো অপতৎপরতা কঠোরভাবে প্রতিহত করা হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘সম্প্রতি ঘোষিত (ছাত্রলীগ) ওই কমিটিতে যাদের নাম এসেছে, তাদের সাধারণ শিক্ষার্থীরা চেনেন না এবং তারা ক্যাম্পাস বা স্থানীয় এলাকার বাসিন্দাও নন। আর ক্যাম্পাসের শান্তিশৃঙ্খলা ও স্থিতিশীল পরিবেশ বজায় রাখতে ক্যাম্পাসের ভেতরে বা ১০০ গজের মধ্যে নিষিদ্ধ সংগঠনের কোনো কার্যক্রম চালাতে দেওয়া হবে না। প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে এ ধরনের কার্যক্রমে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রশাসন ও প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

/এফআর/