শিরোনাম

‘সারারাত অপেক্ষার পর মেলে মাত্র ৫০ টাকার গ্যাস’

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
‘সারারাত অপেক্ষার পর মেলে মাত্র ৫০ টাকার গ্যাস’
বিএইচএস ফিলিং স্টেশনে গ্যাসের জন্য সিএনজিচালিত অটোরিক্সার দীর্ঘ সারি। ছবি: সিজেডএন টোয়েন্টিফোর

রাজধানীতে গ্যাস সংকটের তীব্রতা দিন দিন বাড়ছে। উৎস থেকে গ্যাস সরবরাহ কমে যাওয়ায় বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে গ্যাসের চাপ সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছে। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন সিএনজিচালিত যানবাহনের মালিক ও চালকরা। গ্যাস না পেয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা, এমনকি সারারাতও ফিলিং স্টেশনে অপেক্ষা করতে হচ্ছে তাদের। দীর্ঘ অপেক্ষার পরও অনেক চালক পাচ্ছেন মাত্র ৫০ থেকে ৬০ টাকার গ্যাস।

বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে রাজধানীর জয়কালী মন্দির এলাকার বিএইচএস ফিলিং স্টেশনে গিয়ে দেখা যায়, গ্যাসের অপেক্ষায় প্রায় ২০ থেকে ২৫ জন সিএনজি চালক স্টেশনের ভেতরে বসে আছেন। গ্যাস না পেয়ে তাদের অনেককেই হতাশা ও ক্ষোভ প্রকাশ করতে দেখা যায়।

শুধু তাই নয়, গ্যাস সংকটের কারণে ফিলিং স্টেশনের কর্মকর্তাদের উপস্থিতি দেখা যায়নি। আর কর্মচারীদের দেখা গেছে বসে বসে অলস সময় পার করতে।

চালকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, রাজধানীর বিভিন্ন স্টেশনে গত কয়েক দিন ধরেই গ্যাসের তীব্র সংকট চলছে। গ্যাসের আশায় এক স্টেশন থেকে আরেক স্টেশনে ঘুরেও অনেকে জ্বালানি পাচ্ছেন না। এতে দিনের বড় একটি সময় গ্যাসের জন্য অপেক্ষা করেই পার করতে হচ্ছে তাদের।

‘সারারাত অপেক্ষার পর মেলে মাত্র ৫০ টাকার গ্যাস’ ২
গ্যাসের জন্য অপেক্ষারত সিএনজি চালক ফজলু মিয়া। ছবি: সিজেডএন টোয়েন্টিফোর

ফজলু মিয়া নামের এক সিএনজি চালক বলেন, ‘আমার বাসা ধোলাইখাল। ওখানে গ্যাস না পেয়ে গেলাম শনিআখড়া। সেখানেও না পেয়ে আসলাম এখানে। কিন্তু এখানেও পেলাম না। সকাল ১১টা থেকে বিকেলে ৩টা পর্যন্ত অপেক্ষা করে আছি। গত ১৫ দিন ধরে এই ভাবে চলছে আমাদের সিএনজি চালকদের। গ্যাসের জন্য রাতে ঘুমাতে পারি না। সারারাত অপেক্ষা করে ৫০-৬০ টাকার গ্যাস পেয়েছি।’

শাহজাহান নামের আরেক সিএনজি চালক বলেন, ‘সকাল সাড়ে থেকে গ্যাসের জন্য আমি এখানে অপেক্ষা করছি। হেরা কয় লাইনে গ্যাস নাই, তাই দিতে পারুম না। আমার কথা হলো– সরকার চাইলে চব্বিশ ঘণ্টার মধ্যে এই সংকট দূর করতে পারে। কিন্তু সরকার তা সুষ্ঠু পদক্ষেপ নেয় না। আমরা গরীব মানুষ আমাদের এখন অনেক কষ্ট হইতেছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘সারাদিন ৪০০ টাকা ইনকাম করছি। মহাজনকে সিএনজি জমা হিসেবে এক হাজার টাকা দিতে হবে। সেই চিন্তায় বসে আছি।’

গত ১৫ দিন ধরে এই ভাবে চলছে আমাদের সিএনজি চালকদের। গ্যাসের জন্য রাতে ঘুমাতে পারি না। সারারাত অপেক্ষা করে ৫০-৬০ টাকার গ্যাস পেয়েছি। -সিএনজি চালক ফজলু মিয়া

সিএনজি ফিলিং স্টেশনের শফিকুল ইসলাম নামের এক কর্মচারী বলেন, ‘সকাল থেকে আমাদের স্টেশনে গ্যাস নেই। অনেক সিএনজি চালক অপেক্ষা করছে। তাদের গ্যাস সংকটের কথা জানালে ও তারা স্টেশন ছাড়তে নারাজ। কারণ তাদের সিএনজিতে গ্যাস নেই। এ জন্য গ্যাস যখনই আসবে তখন তারা গ্যাস নিয়ে যাবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদেরও কিছু করার নেই। তাদের জন্য কষ্ট লাগে। অন্যান্য স্টেশনে খোঁজ নিয়ে জানলাম, সব জায়গায় একই অবস্থা। অনেকটা অচল হয়ে পড়ছে স্টেশনগুলো। কোথাও কোথাও স্টেশনের সিএনসি কম্প্রেসারে রাত ১২ টার পরে একটু গ্যাসের চাপ আসে।’

/এফআর/