শিরোনাম

বালিশ কাণ্ডে আরও এক প্রকৌশলীকে অবসরে পাঠালো সরকার

নিজস্ব প্রতিবেদক
বালিশ কাণ্ডে আরও এক প্রকৌশলীকে অবসরে পাঠালো সরকার
রূপপুর গ্রিনসিটি প্রকল্প। ছবি: সংগৃহীত

রূপপুর গ্রিনসিটি প্রকল্পে বহুল আলোচিত ‘বালিশ কাণ্ডে’ (অস্বাভাবিক ব্যয়) দোষী সাব্যস্ত হয়ে উপসহকারী প্রকৌশলী (সিভিল) সুমন কুমার নন্দীকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়েছে। দীর্ঘ বিভাগীয় প্রক্রিয়া শেষে তার বিরুদ্ধে আনা অসদাচরণের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাকে এই শাস্তি দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়েছে, দায়িত্ব পালনে অবহেলা এবং অনিয়মে সম্পৃক্ততার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা হয়। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় এবং তার দেওয়া ব্যাখ্যা গ্রহণযোগ্য না হওয়ায় তাকে গুরুদণ্ড হিসেবে বাধ্যতামূলক অবসর দেওয়া হয়েছে।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, তদন্তে দেখা গেছে, রূপপুর গ্রিনসিটি প্রকল্পে আসবাবপত্র কেনাকাটা ও ভবনে তোলার কাজে অস্বাভাবিক ব্যয়ের প্রাক্কলন তৈরিতে তিনি সরাসরি জড়িত ছিলেন এবং যথাযথ দায়িত্ব পালন করেননি। এ কারণে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা অনুযায়ী তাকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়।

বালিশ কাণ্ডে আরও এক প্রকৌশলীকে অবসরে পাঠালো সরকার
বালিশ কাণ্ডে আরও এক প্রকৌশলীকে অবসরে পাঠালো সরকার

২০১৯ সালে গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকেই এই ঘটনার সূত্রপাত। প্রকল্পের ২০ ও ১৬ তলা ভবনের জন্য আসবাবপত্র কেনাকাটায় ব্যাপক অনিয়ম ও অতিরিক্ত ব্যয়ের অভিযোগ ওঠে। পরে গণপূর্ত অধিদপ্তর ও মন্ত্রণালয়ের পৃথক তদন্তে সেই অভিযোগের সত্যতা মেলে।

তদন্তে উঠে আসে, বাজারমূল্যের তুলনায় অনেক বেশি দামে বালিশ, কমফোর্টার ও বিছানার চাদর কেনা হয়েছে। এমনকি এসব সামগ্রী ভবনে তুলতেও অস্বাভাবিক ব্যয় দেখানো হয়। পুরো কেনাকাটা ছয়টি প্যাকেজে ভাগ করে কেন্দ্রীয় অনুমোদন এড়িয়ে স্থানীয়ভাবে সম্পন্ন করা হয়েছিল।

এই ঘটনায় দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে একাধিক কর্মকর্তা ও ঠিকাদারকে গ্রেপ্তার করে। পরবর্তীতে বিভাগীয় ব্যবস্থায় সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক পদক্ষেপ নেওয়া শুরু হয়।

/এসএ/