শিরোনাম

রাতে ব্যবহার না করলেও স্মার্টফোনের চার্জ কমে যায় কেন

সিজেডএন  ডেস্ক
সিজেডএন ডেস্ক
রাতে ব্যবহার না করলেও স্মার্টফোনের চার্জ কমে যায় কেন
প্রতীকী ছবি

অনেকেই রাতে ঘুমানোর আগে স্মার্টফোনে পর্যাপ্ত চার্জ রেখে ঘুমাতে যান। কিন্তু সকালে উঠে দেখেন, ফোন ব্যবহার না করলেও ব্যাটারির চার্জ ১৫ থেকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত কমে গেছে। অনেকের ধারণা, এটি ব্যাটারির ত্রুটির কারণে হয়। তবে বাস্তবে ফোনের পর্দা বন্ধ থাকলেও বিভিন্ন প্রক্রিয়া পেছনে চলতে থাকে, যার ফলে ধীরে ধীরে ব্যাটারির চার্জ কমে।

তাই রাতে অস্বাভাবিকভাবে চার্জ কমে গেলে তাড়াহুড়া করে ফোনের সেটিংস পরিবর্তন না করে আগে সমস্যার কারণ খুঁজে বের করা উচিত। অ্যান্ড্রয়েড ব্যবহারকারীরা সেটিংস > ব্যাটারি > ব্যাটারি ইউসেজ এবং আইফোন ব্যবহারকারীরা সেটিংস > ব্যাটারি মেনু থেকে দেখে নিতে পারেন কোন অ্যাপ বা সেবা সবচেয়ে বেশি চার্জ ব্যবহার করছে।

রাতে ফোন ব্যবহার না করলেও ব্যাটারির চার্জ কমে যাওয়ার কয়েকটি সাধারণ কারণ নিচে তুলে ধরা হলো:

১. দুর্বল মোবাইল নেটওয়ার্ক

মোবাইল নেটওয়ার্ক দুর্বল থাকলে ফোন বারবার শক্তিশালী সিগন্যাল খুঁজতে থাকে। এই অবিরাম নেটওয়ার্ক অনুসন্ধানের কারণে ব্যাটারির চার্জ দ্রুত কমে। রাতে ফোন ব্যবহারের প্রয়োজন না থাকলে এয়ারপ্লেন মোড চালু রাখা বা প্রয়োজন অনুযায়ী মোবাইল ডেটা ও ওয়াই-ফাই বন্ধ রাখা উপকারী হতে পারে।

২. ব্যাকগ্রাউন্ডে চলমান অ্যাপ

কোনো অ্যাপ বন্ধ করলেও অনেক সময় সেটি পেছনে (ব্যাকগ্রাউন্ডে) বিভিন্ন কাজ চালিয়ে যায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, ই-মেইল, স্বাস্থ্যসেবা বা অনলাইন কেনাকাটার অ্যাপ নিয়মিত তথ্য হালনাগাদ করায় ব্যাটারির চার্জ খরচ হয়। অপ্রয়োজনীয় অ্যাপের ব্যাকগ্রাউন্ড কার্যক্রম সীমিত করলে এই সমস্যা অনেকটাই কমে।

৩. লোকেশন সার্ভিস চালু থাকা

অনেক অ্যাপ প্রয়োজন না থাকলেও ব্যবহারকারীর অবস্থান শনাক্ত করতে থাকে। এতে জিপিএস ও অন্যান্য সেন্সর সক্রিয় থাকায় অতিরিক্ত চার্জ ব্যয় হয়। যেসব অ্যাপের জন্য অবস্থান জানা জরুরি নয়, সেগুলোর লোকেশন অনুমতি বন্ধ রাখা ভালো। প্রয়োজনীয় অ্যাপের ক্ষেত্রে ‘অলওয়েজ’-এর পরিবর্তে ‘হোয়াইল ইউজিং দ্য অ্যাপ’ অপশন ব্যবহার করলে ব্যাটারির ওপর চাপ কমে।

৪. অতিরিক্ত নোটিফিকেশন

প্রতিটি নোটিফিকেশন ফোনের প্রসেসর, নেটওয়ার্ক এবং অনেক ক্ষেত্রে ডিসপ্লেকে সক্রিয় করে। ফলে রাতভর অসংখ্য নোটিফিকেশন এলে অল্প অল্প করে ব্যাটারির চার্জ কমতে থাকে। তাই কম প্রয়োজনীয় অ্যাপের নোটিফিকেশন বন্ধ রাখা যেতে পারে।

৫. অলওয়েজ-অন ডিসপ্লে

অনেক স্মার্টফোনে অলওয়েজ-অন ডিসপ্লে সুবিধা থাকে, যেখানে পর্দার একটি অংশ সবসময় সক্রিয় থাকে। বিদ্যুৎ খরচ তুলনামূলক কম হলেও দীর্ঘ সময় চালু থাকলে ব্যাটারির ওপর প্রভাব পড়ে। রাতে এ সুবিধা বন্ধ রাখলে চার্জ সাশ্রয় করা সম্ভব।

৬. সফটওয়্যার বা অ্যাপ হালনাগাদের পর অতিরিক্ত কার্যক্রম

নতুন সফটওয়্যার ইনস্টল করার পর ফোন কিছু সময় বিভিন্ন ফাইল সাজানো, ডেটা অপ্টিমাইজ করা এবং অন্যান্য অভ্যন্তরীণ কাজ করে। এ সময় সাময়িকভাবে ব্যাটারির ব্যবহার বেড়ে যেতে পারে। আবার পুরোনো সংস্করণের অ্যাপেও অনেক সময় অতিরিক্ত চার্জ খরচের সমস্যা দেখা দেয়। তাই অপারেটিং সিস্টেম ও অ্যাপ নিয়মিত হালনাগাদ রাখা প্রয়োজন।

৭. ব্যাটারির সক্ষমতা কমে যাওয়া

দীর্ঘদিন ব্যবহারের ফলে স্মার্টফোনের ব্যাটারির চার্জ ধারণক্ষমতা স্বাভাবিকভাবেই কমতে থাকে। অতিরিক্ত তাপও ব্যাটারির ক্ষয় দ্রুত বাড়িয়ে দেয়। যদি ফোন অস্বাভাবিকভাবে গরম হয় এবং ব্যাটারি দ্রুত শেষ হয়ে যায়, তাহলে অনুমোদিত সার্ভিস সেন্টারে ব্যাটারির স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানো উচিত।

/এমআর/