যুক্তরাষ্ট্র থেকে ইউরোপীয় দেশগুলোর স্বর্ণ সরানোর কারণ কী

যুক্তরাষ্ট্র থেকে ইউরোপীয় দেশগুলোর স্বর্ণ সরানোর কারণ কী
সিজেডএন ডেস্ক

বিশ্বজুড়ে বাড়তে থাকা ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা ও তৈরি হওয়া অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার মধ্যে নিজেদের সম্পদ নিরাপদ রাখতে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে নেদারল্যান্ডস। যুক্তরাষ্ট্রে রাখা স্বর্ণের একটি বড় অংশ সরিয়ে নিয়েছে দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক। নিউইয়র্ক ও কানাডার অটোয়া থেকে ৮৬ টন সোনা সরিয়ে যুক্তরাজ্যের লন্ডনে নেওয়া হয়েছে। বিবিসির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে।
ঝুঁকি কমানো ও দ্রুত লেনদেনের কৌশল
নেদারল্যান্ডসের কেন্দ্রীয় ব্যাংক 'ডি নেদারল্যান্ডশে ব্যাংক' (ডিএনবি) জানিয়েছে, স্বর্ণের রিজার্ভ এক জায়গায় না রেখে উত্তর আমেরিকা, যুক্তরাজ্য ও নিজেদের দেশে ভাগ করে রাখলে ঝুঁকি অনেক কমে আসে। এতে কোনো বড় ধরনের সংকট তৈরি হলে দ্রুত ব্যবহার করা সহজ হবে। ডিএনবি আরও জানায়, লন্ডনে ব্যাংক অব ইংল্যান্ডের ভল্টে রাখা স্বর্ণ আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের আধুনিক মানদণ্ড পূরণ করে। ফলে এটি বিশ্বের সবচেয়ে সহজে কেনাবেচা করার মতো স্বর্ণ হিসেবে বিবেচিত হয়। জরুরি পরিস্থিতিতে এ স্বর্ণ সবচেয়ে দ্রুত কাজে লাগানো যাবে। নেদারল্যান্ডসের মোট স্বর্ণের ৩১ দশমিক ৩ শতাংশ ছিল যুক্তরাষ্ট্রে এবং ১৯ দশমিক ৭ শতাংশ ছিল কানাডায়। নতুন সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের পর নিউইয়র্ক ও অটোয়া- দুই জায়গাতেই দেশটির স্বর্ণের পরিমাণ কমে দাঁড়াবে ১৮ দশমিক ৫ শতাংশ করে। অন্যদিকে লন্ডনে রাখা স্বর্ণের পরিমাণ ১৮ দশমিক ১ শতাংশ থেকে একলাফে বেড়ে ৩২ দশমিক ১ শতাংশ হবে। বাকি ৩০ দশমিক ৮ শতাংশ স্বর্ণ রাখা থাকবে নেদারল্যান্ডসের নিজস্ব ভল্টে।
স্বর্ণ ঘরে ফেরানোর তাগিদ ইউরোপীয় দেশগুলোর
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র থেকে স্বর্ণ সরিয়ে নেওয়ার যে প্রবণতা তৈরি হয়েছে, তাতে নতুন সংযোজন নেদারল্যান্ডস। এর আগে চলতি বছরের জানুয়ারিতে একই ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছিল ফ্রান্স। ফরাসি কেন্দ্রীয় ব্যাংক ‘ব্যাংক দ্য ফ্রান্স’ গত বছরের জুলাই থেকে চলতি বছরের জানুয়ারি মাসের মধ্যে নিউইয়র্কের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকে রাখা ১২৯ টন স্বর্ণ বিক্রি করে দেয়। এটি ছিল তাদের মোট রিজার্ভের প্রায় ৫ শতাংশ। এরপর সেই অর্থ দিয়ে ইউরোপের বাজার থেকে মানসম্মত নতুন স্বর্ণ কিনে নিজেদের রাজধানী প্যারিসে নিয়ে আসে তারা। বর্তমানে ফ্রান্সের পুরো ২ হাজার ৪৩৭ টন স্বর্ণই নিজেদের ভল্টে সংরক্ষিত রয়েছে। পশ্চিমা দেশগুলোর এমন পদক্ষেপ নতুন নয়। ২০১৭ সালে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে জার্মানির কেন্দ্রীয় ব্যাংক ‘বুন্দেসব্যাংক’ নিউইয়র্ক থেকে ৩০০ টন স্বর্ণ নিজ দেশ জার্মানির ফ্রাঙ্কফুর্টে ফিরিয়ে আনে। পাশাপাশি ফরাসি ব্যাংকে রাখা তাদের ৩৭৪ টন স্বর্ণও দেশে ফেরত নেওয়া হয়। বর্তমানে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম স্বর্ণের মালিক জার্মানির (৩,৩৫২ টন) মোট মজুতের ৩৬ দশমিক ৬ শতাংশ স্বর্ণ নিউইয়র্কে রয়েছে।
যেসব দেশের স্বর্ণ রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে
বাণিজ্যিক উত্তেজনা ও মার্কিন মুদ্রানীতি নিয়ে উদ্বেগ থাকা সত্ত্বেও নিজ দেশে স্বর্ণ ফেরত আনার রাজনৈতিক চাপের কাছে নতি স্বীকার করেনি জার্মানি ও ইতালি। বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম স্বর্ণ মজুতকারী দেশ ইতালির (২,৪৫২ টন) মোট স্বর্ণের ৪৩ শতাংশের বেশি নিউইয়র্কে রাখা আছে। মার্কিন ভল্টে এই দুই দেশের প্রায় ২৪৫ বিলিয়ন ডলারের স্বর্ণ সংরক্ষিত। অন্যান্য অনেক দেশের স্বর্ণও ছড়িয়ে রয়েছে বিদেশের মাটিতে। লেবাননের মোট স্বর্ণের প্রায় ৪০ শতাংশ এবং ভারতের স্বর্ণের একটি অংশ নিউইয়র্কে রয়েছে। সবচেয়ে বেশি স্বর্ণ রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব ভল্টে- প্রায় ৮,১৩৩ টন। তবে অনেক দেশ নিরাপত্তার স্বার্থে তাদের স্বর্ণের প্রকৃত অবস্থান আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করে না।
ভেনেজুয়েলার তিক্ত অভিজ্ঞতা
বিদেশি ব্যাংক থেকে স্বর্ণ ফেরানোর ইতিহাসে সবচেয়ে আলোচিত নাম ভেনেজুয়েলা। সাবেক প্রেসিডেন্ট হুগো চাভেজের আমলে ২০১১ থেকে ২০১২ সালের মধ্যে মার্কিন ও ইউরোপীয় ব্যাংক থেকে ১৬০ টন স্বর্ণ দেশে ফিরিয়ে আনে ভেনেজুয়েলা। দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা ও সম্পদ সুরক্ষিত রাখার যুক্তি দিয়ে সে সময় চাভেজ বলেছিলেন, ‘স্বর্ণ সেখানে ফিরে আসছে, যেখানে থাকার কথা ছিল- ভেনেজুয়েলার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ভল্টে।’ তবে চাভেজের সেই চেষ্টা পুরোপুরি সফল হয়নি। ভেনেজুয়েলার প্রায় ৩১ টন স্বর্ণ এখনও লন্ডনের ব্যাংক অব ইংল্যান্ডের ভল্টে আটকে আছে। পরবর্তী প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরোর সরকারকে যুক্তরাজ্য বৈধ স্বীকৃতি না দেওয়ায় সেই স্বর্ণ ফেরত দিতে অস্বীকৃতি জানায় ব্যাংক অব ইংল্যান্ড। তবে ভেনেজুয়েলার জাতীয় পরিষদের প্রধান হোর্হে রদ্রিগেজ সম্প্রতি জানিয়েছেন, লন্ডনে আটকে থাকা এই জাতীয় সম্পদ উদ্ধারে তারা নতুন করে আবারও আইনি ও কূটনৈতিক উদ্যোগ নিতে যাচ্ছেন।
সূত্র: বিবিসি, এবিসি

বিশ্বজুড়ে বাড়তে থাকা ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা ও তৈরি হওয়া অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার মধ্যে নিজেদের সম্পদ নিরাপদ রাখতে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে নেদারল্যান্ডস। যুক্তরাষ্ট্রে রাখা স্বর্ণের একটি বড় অংশ সরিয়ে নিয়েছে দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক। নিউইয়র্ক ও কানাডার অটোয়া থেকে ৮৬ টন সোনা সরিয়ে যুক্তরাজ্যের লন্ডনে নেওয়া হয়েছে। বিবিসির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে।
ঝুঁকি কমানো ও দ্রুত লেনদেনের কৌশল
নেদারল্যান্ডসের কেন্দ্রীয় ব্যাংক 'ডি নেদারল্যান্ডশে ব্যাংক' (ডিএনবি) জানিয়েছে, স্বর্ণের রিজার্ভ এক জায়গায় না রেখে উত্তর আমেরিকা, যুক্তরাজ্য ও নিজেদের দেশে ভাগ করে রাখলে ঝুঁকি অনেক কমে আসে। এতে কোনো বড় ধরনের সংকট তৈরি হলে দ্রুত ব্যবহার করা সহজ হবে। ডিএনবি আরও জানায়, লন্ডনে ব্যাংক অব ইংল্যান্ডের ভল্টে রাখা স্বর্ণ আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের আধুনিক মানদণ্ড পূরণ করে। ফলে এটি বিশ্বের সবচেয়ে সহজে কেনাবেচা করার মতো স্বর্ণ হিসেবে বিবেচিত হয়। জরুরি পরিস্থিতিতে এ স্বর্ণ সবচেয়ে দ্রুত কাজে লাগানো যাবে। নেদারল্যান্ডসের মোট স্বর্ণের ৩১ দশমিক ৩ শতাংশ ছিল যুক্তরাষ্ট্রে এবং ১৯ দশমিক ৭ শতাংশ ছিল কানাডায়। নতুন সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের পর নিউইয়র্ক ও অটোয়া- দুই জায়গাতেই দেশটির স্বর্ণের পরিমাণ কমে দাঁড়াবে ১৮ দশমিক ৫ শতাংশ করে। অন্যদিকে লন্ডনে রাখা স্বর্ণের পরিমাণ ১৮ দশমিক ১ শতাংশ থেকে একলাফে বেড়ে ৩২ দশমিক ১ শতাংশ হবে। বাকি ৩০ দশমিক ৮ শতাংশ স্বর্ণ রাখা থাকবে নেদারল্যান্ডসের নিজস্ব ভল্টে।
স্বর্ণ ঘরে ফেরানোর তাগিদ ইউরোপীয় দেশগুলোর
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র থেকে স্বর্ণ সরিয়ে নেওয়ার যে প্রবণতা তৈরি হয়েছে, তাতে নতুন সংযোজন নেদারল্যান্ডস। এর আগে চলতি বছরের জানুয়ারিতে একই ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছিল ফ্রান্স। ফরাসি কেন্দ্রীয় ব্যাংক ‘ব্যাংক দ্য ফ্রান্স’ গত বছরের জুলাই থেকে চলতি বছরের জানুয়ারি মাসের মধ্যে নিউইয়র্কের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকে রাখা ১২৯ টন স্বর্ণ বিক্রি করে দেয়। এটি ছিল তাদের মোট রিজার্ভের প্রায় ৫ শতাংশ। এরপর সেই অর্থ দিয়ে ইউরোপের বাজার থেকে মানসম্মত নতুন স্বর্ণ কিনে নিজেদের রাজধানী প্যারিসে নিয়ে আসে তারা। বর্তমানে ফ্রান্সের পুরো ২ হাজার ৪৩৭ টন স্বর্ণই নিজেদের ভল্টে সংরক্ষিত রয়েছে। পশ্চিমা দেশগুলোর এমন পদক্ষেপ নতুন নয়। ২০১৭ সালে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে জার্মানির কেন্দ্রীয় ব্যাংক ‘বুন্দেসব্যাংক’ নিউইয়র্ক থেকে ৩০০ টন স্বর্ণ নিজ দেশ জার্মানির ফ্রাঙ্কফুর্টে ফিরিয়ে আনে। পাশাপাশি ফরাসি ব্যাংকে রাখা তাদের ৩৭৪ টন স্বর্ণও দেশে ফেরত নেওয়া হয়। বর্তমানে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম স্বর্ণের মালিক জার্মানির (৩,৩৫২ টন) মোট মজুতের ৩৬ দশমিক ৬ শতাংশ স্বর্ণ নিউইয়র্কে রয়েছে।
যেসব দেশের স্বর্ণ রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে
বাণিজ্যিক উত্তেজনা ও মার্কিন মুদ্রানীতি নিয়ে উদ্বেগ থাকা সত্ত্বেও নিজ দেশে স্বর্ণ ফেরত আনার রাজনৈতিক চাপের কাছে নতি স্বীকার করেনি জার্মানি ও ইতালি। বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম স্বর্ণ মজুতকারী দেশ ইতালির (২,৪৫২ টন) মোট স্বর্ণের ৪৩ শতাংশের বেশি নিউইয়র্কে রাখা আছে। মার্কিন ভল্টে এই দুই দেশের প্রায় ২৪৫ বিলিয়ন ডলারের স্বর্ণ সংরক্ষিত। অন্যান্য অনেক দেশের স্বর্ণও ছড়িয়ে রয়েছে বিদেশের মাটিতে। লেবাননের মোট স্বর্ণের প্রায় ৪০ শতাংশ এবং ভারতের স্বর্ণের একটি অংশ নিউইয়র্কে রয়েছে। সবচেয়ে বেশি স্বর্ণ রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব ভল্টে- প্রায় ৮,১৩৩ টন। তবে অনেক দেশ নিরাপত্তার স্বার্থে তাদের স্বর্ণের প্রকৃত অবস্থান আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করে না।
ভেনেজুয়েলার তিক্ত অভিজ্ঞতা
বিদেশি ব্যাংক থেকে স্বর্ণ ফেরানোর ইতিহাসে সবচেয়ে আলোচিত নাম ভেনেজুয়েলা। সাবেক প্রেসিডেন্ট হুগো চাভেজের আমলে ২০১১ থেকে ২০১২ সালের মধ্যে মার্কিন ও ইউরোপীয় ব্যাংক থেকে ১৬০ টন স্বর্ণ দেশে ফিরিয়ে আনে ভেনেজুয়েলা। দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা ও সম্পদ সুরক্ষিত রাখার যুক্তি দিয়ে সে সময় চাভেজ বলেছিলেন, ‘স্বর্ণ সেখানে ফিরে আসছে, যেখানে থাকার কথা ছিল- ভেনেজুয়েলার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ভল্টে।’ তবে চাভেজের সেই চেষ্টা পুরোপুরি সফল হয়নি। ভেনেজুয়েলার প্রায় ৩১ টন স্বর্ণ এখনও লন্ডনের ব্যাংক অব ইংল্যান্ডের ভল্টে আটকে আছে। পরবর্তী প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরোর সরকারকে যুক্তরাজ্য বৈধ স্বীকৃতি না দেওয়ায় সেই স্বর্ণ ফেরত দিতে অস্বীকৃতি জানায় ব্যাংক অব ইংল্যান্ড। তবে ভেনেজুয়েলার জাতীয় পরিষদের প্রধান হোর্হে রদ্রিগেজ সম্প্রতি জানিয়েছেন, লন্ডনে আটকে থাকা এই জাতীয় সম্পদ উদ্ধারে তারা নতুন করে আবারও আইনি ও কূটনৈতিক উদ্যোগ নিতে যাচ্ছেন।
সূত্র: বিবিসি, এবিসি

যুক্তরাষ্ট্র থেকে ইউরোপীয় দেশগুলোর স্বর্ণ সরানোর কারণ কী
সিজেডএন ডেস্ক

বিশ্বজুড়ে বাড়তে থাকা ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা ও তৈরি হওয়া অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার মধ্যে নিজেদের সম্পদ নিরাপদ রাখতে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে নেদারল্যান্ডস। যুক্তরাষ্ট্রে রাখা স্বর্ণের একটি বড় অংশ সরিয়ে নিয়েছে দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক। নিউইয়র্ক ও কানাডার অটোয়া থেকে ৮৬ টন সোনা সরিয়ে যুক্তরাজ্যের লন্ডনে নেওয়া হয়েছে। বিবিসির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে।
ঝুঁকি কমানো ও দ্রুত লেনদেনের কৌশল
নেদারল্যান্ডসের কেন্দ্রীয় ব্যাংক 'ডি নেদারল্যান্ডশে ব্যাংক' (ডিএনবি) জানিয়েছে, স্বর্ণের রিজার্ভ এক জায়গায় না রেখে উত্তর আমেরিকা, যুক্তরাজ্য ও নিজেদের দেশে ভাগ করে রাখলে ঝুঁকি অনেক কমে আসে। এতে কোনো বড় ধরনের সংকট তৈরি হলে দ্রুত ব্যবহার করা সহজ হবে। ডিএনবি আরও জানায়, লন্ডনে ব্যাংক অব ইংল্যান্ডের ভল্টে রাখা স্বর্ণ আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের আধুনিক মানদণ্ড পূরণ করে। ফলে এটি বিশ্বের সবচেয়ে সহজে কেনাবেচা করার মতো স্বর্ণ হিসেবে বিবেচিত হয়। জরুরি পরিস্থিতিতে এ স্বর্ণ সবচেয়ে দ্রুত কাজে লাগানো যাবে। নেদারল্যান্ডসের মোট স্বর্ণের ৩১ দশমিক ৩ শতাংশ ছিল যুক্তরাষ্ট্রে এবং ১৯ দশমিক ৭ শতাংশ ছিল কানাডায়। নতুন সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের পর নিউইয়র্ক ও অটোয়া- দুই জায়গাতেই দেশটির স্বর্ণের পরিমাণ কমে দাঁড়াবে ১৮ দশমিক ৫ শতাংশ করে। অন্যদিকে লন্ডনে রাখা স্বর্ণের পরিমাণ ১৮ দশমিক ১ শতাংশ থেকে একলাফে বেড়ে ৩২ দশমিক ১ শতাংশ হবে। বাকি ৩০ দশমিক ৮ শতাংশ স্বর্ণ রাখা থাকবে নেদারল্যান্ডসের নিজস্ব ভল্টে।
স্বর্ণ ঘরে ফেরানোর তাগিদ ইউরোপীয় দেশগুলোর
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র থেকে স্বর্ণ সরিয়ে নেওয়ার যে প্রবণতা তৈরি হয়েছে, তাতে নতুন সংযোজন নেদারল্যান্ডস। এর আগে চলতি বছরের জানুয়ারিতে একই ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছিল ফ্রান্স। ফরাসি কেন্দ্রীয় ব্যাংক ‘ব্যাংক দ্য ফ্রান্স’ গত বছরের জুলাই থেকে চলতি বছরের জানুয়ারি মাসের মধ্যে নিউইয়র্কের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকে রাখা ১২৯ টন স্বর্ণ বিক্রি করে দেয়। এটি ছিল তাদের মোট রিজার্ভের প্রায় ৫ শতাংশ। এরপর সেই অর্থ দিয়ে ইউরোপের বাজার থেকে মানসম্মত নতুন স্বর্ণ কিনে নিজেদের রাজধানী প্যারিসে নিয়ে আসে তারা। বর্তমানে ফ্রান্সের পুরো ২ হাজার ৪৩৭ টন স্বর্ণই নিজেদের ভল্টে সংরক্ষিত রয়েছে। পশ্চিমা দেশগুলোর এমন পদক্ষেপ নতুন নয়। ২০১৭ সালে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে জার্মানির কেন্দ্রীয় ব্যাংক ‘বুন্দেসব্যাংক’ নিউইয়র্ক থেকে ৩০০ টন স্বর্ণ নিজ দেশ জার্মানির ফ্রাঙ্কফুর্টে ফিরিয়ে আনে। পাশাপাশি ফরাসি ব্যাংকে রাখা তাদের ৩৭৪ টন স্বর্ণও দেশে ফেরত নেওয়া হয়। বর্তমানে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম স্বর্ণের মালিক জার্মানির (৩,৩৫২ টন) মোট মজুতের ৩৬ দশমিক ৬ শতাংশ স্বর্ণ নিউইয়র্কে রয়েছে।
যেসব দেশের স্বর্ণ রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে
বাণিজ্যিক উত্তেজনা ও মার্কিন মুদ্রানীতি নিয়ে উদ্বেগ থাকা সত্ত্বেও নিজ দেশে স্বর্ণ ফেরত আনার রাজনৈতিক চাপের কাছে নতি স্বীকার করেনি জার্মানি ও ইতালি। বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম স্বর্ণ মজুতকারী দেশ ইতালির (২,৪৫২ টন) মোট স্বর্ণের ৪৩ শতাংশের বেশি নিউইয়র্কে রাখা আছে। মার্কিন ভল্টে এই দুই দেশের প্রায় ২৪৫ বিলিয়ন ডলারের স্বর্ণ সংরক্ষিত। অন্যান্য অনেক দেশের স্বর্ণও ছড়িয়ে রয়েছে বিদেশের মাটিতে। লেবাননের মোট স্বর্ণের প্রায় ৪০ শতাংশ এবং ভারতের স্বর্ণের একটি অংশ নিউইয়র্কে রয়েছে। সবচেয়ে বেশি স্বর্ণ রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব ভল্টে- প্রায় ৮,১৩৩ টন। তবে অনেক দেশ নিরাপত্তার স্বার্থে তাদের স্বর্ণের প্রকৃত অবস্থান আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করে না।
ভেনেজুয়েলার তিক্ত অভিজ্ঞতা
বিদেশি ব্যাংক থেকে স্বর্ণ ফেরানোর ইতিহাসে সবচেয়ে আলোচিত নাম ভেনেজুয়েলা। সাবেক প্রেসিডেন্ট হুগো চাভেজের আমলে ২০১১ থেকে ২০১২ সালের মধ্যে মার্কিন ও ইউরোপীয় ব্যাংক থেকে ১৬০ টন স্বর্ণ দেশে ফিরিয়ে আনে ভেনেজুয়েলা। দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা ও সম্পদ সুরক্ষিত রাখার যুক্তি দিয়ে সে সময় চাভেজ বলেছিলেন, ‘স্বর্ণ সেখানে ফিরে আসছে, যেখানে থাকার কথা ছিল- ভেনেজুয়েলার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ভল্টে।’ তবে চাভেজের সেই চেষ্টা পুরোপুরি সফল হয়নি। ভেনেজুয়েলার প্রায় ৩১ টন স্বর্ণ এখনও লন্ডনের ব্যাংক অব ইংল্যান্ডের ভল্টে আটকে আছে। পরবর্তী প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরোর সরকারকে যুক্তরাজ্য বৈধ স্বীকৃতি না দেওয়ায় সেই স্বর্ণ ফেরত দিতে অস্বীকৃতি জানায় ব্যাংক অব ইংল্যান্ড। তবে ভেনেজুয়েলার জাতীয় পরিষদের প্রধান হোর্হে রদ্রিগেজ সম্প্রতি জানিয়েছেন, লন্ডনে আটকে থাকা এই জাতীয় সম্পদ উদ্ধারে তারা নতুন করে আবারও আইনি ও কূটনৈতিক উদ্যোগ নিতে যাচ্ছেন।
সূত্র: বিবিসি, এবিসি

যুক্তরাষ্ট্র-কানাডা থেকে ৮৬ টন স্বর্ণ সরালো নেদারল্যান্ডস







