শিরোনাম

পে-স্কেলের গেজেট নিয়ে শেষ মুহূর্তে প্রশাসনিক জটিলতা

সিজেডএন ডেস্ক
সিজেডএন ডেস্ক
পে-স্কেলের গেজেট নিয়ে শেষ মুহূর্তে প্রশাসনিক জটিলতা
ছবি: সিজেডএন গ্রাফিক্স

নবম জাতীয় পে-স্কেলের গেজেট আগামী রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) প্রকাশের কথা থাকলেও শেষ মুহূর্তের প্রশাসনিক প্রক্রিয়া নিয়ে জটিলতার আভাস পাওয়া গেছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সব আনুষ্ঠানিকতা শেষ করা সম্ভব হবে কি না, তা নিয়ে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে কিছুটা অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, পে-স্কেলের গেজেটের খসড়া ইতোমধ্যে বাংলাদেশ সরকারি মুদ্রণালয়ে (বিজি প্রেস) পাঠানো হয়েছে। সেখানে মুদ্রণসংক্রান্ত কাজ ও প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষ করার পর গেজেটটি জারির জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হবে।

তবে প্রজ্ঞাপন জারির আগে খসড়াটি আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিং প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাওয়ার কথা রয়েছে। এরপর এসআরও নম্বরসহ অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে। এসব ধাপ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ করা নিয়েই এখন সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোতে চলছে শেষ মুহূর্তের তোড়জোড়।

এর আগে বৃহস্পতিবারের মধ্যে পে-স্কেলের প্রজ্ঞাপন প্রকাশের কথা থাকলেও তা হয়নি। পরে নতুন করে ৬ সেপ্টেম্বর প্রজ্ঞাপন জারির সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়।

অর্থসচিবও জানিয়েছেন, আগামী ৬ সেপ্টেম্বর নবম জাতীয় পে-স্কেলের প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে। ফলে এখন নজর রয়েছে বিজি প্রেসসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর কার্যক্রমের ওপর।

নিম্ন গ্রেডে বেশি বেতন বৃদ্ধি

প্রস্তাবিত নতুন বেতন কাঠামোয় ২০টি গ্রেড বহাল রাখা হয়েছে। এতে ২০তম গ্রেডের মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা এবং প্রথম গ্রেডের মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

অর্থাৎ সর্বনিম্ন গ্রেডে মূল বেতন বাড়ছে প্রায় ১৪২ শতাংশ এবং সর্বোচ্চ গ্রেডে ১০০ শতাংশ। নতুন কাঠামোয় সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ বেতনের ব্যবধানও কিছুটা কমানো হয়েছে।

সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। বর্তমানে সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ গ্রেডের বেতনের অনুপাত ১:১.৯৪৫। নতুন কাঠামোয় এটি কমিয়ে ১:১.৭৮ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। সরকারের মতে, এতে বেতন কাঠামোয় তুলনামূলক ভারসাম্য ও ন্যায্যতা বাড়বে।

ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন

নতুন পে-স্কেল ১ জুলাই ২০২৬ থেকে কার্যকর ধরা হলেও এর পুরো সুবিধা একসঙ্গে পাওয়া যাবে না। সরকারের আর্থিক সক্ষমতা ও মূল্যস্ফীতির ওপর সম্ভাব্য চাপ বিবেচনায় ২০২৬-২৭ ও ২০২৭-২৮ অর্থবছরে ধাপে ধাপে নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে।

এদিকে মূল্যস্ফীতির চাপ বিবেচনায় বেসরকারি খাতেও বেতন কাঠামো পুনর্বিবেচনার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা রয়েছে। একই সঙ্গে সরকারি খাতে অপ্রয়োজনীয় জনবল কমানোর মাধ্যমে অতিরিক্ত ব্যয়ের চাপ নিয়ন্ত্রণের বিষয়টিও সামনে এসেছে।

/এমআর/