শিরোনাম

চাঁদে আঘাত হানতে পারে গ্রহাণু

সিটিজেন ডেস্ক
চাঁদে আঘাত হানতে পারে গ্রহাণু
ছবি: আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স।

চাঁদের বুকে আঘাত হানতে পারে একটি বৃহৎ গ্রহাণু। যা নিয়ে বিজ্ঞানীদের মধ্যে বাড়ছে উদ্বেগ। ২০৩২ সালে সম্ভাব্য এই সংঘর্ষ ঘটলে চাঁদের পৃষ্ঠ থেকে বিপুল পরিমাণ ধ্বংসাবশেষ মহাশূন্যে ছড়িয়ে পড়তে পারে। সেই ধ্বংসাবশেষের একটি অংশ পৃথিবীর দিকে ধেয়ে এসে আকাশে অসাধারণ কিন্তু সম্ভাব্য ঝুঁকিপূর্ণ উল্কাবৃষ্টির সৃষ্টি করতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন গবেষকরা।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর তথ্য অনুযায়ী, সম্প্রতি শনাক্ত হওয়া প্রায় ৬০ মিটার ব্যাসের একটি গ্রহাণুকে নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা। তাদের হিসাব বলছে, ২০৩২ সালের ২২ ডিসেম্বর গ্রহাণুটির চাঁদে আঘাত হানার সম্ভাবনা প্রায় ৪ শতাংশ। সম্ভাবনা তুলনামূলকভাবে কম হলেও, সংঘর্ষটি ঘটলে তার প্রভাব হবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই আঘাতে যে শক্তি উৎপন্ন হবে তা মাঝারি মাত্রার একটি তাপ-পরমাণু বিস্ফোরণের সমতুল্য হতে পারে। আধুনিক যুগে পর্যবেক্ষণ করা চাঁদের সবচেয়ে শক্তিশালী সংঘর্ষগুলোর একটি হিসেবে ঘটনাটি বিবেচিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

গবেষকদের ধারণা, সংঘর্ষের ফলে চাঁদের পৃষ্ঠে প্রায় এক কিলোমিটার প্রশস্ত একটি বিশাল গর্ত তৈরি হতে পারে। পাশাপাশি চাঁদের অভ্যন্তরে বৈশ্বিক মাত্রার ভূকম্পনও সৃষ্টি হতে পারে। এসব কম্পন বিশ্লেষণের মাধ্যমে চাঁদের অভ্যন্তরীণ গঠন ও ভূতাত্ত্বিক বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে নতুন ও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেতে পারে। বিস্ফোরণের পর ছিটকে যাওয়া ধ্বংসাবশেষের কিছু অংশ কয়েক দিনের মধ্যে পৃথিবীর কাছাকাছি পৌঁছাতে পারে। এর ফলে রাতের আকাশে দেখা যাবে এমন শক্তিশালী উল্কাবৃষ্টির, যা জ্যোতির্বিজ্ঞানী ও সাধারণ মানুষের জন্য বিরল এক দৃশ্য হবে। তবে ঘটনাটির সম্ভাব্য নেতিবাচক দিকও রয়েছে। মহাকাশে ছড়িয়ে পড়া ধ্বংসাবশেষ বিভিন্ন কৃত্রিম উপগ্রহের জন্য হুমকি হয়ে উঠতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, যদি এসব খণ্ড স্যাটেলাইটে আঘাত করে, তাহলে ‘কেসলার সিনড্রোম’ নামে পরিচিত ধারাবাহিক সংঘর্ষের পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। এমন অবস্থায় পৃথিবীর যোগাযোগ, ইন্টারনেট, আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ ও নেভিগেশন ব্যবস্থায় বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা রয়েছে। এই কারণেই সম্ভাব্য সংঘর্ষ ঠেকাতে গ্রহাণুটির গতিপথ পরিবর্তনের জন্য কোনো মহাকাশ মিশন পরিচালনা করা হবে কি না, তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।

বিজ্ঞানীদের মতে, একদিকে পৃথিবী ও মহাকাশ অবকাঠামোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, অন্যদিকে বিরল একটি মহাজাগতিক ঘটনার বৈজ্ঞানিক পর্যবেক্ষণের সুযোগ কাজে লাগানো-এই দুই বিষয়ের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

/এসবি/