শিরোনাম

এআইভিত্তিক শিক্ষা প্ল্যাটফর্ম ‘বিডি এআই স্কুলের’ যাত্রা শুরু

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
এআইভিত্তিক শিক্ষা প্ল্যাটফর্ম ‘বিডি এআই স্কুলের’ যাত্রা শুরু
ছবি: এআই

শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ও পরীক্ষার প্রস্তুতিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহারকে সহজ করতে দেশে যাত্রা শুরু করেছে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (এআই) প্ল্যাটফর্ম ‘বিডি এআই স্কুল’। অষ্টম শ্রেণি থেকে এইচএসসি পর্যায়ের পাঠ্যক্রমের পাশাপাশি ভর্তি পরীক্ষা, ইংরেজি শেখা ও বিভিন্ন দক্ষতা উন্নয়নে এ প্ল্যাটফর্মে মিলবে এআইভিত্তিক সহায়তা।

ব্যতিক্রমী এই স্কুল তৈরি করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এমজেএস ডিগ্রিধারী প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ও ডেভেলপার মো. সোহেল রানা।

উদ্যোক্তার দাবি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সহায়তায় শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত শেখার চাহিদা অনুযায়ী শিক্ষা-সহায়তা দেওয়ার পাশাপাশি কঠিন বিষয় সহজ ভাষায় ব্যাখ্যা এবং বিভিন্ন প্রশ্নের তাৎক্ষণিক উত্তর দেওয়ার সুযোগ থাকবে ‘বিডি এআই স্কুল’। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চল ও প্রত্যন্ত এলাকার যেসব শিক্ষার্থী মানসম্মত শিক্ষক বা কোচিং সুবিধা থেকে বঞ্চিত, তাদের জন্য এটি বিকল্প শিক্ষাসহায়ক মাধ্যম হিসেবে কাজ করতে পারে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রথম পর্যায়ে অষ্টম শ্রেণি থেকে উচ্চমাধ্যমিক (এইচএসসি) পর্যন্ত বিভিন্ন পাঠ্যবিষয়, বিশ্ববিদ্যালয় ও অন্যান্য ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতি, ইংরেজি শিক্ষা এবং দক্ষতা উন্নয়নমূলক কোর্স চালু করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে আরও বিষয়, কোর্স ও শিক্ষাসেবা যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

প্রচলিত অনলাইন শিক্ষা প্ল্যাটফর্মের পাশাপাশি বিডি এআই স্কুলে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা যেকোনো সময় প্রশ্ন করতে, কঠিন বিষয় সহজভাবে বুঝতে এবং নিজের শেখার গতি ও প্রয়োজন অনুযায়ী সহায়তা নিতে পারবে। দিন-রাত ২৪ ঘণ্টা, সপ্তাহের সাত দিন ইন্টারনেট সংযোগ থাকলে একটি নির্দিষ্ট সাবস্ক্রিপশনের মাধ্যমে এআইভিত্তিক শিক্ষা-সহায়তা নেওয়া সম্ভব হবে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশের অনেক প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিক্ষার্থী এখনও অভিজ্ঞ শিক্ষক, মানসম্মত কোচিং কিংবা প্রয়োজনীয় শিক্ষাসামগ্রীর পর্যাপ্ত সুযোগ থেকে বঞ্চিত। এ ধরনের শিক্ষার্থীদের জন্য প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা প্ল্যাটফর্ম বাড়তি সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারে। ফলে একজন শিক্ষার্থী নিজের বাড়িতে বসেই ডিজিটাল মাধ্যমে বিভিন্ন বিষয়ে শিক্ষা-সহায়তা ও প্রস্তুতির সুযোগ পাবে।

বিডি এআই স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা মো. সোহেল রানা সিজেডএন টোয়েন্টিফোরকে বলেন, বিডি এআই স্কুল তৈরির মূল উদ্দেশ্য হলো– শিক্ষার্থীদের শেখার সুযোগকে আরও সহজ এবং সবার নাগালের মধ্যে নিয়ে আসা। একজন শিক্ষার্থী শহরে থাকুক কিংবা প্রত্যন্ত এলাকায়, তার প্রয়োজন অনুযায়ী মানসম্মত শিক্ষা-সহায়তা দিতেই আমরা কাজ করতে চেয়েছি। বিশেষ করে যারা কোচিং বা ব্যক্তিগত শিক্ষকের পেছনে বেশি অর্থ ব্যয় করতে পারে না, তাদের জন্য এআইভিত্তিক এই প্ল্যাটফর্মটি একটি বিকল্প শিক্ষা-সহায়তা হিসেবে কাজ করবে।

তিনি আরও বলেন, এআই কখনোই শিক্ষকের বিকল্প নয়, বরং শিক্ষার্থী ও শিক্ষকের সহায়ক প্রযুক্তি। কঠিন বিষয় সহজে বোঝানো, তাৎক্ষণিক প্রশ্নের উত্তর ও শিক্ষার্থীর প্রয়োজন অনুযায়ী সহায়তা দেওয়াই এর মূল লক্ষ্য। পাশাপাশি তথ্যের নির্ভুলতা, শিক্ষার মান ও ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তাকে গুরুত্ব দিয়ে ভবিষ্যতে আরও উন্নত সেবা যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

প্ল্যাটফর্মটি সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে এবং নিবন্ধন করতে www.bdaischool.com ওয়েবসাইটে ভিজিট করতে পারেন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন উদ্যোক্তা সোহেল রানা।

শিক্ষা-প্রযুক্তি সংশ্লিষ্টদের মতে, এআইভিত্তিক শিক্ষা প্ল্যাটফর্ম দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে আরও প্রযুক্তিনির্ভর এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক করতে ভূমিকা রাখতে পারে। তবে এ ধরনের প্ল্যাটফর্মের পাঠ্যবিষয়ক তথ্যের নির্ভুলতা, শিক্ষার মান, শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা এবং অভিজ্ঞ শিক্ষকদের তত্ত্বাবধান নিশ্চিত করা জরুরি। এসব বিষয় গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হলে এআইভিত্তিক শিক্ষা-সহায়তা উদ্যোগগুলো দেশের শিক্ষা খাতে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে।

/এফআর/