শিরোনাম

১০ জনের ফ্রান্সের কাছে ব্রাজিলের হার

সিটিজেন স্পোর্টস ডেস্ক
১০ জনের ফ্রান্সের কাছে ব্রাজিলের হার
বল নিয়ে যাচ্ছেন কিলিয়ান এমবাপে। ছবি: সংগৃহীত

১০ জনের ফ্রান্সের কাছে পরাজিত হলো ৫ বারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টনের উপকূলবর্তী ফক্সবোরোতে ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হলেও পরিবেশটা যেন হয়ে উঠেছিল ব্রাজিলের ঘরের মাঠ। গ্যালারিতে উপস্থিত ৬৬ হাজার ২১৫ জন দর্শকের বড় অংশই ছিলেন ভিনিসিয়ুস-রাফিনিয়াদের সমর্থক। তবে মাঠের পারফরম্যান্সে হতাশ করেছে সেলেসাওরা। এমবাপে ও একিতিকের নৈপুণ্যে উজ্জ্বল ছিল ফ্রান্স। দুইবার পিছিয়ে পড়ার পর দ্বিতীয়ার্ধে ঘুরে দাঁড়ানোর আভাস দিলেও শেষ পর্যন্ত পারেনি ব্রাজিল। ফ্রান্সের কাছে ২-১ গোলে হারতে হয় তাদের।

বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে অনুষ্ঠিত ম্যাচে বল দখলে কিছুটা এগিয়ে ছিল ফ্রান্স। তবে গোলের সুযোগ ও শটের দিক থেকে এগিয়ে ছিল কার্লো আনচেলত্তির দল ব্রাজিল। কিন্তু পার্থক্য গড়ে দেয় ফিনিশিং। ফ্রান্সের হয়ে অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপে চোট নিয়ে বিতর্ক থাকলেও গোল করেন। আরেকটি গোল করেন লিভারপুলের ফরোয়ার্ড হুগো একিতিকে। অন্যদিকে ব্রাজিলের হয়ে একমাত্র গোলটি করেন ডিফেন্ডার ব্রেমার।

ম্যাচের শুরুতেই আক্রমণে গতি আনে ব্রাজিল। তবে বার্সেলোনা ফরোয়ার্ড রাফিনিয়া সুযোগটি কাজে লাগাতে ব্যর্থ হন। ক্যাসেমিরোর উঁচু পাস নিয়ন্ত্রণে এনে বক্সে ঢুকে নেওয়া তার শটটি গোলবারের অনেক ওপর দিয়ে চলে যায়। তিন মিনিট পর হুগো একিতিকেও হেডে গোল দিতে ব্যর্থ হন। প্রথমার্ধে ফরাসিদের বিপক্ষে তেমন কার্যকর আক্রমণ গড়তে পারছিল না ব্রাজিল। এরই মধ্যে ২৭ মিনিটে গ্যাব্রিয়েল মার্টিনেল্লি ডি-বক্সের বাইরে থেকে জোরালো শট নিলেও সেটি দূরের পোস্ট ঘেঁষে বাইরে চলে যায়।

৩২ মিনিটে ম্যাচের প্রথম গোল পায় ফ্রান্স। উসমান দেম্বেলের নিখুঁত রক্ষণভেদী পাস ধরে বক্সে ঢুকে এগিয়ে আসা ব্রাজিল গোলরক্ষক এডারসনের ওপর দিয়ে চিপ শটে বল জালে জড়ান কিলিয়ান এমবাপে।

আন্তর্জাতিক ফুটবলে ফ্রান্সের হয়ে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ গোলদাতা এমবাপে শীর্ষে ওঠার খুব কাছাকাছি। তার গোলসংখ্যা এখন ৫৬। তার সামনে আছেন অলিভিয়ের জিরু, যার গোল ৫৭টি।

প্রথমার্ধে ছয়টি শট নিলেও ব্রাজিল একটি শটও লক্ষ্যে রাখতে পারেনি। অন্যদিকে ফ্রান্স পাঁচটি শটের মধ্যে একটি লক্ষ্যে রাখতে সক্ষম হয়, যা গোল এনে দেয়। বিরতির পর নিষ্প্রভতা কাটিয়ে একের পর এক আক্রমণ সাজায় সেলেসাওরা। কিন্তু ফিনিশিংয়ের দুর্বলতায় কাঙ্ক্ষিত গোল পাচ্ছিল না তারা। ফলে দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে বেশ কয়েকটি সুযোগ তৈরি করেও সফল হতে পারেনি ব্রাজিল।

ম্যাচে এগিয়ে থাকা অবস্থায় ৫৫ মিনিটে বড় ধাক্কা খায় ফ্রান্স। দায়োত উপামেকানো ব্রাজিল ডিফেন্ডার ওয়েসলির ওপর কঠোর ফাউল করলে প্রথমে তাকে হলুদ কার্ড দেখানো হয়। পরে ভিএআর দেখে সিদ্ধান্ত বদলে সরাসরি লাল কার্ড দেন রেফারি।

১০ জন নিয়ে খেলতে নেমেও আক্রমণ সামলাতে সামলাতে ৬৫ মিনিটে গোল দ্বিগুণ করে দিদিয়ের দেশমের দল। মাইকেল ওলিসের দারুণ থ্রু পাস ধরে নিখুঁত ফিনিশিংয়ে গোল করেন হুগো একিতিকে। জাতীয় দলের হয়ে এটি তার দ্বিতীয় গোল।

৭৮ মিনিটে ব্যবধান কমায় ব্রাজিল। ফ্রি-কিক থেকে পাওয়া বল ক্যাসেমিরো কাটব্যাক করলে ব্রেমার পা বাড়িয়ে বল জালে জড়ান। জুভেন্টাসের এই ডিফেন্ডারের জন্য এটি ছিল জাতীয় দলে প্রথম গোল।

শেষদিকে একের পর এক আক্রমণে ফ্রান্সের রক্ষণে চাপ তৈরি করলেও সমতা ফেরাতে পারেনি ব্রাজিল। ম্যাচের অন্তিম মুহূর্তে ব্রেমারের বাড়ানো বলে গোলমুখে সুযোগ পেয়েও ভিনিসিয়ুসরা তা কাজে লাগাতে ব্যর্থ হন। ফলে হতাশা নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয় তাদের।

/জেএইচ/