শিরোনাম
এক্সপ্লেইনার

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্রের ঘাটতিই কি ইরানে হামলা স্থগিতের কারণ

সিজেডএন  ডেস্ক
সিজেডএন ডেস্ক
যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্রের ঘাটতিই কি ইরানে হামলা স্থগিতের কারণ
শুক্রবার রাতে ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানে বড় ধরনের হামলার পরিকল্পনা স্থগিত করেন

ইরানের বিরুদ্ধে বড় ধরনের সামরিক অভিযান চালানোর পরিকল্পনা আপাতত স্থগিত করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্রের বড় ধরনের ঘাটতি দেখা দেওয়ার আশঙ্কায় তিনি এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। শুক্রবার (২৪ জুলাই) জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা ও মন্ত্রিসভার উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সঙ্গে জরুরি এক বৈঠকের পরই ট্রাম্প তার অবস্থান বদল করেন।

মার্কিন সামরিক বাহিনীর জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা ট্রাম্প প্রশাসনকে সতর্ক করে জানিয়েছেন, তেহরানের বিরুদ্ধে যদি নতুন করে কোনো বড় মাপের যুদ্ধ শুরু করা হয়, তবে তাদের অস্ত্র বিপজ্জনক মাত্রায় ফুরিয়ে আসবে। বিশেষ করে জর্ডান, কুয়েত, বাহরাইন ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে মোতায়েন থাকা মার্কিন সেনা ও সামরিক ঘাঁটিগুলোর সুরক্ষায় ব্যবহৃত প্যাট্রিয়ট ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্র মারাত্মকভাবে কমে যেতে পারে। পেন্টাগনের অভ্যন্তরীণ হিসাব ও কংগ্রেস কর্মকর্তাদের সূত্র ধরে নিউইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, চলমান সংঘাতের শুরু থেকে এ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র ১,২০০টিরও বেশি প্যাট্রিয়ট ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে ফেলেছে। এর ফলে বর্তমানে তাদের মজুত উদ্বেগজনক পর্যায়ে গিয়ে ঠেকেছে। সম্প্রতি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার সময় একটি ইরানি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র মার্কিন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভেদ করে জর্ডানে তিন সেনা নিহত হওয়ার পর ওয়াশিংটনের এই উদ্বেগ আরও তীব্র হয়ে ওঠে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্রের ঘাটতিই কি ইরানে হামলা স্থগিতের কারণ   (1)
ভার্জিনিয়ার কোয়ান্টিকো মেরিন কর্পস বেসে একটি মাঝারি পাল্লার আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্রের প্রোটোটাইপ।

প্রতিরক্ষা বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তাদের মতে, সেন্ট্রাল কমান্ডের আওতাধীন বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এখনো ইরানের ওপর বড় আক্রমণ চালানোর ক্ষমতা রাখে। কিন্তু এর ফলে মার্কিন সামরিক বাহিনীর কাছে থাকা নিজস্ব প্রতিরক্ষাব্যবস্থা অনেকটাই অরক্ষিত হয়ে পড়বে। জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন বিষয়টি নিয়ে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সরাসরি সতর্ক করেছেন। তা ছাড়া সংঘাত বড় আকার ধারণ করলে ইরান এর চেয়েও কঠোর প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এতে কেবল যে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের উপসাগরীয় মিত্ররা দূরে সরে যাবে তা নয়, একই সঙ্গে বিশ্বজুড়ে নতুন করে জ্বালানি ও শরণার্থী সংকট আরও মারাত্মক রূপ নিতে পারে।

অথচ শুরুতে ট্রাম্প প্রশাসনের পরিকল্পনা ছিল একেবারেই ভিন্ন। তারা ইরানের উপকূলীয় রাডার ব্যবস্থা, জাহাজ-বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপক কেন্দ্র, আক্রমণকারী স্পিডবোট এবং প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার সঙ্গে জড়িত বিভিন্ন স্থান লক্ষ্য করে বহুস্তরের শক্তিশালী বোমা হামলা চালাবে। এমনকি আলোচনায় ছিল ইরানের জ্বালানি স্থাপনা, সামরিক পরিবহন নেটওয়ার্কে ব্যবহৃত গুরুত্বপূর্ণ রেলসেতু ও পারমাণবিক কেন্দ্রগুলোতেও অতিরিক্ত আঘাত হানার পরিকল্পনা। এই সম্ভাব্য যুদ্ধের প্রস্তুতি হিসেবেই সাম্প্রতিক দিনগুলোতে পেন্টাগন মধ্যপ্রাচ্যে অতিরিক্ত সেনা, ভারী যুদ্ধাস্ত্র ও রসদ পাঠিয়েছিল।

তবে ব্যাপক বোমা হামলার মধ্য দিয়ে তেহরানকে আদৌ আলোচনার টেবিলে ফেরানো যাবে কি না, তা নিয়ে মার্কিন প্রশাসনের ভেতরেই জোর সংশয় দেখা দিয়েছে। বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা যুক্তি দেখিয়েছেন, ঢালাও আক্রমণ চালিয়ে ইরানকে দমানোর চেষ্টা উল্টো ফল বয়ে আনতে পারে। এবং এতে দেশটির অভ্যন্তরীণ জাতীয় ঐক্য আরও শক্তিশালী হয়ে উঠতে পারে। এসব সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে ট্রাম্পের উপদেষ্টারা তাকে এখনই পূর্ণমাত্রার সামরিক অভিযানে না যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। এর পরিবর্তে দীর্ঘ মেয়াদে তেহরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ বজায় রাখা, নৌ অবরোধ জোরদার করা এবং কূটনৈতিক আলোচনার পথ খোলা রাখার কৌশল গ্রহণের দিকেই ঝুঁকছে ওয়াশিংটন।

সূত্র: নিউইয়র্ক টাইমস

/এমএকে/