শিরোনাম

নখ কাটার দিন-সময় নিয়ে ইসলাম কী বলে

সিজেডএন ডেস্ক
সিজেডএন ডেস্ক
নখ কাটার দিন-সময় নিয়ে ইসলাম কী বলে
প্রতীকী ছবি

ইসলামে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। নখ কাটা সেই পরিচ্ছন্নতারই গুরুত্বপূর্ণ একটি আমল। তবে নখ কাটার জন্য নির্দিষ্ট কোনো দিন, সময় বা বাধ্যতামূলক কোনো পদ্ধতি শরিয়তে নির্ধারণ করা হয়নি। অর্থাৎ, একজন মুসলমান নিজের সুবিধামতো যেকোনো দিন ও সময়ে নখ কাটতে পারেন। কোন আঙুল থেকে নখ কাটা শুরু করতে হবে-এমন বাধ্যতামূলক নির্দেশনাও সহিহ হাদিসে পাওয়া যায় নি।

তবে কিছু আলেম নখ কাটার ক্ষেত্রে ডান হাতকে আগে রাখাকে উত্তম মনে করেছেন। তাদের কেউ ডান হাতের তর্জনী থেকে শুরু করার কথা বলেছেন। আবার কেউ ডান হাতের সব নখ কাটার পর বাম হাতের নখ কাটাকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন। তবে এসব পদ্ধতিকে বাধ্যতামূলক বা নির্দিষ্ট সুন্নত বলা যায় না।

ইমাম নববী, হাফিজ ইবনে হাজার আসকালানি, ইমাম সুয়ূতী ও আল্লামা ইবনে আবেদীন শামী (রহ.)-এর মতো একাধিক মুহাক্কিক আলেমের বক্তব্য অনুযায়ী, নখ কাটার নির্দিষ্ট কোনো পদ্ধতি সহিহভাবে প্রমাণিত হয়নি। তাই বৈধ যেকোনো পদ্ধতিতে নখ কাটা জায়েজ।

কিছু ফকিহ জুমার দিনে নখ কাটাকে মুস্তাহাব বলেছেন। বিশেষ করে জুমার নামাজের পর নখ কাটার কথাও কেউ কেউ উল্লেখ করেছেন। তবে এটিও বাধ্যতামূলক নয়।

নখ কাটার ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো দীর্ঘদিন তা ফেলে না রাখা। হজরত আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) গোঁফ ছোট করা, নখ কাটা, বগলের লোম পরিষ্কার করা এবং নাভির নিচের লোম অপসারণের জন্য সর্বোচ্চ ৪০ রাত সময় নির্ধারণ করে দিয়েছেন। (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ২৫৮)

তাই নখ ও শরীরের অন্যান্য পরিচ্ছন্নতার বিষয়গুলো ৪০ দিনের বেশি অবহেলা করা উচিত নয়। নিয়মিত নখ কাটা শুধু পরিচ্ছন্নতার অংশই নয়, বরং একজন মুসলমানের জন্য এটি সুন্নতের প্রতি যত্নশীল থাকারও একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক।

/এসবি/