শিরোনাম

ইহরামের কাপড় দিয়ে কাফন বানানোর বিধান

সিজেডএন ডেস্ক
সিজেডএন ডেস্ক
ইহরামের কাপড় দিয়ে কাফন বানানোর বিধান
প্রতীকী ছবি

পবিত্র হজ বা ওমরাহ শেষে অনেক হাজিই নিজেদের ব্যবহৃত ইহরামের কাপড় সযত্নে সংরক্ষণ করেন এবং মৃত্যুর পর সেটি কাফন হিসেবে ব্যবহারের ইচ্ছা পোষণ করেন। অনেকের ধারণা, ইহরামের কাপড় অবশ্যই জমজমের পানি দিয়ে ধুয়ে তারপর কাফনের জন্য রেখে দিতে হবে। তবে এ বিষয়ে ইসলামি শরিয়তের সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা রয়েছে।

ফিকহবিদদের মতে, জীবদ্দশায় নিজের কাফনের কাপড় কিনে বা তৈরি করে রাখা সম্পূর্ণরূপে জায়েজ ও বৈধ। একইভাবে হজের মতো পবিত্র ইবাদতে ব্যবহৃত কাপড় কাফন হিসেবে ব্যবহারের মাধ্যমে বরকত হাসিলের আশা করাও একটি গ্রহণযোগ্য ও শুভ ইচ্ছা। কেউ যদি ইহরামের চাদর জমজমের পানি দিয়ে ধুয়ে ভবিষ্যতের জন্য রেখে দেন, তবে তাতে কোনো বাধা নেই।

এদিকে, আলেমগণ বিশেষভাবে সতর্ক করে বলেছেন, জমজমের পানি দিয়ে ধোয়া কিংবা ইহরামের কাপড়কেই কাফন হিসেবে ব্যবহার করা কোনো ‘আবশ্যকীয় বা সুন্নত’ নিয়ম নয়। এটি শুধুই একটি ব্যক্তিগত পছন্দ ও বরকত লাভের চেষ্টা। এটিকে দ্বীনের অংশ বা বাধ্যতামূলক মনে না করলে এতে কোনো শরয়ি বাধা বা বিদআতের সুযোগ নেই।

হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, ইহরাম অবস্থায় মৃত্যুবরণকারী ব্যক্তিকে রাসুলুল্লাহ (সা.) তার ইহরামের দুই কাপড়েই কাফন দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন। এ থেকে ইহরামের কাপড়ে কাফন দেওয়ার বৈধতা প্রমাণিত হয়।

এছাড়া, ইমাম বুখারি (রহ.) এর আলোচনায় এবং হাফেজ ইবনু হাজার আল-আসকালানি (রহ.) এর ব্যাখ্যায়ও জীবদ্দশায় কাফন প্রস্তুত রাখা এবং নেককারদের ব্যবহৃত বা বরকতময় বস্তুর মাধ্যমে বরকত গ্রহণের বৈধতার কথা উল্লেখ রয়েছে।

নারীর ক্ষেত্রেও স্বামীর হজ বা ওমরায় ব্যবহৃত ইহরামের কাপড় থেকে কাফনের কাপড় তৈরি করা জায়েজ। তবে কাপড় যদি ময়লা হয়ে যায়, তাহলে তা ধুয়ে পরিষ্কার করে নেওয়া উচিত। কারণ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন কাফন ব্যবহার করা শরিয়তে পছন্দনীয়।

ইসলামি বিশেষজ্ঞদের জানান, ইহরামের কাপড় জমজমের পানি দিয়ে ধুয়ে কাফনের জন্য সংরক্ষণ করা জায়েজ, কিন্তু তা করা বাধ্যতামূলক বা জরুরি নয়। একইভাবে জমজমের পানি দিয়ে না ধুলেও সেই ইহরামের কাপড় কাফন হিসেবে ব্যবহার করতে কোনও শরয়ি বাধা নেই।

/এফআর/

বিষয়:

হজকাপড়