সব হারিয়েও মনকে শান্ত রাখার উপায়

সিটিজেন জার্নাল ডেস্ক
সিটিজেন জার্নাল ডেস্ক
সব হারিয়েও মনকে শান্ত রাখার উপায়
এক ধর্মপ্রাণ ব্যক্তি ইবাদতে মশগুল

জীবনের অপ্রত্যাশিত কোনো ক্ষতি বা ব্যর্থতায় আমরা প্রায়ই ভেঙে পড়ি। অনুশোচনা ও মানসিক হতাশায় বর্তমানকে বিষাক্ত করে তুলি। অথচ জীবনের পথচলায় মনের প্রশান্তি আর ঈমানকে সুদৃঢ় রাখতে ভাগ্যের প্রতি পূর্ণ আস্থা বা তাকদিরের বিশ্বাসই আসল সমাধান।

উবাদা বিন ছামেত (রা.) বলেন, আমি রাসুল (সা.) কে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন, ‘আল্লাহ তায়ালা সর্বপ্রথম কলম সৃষ্টি করে তাকে বললেন, লিখো। কলম বলল, হে আমার প্রতিপালক! কী লিখব? আল্লাহ বললেন, কিয়ামত পর্যন্ত আগমনকারী প্রতিটি বস্তুর তাকদীর লিখো’ (আবু দাউদ, ৪৭০০; তিরমিজি, ৩৩১৯)।

এই মহান হাদিস ও নসিহত থেকে আমরা যে প্রধান শিক্ষাগুলো পাই:

ঈমানের প্রকৃত স্বাদ

তাকদিরের ওপর দৃঢ় বিশ্বাস ছাড়া ঈমানের প্রকৃত মধুরতা বা স্বাদ অনুভব করা অসম্ভব। জীবনে যা ঘটার ছিল তা কখনোই মিস হতো না, আর যা ঘটেনি তা হওয়ারও ছিল না– এই অকাট্য সত্যটি মেনে নিতে পারলেই অন্তরে প্রকৃত স্থৈর্য নেমে আসে।

তাকদির লিখন

মহাবিশ্ব সৃষ্টির সূচনালগ্নে আল্লাহতায়ালা সর্বপ্রথম ‘কলম’ সৃষ্টি করেন। তাকে কেয়ামত পর্যন্ত ঘটে যাওয়া সমস্ত সৃষ্টির ভাগ্য ও ঘটনাপ্রবাহ লিখে রাখার নির্দেশ দেন। অর্থাৎ আমাদের জীবনের প্রতিটি ঘটনা রবের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনার অংশ।

বিভ্রান্তিকর বিশ্বাসের পরিণতি

তাকদীরের সত্যতাকে অস্বীকার করা বা ভাগ্যের ওপর অসন্তুষ্ট হওয়া ঈমানি চেতনার পরিপন্থী। রাসুলুল্লাহ (সা.) স্পষ্টভাবে সতর্ক করেছেন যে, তাকদিরের প্রতি এই মৌলিক বিশ্বাস ছাড়া মৃত্যুবরণ করলে সে তার উম্মতের দলভুক্ত হতে পারবে না।

আজকের তীব্র দুশ্চিন্তা ও অনিশ্চয়তার যুগে আমরা যদি নিজেদের প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখে ফলাফলের ভার আল্লাহর ওপর ছেড়ে দিতে পারি, তবেই মিলবে প্রকৃত মানসিক স্বস্তি।

/এসআর/