কোরআনে যাদের সফল বলেছেন আল্লাহ

কোরআনে যাদের সফল বলেছেন আল্লাহ
সিজেডএন ডেস্ক

সফলতা মানুষের চিরন্তন আকাঙ্ক্ষা। মানুষ যুগে যুগে সফলতার সংজ্ঞা নির্ধারণ করেছে তার নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গি, সংস্কৃতি ও জীবনদর্শনের আলোকে। কারো কাছে সম্পদ সফলতা, কারো কাছে ক্ষমতা, কারও কাছে খ্যাতি, আবার কারো কাছে উন্নত জীবনযাপনই সফলতার পরিচয়। কিন্তু পবিত্র কোরআন সফলতাকে কেবল দুনিয়াবি অর্জন, সম্পদ, ক্ষমতা কিংবা সামাজিক মর্যাদার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখেনি।
বরং কোরআন সফলতাকে এমন একটি সামগ্রিক অর্জন হিসেবে উপস্থাপন করেছে, যার সঙ্গে ঈমান, আত্মশুদ্ধি, তাকওয়া, ইবাদত, নৈতিকতা, আল্লাহ ও রাসুলের আনুগত্য এবং সর্বোপরি আখিরাতের নাজাত ও আল্লাহর সন্তুষ্টি অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। কোরআনের ফালাহ ও ফাওজ, এই দুই শব্দে নিহিত সফলতার মানদণ্ডগুলো তুলে ধরা হলো–
ঈমান সফলতার প্রথম ও মৌলিক মানদণ্ড: আল্লাহতায়ালা এরশাদ করেছেন, ‘নিশ্চয়ই মুমিনরা সফল হয়েছে।’ (সুরা মুমিনুন, ১) এই সুরায় আল্লাহতায়ালা মুমিন হওয়াকে সফলতার মানদণ্ড হিসেবে ঘোষণা দেওয়ার পর সফল মুমিনের আরও কিছু গুণ বা বৈশিষ্ট্যের কথা উল্লেখ করেছেন।
আল্লাহতায়ালা এরশাদ করেছেন, ‘যারা নিজেদের নামাজে বিনয় ও একাগ্রতা অবলম্বন করে।’ (সুরা মুমিনুন, ২) ‘আর যারা নিজেদের নামাজগুলো সংরক্ষণ করে।’ (সুরা মুমিনুন, ৯)
অনর্থকতা বর্জন–আল্লাহতায়ালা এরশাদ করেছেন, ‘যারা অনর্থক বিষয় থেকে বিমুখ।’ (সুরা মুমিনুন, ৩)
জাকাত ও সম্পদের পবিত্রতা–আল্লাহতায়ালা এরশাদ করেছেন, ‘যারা জাকাত আদায় করে।’ (সুরা মুমিনুন, ৪)
যৌন পবিত্রতা ও আত্মসংযম–আল্লাহতায়ালা এরশাদ করেছেন, ‘যারা নিজেদের লজ্জাস্থান সংরক্ষণ করে।’ (সুরা মুমিনুন, ৫)
আমানত ও অঙ্গীকার রক্ষা–আল্লাহ এরশাদ করেছেন, ‘তাদের আমানত ও অঙ্গীকারগুলো রক্ষা করে।’ (সুরা মুমিনুন, ৮)
তাকওয়া সফলতার অপরিহার্য শর্ত: পবিত্র কোরআনে আল্লাহতায়ালা এরশাদ করেছেন, ‘তোমরা আল্লাহকে ভয় করো, যাতে তোমরা সফল হতে পারো।’ (সুরা বাকারা, ১৮৯; সুরা মায়েদা, ১০০; সুরা আনফাল, ৪৫; সুরা আলে ইমরান, ২০০)
আত্মশুদ্ধি সফলতার অন্তর্নিহিত মানদণ্ড: আল্লাহতায়ালা এরশাদ করেছেন, ‘নিশ্চয়ই সে সফল হয়েছে, যে নিজেকে পরিশুদ্ধ করেছে।’ (সুরা আলা, ১৪; সুরা শামস, ৯)
সৎকাজ ও ইবাদত সফলতার মানদণ্ড: আল্লাহতায়ালা এরশাদ করেছেন, ‘তোমরা তোমাদের রবের ইবাদত করো এবং সৎকাজ করো, যাতে তোমরা সফল হতে পারো।’ (সুরা হজ, ৭৭)
ধৈর্য ধারণ করা ও আল্লাহর অধিক জিকির করা: আল্লাহতায়ালা এরশাদ করেছেন, ‘অতএব তোমরা অবিচল থাকো এবং আল্লাহকে অধিক স্মরণ করো, যাতে তোমরা সফল হতে পারো।’ (সুরা আনফাল, ৪৫)
মদ, জুয়া ও শয়তানি অপবিত্রতা থেকে বেঁচে থাকা সফলতার পাথেয়: আল্লাহতায়ালা এরশাদ করেছেন, ‘হে মুমিনরা, নিশ্চয় মদ, জুয়া, প্রতিমা-বেদি ও ভাগ্যনির্ধারক তীরগুলো তো নাপাক শয়তানের কর্ম। সুতরাং তোমরা তা পরিহার করো, যাতে তোমরা সফলকাম হও।’ (সুরা মায়েদা, ৯০)
নফসকে কৃপণতা ও লোভ থেকে মুক্ত রাখতে পারা সফলতার লক্ষণ: আল্লাহতায়ালা এরশাদ করেছেন, ‘যাকে তার নফসের কৃপণতা থেকে রক্ষা করা হয়েছে, তারাই সফল।’ (সুরা হাশর, ৯; সুরা তাগাবুন, ১৬)
আত্মীয় ও দরিদ্রদের অধিকার আদায় সফলতা: আল্লাহতায়ালা এরশাদ করেছেন, ‘অতএব আত্মীয়স্বজনকে তাদের হক দিয়ে দাও এবং মিসকিন ও মুসাফিরকেও। এটি উত্তম তাদের জন্য, যারা আল্লাহর সন্তুষ্টি চায় এবং তারাই সফলকাম।’ (সুরা রুম, ৩৮)
ধৈর্য ও দৃঢ়তায় সফলতা আসে: আল্লাহতায়ালা এরশাদ করেছেন, ‘হে মুমিনরা! তোমরা ধৈর্য ধারণ করো, পরস্পর ধৈর্যে প্রতিযোগিতা করো, প্রস্তুত থাকো এবং আল্লাহকে ভয় করো, যাতে তোমরা সফল হতে পারো।’ (সুরা আলে ইমরান, ২০০)
আল্লাহর পথে ত্যাগ মানুষকে সফল করে: আল্লাহতায়ালা এরশাদ করেছেন, ‘যারা ঈমান এনেছে, হিজরত করেছে এবং আল্লাহর পথে নিজেদের সম্পদ ও জীবন দিয়ে সংগ্রাম করেছে–তারাই সফল।’ (সুরা তাওবা, ২০)
আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন হলো সফলতার সর্বোচ্চ স্তর: আল্লাহতায়ালা এরশাদ করেছেন, ‘আল্লাহর সন্তুষ্টিই সর্বশ্রেষ্ঠ; এটাই মহাসাফল্য।’ (সুরা তাওবা, ৭২)
কোরআনের দৃষ্টিতে সফলতা কোনো এককালীন প্রাপ্তি নয়, বরং ঈমান থেকে শুরু করে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন পর্যন্ত বিস্তৃত এক ধারাবাহিক সাধনা। সম্পদ, ক্ষমতা বা খ্যাতি কোরআনের মানদণ্ডে প্রকৃত সফলতা নয়; বরং তাকওয়া, আত্মশুদ্ধি, ইবাদত, ন্যায়পরায়ণতা, ধৈর্য ও সততার সমন্বয়েই গড়ে ওঠে প্রকৃত সফল জীবন।

সফলতা মানুষের চিরন্তন আকাঙ্ক্ষা। মানুষ যুগে যুগে সফলতার সংজ্ঞা নির্ধারণ করেছে তার নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গি, সংস্কৃতি ও জীবনদর্শনের আলোকে। কারো কাছে সম্পদ সফলতা, কারো কাছে ক্ষমতা, কারও কাছে খ্যাতি, আবার কারো কাছে উন্নত জীবনযাপনই সফলতার পরিচয়। কিন্তু পবিত্র কোরআন সফলতাকে কেবল দুনিয়াবি অর্জন, সম্পদ, ক্ষমতা কিংবা সামাজিক মর্যাদার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখেনি।
বরং কোরআন সফলতাকে এমন একটি সামগ্রিক অর্জন হিসেবে উপস্থাপন করেছে, যার সঙ্গে ঈমান, আত্মশুদ্ধি, তাকওয়া, ইবাদত, নৈতিকতা, আল্লাহ ও রাসুলের আনুগত্য এবং সর্বোপরি আখিরাতের নাজাত ও আল্লাহর সন্তুষ্টি অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। কোরআনের ফালাহ ও ফাওজ, এই দুই শব্দে নিহিত সফলতার মানদণ্ডগুলো তুলে ধরা হলো–
ঈমান সফলতার প্রথম ও মৌলিক মানদণ্ড: আল্লাহতায়ালা এরশাদ করেছেন, ‘নিশ্চয়ই মুমিনরা সফল হয়েছে।’ (সুরা মুমিনুন, ১) এই সুরায় আল্লাহতায়ালা মুমিন হওয়াকে সফলতার মানদণ্ড হিসেবে ঘোষণা দেওয়ার পর সফল মুমিনের আরও কিছু গুণ বা বৈশিষ্ট্যের কথা উল্লেখ করেছেন।
আল্লাহতায়ালা এরশাদ করেছেন, ‘যারা নিজেদের নামাজে বিনয় ও একাগ্রতা অবলম্বন করে।’ (সুরা মুমিনুন, ২) ‘আর যারা নিজেদের নামাজগুলো সংরক্ষণ করে।’ (সুরা মুমিনুন, ৯)
অনর্থকতা বর্জন–আল্লাহতায়ালা এরশাদ করেছেন, ‘যারা অনর্থক বিষয় থেকে বিমুখ।’ (সুরা মুমিনুন, ৩)
জাকাত ও সম্পদের পবিত্রতা–আল্লাহতায়ালা এরশাদ করেছেন, ‘যারা জাকাত আদায় করে।’ (সুরা মুমিনুন, ৪)
যৌন পবিত্রতা ও আত্মসংযম–আল্লাহতায়ালা এরশাদ করেছেন, ‘যারা নিজেদের লজ্জাস্থান সংরক্ষণ করে।’ (সুরা মুমিনুন, ৫)
আমানত ও অঙ্গীকার রক্ষা–আল্লাহ এরশাদ করেছেন, ‘তাদের আমানত ও অঙ্গীকারগুলো রক্ষা করে।’ (সুরা মুমিনুন, ৮)
তাকওয়া সফলতার অপরিহার্য শর্ত: পবিত্র কোরআনে আল্লাহতায়ালা এরশাদ করেছেন, ‘তোমরা আল্লাহকে ভয় করো, যাতে তোমরা সফল হতে পারো।’ (সুরা বাকারা, ১৮৯; সুরা মায়েদা, ১০০; সুরা আনফাল, ৪৫; সুরা আলে ইমরান, ২০০)
আত্মশুদ্ধি সফলতার অন্তর্নিহিত মানদণ্ড: আল্লাহতায়ালা এরশাদ করেছেন, ‘নিশ্চয়ই সে সফল হয়েছে, যে নিজেকে পরিশুদ্ধ করেছে।’ (সুরা আলা, ১৪; সুরা শামস, ৯)
সৎকাজ ও ইবাদত সফলতার মানদণ্ড: আল্লাহতায়ালা এরশাদ করেছেন, ‘তোমরা তোমাদের রবের ইবাদত করো এবং সৎকাজ করো, যাতে তোমরা সফল হতে পারো।’ (সুরা হজ, ৭৭)
ধৈর্য ধারণ করা ও আল্লাহর অধিক জিকির করা: আল্লাহতায়ালা এরশাদ করেছেন, ‘অতএব তোমরা অবিচল থাকো এবং আল্লাহকে অধিক স্মরণ করো, যাতে তোমরা সফল হতে পারো।’ (সুরা আনফাল, ৪৫)
মদ, জুয়া ও শয়তানি অপবিত্রতা থেকে বেঁচে থাকা সফলতার পাথেয়: আল্লাহতায়ালা এরশাদ করেছেন, ‘হে মুমিনরা, নিশ্চয় মদ, জুয়া, প্রতিমা-বেদি ও ভাগ্যনির্ধারক তীরগুলো তো নাপাক শয়তানের কর্ম। সুতরাং তোমরা তা পরিহার করো, যাতে তোমরা সফলকাম হও।’ (সুরা মায়েদা, ৯০)
নফসকে কৃপণতা ও লোভ থেকে মুক্ত রাখতে পারা সফলতার লক্ষণ: আল্লাহতায়ালা এরশাদ করেছেন, ‘যাকে তার নফসের কৃপণতা থেকে রক্ষা করা হয়েছে, তারাই সফল।’ (সুরা হাশর, ৯; সুরা তাগাবুন, ১৬)
আত্মীয় ও দরিদ্রদের অধিকার আদায় সফলতা: আল্লাহতায়ালা এরশাদ করেছেন, ‘অতএব আত্মীয়স্বজনকে তাদের হক দিয়ে দাও এবং মিসকিন ও মুসাফিরকেও। এটি উত্তম তাদের জন্য, যারা আল্লাহর সন্তুষ্টি চায় এবং তারাই সফলকাম।’ (সুরা রুম, ৩৮)
ধৈর্য ও দৃঢ়তায় সফলতা আসে: আল্লাহতায়ালা এরশাদ করেছেন, ‘হে মুমিনরা! তোমরা ধৈর্য ধারণ করো, পরস্পর ধৈর্যে প্রতিযোগিতা করো, প্রস্তুত থাকো এবং আল্লাহকে ভয় করো, যাতে তোমরা সফল হতে পারো।’ (সুরা আলে ইমরান, ২০০)
আল্লাহর পথে ত্যাগ মানুষকে সফল করে: আল্লাহতায়ালা এরশাদ করেছেন, ‘যারা ঈমান এনেছে, হিজরত করেছে এবং আল্লাহর পথে নিজেদের সম্পদ ও জীবন দিয়ে সংগ্রাম করেছে–তারাই সফল।’ (সুরা তাওবা, ২০)
আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন হলো সফলতার সর্বোচ্চ স্তর: আল্লাহতায়ালা এরশাদ করেছেন, ‘আল্লাহর সন্তুষ্টিই সর্বশ্রেষ্ঠ; এটাই মহাসাফল্য।’ (সুরা তাওবা, ৭২)
কোরআনের দৃষ্টিতে সফলতা কোনো এককালীন প্রাপ্তি নয়, বরং ঈমান থেকে শুরু করে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন পর্যন্ত বিস্তৃত এক ধারাবাহিক সাধনা। সম্পদ, ক্ষমতা বা খ্যাতি কোরআনের মানদণ্ডে প্রকৃত সফলতা নয়; বরং তাকওয়া, আত্মশুদ্ধি, ইবাদত, ন্যায়পরায়ণতা, ধৈর্য ও সততার সমন্বয়েই গড়ে ওঠে প্রকৃত সফল জীবন।

কোরআনে যাদের সফল বলেছেন আল্লাহ
সিজেডএন ডেস্ক

সফলতা মানুষের চিরন্তন আকাঙ্ক্ষা। মানুষ যুগে যুগে সফলতার সংজ্ঞা নির্ধারণ করেছে তার নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গি, সংস্কৃতি ও জীবনদর্শনের আলোকে। কারো কাছে সম্পদ সফলতা, কারো কাছে ক্ষমতা, কারও কাছে খ্যাতি, আবার কারো কাছে উন্নত জীবনযাপনই সফলতার পরিচয়। কিন্তু পবিত্র কোরআন সফলতাকে কেবল দুনিয়াবি অর্জন, সম্পদ, ক্ষমতা কিংবা সামাজিক মর্যাদার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখেনি।
বরং কোরআন সফলতাকে এমন একটি সামগ্রিক অর্জন হিসেবে উপস্থাপন করেছে, যার সঙ্গে ঈমান, আত্মশুদ্ধি, তাকওয়া, ইবাদত, নৈতিকতা, আল্লাহ ও রাসুলের আনুগত্য এবং সর্বোপরি আখিরাতের নাজাত ও আল্লাহর সন্তুষ্টি অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। কোরআনের ফালাহ ও ফাওজ, এই দুই শব্দে নিহিত সফলতার মানদণ্ডগুলো তুলে ধরা হলো–
ঈমান সফলতার প্রথম ও মৌলিক মানদণ্ড: আল্লাহতায়ালা এরশাদ করেছেন, ‘নিশ্চয়ই মুমিনরা সফল হয়েছে।’ (সুরা মুমিনুন, ১) এই সুরায় আল্লাহতায়ালা মুমিন হওয়াকে সফলতার মানদণ্ড হিসেবে ঘোষণা দেওয়ার পর সফল মুমিনের আরও কিছু গুণ বা বৈশিষ্ট্যের কথা উল্লেখ করেছেন।
আল্লাহতায়ালা এরশাদ করেছেন, ‘যারা নিজেদের নামাজে বিনয় ও একাগ্রতা অবলম্বন করে।’ (সুরা মুমিনুন, ২) ‘আর যারা নিজেদের নামাজগুলো সংরক্ষণ করে।’ (সুরা মুমিনুন, ৯)
অনর্থকতা বর্জন–আল্লাহতায়ালা এরশাদ করেছেন, ‘যারা অনর্থক বিষয় থেকে বিমুখ।’ (সুরা মুমিনুন, ৩)
জাকাত ও সম্পদের পবিত্রতা–আল্লাহতায়ালা এরশাদ করেছেন, ‘যারা জাকাত আদায় করে।’ (সুরা মুমিনুন, ৪)
যৌন পবিত্রতা ও আত্মসংযম–আল্লাহতায়ালা এরশাদ করেছেন, ‘যারা নিজেদের লজ্জাস্থান সংরক্ষণ করে।’ (সুরা মুমিনুন, ৫)
আমানত ও অঙ্গীকার রক্ষা–আল্লাহ এরশাদ করেছেন, ‘তাদের আমানত ও অঙ্গীকারগুলো রক্ষা করে।’ (সুরা মুমিনুন, ৮)
তাকওয়া সফলতার অপরিহার্য শর্ত: পবিত্র কোরআনে আল্লাহতায়ালা এরশাদ করেছেন, ‘তোমরা আল্লাহকে ভয় করো, যাতে তোমরা সফল হতে পারো।’ (সুরা বাকারা, ১৮৯; সুরা মায়েদা, ১০০; সুরা আনফাল, ৪৫; সুরা আলে ইমরান, ২০০)
আত্মশুদ্ধি সফলতার অন্তর্নিহিত মানদণ্ড: আল্লাহতায়ালা এরশাদ করেছেন, ‘নিশ্চয়ই সে সফল হয়েছে, যে নিজেকে পরিশুদ্ধ করেছে।’ (সুরা আলা, ১৪; সুরা শামস, ৯)
সৎকাজ ও ইবাদত সফলতার মানদণ্ড: আল্লাহতায়ালা এরশাদ করেছেন, ‘তোমরা তোমাদের রবের ইবাদত করো এবং সৎকাজ করো, যাতে তোমরা সফল হতে পারো।’ (সুরা হজ, ৭৭)
ধৈর্য ধারণ করা ও আল্লাহর অধিক জিকির করা: আল্লাহতায়ালা এরশাদ করেছেন, ‘অতএব তোমরা অবিচল থাকো এবং আল্লাহকে অধিক স্মরণ করো, যাতে তোমরা সফল হতে পারো।’ (সুরা আনফাল, ৪৫)
মদ, জুয়া ও শয়তানি অপবিত্রতা থেকে বেঁচে থাকা সফলতার পাথেয়: আল্লাহতায়ালা এরশাদ করেছেন, ‘হে মুমিনরা, নিশ্চয় মদ, জুয়া, প্রতিমা-বেদি ও ভাগ্যনির্ধারক তীরগুলো তো নাপাক শয়তানের কর্ম। সুতরাং তোমরা তা পরিহার করো, যাতে তোমরা সফলকাম হও।’ (সুরা মায়েদা, ৯০)
নফসকে কৃপণতা ও লোভ থেকে মুক্ত রাখতে পারা সফলতার লক্ষণ: আল্লাহতায়ালা এরশাদ করেছেন, ‘যাকে তার নফসের কৃপণতা থেকে রক্ষা করা হয়েছে, তারাই সফল।’ (সুরা হাশর, ৯; সুরা তাগাবুন, ১৬)
আত্মীয় ও দরিদ্রদের অধিকার আদায় সফলতা: আল্লাহতায়ালা এরশাদ করেছেন, ‘অতএব আত্মীয়স্বজনকে তাদের হক দিয়ে দাও এবং মিসকিন ও মুসাফিরকেও। এটি উত্তম তাদের জন্য, যারা আল্লাহর সন্তুষ্টি চায় এবং তারাই সফলকাম।’ (সুরা রুম, ৩৮)
ধৈর্য ও দৃঢ়তায় সফলতা আসে: আল্লাহতায়ালা এরশাদ করেছেন, ‘হে মুমিনরা! তোমরা ধৈর্য ধারণ করো, পরস্পর ধৈর্যে প্রতিযোগিতা করো, প্রস্তুত থাকো এবং আল্লাহকে ভয় করো, যাতে তোমরা সফল হতে পারো।’ (সুরা আলে ইমরান, ২০০)
আল্লাহর পথে ত্যাগ মানুষকে সফল করে: আল্লাহতায়ালা এরশাদ করেছেন, ‘যারা ঈমান এনেছে, হিজরত করেছে এবং আল্লাহর পথে নিজেদের সম্পদ ও জীবন দিয়ে সংগ্রাম করেছে–তারাই সফল।’ (সুরা তাওবা, ২০)
আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন হলো সফলতার সর্বোচ্চ স্তর: আল্লাহতায়ালা এরশাদ করেছেন, ‘আল্লাহর সন্তুষ্টিই সর্বশ্রেষ্ঠ; এটাই মহাসাফল্য।’ (সুরা তাওবা, ৭২)
কোরআনের দৃষ্টিতে সফলতা কোনো এককালীন প্রাপ্তি নয়, বরং ঈমান থেকে শুরু করে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন পর্যন্ত বিস্তৃত এক ধারাবাহিক সাধনা। সম্পদ, ক্ষমতা বা খ্যাতি কোরআনের মানদণ্ডে প্রকৃত সফলতা নয়; বরং তাকওয়া, আত্মশুদ্ধি, ইবাদত, ন্যায়পরায়ণতা, ধৈর্য ও সততার সমন্বয়েই গড়ে ওঠে প্রকৃত সফল জীবন।








