শিরোনাম

৫০২ ভরি স্বর্ণ নিয়ে বিএনপি নেত্রী নিপুণ রায়ের ব্যাখ্যা

নিজস্ব প্রতিবেদক
৫০২ ভরি স্বর্ণ নিয়ে বিএনপি নেত্রী নিপুণ রায়ের ব্যাখ্যা
বিএনপি নেত্রী নিপুণ রায় চৌধুরী। ছবি: সংগৃহীত

মনোনয়নপত্রের হলফনামায় উল্লিখিত ৫০২ ভরি স্বর্ণ নিয়ে আলোচনা-সমালোচনার প্রসঙ্গে ব্যাখ্যা দিয়েছেন বিএনপি নেত্রী নিপুণ রায় চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘হলফনামায় ঘোষণাকৃত স্বর্ণ ও অন্য মূল্যবান ধাতু আমি উপহার হিসেবে পেয়েছি। আমার নিজ পরিবার ও শ্বশুরবাড়ি–এই দুই পরিবারই ভগবানের দান। জন্ম-মৃত্যু-বিয়ে এগুলো তো ভগবানের দান। সেই দিক থেকে আমার রাজকপাল।’

রবিবার (২৬ এপ্রিল) রাজধানীর দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের গোলাম বাজার এলাকায় বায়তুন নূর জামে মসজিদের সংস্কারকাজের অনুদান দিতে এসে এসব কথা বলেন তিনি।

নিপুণ রায় চৌধুরী ঢাকা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এবং ঢাকা-৩ আসনের সংসদ সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের ছেলে অমিতাভ রায়ের স্ত্রী। তিনি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপি থেকে মনোনয়ন পেয়েছেন।

নিপুণ রায় বলেন, ‘আমার বিয়ের আগে-বিয়ের সময় এবং পরবর্তী সময়ে পিতৃকুল-মাতৃকুল থেকে, আমার শ্বশুরবাড়ির আত্মীয়স্বজন, বন্ধুবান্ধবের পক্ষ থেকে যেসব স্বর্ণালংকার উপহার হিসেবে পেয়েছি, তা আমি আমার সম্পদ বিবরণীতে সুস্পষ্টভাবে ঘোষণা করেছি। এটা নতুন কোনো ঘোষণা না। এটা ২০২৪ সালের জুন মাসে আমি যে ইনকাম ট্যাক্স প্রদান করেছিলাম, সেখানে এটা ঘোষণা করা আছে। অন্যান্য ধাতুসহ আমি দেড় লাখ টাকা দরে হিসাব করে এর বর্তমান বাজারমূল্য আনুমানিক ১০ কোটি টাকা ঘোষণা করেছি। আমি এটা সততার সঙ্গে ঘোষণা করেছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমার একটি ফ্ল্যাট ও দুটি গাড়ি রয়েছে, যেগুলোর তথ্যও আমি হলফনামায় দিয়েছি। আমি যখন ব্যাংকে চাকরি করতাম, তখন একটি গাড়ি ব্যাংক ঋণ নিয়ে কেনা হয়েছিল এবং তা পরিশোধ করা হয়েছে। পরবর্তীতে আরেকটা গাড়ি ক্রয় করি, লোন করে। বর্তমানে সিটি ব্যাংকে আমার প্রায় ৫০ লাখ টাকার কার লোন রয়েছে এবং ২০ লাখ টাকার ব্যক্তিগত ঋণ রয়েছে, আমি সেটাও ঘোষণা করে দিয়েছি।’

এ বিএনপি নেত্রী বলেন, ‘আমি আপনাদের উদ্দেশে বলতে চাই, আমরা সততার সঙ্গে রাজনীতি করি। আমি ওই পরিবারের সন্তান, যে পরিবারে আমার বাবা যখন এরশাদের আমলে মন্ত্রী ছিলেন, তখন অনেক মন্ত্রী দুর্নীতির দায়ে কারাগারে বন্দী ছিলেন। কিন্তু পরবর্তী সরকার আমার বাবার নামে এক টাকার দুর্নীতিও খুঁজে পাওয়া যায়নি। তার সততার পুরস্কার হিসেবে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া নিতাই রায় চৌধুরীকে বিএনপিতে যোগদান করান এবং ২০০১ সালে মনোনয়ন দেন। পরবর্তী সময়ে ২০০৮ ও ২০১৮ সালে বাবা নির্বাচন করেছিলেন। সর্বশেষ দেশনায়ক তারেক রহমান সততার পুরস্কার হিসেবে তাকে ২০২৬ সালের নির্বাচনে মনোনয়ন দেন। বিজয়ের মাধ্যমে তাকে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব অর্পণ করেন।’

এ সময় শ্বশুর গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের রাজনৈতিক জীবন নিয়ে নিপুণ রায় বলেন, ‘আমার শ্বশুরবাড়ির কথা যদি বলি, আমার শ্বশুর গয়েশ্বর চন্দ্র রায় দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত রাজনৈতিক কর্মী ও নেতা। তিনি বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য। তার জীবনযাত্রার মান সবকিছু সম্পর্কে আপনারা অবগত।’

নিপুণ রায় আরও বলেন, ‘আগামী দিনে আমি আপনাদের সঙ্গে নিয়ে রাজনীতির ময়দানে থাকতে চাই। আমি আপনাদের অগ্নিকন্যা হতে পেরেছি আমার কর্মের মাধ্যমে। ঠিক একই ভাবে আমি সততার মাধ্যমে আমার দায়িত্ব পালন করব। অনেকে সাহস করে বলতে পারে না, ঘোষণা দিতে পারে না। আমি সাহস করে ঘোষণা দিয়েছি আরও দুই-তিন বছর আগেই। এটাই হলো আমার সততা।’