শিরোনাম

মার্কিন বাণিজ্যচুক্তি নিয়ে সরকারের জবাবদিহি দাবি আনু মুহাম্মদের

সিটিজেন ডেস্ক
মার্কিন বাণিজ্যচুক্তি নিয়ে সরকারের জবাবদিহি দাবি আনু মুহাম্মদের
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে করা বাণিজ্যচুক্তি বাতিলের দাবিতে গণপ্রতিবাদ কর্মসূচিতে বক্তব্য দেন অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক বাণিজ্যচুক্তি নিয়ে সরকারের জবাবদিহি দাবি করেছেন অর্থনীতিবিদ ও জ্বালানি বিশেষজ্ঞ আনু মুহাম্মদ। তিনি বলেছেন, দেশের জনগণ যে সরকারকে নির্বাচিত করেছে, সেই সরকারকেই এ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ চুক্তির বিষয়ে জনগণের কাছে জবাবদিহি করতে হবে।

রবিবার (৭ জুন) বিকালে রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ–এ ‘দেশবিরোধী মার্কিন বাণিজ্যচুক্তি বাতিলের দাবিতে সম্মিলিত গণপ্রতিবাদ’ কর্মসূচিতে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটির উদ্যোগে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে বিভিন্ন বামপন্থী রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতাকর্মীরা অংশ নেন।

বক্তব্যে আনু মুহাম্মদ বলেন, জনগণ ভোট দিয়ে সরকার নির্বাচিত করেছে। ফলে দেশের নীতি ও সিদ্ধান্ত জনগণের স্বার্থে পরিচালিত হওয়া উচিত। তিনি প্রশ্ন তুলে বলেন, জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার থাকলেও যদি দেশের নীতিনির্ধারণে বিদেশি শক্তি, আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠান বা করপোরেট স্বার্থ প্রভাব বিস্তার করে, তবে তা গণতান্ত্রিক চর্চার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্বাক্ষরিত বাণিজ্যচুক্তিকে তিনি দেশের সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্বার্থের সঙ্গে সম্পর্কিত একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে উল্লেখ করেন। তাঁর দাবি, চুক্তির বিভিন্ন ধারায় বাংলাদেশের জন্য নানা বাধ্যবাধকতা নির্ধারণ করা হয়েছে এবং সেসব বাস্তবায়ন না হলে যুক্তরাষ্ট্র কী ধরনের পদক্ষেপ নিতে পারবে, তাও সেখানে উল্লেখ রয়েছে।

চুক্তির সমালোচনা করে আনু মুহাম্মদ বলেন, পুরো দলিল পর্যালোচনা করলে এটি অনেকটা নির্দেশনামূলক নথির মতো মনে হয়। তিনি অভিযোগ করেন, বাংলাদেশের পক্ষে যাঁরা চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছেন, তাঁরা দেশের স্বার্থ যথাযথভাবে রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েছেন।

এ সময় তিনি বর্তমান সরকারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের ভূমিকারও সমালোচনা করেন। বিশেষ করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান এবং চুক্তি প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত অন্যান্য ব্যক্তিদের জবাবদিহির আওতায় আনার দাবি জানান।

বর্তমান সরকারের ভূমিকা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন আনু মুহাম্মদ। তাঁর মতে, সরকার এখন পর্যন্ত এমন কোনো দৃঢ় অবস্থান দেখাতে পারেনি, যা থেকে জনগণ নিশ্চিত হতে পারে যে রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণে জাতীয় স্বার্থ সর্বোচ্চ গুরুত্ব পাচ্ছে। তিনি অভিযোগ করেন, সরকার আন্তর্জাতিক শক্তির চাপের কাছে নতি স্বীকার করছে এবং জনগণের প্রত্যাশার বিপরীতে অবস্থান নিচ্ছে।

গণপ্রতিবাদ কর্মসূচিতে গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটির সদস্য হারুন উর রশীদ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্বাক্ষরিত বাণিজ্যচুক্তিকে ‘গোলামির চুক্তি’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন। তিনি বলেন, রাজনৈতিক মতপার্থক্য ভুলে দেশের স্বার্থে সবাইকে এ চুক্তির বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।

একই কর্মসূচিতে মোশরেফা মিশু বলেন, এই চুক্তির ফলে দেশের পোশাকশিল্প, ওষুধশিল্প, জ্বালানি খাতসহ বিভিন্ন অর্থনৈতিক খাতে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। তাই জাতীয় স্বার্থে চুক্তিটি বাতিল করা প্রয়োজন।

কর্মসূচিতে আরও উপস্থিত ছিলেন তানজীমউদ্দিন খান, মুশতাক হোসেন, মাহা মির্জা, সীমা দত্ত, পাভেল পার্থ, আকরাম খান, হাসান ফকির এবং মানজুর-আল-মতিন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন মাহতাব উদ্দীন আহমেদ।

কর্মসূচিতে প্রধানমন্ত্রী, জাতীয় সংসদের স্পিকার এবং সংসদ সদস্যদের উদ্দেশে একটি খোলাচিঠিও পাঠ করা হয়। চিঠিটি পাঠ করেন মোশাহিদা সুলতানা। সেখানে বলা হয়, দেশের দীর্ঘমেয়াদি স্বার্থের সঙ্গে সম্পর্কিত এমন একটি চুক্তি নিয়ে সংসদে পর্যাপ্ত আলোচনা না হওয়া উদ্বেগজনক। চিঠিতে সংসদ সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলা হয়, জাতীয় সংসদের চলমান অধিবেশনেই বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা উচিত।

বিক্ষোভকারীদের দাবি, জাতীয় স্বার্থ, অর্থনৈতিক স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে করা বাণিজ্যচুক্তি পুনর্বিবেচনা করে তা বাতিলের উদ্যোগ নিতে হবে।

/এমআর/