শিরোনাম

পেনশন-ভাতাসহ ৯ দফা দাবি জাতীয় ইমাম সমাজের

নিজস্ব প্রতিবেদক
পেনশন-ভাতাসহ ৯ দফা দাবি জাতীয় ইমাম সমাজের
৯ দফা দাবি জানিয়েছে জাতীয় ইমাম সমাজ। ছবি: সংগৃহীত

পেনশন-ভাতাসহ ৯ দফা দাবি জানিয়েছে জাতীয় ইমাম সমাজ বাংলাদেশ। আজ রবিবার (২৮ ডিসেম্বর) জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে আয়োজিত আলোচনা সভা থেকে সংগঠনটির পক্ষ থেকে দাবিগুলো জানানো হয়।

ইমাম সমাজের দাবি হলো- ইমামদের জন্য বেতন স্কেল নিশ্চিত করা, প্রাতিষ্ঠানিক ও আইনি সুরক্ষা দিতে হবে, সমাজে অবস্থান দৃঢ় করণ, বহুমুখী দক্ষতা উন্নয়ন, কেন্দ্রীয় ডাটাবেজ ও নিবন্ধন, গণমাধ্যম ও জনমত গঠন, মিম্বরের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা, মসজিদ কমিটিতে পদ দেওয়া, পেনশন ও ভাতা দেওয়া।

সংগঠনের পক্ষ থেকে দাবিগুলো কার্যকরের জন্য কিছু পদক্ষেপের কথাও বলা হয়েছে। যেমন- একটি বেতন কাঠামো নির্ধারণ করা। ইসলামি ফাউন্ডেশনের মডেল মসজিদের মতো দেশের সকল মসজিদের ইমামদের জন্য জীবনযাত্রার মানের সাথে সংগতিপূর্ণ বেতন স্কেল তৈরি করা। একটি ইমাম সুরক্ষা আইন প্রণয়ন করা। ইমামদের নিয়োগপত্র প্রদান-চাকরির স্থায়িত্ব এবং অন্যায্য বরখাস্তের বিরুদ্ধে আইনি প্রতিকারের ব্যবস্থা থাকবে। বিভিন্ন সামাজিক প্রজেক্ট কার্যক্রমে ইমামদের সংশ্লিষ্টতা বাড়ানোসহ আরও নানা বিষয়।

এছাড়া ইমামকে বিদায় দেওয়ার সময় সম্মানজনক পেনশনের ব্যবস্থা করাসহ বিভিন্ন উৎসবে ভাতা প্রদান করতে হবে।

আলোচনা সভায় এসময় জাতীয় ইমাম সমাজ বাংলাদেশের সভাপতি শাইখুল হাদীস মুফতি আব্দুল হাফিজ বলেন, ‘যে ইমাম সমাজ একটি জাতির আত্মিক ও নৈতিক মেরুদণ্ড, আজ সেই মেরুদণ্ডকেই সবচেয়ে বেশি অবজ্ঞা ও অবহেলার শিকার হতে হচ্ছে। আজকের বাস্তবতা বড়ই নির্মম। একজন উচ্চশিক্ষিত ইমাম, যিনি কুরআন-সুন্নাহর অগাধ পাণ্ডিত্য রাখেন, তাকে সামাজিক ও রাষ্ট্রীয়ভাবে যে সম্মান দেওয়া উচিত ছিল, তা আজ বিলুপ্তপ্রায়।’

তিনি বলেন, ‘মসজিদের পরিচালনা কমিটি অনেক ক্ষেত্রে ইমামদের সাথে খারাপ আচরণ করে। তুচ্ছ অজুহাতে মিম্বরের কণ্ঠস্বরকে রুদ্ধ করার চেষ্টা করা হয়। চাকরির কোনো নিরাপত্তা নেই, নেই কোনো আইনি সরক্ষা। আজ নিয়োগ আছে তো কাল নেই-এই অনিশ্চয়তা নিয়ে একজন ইমাম কীভাবে নিশ্চিন্ত মনে দ্বীনের খেদমত করবেন?’

অর্থনৈতিক সমস্যার কথা তুলে ধরে সভাপতি আরও বলেন, ‘সবচেয়ে বড় বঞ্চনা হলো অর্থনৈতিক। বর্তমানের আকাশচুম্বী দ্রব্যমূল্যের বাজারে একজন ইমামকে যে সামান্য সম্মানী দেওয়া হয়, তা কেবল অপমানজনকই নয়, বরং অমানবিক। যে হাত সমাজকে আলোর পথ দেখায়, সেই হাতকে আজ অভাবের তাড়নায় সংকুচিত হয়ে থাকতে হয়।’

সরকারের কাছে দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, ‘ইমামদের জন্য জাতীয় বেতন স্কেল নির্ধারণ করতে হবে, 'ইমাম সুরক্ষা আইন' প্রণয়ন করতে হবে এবং প্রতিটি মসজিদে ইমামদের নিয়োগপত্র ও চাকরির নিশ্চয়তা প্রদান করতে হবে। এটি আমাদের করুণা নয়, এটি আমাদের সাংবিধানিক অধিকার।’

আলোচনা সভায় সংগঠনটির মহাসচিব মাওলানা বেলায়েত হোসাইন আল-ফিরুজী, কেন্দ্রীয় সদস্য মাওলানা জিয়াউল হক মজুমদারসহ আরও অনেকে উপস্থিত ছিলেন।