শিরোনাম

সংসদে জামায়াত আমিরকে থামালেন স্পিকার

নিজস্ব প্রতিবেদক
সংসদে জামায়াত আমিরকে থামালেন স্পিকার
জাতীয় সংসদে জামায়াতে ইসলামীর আমির ও সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। ছবি: ভিডিও থেকে নেওয়া

নির্ধারিত কার্যসূচির বাইরে এবং সংসদীয় রীতির ব্যত্যয় ঘটিয়ে বক্তব্য দিতে শুরু করায় জামায়াতে ইসলামীর আমির ও সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানকে থামিয়ে দিয়েছেন স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ। 

রবিবার (১৫ মার্চ) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের দ্বিতীয় দিনে প্রশ্নোত্তর পর্বে এই ঘটনা ঘটে।

জামালপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য সুলতান মাহমুদ বাবুকে একটি প্রশ্ন উত্থাপনের জন্য এদিন ফ্লোর দেওয়া হয়। কিন্তু তিনি বক্তব্য শুরু করার আগেই বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান নিজ আসন থেকে দাঁড়িয়ে কথা বলতে শুরু করেন। তিনি জুলাই গণ-অভ্যুত্থান এবং বর্তমান সংসদের বিশেষ প্রেক্ষাপট নিয়ে আলোচনার সূত্রপাত করেন।

জামায়াত নেতা তার বক্তব্যে বলেন, একটি বিশেষ প্রেক্ষাপটে এবং জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের মহান আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে এই সংসদ গঠিত হয়েছে। এই সংসদের কাছে এ দেশের আপামর জনসাধারণের প্রত্যাশা অনেক বেশি। 

তিনি আরও বলেন, ‘একই দিনে দেশে দুটি গুরুত্বপূর্ণ ভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে– সংসদ নির্বাচন এবং গণভোট, যা বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি অনন্য ঘটনা।’

শফিকুর রহমান যখন এই রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট নিয়ে বিস্তারিত বলতে যাচ্ছিলেন, ঠিক তখনই স্পিকার হস্তক্ষেপ করেন। স্পিকার সংসদীয় রীতির কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তাকে বসার অনুরোধ জানান।

বিরোধীদলীয় নেতাকে থামিয়ে দিয়ে স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘এখন প্রশ্নোত্তর পর্ব চলছে। এই মুহূর্তে নির্ধারিত প্রশ্নের বাইরে অন্য কোনো আলোচনার সুযোগ নেই।’

তিনি ডা. শফিকুর রহমানকে আশ্বস্ত করে বলেন, প্রশ্নোত্তর পর্বটি শেষ হতে দিন, ‘এরপর আপনাকে আপনার বক্তব্য দেওয়ার জন্য পর্যাপ্ত সুযোগ দেওয়া হবে।’

জামায়াত আমিরের উদ্বেগ

পরে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে শফিকুর রহমান বলেন, সংসদ নির্বাচনের ফল ঘোষণার ৩০ পঞ্জিকা দিবসের মধ্যে যেভাবে জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন আহ্বান করা হয়, একই নিয়ম মেনে সংবিধান সংস্কার পরিষদেরও প্রথম অধিবেশন ডাকার বিধান রয়েছে।

তিনি বলেন, আজ সেই নির্ধারিত সময়ের ৩০তম দিন অতিবাহিত হচ্ছে, অথচ এখন পর্যন্ত এই পরিষদের কোনো অধিবেশন আহ্বান করা হয়নি। এটাই আমার কনসার্নের (উদ্বেগ) বিষয়।

জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশ অনুযায়ী, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সদস্যদের একইসঙ্গে আইনপ্রণেতা ও সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে ভূমিকা পালনের কথা।

পরিষদের মূল দায়িত্ব হলো– ১৮০ কার্যদিবসের মধ্যে জুলাই সনদে উল্লিখিত সংবিধানের ৪৮টি বিধান পর্যালোচনা ও সংস্কার করা। এই লক্ষ্যে সংসদ সদস্যদের দুটি পৃথক শপথ নেওয়ার বিধান রাখা হয়েছিল– একটি সংসদ সদস্য হিসেবে এবং অন্যটি পরিষদের সদস্য হিসেবে।

জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫-এর অধীনে এই পরিষদ গঠনের কথা থাকলেও বর্তমানে তা নিয়ে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। সংসদে দুই-তৃতীয়াংশ আসন পাওয়া বিএনপি ও তার মিত্র দলগুলোর সদস্যরা এখনো পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহণ করেননি। অন্যদিকে, জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোটের ৭৭ জন সদস্য উভয় শপথই গ্রহণ করেছেন।

গত ১৩ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের ফলাফলের গেজেট প্রকাশিত হয়। জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশ অনুযায়ী, গেজেট প্রকাশের ৩০ দিনের মধ্যে রাষ্ট্রপতির অধিবেশন ডাকার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন গত ২৩ ফেব্রুয়ারি সংসদের অধিবেশন আহ্বান করলেও সেখানে সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন ডাকার বিষয়ে কোনো উল্লেখ ছিল না।

জামায়াত আমির বলেন, যেহেতু তারা জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়েছেন, তাই তারা অর্পিত এই দ্বৈত দায়িত্বই যথাযথভাবে পালন করতে চান।

/এফসি/