শিরোনাম

সাত জেলায় পানিবন্দি আড়াই লাখ মানুষ , মৃত্যু ৫১

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
সাত জেলায় পানিবন্দি আড়াই লাখ মানুষ , মৃত্যু ৫১
বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে জলাবদ্ধতা

টানা বর্ষণ, পাহাড়ি ঢল ও ভূমিধসের কারণে দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের ৭টি জেলা বন্যাকবলিত হয়েছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ পরিস্থিতি প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, খাগড়াছড়ি, রাঙ্গামাটি, বান্দরবান, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জে বন্যায় ১০ লাখেরও বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এখনো প্রায় ২ লাখ ৬৭ হাজার পরিবার পানিবন্দী অবস্থায় রয়েছে।

দুর্যোগ মন্ত্রণালয়ের সূত্রে জানা গেছে, ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য সাত জেলায় মোট ১ হাজার ১৩১টি আশ্রয়কেন্দ্র চালু করা হয়েছে। এসব কেন্দ্রে বর্তমানে ৪৪ হাজার ৪৫৭ জন আশ্রয় নিয়েছেন। পাশাপাশি দুর্গতদের সহায়তায় নগদ অর্থ ও চালসহ বিভিন্ন ত্রাণসামগ্রী বিতরণ অব্যাহত রয়েছে।

আরও জানা গেছে, সপ্তাহের বেশি সময় ধরে চলা এ দুর্যোগে বান্দরবান, কক্সবাজার ও চট্টগ্রাম জেলায় এ পর্যন্ত ৫১ জনে মৃত্যু হয়েছে। এতে আহত হয়েছেন ৩৯ জন।

খাগড়াছড়ি থেকে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে, প্রবল বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের কারণে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া সাজেক পর্যটনকেন্দ্রে আটকে থাকা পর্যটকদের সেনাবাহিনী নিরাপদে উদ্ধার করেছে। জেলার সার্বিক পরিস্থিতিও ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হচ্ছে। বিভিন্ন সড়ক, বাজার ও আবাসিক এলাকা থেকে বন্যার পানি নেমে যাওয়ায় মানুষের দুর্ভোগ কমেছে। অনেক পরিবার নিজ নিজ বাড়িতে ফিরেছে এবং ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানও খুলতে শুরু করেছে। তবে জেলার কয়েকটি এলাকায় এখনো জলাবদ্ধতা রয়েছে এবং প্রায় ৫০টি পরিবার পানিবন্দী অবস্থায় আছে। গত তিন দিন ধরে বৃষ্টির তীব্রতা কমে আসায় নতুন করে বড় ধরনের জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়নি।

অন্যদিকে, রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার কয়েকটি এলাকায় ভূমিধসের কারণে সড়ক যোগাযোগ ব্যাহত হয়েছে বলে স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে।

বন্যা পরিস্থিতির কারণে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অধীন সব জেলার এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা আগামী ১৬ জুলাই পর্যন্ত স্থগিত করা হয়েছে।

সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের পাশাপাশি মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড ও বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের আওতায় ১৩, ১৫ ও ১৬ জুলাই অনুষ্ঠিতব্য এইচএসসি, আলিম, এইচএসসি (বিএমটি), এইচএসসি (ভোকেশনাল) এবং ডিপ্লোমা ইন কমার্স পরীক্ষাও স্থগিত থাকবে। চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসকদের প্রতিবেদন এবং শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের সুপারিশের ভিত্তিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ শিবলী সাদিক জানিয়েছেন, চট্টগ্রাম বোর্ড ছাড়া দেশের অন্য কোনো শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা স্থগিত করা হয়নি।

এদিকে, টানা ছয় দিন ধরে চট্টগ্রাম নগরের শমসেরপাড়া এলাকায় রেললাইন পানির নিচে তলিয়ে থাকায় চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটে ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে।

রেলপথ মন্ত্রণালয়ের তথ্য ও জনসংযোগ কর্মকর্তা রেজাউল করিম সিদ্দিকী জানিয়েছেন, বর্তমানে শুধু চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটেই ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে। দেশের অন্য সব রুটে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক থাকলেও কোথাও কোথাও ভারী বৃষ্টির কারণে গতি কমিয়ে পরিচালনা করায় কিছু ট্রেন বিলম্বিত হচ্ছে।

এদিকে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, আগামী ২৪ ঘণ্টায় বান্দরবানের সাঙ্গু ও মাতামুহুরী এবং মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জের মনু, ধলাই ও খোয়াই নদীর পানি কমতে পারে। এতে সংশ্লিষ্ট নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতির সম্ভাবনা রয়েছে।

তবে বর্তমানে পাঁচটি জেলার পাঁচটি পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে নদীর পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে বান্দরবানে সাঙ্গু নদী, চট্টগ্রামের দোহাজারী এলাকায় নদীর পানি, সুনামগঞ্জের মারকুলিতে কুশিয়ারা, সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জে কুশিয়ারা এবং নেত্রকোণার কলমাকান্দায় সোমেশ্বরী নদী।

সংস্থাটি আরও জানিয়েছে, আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে মুহুরী, ফেনী, সেলোনিয়া, হালদা, সারিগোয়াইন, যাদুকাটা, সোমেশ্বরী, ভুগাই-কংস, তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদীর পানি বিপদসীমা অতিক্রম করতে পারে। এর ফলে ফেনী, চট্টগ্রাম, খাগড়াছড়ি, সিলেট, সুনামগঞ্জ, নেত্রকোণা, শেরপুর, ময়মনসিংহ, নীলফামারী, লালমনিরহাট, রংপুর, কুড়িগ্রাম ও গাইবান্ধা জেলায় স্বল্পমেয়াদি বন্যার আশঙ্কা রয়েছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা ও আশপাশের এলাকায় ৯৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। রবিবার (১২ জুলাই) দুপুর থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা, রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। সোমবারও (১৩ জুলাই) দেশের অধিকাংশ এলাকায় দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি এবং কয়েকটি বিভাগে মাঝারি থেকে অতি ভারী বর্ষণ হতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে সংস্থাটি।

সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবেই এই বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

/এসবি/