৪৫ বছর কোথায় ছিলেন জিয়া হত্যা মামলার আসামি মোজাফফর

৪৫ বছর কোথায় ছিলেন জিয়া হত্যা মামলার আসামি মোজাফফর
সিজেডএন ডেস্ক

দীর্ঘ ৪৫ বছর পর পলাতক থাকা অবসরপ্রাপ্ত মেজর মোজাফফর হোসেনকে (৭৭) গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যা হত্যা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করে ডিবি।
ঐতিহাসিক বিভিন্ন বর্ণনা ও নথিপত্র অনুসারে, ১৯৮১ সালের ৩০ মে ভোরে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে জিয়া হত্যার মুহূর্তে তার কাছেই উপস্থিত ছিলেন মোজাফফর। পাশাপাশি তিনি জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত ছিলেন। এমনকি এই হত্যা ঘটনায় সম্পৃক্ত ব্যক্তিদের মধ্যে একমাত্র তিনিই বর্তমানে জীবিত আছেন বলে জানা গেছে।
ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) জানিয়েছে, গত ১৫ জুলাই রাত ১০টার দিকে রাজধানীর বনানীর একটি বাসা থেকে মোজাফফরকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় তাকে ঢাকা সেনানিবাসের মিলিটারি পুলিশের একটি দলের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
ডিএমপি মোজাফফরকে জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডের ‘পলাতক আসামি’ ও অবসরপ্রাপ্ত মেজর হিসেবে উল্লেখ করেছে।
এদিকে, দীর্ঘ ৪৫ বছর পর তার গ্রেপ্তারের ঘটনায় এতদিন তিনি কোথায় ও কার সহায়তায় আত্মগোপনে ছিলেন– এসব বিষয় এখন আলোচনার কেন্দ্রে।
জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ড নিয়ে প্রকাশিত বিভিন্ন ঐতিহাসিক বর্ণনা, বয়ান বা বইয়ের সেই সময়ের বেশ কিছু তথ্য পাওয়া গেছে।
পাকিস্তানী সাংবাদিক অ্যান্থনি মাসকারেনহাস ১৯৮৬ সালে প্রকাশিত তার ‘বাংলাদেশ: এ লিগ্যাসি অব ব্লাড’ বইয়ে জিয়া হত্যাকাণ্ডের একটা বর্ণনা দিয়েছেন। বইটির ত্রয়োদশ অধ্যায়ে তিনি লিখেছেন, হামলাকারীরা সার্কিট হাউসের কক্ষগুলোতে জিয়াউর রহমানকে খুঁজছিলেন। গোলাগুলির শব্দ শুনে জিয়া কক্ষ থেকে বেরিয়ে এলে তার সবচেয়ে কাছে ছিলেন মেজর মোজাফফর ও লেফটেন্যান্ট মোসলেহউদ্দিন।
মাসকারেনহাসের বর্ণনায়, মোজাফফর তখন দৃশ্যত কাঁপছিলেন। মোসলেহউদ্দিন জিয়াকে আশ্বস্ত করে বলেছিলেন, ভয় পাওয়ার কিছু নেই। বইটিতে বলা হয়েছে, মোজাফফর ও মোসলেহউদ্দিন তখনো মনে করছিলেন, জিয়াকে হত্যা নয়, সার্কিট হাউস থেকে তুলে নেওয়া হবে। এরপর লেফটেন্যান্ট কর্নেল মতিউর রহমান সামনে এসে সাবমেশিনগান দিয়ে জিয়াকে গুলি করেন।
বইটিতে উল্লেখ রয়েছে, সার্কিট হাউস থেকে সেনানিবাসে ফেরার পথে মোজাফফর মোসলেহউদ্দিনকে বলেছিলেন যে তিনি জানতেন না যে রাষ্ট্রপতিকে হত্যা করা হবে; তার ধারণা ছিল, জিয়াকে শুধু সার্কিট হাউস থেকে বের করে আনা হবে।
বইটির বর্ণনা অনুযায়ী, মোজাফফরের ভূমিকা হত্যার মুহূর্তে উপস্থিত থাকার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না। হত্যাকাণ্ডের প্রায় এক ঘণ্টা পর মেজর মোজাফফর, মেজর শওকত আলী ও মেজর রেজা সশস্ত্র সেনাসদস্যদের নিয়ে আবার সার্কিট হাউসে যান। তারা জিয়ার শোবার ঘরে তল্লাশি চালান।
তবে এসব তথ্য আদালতে প্রমাণিত কোনো সাক্ষ্য নয়; এগুলো বিভিন্ন প্রকাশিত বর্ণনা ও বইয়ের ওপর ভিত্তি করে জানা তথ্য।
জিয়াউর রহমানকে হত্যার পর বিদ্রোহ ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট সেনা কর্মকর্তারা চট্টগ্রাম সেনানিবাস ছেড়ে পালানোর চেষ্টা করেন। মাসকারেনহাসের বর্ণনা অনুযায়ী, সেই দলে ছিলেন মোজাফফরও। পরে গোলাগুলির মধ্যে তিনি পালিয়ে যেতে সক্ষম হন।
জিয়া হত্যার পর ‘বিদ্রোহের’ অভিযোগে সামরিক আদালতে ১৮ সেনা কর্মকর্তার বিচার হয়। তাদের মধ্যে ১৩ জনের মৃত্যুদণ্ড এবং অন্যদের বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড হয়। তবে মেজর এস এম খালেদ ও মেজর মোজাফফর পালিয়ে যেতে সক্ষম হন এবং তাদের ধরিয়ে দিতেও পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছিল।
মোজাফফরের পলাতক জীবনের একটি অংশের তথ্য পাওয়া যায় মেজর জেনারেল (অব.) মইনুল হোসেন চৌধুরীর স্মৃতিকথা ‘এক জেনারেলের নীরব সাক্ষ্য: স্বাধীনতার প্রথম দশক’ বইয়ে।
মইনুল হোসেন চৌধুরী লিখেছেন, তিনি ১৯৮৯ থেকে ১৯৯৩ সাল পর্যন্ত থাইল্যান্ডে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত থাকাকালে জিয়া হত্যাকাণ্ডের পলাতক অভিযুক্ত মেজর এস এম খালেদ ব্যাংককে অবস্থান করছিলেন। একই ঘটনায় পলাতক মোজাফফর তখন ভারতে ছিলেন।
তবে তিনি কতদিন ভারতে ছিলেন, কী পরিচয়ে ছিলেন কিংবা কীভাবে বিভিন্ন দেশে যাতায়াত করেছেন– এসব তথ্য এখনো প্রকাশ্যে আসেনি।
জানা গেছে, জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডের পর মোজাফফর ভারতে আত্মগোপনে ছিলেন। একপর্যায়ে তিনি ছদ্মনাম ব্যবহার করে সীমান্ত অতিক্রম করে যাতায়াত করতেন।
ডিএমপির আনুষ্ঠানিক বক্তব্য অনুযায়ী, হত্যাকাণ্ডের পর থেকে মোজাফফর বিভিন্ন স্থানে আত্মগোপনে ছিলেন। সূত্রের তথ্য ও তথ্যপ্রযুক্তি বিশ্লেষণ করে তার অবস্থান শনাক্ত করে বনানীর একটি বাসা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
কিন্তু মোজাফফর কত বছর ভারতে ছিলেন, সেখানে কোথায় ও কী পরিচয়ে থাকতেন, কীভাবে ব্যাংককে যাতায়াত করেছিলেন এবং কবে বাংলাদেশে ফিরে এসেছেন– কোন সংস্থা এসব প্রশ্নের উত্তর দেয়নি।
সংশ্লিষ্টদের মতে, মোজাফফরকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে জিয়া হত্যাকাণ্ডের কয়েকটি অমীমাংসিত প্রশ্নে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেতে পারে।

দীর্ঘ ৪৫ বছর পর পলাতক থাকা অবসরপ্রাপ্ত মেজর মোজাফফর হোসেনকে (৭৭) গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যা হত্যা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করে ডিবি।
ঐতিহাসিক বিভিন্ন বর্ণনা ও নথিপত্র অনুসারে, ১৯৮১ সালের ৩০ মে ভোরে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে জিয়া হত্যার মুহূর্তে তার কাছেই উপস্থিত ছিলেন মোজাফফর। পাশাপাশি তিনি জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত ছিলেন। এমনকি এই হত্যা ঘটনায় সম্পৃক্ত ব্যক্তিদের মধ্যে একমাত্র তিনিই বর্তমানে জীবিত আছেন বলে জানা গেছে।
ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) জানিয়েছে, গত ১৫ জুলাই রাত ১০টার দিকে রাজধানীর বনানীর একটি বাসা থেকে মোজাফফরকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় তাকে ঢাকা সেনানিবাসের মিলিটারি পুলিশের একটি দলের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
ডিএমপি মোজাফফরকে জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডের ‘পলাতক আসামি’ ও অবসরপ্রাপ্ত মেজর হিসেবে উল্লেখ করেছে।
এদিকে, দীর্ঘ ৪৫ বছর পর তার গ্রেপ্তারের ঘটনায় এতদিন তিনি কোথায় ও কার সহায়তায় আত্মগোপনে ছিলেন– এসব বিষয় এখন আলোচনার কেন্দ্রে।
জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ড নিয়ে প্রকাশিত বিভিন্ন ঐতিহাসিক বর্ণনা, বয়ান বা বইয়ের সেই সময়ের বেশ কিছু তথ্য পাওয়া গেছে।
পাকিস্তানী সাংবাদিক অ্যান্থনি মাসকারেনহাস ১৯৮৬ সালে প্রকাশিত তার ‘বাংলাদেশ: এ লিগ্যাসি অব ব্লাড’ বইয়ে জিয়া হত্যাকাণ্ডের একটা বর্ণনা দিয়েছেন। বইটির ত্রয়োদশ অধ্যায়ে তিনি লিখেছেন, হামলাকারীরা সার্কিট হাউসের কক্ষগুলোতে জিয়াউর রহমানকে খুঁজছিলেন। গোলাগুলির শব্দ শুনে জিয়া কক্ষ থেকে বেরিয়ে এলে তার সবচেয়ে কাছে ছিলেন মেজর মোজাফফর ও লেফটেন্যান্ট মোসলেহউদ্দিন।
মাসকারেনহাসের বর্ণনায়, মোজাফফর তখন দৃশ্যত কাঁপছিলেন। মোসলেহউদ্দিন জিয়াকে আশ্বস্ত করে বলেছিলেন, ভয় পাওয়ার কিছু নেই। বইটিতে বলা হয়েছে, মোজাফফর ও মোসলেহউদ্দিন তখনো মনে করছিলেন, জিয়াকে হত্যা নয়, সার্কিট হাউস থেকে তুলে নেওয়া হবে। এরপর লেফটেন্যান্ট কর্নেল মতিউর রহমান সামনে এসে সাবমেশিনগান দিয়ে জিয়াকে গুলি করেন।
বইটিতে উল্লেখ রয়েছে, সার্কিট হাউস থেকে সেনানিবাসে ফেরার পথে মোজাফফর মোসলেহউদ্দিনকে বলেছিলেন যে তিনি জানতেন না যে রাষ্ট্রপতিকে হত্যা করা হবে; তার ধারণা ছিল, জিয়াকে শুধু সার্কিট হাউস থেকে বের করে আনা হবে।
বইটির বর্ণনা অনুযায়ী, মোজাফফরের ভূমিকা হত্যার মুহূর্তে উপস্থিত থাকার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না। হত্যাকাণ্ডের প্রায় এক ঘণ্টা পর মেজর মোজাফফর, মেজর শওকত আলী ও মেজর রেজা সশস্ত্র সেনাসদস্যদের নিয়ে আবার সার্কিট হাউসে যান। তারা জিয়ার শোবার ঘরে তল্লাশি চালান।
তবে এসব তথ্য আদালতে প্রমাণিত কোনো সাক্ষ্য নয়; এগুলো বিভিন্ন প্রকাশিত বর্ণনা ও বইয়ের ওপর ভিত্তি করে জানা তথ্য।
জিয়াউর রহমানকে হত্যার পর বিদ্রোহ ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট সেনা কর্মকর্তারা চট্টগ্রাম সেনানিবাস ছেড়ে পালানোর চেষ্টা করেন। মাসকারেনহাসের বর্ণনা অনুযায়ী, সেই দলে ছিলেন মোজাফফরও। পরে গোলাগুলির মধ্যে তিনি পালিয়ে যেতে সক্ষম হন।
জিয়া হত্যার পর ‘বিদ্রোহের’ অভিযোগে সামরিক আদালতে ১৮ সেনা কর্মকর্তার বিচার হয়। তাদের মধ্যে ১৩ জনের মৃত্যুদণ্ড এবং অন্যদের বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড হয়। তবে মেজর এস এম খালেদ ও মেজর মোজাফফর পালিয়ে যেতে সক্ষম হন এবং তাদের ধরিয়ে দিতেও পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছিল।
মোজাফফরের পলাতক জীবনের একটি অংশের তথ্য পাওয়া যায় মেজর জেনারেল (অব.) মইনুল হোসেন চৌধুরীর স্মৃতিকথা ‘এক জেনারেলের নীরব সাক্ষ্য: স্বাধীনতার প্রথম দশক’ বইয়ে।
মইনুল হোসেন চৌধুরী লিখেছেন, তিনি ১৯৮৯ থেকে ১৯৯৩ সাল পর্যন্ত থাইল্যান্ডে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত থাকাকালে জিয়া হত্যাকাণ্ডের পলাতক অভিযুক্ত মেজর এস এম খালেদ ব্যাংককে অবস্থান করছিলেন। একই ঘটনায় পলাতক মোজাফফর তখন ভারতে ছিলেন।
তবে তিনি কতদিন ভারতে ছিলেন, কী পরিচয়ে ছিলেন কিংবা কীভাবে বিভিন্ন দেশে যাতায়াত করেছেন– এসব তথ্য এখনো প্রকাশ্যে আসেনি।
জানা গেছে, জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডের পর মোজাফফর ভারতে আত্মগোপনে ছিলেন। একপর্যায়ে তিনি ছদ্মনাম ব্যবহার করে সীমান্ত অতিক্রম করে যাতায়াত করতেন।
ডিএমপির আনুষ্ঠানিক বক্তব্য অনুযায়ী, হত্যাকাণ্ডের পর থেকে মোজাফফর বিভিন্ন স্থানে আত্মগোপনে ছিলেন। সূত্রের তথ্য ও তথ্যপ্রযুক্তি বিশ্লেষণ করে তার অবস্থান শনাক্ত করে বনানীর একটি বাসা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
কিন্তু মোজাফফর কত বছর ভারতে ছিলেন, সেখানে কোথায় ও কী পরিচয়ে থাকতেন, কীভাবে ব্যাংককে যাতায়াত করেছিলেন এবং কবে বাংলাদেশে ফিরে এসেছেন– কোন সংস্থা এসব প্রশ্নের উত্তর দেয়নি।
সংশ্লিষ্টদের মতে, মোজাফফরকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে জিয়া হত্যাকাণ্ডের কয়েকটি অমীমাংসিত প্রশ্নে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেতে পারে।

৪৫ বছর কোথায় ছিলেন জিয়া হত্যা মামলার আসামি মোজাফফর
সিজেডএন ডেস্ক

দীর্ঘ ৪৫ বছর পর পলাতক থাকা অবসরপ্রাপ্ত মেজর মোজাফফর হোসেনকে (৭৭) গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যা হত্যা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করে ডিবি।
ঐতিহাসিক বিভিন্ন বর্ণনা ও নথিপত্র অনুসারে, ১৯৮১ সালের ৩০ মে ভোরে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে জিয়া হত্যার মুহূর্তে তার কাছেই উপস্থিত ছিলেন মোজাফফর। পাশাপাশি তিনি জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত ছিলেন। এমনকি এই হত্যা ঘটনায় সম্পৃক্ত ব্যক্তিদের মধ্যে একমাত্র তিনিই বর্তমানে জীবিত আছেন বলে জানা গেছে।
ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) জানিয়েছে, গত ১৫ জুলাই রাত ১০টার দিকে রাজধানীর বনানীর একটি বাসা থেকে মোজাফফরকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় তাকে ঢাকা সেনানিবাসের মিলিটারি পুলিশের একটি দলের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
ডিএমপি মোজাফফরকে জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডের ‘পলাতক আসামি’ ও অবসরপ্রাপ্ত মেজর হিসেবে উল্লেখ করেছে।
এদিকে, দীর্ঘ ৪৫ বছর পর তার গ্রেপ্তারের ঘটনায় এতদিন তিনি কোথায় ও কার সহায়তায় আত্মগোপনে ছিলেন– এসব বিষয় এখন আলোচনার কেন্দ্রে।
জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ড নিয়ে প্রকাশিত বিভিন্ন ঐতিহাসিক বর্ণনা, বয়ান বা বইয়ের সেই সময়ের বেশ কিছু তথ্য পাওয়া গেছে।
পাকিস্তানী সাংবাদিক অ্যান্থনি মাসকারেনহাস ১৯৮৬ সালে প্রকাশিত তার ‘বাংলাদেশ: এ লিগ্যাসি অব ব্লাড’ বইয়ে জিয়া হত্যাকাণ্ডের একটা বর্ণনা দিয়েছেন। বইটির ত্রয়োদশ অধ্যায়ে তিনি লিখেছেন, হামলাকারীরা সার্কিট হাউসের কক্ষগুলোতে জিয়াউর রহমানকে খুঁজছিলেন। গোলাগুলির শব্দ শুনে জিয়া কক্ষ থেকে বেরিয়ে এলে তার সবচেয়ে কাছে ছিলেন মেজর মোজাফফর ও লেফটেন্যান্ট মোসলেহউদ্দিন।
মাসকারেনহাসের বর্ণনায়, মোজাফফর তখন দৃশ্যত কাঁপছিলেন। মোসলেহউদ্দিন জিয়াকে আশ্বস্ত করে বলেছিলেন, ভয় পাওয়ার কিছু নেই। বইটিতে বলা হয়েছে, মোজাফফর ও মোসলেহউদ্দিন তখনো মনে করছিলেন, জিয়াকে হত্যা নয়, সার্কিট হাউস থেকে তুলে নেওয়া হবে। এরপর লেফটেন্যান্ট কর্নেল মতিউর রহমান সামনে এসে সাবমেশিনগান দিয়ে জিয়াকে গুলি করেন।
বইটিতে উল্লেখ রয়েছে, সার্কিট হাউস থেকে সেনানিবাসে ফেরার পথে মোজাফফর মোসলেহউদ্দিনকে বলেছিলেন যে তিনি জানতেন না যে রাষ্ট্রপতিকে হত্যা করা হবে; তার ধারণা ছিল, জিয়াকে শুধু সার্কিট হাউস থেকে বের করে আনা হবে।
বইটির বর্ণনা অনুযায়ী, মোজাফফরের ভূমিকা হত্যার মুহূর্তে উপস্থিত থাকার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না। হত্যাকাণ্ডের প্রায় এক ঘণ্টা পর মেজর মোজাফফর, মেজর শওকত আলী ও মেজর রেজা সশস্ত্র সেনাসদস্যদের নিয়ে আবার সার্কিট হাউসে যান। তারা জিয়ার শোবার ঘরে তল্লাশি চালান।
তবে এসব তথ্য আদালতে প্রমাণিত কোনো সাক্ষ্য নয়; এগুলো বিভিন্ন প্রকাশিত বর্ণনা ও বইয়ের ওপর ভিত্তি করে জানা তথ্য।
জিয়াউর রহমানকে হত্যার পর বিদ্রোহ ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট সেনা কর্মকর্তারা চট্টগ্রাম সেনানিবাস ছেড়ে পালানোর চেষ্টা করেন। মাসকারেনহাসের বর্ণনা অনুযায়ী, সেই দলে ছিলেন মোজাফফরও। পরে গোলাগুলির মধ্যে তিনি পালিয়ে যেতে সক্ষম হন।
জিয়া হত্যার পর ‘বিদ্রোহের’ অভিযোগে সামরিক আদালতে ১৮ সেনা কর্মকর্তার বিচার হয়। তাদের মধ্যে ১৩ জনের মৃত্যুদণ্ড এবং অন্যদের বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড হয়। তবে মেজর এস এম খালেদ ও মেজর মোজাফফর পালিয়ে যেতে সক্ষম হন এবং তাদের ধরিয়ে দিতেও পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছিল।
মোজাফফরের পলাতক জীবনের একটি অংশের তথ্য পাওয়া যায় মেজর জেনারেল (অব.) মইনুল হোসেন চৌধুরীর স্মৃতিকথা ‘এক জেনারেলের নীরব সাক্ষ্য: স্বাধীনতার প্রথম দশক’ বইয়ে।
মইনুল হোসেন চৌধুরী লিখেছেন, তিনি ১৯৮৯ থেকে ১৯৯৩ সাল পর্যন্ত থাইল্যান্ডে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত থাকাকালে জিয়া হত্যাকাণ্ডের পলাতক অভিযুক্ত মেজর এস এম খালেদ ব্যাংককে অবস্থান করছিলেন। একই ঘটনায় পলাতক মোজাফফর তখন ভারতে ছিলেন।
তবে তিনি কতদিন ভারতে ছিলেন, কী পরিচয়ে ছিলেন কিংবা কীভাবে বিভিন্ন দেশে যাতায়াত করেছেন– এসব তথ্য এখনো প্রকাশ্যে আসেনি।
জানা গেছে, জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডের পর মোজাফফর ভারতে আত্মগোপনে ছিলেন। একপর্যায়ে তিনি ছদ্মনাম ব্যবহার করে সীমান্ত অতিক্রম করে যাতায়াত করতেন।
ডিএমপির আনুষ্ঠানিক বক্তব্য অনুযায়ী, হত্যাকাণ্ডের পর থেকে মোজাফফর বিভিন্ন স্থানে আত্মগোপনে ছিলেন। সূত্রের তথ্য ও তথ্যপ্রযুক্তি বিশ্লেষণ করে তার অবস্থান শনাক্ত করে বনানীর একটি বাসা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
কিন্তু মোজাফফর কত বছর ভারতে ছিলেন, সেখানে কোথায় ও কী পরিচয়ে থাকতেন, কীভাবে ব্যাংককে যাতায়াত করেছিলেন এবং কবে বাংলাদেশে ফিরে এসেছেন– কোন সংস্থা এসব প্রশ্নের উত্তর দেয়নি।
সংশ্লিষ্টদের মতে, মোজাফফরকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে জিয়া হত্যাকাণ্ডের কয়েকটি অমীমাংসিত প্রশ্নে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেতে পারে।








