শিরোনাম

বাড়তি দামে মার্কিন পণ্য কিনতে বাধ্য হচ্ছে বাংলাদেশ: তাজুল ইসলাম

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
বাড়তি দামে মার্কিন পণ্য কিনতে বাধ্য হচ্ছে বাংলাদেশ: তাজুল ইসলাম
আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখছেন সাবেক চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম। ছবি: সিজেডএন টোয়েন্টিফোর

বাংলাদেশকে বেশি দামে যুক্তরাষ্ট্রের পণ্য ও সেবা কিনতে বাধ্য হতে হচ্ছে বলে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সাবেক চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম। সোমবার (১০ আগস্ট) জাতীয় প্রেসক্লাবের আবদুস সালাম হলে আধিপত্যবাদবিরোধী নাগরিক সমাজ আয়োজিত ‘নতুন বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষিতে বাংলাদেশ রাষ্ট্রে সার্বভৌমত্ব কৌশল’ শীর্ষক আলোচনা সভায় এ কথা বলেন তিনি।

মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম বলেন, বাংলাদেশ বৈশ্বিক বাণিজ্যের ওপর নির্ভরশীল। বর্তমানে বাংলাদেশকে বেশি দামে যুক্তরাষ্ট্রের পণ্য ও সেবা কিনতে বাধ্য হতে হচ্ছে, ফলে বাণিজ্যিক মুনাফা ও সক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। একই সঙ্গে ভারত, পাকিস্তান ও চীনকে ঘিরে আঞ্চলিক অস্থিরতা, বিশেষ করে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের অবনতি, মিয়ানমারের রোহিঙ্গা নির্যাতন এবং বিচ্ছিন্নতাবাদীদের যুদ্ধ-বিগ্রহ বাংলাদেশের জন্য নিরাপত্তা সংকট তৈরি করেছে।

তিনি আরও বলেন, এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশকে সামরিক সক্ষমতা বাড়াতে হবে। এতে অসামরিক চাহিদা, সরবরাহ ব্যবস্থা ও অন্যান্য খাতে বিনিয়োগ এবং সক্ষমতা তৈরির ওপর চাপ পড়বে।

তাজুল ইসলাম বলেন, বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য আন্তর্জাতিক ঋণ সরবরাহও কমে যেতে পারে। বাংলাদেশ যদি দ্রুত নিজস্ব সক্ষমতা তৈরি করতে না পারে, ভবিষ্যতে মুদ্রা নিরাপত্তা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সংকট, উৎপাদন ব্যবস্থা ব্যাহত হওয়া, সাপ্লাই চেইনের সমস্যা এবং আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ বাজারে অস্থিরতা বাংলাদেশের অর্থনীতিকে সাময়িকভাবে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে ফেলতে পারে। জ্বালানি খাতেও বাংলাদেশ এর প্রভাব দেখছে। এসব দুর্বলতার কারণে দেশে বিনিয়োগ, প্রবৃদ্ধি ও ভোক্তা চাহিদা সংকুচিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই পরিবর্তিত বৈশ্বিক বাস্তবতায় বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় নিজস্ব সক্ষমতা দ্রুত বাড়ানোর কোনো বিকল্প নেই।

তাজুল ইসলাম বলেন, বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব ও কৌশল নিয়ে আলোচনা করতে হলে বর্তমান বৈশ্বিক রাজনীতির পরিবর্তন বুঝতে হবে। আগে পৃথিবী ছিল এক পরাশক্তির, এখন হয়েছে একাধিক পরাশক্তির। আগে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যিক ও মুদ্রাব্যবস্থার বাইরে থাকা দেশগুলোর উন্নয়নে বড় বাধা তৈরি হতো। রাশিয়া, কিউবা, উত্তর কোরিয়া ও ইরান– এর উদাহরণ। বাংলাদেশসহ অধিকাংশ দেশ যুক্তরাষ্ট্রের প্রাধান্য মেনে চলতো, এমনকি চীনও একসময় যুক্তরাষ্ট্রের আধিপত্য মেনে নিয়ে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থায় প্রবেশ করেছিল। কিন্তু এখন রাশিয়া, ইরান, উত্তর কোরিয়া ও কিউবা যুক্তরাষ্ট্রের বিরোধিতা করছে এবং অন্য দেশগুলোও সাহস পাচ্ছে। ফলে বহু দেশ ব্রিকসে যোগ দিতে চাইছে, বাংলাদেশও ব্রিকসের সদস্য হতে এবং চীনের সঙ্গে নৈকট্য বাড়াতে চাইছে।

আলোচনা সভায় এসময় রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক অধ্যাপক দিলারা চৌধুরী, মানবাধিকারকর্মী ও আলোকচিত্রী ড. শহিদুল আলম, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টার সাবেক প্রেস সচিব শফিকুল আলম, জনতার দলের মুখপাত্র ও মুখ্য সমন্বয়ক মেজর (অব.) ডেল এইচ খান, এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদসহ আরও অনেকে উপস্থিত ছিলেন।

/এফআর/