শিরোনাম

জ্বালানি তেল সরবরাহে সব সীমা তুলে নিলো সরকার

বিশেষ প্রতিনিধি
জ্বালানি তেল সরবরাহে সব সীমা তুলে নিলো সরকার
সংবাদ সম্মেলনে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম। ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে দেশে পেট্রোল, অকটেন ও ডিজেল সরবরাহে বেঁধে দেওয়া সীমাসহ সব ধরনের বিধিনিষেধ তুলে নিয়েছে সরকার। জনগণের ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করা এবং বোরো মৌসুমে কৃষকদের জ্বালানির চাহিদা বিবেচনায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

রবিবার (১৫ মার্চ) বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে এ সিদ্ধান্তের কথা জানান জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।

এদিন বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধের কারণে দেশে জ্বালানি তেল সরবরাহ লাইনে সমস্যা তৈরি হয়। ওই সমস্যা উত্তরণে এবং জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সরকার বেশ কিছু সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এরইমধ্যে কয়েকটি আমদানিকৃত তেলের জাহাজ চট্টগ্রাম এসে বন্দরে পৌঁছেছে। মানুষের ঈদ যাত্রা নির্বিঘ্নে পালন এবং বোরো মৌসুমে কৃষকদের প্রয়োজনীয়তা বিবেচনা করে জ্বালানি তেল বিতরণে রেশনিংসহ সব ধরনের বিধি নিষেধ তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত আজ ১৫ মার্চ থেকে সব বিতরণ পয়েন্টে চাহিদা অনুযায়ী জ্বালানি তেল বিতরণ অব্যাহত থাকবে।

২৮ মার্চ ইরানে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ে। এর প্রভাবে বৈশ্বিকভাবে জ্বালানি তেলের সরবরাহ কমে যাওয়ায় দেশেও সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়। আতঙ্কে স্বাভাবিক চাহিদার চেয়ে দ্বিগুণ হারে জ্বালানি তেল কেনা শুরু হয়। এটি ঠেকাতে তেল কেনায় সীমা বেঁধে দেওয়া হয়।

অস্বাভাবিক বিক্রি ঠেকাতে ৬ মার্চ থেকে জ্বালানি তেল সরবরাহে সীমা বেঁধে দেয় সরকার। রাইড শেয়ার করা মোটরসাইকেলের জন্য শুরুতে ২ লিটারের সীমা থাকলেও ১০ মার্চ থেকে তা বাড়িয়ে সর্বোচ্চ ৫ লিটার করা হয়।

এ ছাড়া ৭ মার্চ থেকে ফিলিং স্টেশনে চাহিদার চেয়ে ২৫ শতাংশ হারে কম সরবরাহ করা হচ্ছিল। ১১ মার্চ থেকে বিভাগীয় শহরের ফিলিং স্টেশনে ১০ শতাংশ সরবরাহ বাড়ানো হয়। এদিকে চাহিদামতো সরবরাহ না পেয়ে শনিবার (১৪ মার্চ) খুলনাসহ দেশের দক্ষিণাঞ্চলের অনেক ডিপো থেকে তেল উত্তোলন বন্ধ রাখেন ফিলিং স্টেশনের মালিকরা। রাজশাহীতেও তেল না তোলার হুমকি দেওয়া হয়।

জ্বালানি তেলের দাম বাড়বে না

সংবাদ সম্মেলনে জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী বলেন, জ্বালানির সংকট যাতে না হয়, তাই আমদানি বাড়াতে বন্ধুরাষ্ট্র থেকে শুরু করে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে আলোচনা চলছে।

প্রতিমন্ত্রী জানান, দেশের অর্থনীতি যতদিন আন্তর্জাতিক বাজারের চাপ সামাল দিতে পারবে, ততদিন জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর পরিকল্পনা সরকারের নেই। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়লেও সরকার এখনো দেশের বাজারে জ্বালানি তেলের মূল্য অপরিবর্তিত রেখেছে।

বিশ্বের অনেক দেশেই এরইমধ্যে জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমরা পত্রপত্রিকা ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে দেখছি, প্রায় ৮৫ দেশে জ্বালানির দাম বেড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি গ্যালনে ৫০ থেকে ৬০ সেন্ট পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে, অস্ট্রেলিয়ায়ও ৭০ থেকে ৭৫ সেন্ট পর্যন্ত বেড়েছে। জনগণের কষ্টের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়েই সরকার এখনো জ্বালানি তেলের দাম না বাড়িয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করছে।

জ্বালানি তেল আমদানির সরকারি সংস্থা বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) সূত্র বলছে, এ মাসে জ্বালানি তেল নিয়ে মোট ১৮টি জাহাজ আসার কথা। শনিবার (১৪ মার্চ) পর্যন্ত ৬টি জাহাজ এসেছে। ২৭ মার্চ পর্যন্ত আরও ৬টি জাহাজ আসার সময়সূচি পাওয়া গেছে। এর বাইরে ৬টি জাহাজের এখন পর্যন্ত সময়সূচি পাওয়া যায়নি।

জানা গেছে, প্রতিটি জাহাজে ২৫ থেকে ৩০ হাজার টন তেল থাকে। এসব জাহাজ মূলত ডিজেল নিয়ে আসছে। শুধু শেষ দুটি জাহাজে ডিজেলের সঙ্গে জেট ফুয়েল থাকবে। আর ১৭ বা ১৮ মার্চে একটি জাহাজ ফার্নেস তেল নিয়ে আসার কথা। এর বাইরে স্পট মার্কেট থেকে এক কার্গো অকটেন কেনার চেষ্টা চলছে। আগামী মাসের প্রথম সপ্তাহে অকটেন নিয়ে একটি জাহাজ আসার কথা সূচিতে আছে। সেটি এগিয়ে এ মাসে আনার আলোচনা চলছে।

/এফসি/