শিরোনাম

মেদ কমানোর নতুন ট্রেন্ড ‘ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং’ কতটুকু কার্যকর

সিজেডএন ডেস্ক
সিজেডএন ডেস্ক
মেদ কমানোর নতুন ট্রেন্ড ‘ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং’ কতটুকু কার্যকর
প্রতীকী ছবি

মেদ কমানো বা শরীর ফিট রাখতে অনেকেই ডায়েট করে থাকেন। বিশেষ করে তরুণ-তরুণীদের মধ্যে এই প্রবণতা বেশি দেখা যায়। বর্তমানে ডায়েট প্ল্যান হিসেবে জনপ্রিয়তা পাচ্ছে ‘ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং’। তবে ওজন কমানোর ক্ষেত্রে এটা কার্যকর হলেও জাদুকরী কোনো সমাধান দেয় না বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং প্রচলিত ডায়েটের মতোই গড়ে প্রায় ৫ শতাংশ ওজন কমাতে সাহায্য করতে পারে। অন্যান্য স্বাস্থ্যকর ডায়েটের তুলনায় একেবারে আলাদা কোনো ফল দেয় এমন প্রমাণ নেই।

দিনের একটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে খাবার খাওয়া এবং বাকি সময় না খেয়ে থাকাই ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিংয়ের মূল ধারণা। এই পদ্ধতি নিয়ে ব্যাপক প্রচারণা দেখা গেছে। এটি ওজন কমানোর পাশাপাশি ক্যানসার প্রতিরোধ, মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতা বাড়ানো কিংবা শরীরকে ভেতর থেকে ‘পরিষ্কার’ করে এমন দাবিও শোনা গেছে। কিন্তু এসব দাবির সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ডায়েট প্ল্যান হিসেবে ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং অনেকের জন্য কার্যকর হতে পারে। তবে আলাদা কোনো ফল দেয় এমন প্রমাণ নেই। বরং দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকার কিছু নেতিবাচক দিক রয়েছে, যেগুলো নিয়ে গবেষণা হচ্ছে। যেমন, ওজন কমার ক্ষেত্রে শরীরের চর্বির পাশাপাশি পেশিও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। আবার কিছু গবেষণায় হৃদ্‌যন্ত্র ও রক্তনালির স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কার কথা উঠে এসেছে।

যদিও ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং নিয়ে এতো আলোচনার কিছু কারণ রয়েছে। গবেষণাগারে ইঁদুর, মাছি ও অন্য প্রাণীর ওপর ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং নিয়ে বেশ কিছু আশাব্যঞ্জক ফল পাওয়া গেছে। দীর্ঘ সময় খাবার না পেলে প্রাণীর কোষে ‘অটোফেজি’ নামের একটি প্রক্রিয়া সক্রিয় হতে পারে। এ প্রক্রিয়ায় কোষ পুরনো বা ক্ষতিগ্রস্ত অংশ ভেঙে ফেলে এবং সেগুলো পুনর্ব্যবহার করে। তবে প্রাণী আর মানুষের ওপর করা গবেষণার মধ্যে বড় পার্থক্য রয়েছে। এজন্য এটা নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়িয়ে পড়েছে।

ইঁদুরের ওপর করা কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে খাবার খাওয়ালে তাদের বিপাকক্রিয়া ও সামগ্রিক স্বাস্থ্যে ইতিবাচক পরিবর্তন আসে। কিছু গবেষণায় আয়ু বাড়ার সম্ভাবনার কথাও বলা হয়েছে। তবে প্রাণী আর মানুষের ক্ষেত্রে একই রকম ফলাফল পাওয়া যাবে এমন কোনো শর্ত নেই। কারণ ইঁদুর ও মানুষের বিপাকক্রিয়া এক নয়। ফলে একটি ইঁদুরের জন্য ১৬ ঘণ্টা না খেয়ে থাকা আর একজন মানুষের জন্য ১৬ ঘণ্টা না খেয়ে থাকা একই বিষয় নয়। মানুষের মধ্যে জিনগত ও জীবনযাপনের পার্থক্যও অনেক বেশি। ফলে প্রাণীর ওপর পাওয়া ফলাফল সরাসরি মানুষের ক্ষেত্রে প্রয়োগ করা কঠিন।

যদিও মানুষের ওপর করা গবেষণায় কিছু একেবারেই আশাব্যঞ্জক ফল পাওয়া গেছে। কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিংয়ের ফলে রক্তচাপ, রক্তে শর্করার মাত্রা এবং শরীরে অক্সিডেটিভ স্ট্রেস কমতে পারে।

গবেষকেরা প্রযুক্তির সাহায্যে আরও নির্ভরযোগ্য তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করছেন। স্মার্ট ফর্ক, ক্যামেরাযুক্ত চশমা বা নেকলেস, এমনকি দাঁতে বসানো সেন্সর নিয়েও গবেষণা হচ্ছে। রক্ত ও প্রস্রাবের নমুনা পরীক্ষা করে একজন মানুষ কী ধরনের খাবার খাচ্ছেন, তারও কিছুটা ধারণা পাওয়ার চেষ্টা করছেন।

বলা যায়, ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং পদ্ধতির কিছু কার্যকারিতা আছে। তবে ওজন কমানো থেকে শুরু করে ক্যানসার প্রতিরোধ কিংবা আয়ু বাড়ানোর ‘জাদুকরী’ উপায় বলার মতো যথেষ্ট প্রমাণ নেই।

/জেএইচ/