ঢাবির ‘সান্ধ্য আইন’ কী, কেন এটির বাতিল চান শিক্ষার্থীরা

ঢাবির ‘সান্ধ্য আইন’ কী, কেন এটির বাতিল চান শিক্ষার্থীরা
অনলাইন ডেস্ক

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী হলগুলোতে প্রচলিত ‘সান্ধ্য আইন’ বাতিলের দাবিতে সাম্প্রতিক সময়ে সরব হয়েছেন শিক্ষার্থীরা। তাদের দাবি, নির্দিষ্ট সময়ের পর ছাত্রীদের হলে প্রবেশে বাধ্যবাধকতা আরোপ করা নারীর স্বাধীন চলাচলের ওপর বৈষম্যমূলক বিধিনিষেধ। তারা ছাত্রী হল ২৪ ঘণ্টা খোলা রাখা এবং নারী শিক্ষার্থীদের নিরাপদ ও অবাধ চলাচল নিশ্চিত করার দাবি জানাচ্ছেন।
সান্ধ্য আইন কী?
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী হলগুলোতে ‘সান্ধ্য আইন’ বলতে মূলত রাতের নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে হলে ফিরে আসার বাধ্যবাধকতাকে বোঝানো হচ্ছে। বর্তমানে আলোচনায় থাকা বিধিনিষেধ অনুযায়ী, রাত ১০টা থেকে ভোর ৬টা পর্যন্ত ছাত্রী হলের প্রবেশে সীমাবদ্ধতা রয়েছে। শিক্ষার্থীরা এই সময়সীমাকেই ‘সান্ধ্য আইন’ হিসেবে উল্লেখ করে তা বাতিলের দাবি তুলেছেন।
শিক্ষার্থীদের ভাষ্য, নিরাপত্তার যুক্তিতে দীর্ঘদিন ধরে নারী শিক্ষার্থীদের চলাচলের ওপর এই ধরনের বিধিনিষেধ কার্যকর রয়েছে। কিন্তু তাদের প্রশ্ন, নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব শিক্ষার্থীদের চলাচল সীমিত করার মাধ্যমে পালন করা হবে, নাকি নিরাপদ পরিবেশ তৈরির মাধ্যমে?
সান্ধ্য আইন কেন বাতিলের দাবি?
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের অন্যতম প্রধান যুক্তি হলো—শুধু নারী শিক্ষার্থী হওয়ার কারণে তাদের চলাচলের সময় নির্দিষ্ট করে দেওয়া বৈষম্যমূলক। তাদের মতে, পুরুষ শিক্ষার্থীরা যেখানে ক্যাম্পাসে তুলনামূলকভাবে অবাধে চলাচল করতে পারেন, সেখানে নারী শিক্ষার্থীদের জন্য আলাদা সময়সীমা নির্ধারণ করা লিঙ্গভিত্তিক বৈষম্য তৈরি করে।
শিক্ষার্থীরা বলছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা, টিউশনি, গবেষণা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড কিংবা ব্যক্তিগত প্রয়োজনে অনেক সময় রাত পর্যন্ত ক্যাম্পাসের বাইরে থাকতে হয়। যানজট বা দূরপাল্লার যাত্রার কারণে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে হলে ফিরতে না পারলেও তাদের নানা ধরনের সমস্যার মুখে পড়তে হয়।
জরুরি চিকিৎসার প্রয়োজন হলেও একই ধরনের জটিলতা তৈরি হতে পারে বলে আন্দোলনকারীদের অভিযোগ। তাদের মতে, কোনো শিক্ষার্থী রাতে অসুস্থ হলে বা জরুরি প্রয়োজনে বাইরে যেতে হলে সময়সীমার কারণে প্রশাসনিক অনুমতি ও অন্যান্য প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হতে হয়।
আবাসন নিয়েও প্রশ্ন
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা ছাত্রী হলের আবাসন ব্যবস্থাকেও আলোচনায় এনেছেন। তাদের দাবি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ৫৭ শতাংশ নারী শিক্ষার্থী আবাসন সুবিধা থেকে বঞ্চিত। নিয়মিত হল ফি পরিশোধ করলেও অনাবাসিক ছাত্রীদের অনেক ক্ষেত্রে নিজেদের হলে প্রবেশের সুযোগ থাকে না।
তাদের আরও অভিযোগ, নারী হলগুলোতে অন্য ছাত্রী কিংবা মা-বোনসহ নারী স্বজনদের প্রবেশের ক্ষেত্রেও নানা সীমাবদ্ধতা রয়েছে। অন্যদিকে পুরুষ হলগুলোতে অতিথি প্রবেশের তুলনামূলক সহজ ব্যবস্থা রয়েছে বলে তারা দাবি করছেন। এসব ব্যবস্থাকে তারা নারী ও পুরুষ শিক্ষার্থীদের জন্য পৃথক প্রশাসনিক নীতি হিসেবে দেখছেন।
নিরাপত্তার যুক্তি কতটা গ্রহণযোগ্য?
সান্ধ্য আইন বহাল রাখার অন্যতম যুক্তি নিরাপত্তা। তবে আন্দোলনকারীদের বক্তব্য, নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য নারী শিক্ষার্থীদের চলাচল সীমিত না করে পুরো ক্যাম্পাসকে নিরাপদ করার ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
তাদের মতে, রাতে বাইরে থাকা যদি নিরাপত্তাঝুঁকি তৈরি করে, তাহলে রাতের জনপরিসর ও ক্যাম্পাসকে নিরাপদ করার উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। নারী শিক্ষার্থীদের নির্দিষ্ট সময়ের পর হলে থাকতে বাধ্য করা নিরাপত্তা নিশ্চিত করার স্থায়ী সমাধান নয়।
তিন দফা দাবি
‘অবরোধবাসিনী’ নামে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের প্ল্যাটফর্মটি সান্ধ্য আইন বাতিলসহ তিন দফা দাবি জানিয়েছে। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—
* রাত ১০টা থেকে ভোর ৬টা পর্যন্ত প্রচলিত সান্ধ্য আইন বাতিল করে ছাত্রীদের ২৪ ঘণ্টা নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করা;
* বৈধ পরিচয়পত্র প্রদর্শনের মাধ্যমে যেকোনো ছাত্রীকে অন্য ছাত্রী হলে প্রবেশ এবং যথাযথ অনুমতি নিয়ে রাতযাপনের সুযোগ দেওয়া;
* ছাত্রীদের মা, বোনসহ নারী স্বজনদের হলে প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা।
এর আগে শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে স্মারকলিপিও দিয়েছেন। পরে বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে তারা দাবি বাস্তবায়নের জন্য চাপ অব্যাহত রাখেন।
সান্ধ্য আইন বাতিলসহ তিন দফা দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে ৪৮ ঘণ্টার আলটিমেটামও দিয়েছিলেন। রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে আয়োজিত সংহতি সমাবেশ থেকে তারা ঘোষণা দেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়া হলে অবস্থান কর্মসূচিসহ আরও কঠোর আন্দোলনে যাওয়ার কথা।
সব মিলিয়ে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী হলের সান্ধ্য আইন এখন শুধু একটি প্রশাসনিক নিয়মের প্রশ্নে সীমাবদ্ধ নেই। এটি নারী শিক্ষার্থীদের স্বাধীন চলাচল, নিরাপত্তা, আবাসন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে নারী-পুরুষের সমান অধিকারের প্রশ্নে পরিণত হয়েছে। শিক্ষার্থীদের দাবি, নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব প্রশাসনের; সেই নিরাপত্তার ভার নারী শিক্ষার্থীদের চলাচলের স্বাধীনতা সীমিত করে তাদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া উচিত নয়।
/এবি/

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী হলগুলোতে প্রচলিত ‘সান্ধ্য আইন’ বাতিলের দাবিতে সাম্প্রতিক সময়ে সরব হয়েছেন শিক্ষার্থীরা। তাদের দাবি, নির্দিষ্ট সময়ের পর ছাত্রীদের হলে প্রবেশে বাধ্যবাধকতা আরোপ করা নারীর স্বাধীন চলাচলের ওপর বৈষম্যমূলক বিধিনিষেধ। তারা ছাত্রী হল ২৪ ঘণ্টা খোলা রাখা এবং নারী শিক্ষার্থীদের নিরাপদ ও অবাধ চলাচল নিশ্চিত করার দাবি জানাচ্ছেন।
সান্ধ্য আইন কী?
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী হলগুলোতে ‘সান্ধ্য আইন’ বলতে মূলত রাতের নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে হলে ফিরে আসার বাধ্যবাধকতাকে বোঝানো হচ্ছে। বর্তমানে আলোচনায় থাকা বিধিনিষেধ অনুযায়ী, রাত ১০টা থেকে ভোর ৬টা পর্যন্ত ছাত্রী হলের প্রবেশে সীমাবদ্ধতা রয়েছে। শিক্ষার্থীরা এই সময়সীমাকেই ‘সান্ধ্য আইন’ হিসেবে উল্লেখ করে তা বাতিলের দাবি তুলেছেন।
শিক্ষার্থীদের ভাষ্য, নিরাপত্তার যুক্তিতে দীর্ঘদিন ধরে নারী শিক্ষার্থীদের চলাচলের ওপর এই ধরনের বিধিনিষেধ কার্যকর রয়েছে। কিন্তু তাদের প্রশ্ন, নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব শিক্ষার্থীদের চলাচল সীমিত করার মাধ্যমে পালন করা হবে, নাকি নিরাপদ পরিবেশ তৈরির মাধ্যমে?
সান্ধ্য আইন কেন বাতিলের দাবি?
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের অন্যতম প্রধান যুক্তি হলো—শুধু নারী শিক্ষার্থী হওয়ার কারণে তাদের চলাচলের সময় নির্দিষ্ট করে দেওয়া বৈষম্যমূলক। তাদের মতে, পুরুষ শিক্ষার্থীরা যেখানে ক্যাম্পাসে তুলনামূলকভাবে অবাধে চলাচল করতে পারেন, সেখানে নারী শিক্ষার্থীদের জন্য আলাদা সময়সীমা নির্ধারণ করা লিঙ্গভিত্তিক বৈষম্য তৈরি করে।
শিক্ষার্থীরা বলছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা, টিউশনি, গবেষণা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড কিংবা ব্যক্তিগত প্রয়োজনে অনেক সময় রাত পর্যন্ত ক্যাম্পাসের বাইরে থাকতে হয়। যানজট বা দূরপাল্লার যাত্রার কারণে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে হলে ফিরতে না পারলেও তাদের নানা ধরনের সমস্যার মুখে পড়তে হয়।
জরুরি চিকিৎসার প্রয়োজন হলেও একই ধরনের জটিলতা তৈরি হতে পারে বলে আন্দোলনকারীদের অভিযোগ। তাদের মতে, কোনো শিক্ষার্থী রাতে অসুস্থ হলে বা জরুরি প্রয়োজনে বাইরে যেতে হলে সময়সীমার কারণে প্রশাসনিক অনুমতি ও অন্যান্য প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হতে হয়।
আবাসন নিয়েও প্রশ্ন
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা ছাত্রী হলের আবাসন ব্যবস্থাকেও আলোচনায় এনেছেন। তাদের দাবি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ৫৭ শতাংশ নারী শিক্ষার্থী আবাসন সুবিধা থেকে বঞ্চিত। নিয়মিত হল ফি পরিশোধ করলেও অনাবাসিক ছাত্রীদের অনেক ক্ষেত্রে নিজেদের হলে প্রবেশের সুযোগ থাকে না।
তাদের আরও অভিযোগ, নারী হলগুলোতে অন্য ছাত্রী কিংবা মা-বোনসহ নারী স্বজনদের প্রবেশের ক্ষেত্রেও নানা সীমাবদ্ধতা রয়েছে। অন্যদিকে পুরুষ হলগুলোতে অতিথি প্রবেশের তুলনামূলক সহজ ব্যবস্থা রয়েছে বলে তারা দাবি করছেন। এসব ব্যবস্থাকে তারা নারী ও পুরুষ শিক্ষার্থীদের জন্য পৃথক প্রশাসনিক নীতি হিসেবে দেখছেন।
নিরাপত্তার যুক্তি কতটা গ্রহণযোগ্য?
সান্ধ্য আইন বহাল রাখার অন্যতম যুক্তি নিরাপত্তা। তবে আন্দোলনকারীদের বক্তব্য, নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য নারী শিক্ষার্থীদের চলাচল সীমিত না করে পুরো ক্যাম্পাসকে নিরাপদ করার ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
তাদের মতে, রাতে বাইরে থাকা যদি নিরাপত্তাঝুঁকি তৈরি করে, তাহলে রাতের জনপরিসর ও ক্যাম্পাসকে নিরাপদ করার উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। নারী শিক্ষার্থীদের নির্দিষ্ট সময়ের পর হলে থাকতে বাধ্য করা নিরাপত্তা নিশ্চিত করার স্থায়ী সমাধান নয়।
তিন দফা দাবি
‘অবরোধবাসিনী’ নামে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের প্ল্যাটফর্মটি সান্ধ্য আইন বাতিলসহ তিন দফা দাবি জানিয়েছে। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—
* রাত ১০টা থেকে ভোর ৬টা পর্যন্ত প্রচলিত সান্ধ্য আইন বাতিল করে ছাত্রীদের ২৪ ঘণ্টা নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করা;
* বৈধ পরিচয়পত্র প্রদর্শনের মাধ্যমে যেকোনো ছাত্রীকে অন্য ছাত্রী হলে প্রবেশ এবং যথাযথ অনুমতি নিয়ে রাতযাপনের সুযোগ দেওয়া;
* ছাত্রীদের মা, বোনসহ নারী স্বজনদের হলে প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা।
এর আগে শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে স্মারকলিপিও দিয়েছেন। পরে বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে তারা দাবি বাস্তবায়নের জন্য চাপ অব্যাহত রাখেন।
সান্ধ্য আইন বাতিলসহ তিন দফা দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে ৪৮ ঘণ্টার আলটিমেটামও দিয়েছিলেন। রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে আয়োজিত সংহতি সমাবেশ থেকে তারা ঘোষণা দেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়া হলে অবস্থান কর্মসূচিসহ আরও কঠোর আন্দোলনে যাওয়ার কথা।
সব মিলিয়ে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী হলের সান্ধ্য আইন এখন শুধু একটি প্রশাসনিক নিয়মের প্রশ্নে সীমাবদ্ধ নেই। এটি নারী শিক্ষার্থীদের স্বাধীন চলাচল, নিরাপত্তা, আবাসন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে নারী-পুরুষের সমান অধিকারের প্রশ্নে পরিণত হয়েছে। শিক্ষার্থীদের দাবি, নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব প্রশাসনের; সেই নিরাপত্তার ভার নারী শিক্ষার্থীদের চলাচলের স্বাধীনতা সীমিত করে তাদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া উচিত নয়।
/এবি/

ঢাবির ‘সান্ধ্য আইন’ কী, কেন এটির বাতিল চান শিক্ষার্থীরা
অনলাইন ডেস্ক

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী হলগুলোতে প্রচলিত ‘সান্ধ্য আইন’ বাতিলের দাবিতে সাম্প্রতিক সময়ে সরব হয়েছেন শিক্ষার্থীরা। তাদের দাবি, নির্দিষ্ট সময়ের পর ছাত্রীদের হলে প্রবেশে বাধ্যবাধকতা আরোপ করা নারীর স্বাধীন চলাচলের ওপর বৈষম্যমূলক বিধিনিষেধ। তারা ছাত্রী হল ২৪ ঘণ্টা খোলা রাখা এবং নারী শিক্ষার্থীদের নিরাপদ ও অবাধ চলাচল নিশ্চিত করার দাবি জানাচ্ছেন।
সান্ধ্য আইন কী?
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী হলগুলোতে ‘সান্ধ্য আইন’ বলতে মূলত রাতের নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে হলে ফিরে আসার বাধ্যবাধকতাকে বোঝানো হচ্ছে। বর্তমানে আলোচনায় থাকা বিধিনিষেধ অনুযায়ী, রাত ১০টা থেকে ভোর ৬টা পর্যন্ত ছাত্রী হলের প্রবেশে সীমাবদ্ধতা রয়েছে। শিক্ষার্থীরা এই সময়সীমাকেই ‘সান্ধ্য আইন’ হিসেবে উল্লেখ করে তা বাতিলের দাবি তুলেছেন।
শিক্ষার্থীদের ভাষ্য, নিরাপত্তার যুক্তিতে দীর্ঘদিন ধরে নারী শিক্ষার্থীদের চলাচলের ওপর এই ধরনের বিধিনিষেধ কার্যকর রয়েছে। কিন্তু তাদের প্রশ্ন, নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব শিক্ষার্থীদের চলাচল সীমিত করার মাধ্যমে পালন করা হবে, নাকি নিরাপদ পরিবেশ তৈরির মাধ্যমে?
সান্ধ্য আইন কেন বাতিলের দাবি?
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের অন্যতম প্রধান যুক্তি হলো—শুধু নারী শিক্ষার্থী হওয়ার কারণে তাদের চলাচলের সময় নির্দিষ্ট করে দেওয়া বৈষম্যমূলক। তাদের মতে, পুরুষ শিক্ষার্থীরা যেখানে ক্যাম্পাসে তুলনামূলকভাবে অবাধে চলাচল করতে পারেন, সেখানে নারী শিক্ষার্থীদের জন্য আলাদা সময়সীমা নির্ধারণ করা লিঙ্গভিত্তিক বৈষম্য তৈরি করে।
শিক্ষার্থীরা বলছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা, টিউশনি, গবেষণা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড কিংবা ব্যক্তিগত প্রয়োজনে অনেক সময় রাত পর্যন্ত ক্যাম্পাসের বাইরে থাকতে হয়। যানজট বা দূরপাল্লার যাত্রার কারণে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে হলে ফিরতে না পারলেও তাদের নানা ধরনের সমস্যার মুখে পড়তে হয়।
জরুরি চিকিৎসার প্রয়োজন হলেও একই ধরনের জটিলতা তৈরি হতে পারে বলে আন্দোলনকারীদের অভিযোগ। তাদের মতে, কোনো শিক্ষার্থী রাতে অসুস্থ হলে বা জরুরি প্রয়োজনে বাইরে যেতে হলে সময়সীমার কারণে প্রশাসনিক অনুমতি ও অন্যান্য প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হতে হয়।
আবাসন নিয়েও প্রশ্ন
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা ছাত্রী হলের আবাসন ব্যবস্থাকেও আলোচনায় এনেছেন। তাদের দাবি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ৫৭ শতাংশ নারী শিক্ষার্থী আবাসন সুবিধা থেকে বঞ্চিত। নিয়মিত হল ফি পরিশোধ করলেও অনাবাসিক ছাত্রীদের অনেক ক্ষেত্রে নিজেদের হলে প্রবেশের সুযোগ থাকে না।
তাদের আরও অভিযোগ, নারী হলগুলোতে অন্য ছাত্রী কিংবা মা-বোনসহ নারী স্বজনদের প্রবেশের ক্ষেত্রেও নানা সীমাবদ্ধতা রয়েছে। অন্যদিকে পুরুষ হলগুলোতে অতিথি প্রবেশের তুলনামূলক সহজ ব্যবস্থা রয়েছে বলে তারা দাবি করছেন। এসব ব্যবস্থাকে তারা নারী ও পুরুষ শিক্ষার্থীদের জন্য পৃথক প্রশাসনিক নীতি হিসেবে দেখছেন।
নিরাপত্তার যুক্তি কতটা গ্রহণযোগ্য?
সান্ধ্য আইন বহাল রাখার অন্যতম যুক্তি নিরাপত্তা। তবে আন্দোলনকারীদের বক্তব্য, নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য নারী শিক্ষার্থীদের চলাচল সীমিত না করে পুরো ক্যাম্পাসকে নিরাপদ করার ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
তাদের মতে, রাতে বাইরে থাকা যদি নিরাপত্তাঝুঁকি তৈরি করে, তাহলে রাতের জনপরিসর ও ক্যাম্পাসকে নিরাপদ করার উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। নারী শিক্ষার্থীদের নির্দিষ্ট সময়ের পর হলে থাকতে বাধ্য করা নিরাপত্তা নিশ্চিত করার স্থায়ী সমাধান নয়।
তিন দফা দাবি
‘অবরোধবাসিনী’ নামে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের প্ল্যাটফর্মটি সান্ধ্য আইন বাতিলসহ তিন দফা দাবি জানিয়েছে। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—
* রাত ১০টা থেকে ভোর ৬টা পর্যন্ত প্রচলিত সান্ধ্য আইন বাতিল করে ছাত্রীদের ২৪ ঘণ্টা নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করা;
* বৈধ পরিচয়পত্র প্রদর্শনের মাধ্যমে যেকোনো ছাত্রীকে অন্য ছাত্রী হলে প্রবেশ এবং যথাযথ অনুমতি নিয়ে রাতযাপনের সুযোগ দেওয়া;
* ছাত্রীদের মা, বোনসহ নারী স্বজনদের হলে প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা।
এর আগে শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে স্মারকলিপিও দিয়েছেন। পরে বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে তারা দাবি বাস্তবায়নের জন্য চাপ অব্যাহত রাখেন।
সান্ধ্য আইন বাতিলসহ তিন দফা দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে ৪৮ ঘণ্টার আলটিমেটামও দিয়েছিলেন। রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে আয়োজিত সংহতি সমাবেশ থেকে তারা ঘোষণা দেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়া হলে অবস্থান কর্মসূচিসহ আরও কঠোর আন্দোলনে যাওয়ার কথা।
সব মিলিয়ে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী হলের সান্ধ্য আইন এখন শুধু একটি প্রশাসনিক নিয়মের প্রশ্নে সীমাবদ্ধ নেই। এটি নারী শিক্ষার্থীদের স্বাধীন চলাচল, নিরাপত্তা, আবাসন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে নারী-পুরুষের সমান অধিকারের প্রশ্নে পরিণত হয়েছে। শিক্ষার্থীদের দাবি, নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব প্রশাসনের; সেই নিরাপত্তার ভার নারী শিক্ষার্থীদের চলাচলের স্বাধীনতা সীমিত করে তাদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া উচিত নয়।
/এবি/









