শিরোনাম

বাংলা একাডেমিতে একদিনের প্রতীকী বইমেলা

নিজস্ব প্রতিবেদক
বাংলা একাডেমিতে একদিনের প্রতীকী বইমেলা
প্রতীকী বইমেলা (ছবি: সিটিজেন জার্নাল)

নির্ধারিত সময়ে অমর একুশে বইমেলা অনুষ্ঠিত না হওয়ায় বাংলা একাডেমিতে আয়োজন করা হয় একদিনের প্রতীকী বইমেলা। একুশে বইমেলা সংগ্রাম পরিষদের আয়োজনে এতে অংশ নেয় ৩৮ এর বেশি প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান। তবে, এই প্রতীকী বইমেলায় তেমন পাঠক ছিল না।

প্রকাশনী প্রতিষ্ঠানের লোকেরা জানান, অমর একুশে বইমেলার ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে এই প্রতীকী বইমেলার আয়োজন করা হয়েছে।

রবিবার (১ ফেব্রুয়ারি) দুপুরের পর সরেজমিনে দেখা গেছে, প্রতীকী বইমেলায় পাঠকদের ভিড় ছিল কম। ৮ থেকে ১০ মিনিট পরপর তিন-চারজন পাঠক এসে বই দেখে আবার চলে যান। খুব কম পাঠককেই বই কিনতে দেখা গেছে। এছাড়া নজরুল মঞ্চে সাংস্কৃতিক কর্মীদের দেশাত্মবোধক গান পরিবেশন করতে দেখা গেছে।

নরসুন্দা প্রকাশনীর মালিক কানন চক্রবর্তী বলেন, ‘ভবিষ্যতে যাতে একুশের বই মেলা নিয়ে কোনো ষড়যন্ত্র-চক্রান্ত না হয়, সেই প্রতিবাদে আমরা আজকে প্রতীকী হিসেবে একদিনের জন্য বইমেলা করছি। তবে আমরা আশা করবো, ভবিষ্যতে যাতে একুশে বইমেলা পূর্বের মতো ফেব্রুয়ারি মাসের এক তারিখে শুরু হয়।’

৫ আগস্টের পরেও আমাদের দেশে ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থা এখনো অক্ষুণ্ণ রয়ে গেছে। এবারও অমর একুশে বই মেলা অনুষ্ঠিত হবে। তবে নির্বাচনের কারণে এবারের মেলার সময় পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। দেশ-বিদেশে ফেব্রুয়ারি মাস এবং একুশের বই মেলা প্রতিষ্ঠিত। সে জায়গায় এবার ছেদ পড়েছে
কানন চক্রবর্তী মালিক নরসুন্দা প্রকাশনী

তিনি আরও বলেন, ‘৫ আগস্টের পরেও আমাদের দেশে ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থা এখনো অক্ষুণ্ণ রয়ে গেছে। এবারও অমর একুশে বই মেলা অনুষ্ঠিত হবে। তবে নির্বাচনের কারণে এবারের মেলার সময় পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। দেশ-বিদেশে ফেব্রুয়ারি মাস এবং একুশের বই মেলা প্রতিষ্ঠিত। সে জায়গায় এবার ছেদ পড়েছে।’

ষড়যন্ত্র তো সার্বিকভাবে চলছে। বইমেলা নিয়ে একটা প্রতিক্রিয়াশীল অংশ ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে। বইমেলাকে নাই করে দেওয়ার একটা ষড়যন্ত্র চলছে।

এবারের বইমেলা নিয়ে কোনো ষড়যন্ত্র দেখছেন কিনা-এমন প্রশ্নের জবাবে কানন চক্রবর্তী বলেন, ‘ষড়যন্ত্র তো সার্বিকভাবে চলছে। বইমেলা নিয়ে একটা প্রতিক্রিয়াশীল অংশ ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে। বইমেলাকে নাই করে দেওয়ার একটা ষড়যন্ত্র চলছে। সেক্ষেত্রে আমরা বলিষ্ঠভাবে দাঁড়াবো। আমরা ৭১ এর চেতনা যেভাবে ধারণ করি, সেভাবে ২৪ এর চেতনাকেও ধারণ করি।’

তার আগে সকাল ১১ টার দিকে বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে জাতীয় সংগীতের মাধ্যমে প্রতীকী বইমেলার উদ্বোধন করেন উনসত্তরের গণ-অভ্যুত্থানের ছাত্রনেতা দীপা দত্ত।

অনুষ্ঠানে বাংলা একাডেমির সভাপতি ও সমাজচিন্তক অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক উপস্থিত ছিলেন। তিনি বলেন, ‘বইমেলার তাৎপর্য এখন অনেক বেশি। এই মেলার ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে হবে। নির্বাচন উপলক্ষে এ বছর বইমেলা কিছুটা পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। সিদ্ধান্তটি মেনে নেওয়া হলেও আবেগগত আক্ষেপ থেকে গেছে। সেই আক্ষেপ থেকেই প্রতীকী বইমেলার আয়োজন।’

অনুষ্ঠানে একুশে বইমেলা সংগ্রাম পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক মফিজুর রহমানের সভাপতিত্বে আরও উপস্থিত ছিলেন, একুশে বইমেলা সংগ্রাম পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক ও সৃজনশীল বই প্রকাশক সমিতির সভাপতি সাঈদ বারী, সৃজনশীল বই প্রকাশক সমিতির সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হাসান, প্রকাশক সৈয়দ জাকির হোসেন প্রমুখ।

/টিই/