শিরোনাম

প্রতিদিন কতটা ক্যাফেইন গ্রহণ নিরাপদ

সিজেডএন ডেস্ক
সিজেডএন ডেস্ক
প্রতিদিন কতটা ক্যাফেইন গ্রহণ নিরাপদ
কফি পাউডার ও বিন

ঘুম ঘুম ভাব কাটাতে, শরীর-মন চাঙা রাখতে কিংবা কাজে মনোযোগ ধরে রাখতে অনেকেই চা, কফি, এনার্জি ড্রিংকের মতো ক্যাফেইনযুক্ত পানীয়ের ওপর নির্ভর করেন। তবে নিয়মিত ক্যাফেইন গ্রহণের ক্ষেত্রে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন আসে-প্রতিদিন কতটা ক্যাফেইন শরীরের জন্য নিরাপদ?

বিশেষজ্ঞদের মতে, সাধারণভাবে একজন সুস্থ প্রাপ্তবয়স্ক দিনে সর্বোচ্চ ৪০০ মিলিগ্রাম পর্যন্ত ক্যাফেইন গ্রহণ করতে পারেন। আনুমানিক হিসেবে এই পরিমাণ চার কাপ সাধারণ কফি, প্রায় ১০ ক্যান কোমল পানীয় কিংবা দুটি এনার্জি শটের সমান হতে পারে। তবে সব ধরনের পানীয়তে ক্যাফেইনের পরিমাণ এক নয়। তাই শুধু কত কাপ পান করা হচ্ছে, সেটি বিবেচনা না করে পানীয়টির ক্যাফেইনের মাত্রাও দেখা জরুরি।

ক্যাফেইন গ্রহণের ক্ষেত্রে বিশেষ সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে মার্কিন খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসন (এফডিএ)। বিশেষ করে গুঁড়া বা তরল ক্যাফেইন সরাসরি ব্যবহারে অতিরিক্ত মাত্রা গ্রহণের আশঙ্কা বেশি। অল্প পরিমাণ গুঁড়া ক্যাফেইনেও বিপুল মাত্রার ক্যাফেইন থাকতে পারে।

গর্ভবতী নারী, গর্ভধারণের পরিকল্পনা করছেন এমন নারী এবং সন্তানকে বুকের দুধ খাওয়াচ্ছেন-এ ধরনের ব্যক্তিদের ক্যাফেইন গ্রহণের পরিমাণ নিয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া ভালো। কারণ এ ক্ষেত্রে নিরাপদ মাত্রা ব্যক্তি ও পরিস্থিতিভেদে ভিন্ন হতে পারে।

অতিরিক্ত ক্যাফেইন সবার শরীরে একইভাবে প্রভাব ফেলে না। কেউ কেউ তুলনামূলক কম পরিমাণ ক্যাফেইন গ্রহণ করেও অস্বস্তিকর উপসর্গ অনুভব করতে পারেন। বিশেষ করে ক্যাফেইনের প্রতি অতিসংবেদনশীল ব্যক্তি কিংবা নির্দিষ্ট কিছু ওষুধ সেবনকারীদের বাড়তি সতর্ক থাকা প্রয়োজন।

ক্যাফেইন গ্রহণের পর যদি মাথাব্যথা, ঘুমের ব্যাঘাত, অস্থিরতা, মেজাজ খিটখিটে হয়ে যাওয়া, স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি প্রস্রাব হওয়া কিংবা প্রস্রাব নিয়ন্ত্রণে সমস্যা দেখা দেয়, তাহলে ক্যাফেইনের পরিমাণ কমিয়ে আনার কথা ভাবা যেতে পারে। বিশেষ করে নিয়মিতভাবে দিনে চার কাপের বেশি কফি পান করলে এসব লক্ষণকে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। আবার কিছু মানুষের ক্ষেত্রে অল্প ক্যাফেইনেই হৃদস্পন্দন বেড়ে যাওয়া, পেশিতে কাঁপুনি, শরীর কাঁপা কিংবা পেটে অস্বস্তির মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। এমন প্রতিক্রিয়া হলে নিজের সিদ্ধান্তে হঠাৎ করে কফি বা অন্য ক্যাফেইনযুক্ত পানীয় পুরোপুরি বাদ না দিয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই নিরাপদ।

পরিমিত পরিমাণ ক্যাফেইন বেশির ভাগ ওষুধের সঙ্গে সাধারণত বড় ধরনের সমস্যা তৈরি করে না। তবে এফেড্রিনযুক্ত ওষুধের সঙ্গে ক্যাফেইন গ্রহণের ক্ষেত্রে বিশেষ সতর্কতা প্রয়োজন। এ দুটির সম্মিলিত প্রভাবে কিছু মানুষের উচ্চ রক্তচাপ, হৃদযন্ত্রের জটিলতা, স্ট্রোক কিংবা খিঁচুনির ঝুঁকি বাড়তে পারে।

অন্যদিকে, দীর্ঘ সময় ধরে নিয়মিত ক্যাফেইন গ্রহণের পর হঠাৎ তা বন্ধ করলেও শরীরে কিছু পরিবর্তন দেখা দিতে পারে। একে ক্যাফেইন প্রত্যাহারজনিত উপসর্গ বলা হয়। এর মধ্যে মাথাব্যথা, অতিরিক্ত ক্লান্তি, খিটখিটে মেজাজ এবং কাজে মনোযোগ ধরে রাখতে সমস্যা উল্লেখযোগ্য। তবে বেশির ভাগ ক্ষেত্রে এসব সমস্যা গুরুতর হয় না এবং কয়েক দিনের মধ্যে ধীরে ধীরে কমে যায়। তাই ক্যাফেইনের অভ্যাস কমাতে চাইলে একেবারে হঠাৎ বন্ধ করার বদলে ধাপে ধাপে পরিমাণ কমানো ভালো। প্রতিদিনের কোমল পানীয় থেকে একটি ক্যান বাদ দেওয়া, বড় কাপের বদলে ছোট কাপে কফি পান করা কিংবা বিকাল ও সন্ধ্যার পর ক্যাফেইনযুক্ত পানীয় এড়িয়ে চলা-এ ধরনের ছোট পরিবর্তন দিয়ে শুরু করা যেতে পারে।

ধীরে ধীরে ক্যাফেইনের পরিমাণ কমালে শরীর নতুন মাত্রার সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার সময় পায়। ফলে হঠাৎ ক্যাফেইন বন্ধ করার কারণে যে মাথাব্যথা, ক্লান্তি বা মনোযোগের ঘাটতির মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে, সেগুলোর তীব্রতাও তুলনামূলকভাবে কম হতে পারে।

/এসবি/