শিরোনাম

হরমুজ প্রণালি খুলতে ট্রাম্পের ‘জোট’ গঠনের ডাক, ফ্রান্সের না

সিটিজেন ডেস্ক
হরমুজ প্রণালি খুলতে ট্রাম্পের ‘জোট’ গঠনের ডাক, ফ্রান্সের না
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরানের অবরোধ ভাঙতে বিভিন্ন দেশ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে মিলে যুদ্ধজাহাজ পাঠাবে। ছবি: সংগৃহীত

হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, হরমুজ প্রণালিতে ইরানের অবরোধ ভাঙতে বিভিন্ন দেশ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে মিলে যুদ্ধজাহাজ পাঠাবে। তবে ফ্রান্স স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে, তারা মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে কোনো যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন করছে না।

ইরানকে লক্ষ্য করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক হামলার পর শুরু হওয়া যুদ্ধের ১৫তম দিনেও হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ রয়েছে। বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও বিপুল পরিমাণ তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস এই জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে এই পরিস্থিতি বৈশ্বিক জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করেছে।

শনিবার ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে দাবি করেন, ইরানের অবরোধে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলো যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে মিলে প্রণালিটি নিরাপদ ও উন্মুক্ত রাখতে কাজ করবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন চীন, ফ্রান্স, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাজ্য এই উদ্যোগে যোগ দেবে।

ট্রাম্পের এই বক্তব্যের পরপরই ফ্রান্সের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে মধ্যপ্রাচ্যে ১০টি যুদ্ধজাহাজ মোতায়েনের প্রস্তুতি নেওয়ার খবর পুরোপুরি অস্বীকার করেছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে ফরাসি মন্ত্রণালয় স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, ‘না। বিমানবাহী রণতরী স্ট্রাইক গ্রুপ পূর্ব ভূমধ্যসাগরেই অবস্থান করছে। ফ্রান্সের অবস্থান অপরিবর্তিত। রক্ষণাত্মক, সুরক্ষামূলক।’

ফ্রান্সের এই অবস্থানের পর ট্রাম্পের কথিত ‘মিত্র জোট’ গঠনের দাবি বড় ধাক্কার মুখে পড়েছে।

এদিকে ট্রাম্প প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র প্রণালির তীরবর্তী এলাকায় বোমা হামলা চালাবে এবং ইরানি নৌকা ও জাহাজ দেখামাত্র গুলি করে ধ্বংস করবে।

ট্রাম্প দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সামরিক সক্ষমতার শতভাগ ধ্বংস করে দিয়েছে। যদিও তিনি স্বীকার করেন, ইরান এখনও ড্রোন, মাইন বা ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে জলপথে হামলা চালাতে সক্ষম।

ট্রাম্পের এই বক্তব্যের জবাবে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর নৌবাহিনী প্রধান আলিরেজা তাংসিরি বলেন, হরমুজ প্রণালি এখনো সামরিকভাবে সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি, বরং এটি কেবল নিয়ন্ত্রণে রাখা হয়েছে। তিনি ট্রাম্পের দাবি মিথ্যা বলে সমালোচনা করেন।

ইরান আরও জানিয়েছে, প্রণালিটি মূলত শত্রু দেশ ও তাদের মিত্রদের জাহাজের জন্য বন্ধ। ইরানের সুপ্রিম লিডারের ঘনিষ্ঠ প্রভাবশালী সংস্থা এক্সপেডিয়েন্সি ডিসার্নমেন্ট কাউন্সিলের সদস্য মহসেন রেজাই বলেন, ‘কোনো আমেরিকান জাহাজের উপসাগরে প্রবেশের অধিকার নেই।’ তবে ভারত ও তুরস্কের সঙ্গে সরাসরি আলোচনার পর তাদের কয়েকটি জাহাজকে বিশেষ ছাড় দিয়ে নিরাপদে প্রণালি অতিক্রমের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

কিংস কলেজ, লন্ডনের নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ আন্দ্রেয়াস ক্রিগ বলেছেন, ট্রাম্পের জোট গঠনের ডাক আসলে হরমুজ প্রণালি বন্ধের সমস্যা সমাধানের কোনো বড় পরিকল্পনার অভাব ঢাকার চেষ্টা।

তিনি আরও বলেন, প্রণালিটি পুনরায় খুলে দেওয়ার জন্য দ্রুত কোনো সামরিক সমাধান নেই, কারণ বিমা কোম্পানিগুলোকে (শিপিং ঝুঁকি নেওয়া থেকে) দূরে রাখার জন্য ইরানকে কেবল মাঝেমধ্যে হামলা চালিয়ে গেলেই চলবে।

বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, প্রণালিটি দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ, সার উৎপাদন এবং খাদ্য নিরাপত্তা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। ফলে পরিস্থিতি দ্রুত সমাধান না হলে বিশ্বজুড়ে অর্থনৈতিক ও মানবিক সংকট আরও গভীর হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

সূত্র: আল জাজিরা

/জেএইচ/