মোজতবা খামেনি সেদিন বাগানে হাঁটতে গিয়ে প্রাণে বেঁচে যান

মোজতবা খামেনি সেদিন বাগানে হাঁটতে গিয়ে প্রাণে বেঁচে যান
সিটিজেন ডেস্ক

ইরানে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি হামলা শুরু করে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র। ইসরায়েলের অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে নিমিষেই নিহত হন দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি ও তার পরিবারের কয়েকজন সদস্য। তবে প্রাণে বেঁচে যান তার দ্বিতীয় ছেলে এবং দেশের বর্তমান নেতা মোজতবা খামেনি।
ইরানের রাজধানী তেহরানে আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির কম্পাউন্ডে এ হামলার ঘটনা ঘটে, যেটা একইসঙ্গে তার আবাস ও কর্মস্থল। তীব্র হামলার মাঝেও প্রাণে বেঁচে যান মোজতবা খামেনি। সেদিনের সেই শ্বাসরুদ্ধকর ঘটনা নিয়ে সোমবার (১৬ মার্চ) একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফ।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানার কয়েক মিনিট আগে দৈবক্রমে ঘর থেকে বের হয়ে বাগানে হাঁটতে গিয়েছিলেন মোজতবা খামেনি।
ফাঁস হওয়া একটি অডিও ফাইলের ভিত্তিতে এ প্রতিবেদন তৈরি করেছে দ্য টেলিগ্রাফ। অডিওতে আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির কার্যালয়ের প্রটোকল প্রধান মাজাহের হোসেইনি কথা বলেন।
অডিওতে মাজাহের হোসেইনি জানান, হামলা শুরুর ঠিক আগে ‘কিছু একটা করার জন্য’ কক্ষ থেকে বের হয়ে যান মোজতবা খামেনি। এর কিছুক্ষণ পরই, স্থানীয় সময় সকাল ৯টা বেজে ৩২ মিনিটে ইসরায়েলের ‘ব্লু স্প্যারো’ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র তার বাড়িতে আঘাত হানে।

হোসেইনি বলেন, সরাসরি হামলার শিকার না হলেও পায়ে আঘাত পান মোজতবা খামেনি। হামলায় তাৎক্ষণিকভাবে তার স্ত্রী ও সন্তান নিহত হয়। তার শ্যালকের মাথা দেহ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
তিনি আরও বলেন, খামেনির সামরিক ব্যুরোর প্রধান মোহাম্মদ সিরাজি এই হামলায় ‘ছিন্নভিন্ন হয়ে যান’। পরবর্তীতে তার মরদেহ শনাক্ত করার জন্য শুধু কয়েক কেজি মাংস অবশিষ্ট ছিল।
১২ মার্চ তেহরানের কিয়োলহাক মহল্লায় মাজাহের হোসেইনির সঙ্গে ধর্মীয় নেতা ও আইআরজিসির কমান্ডারদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানেই এসব কথা বলেন জ্যেষ্ঠ খামেনির প্রটোকল প্রধান।

তেহরানে বাবার সঙ্গে একই কম্পাউন্ডে বসবাস করতেন মোজতবা। সেখানে আলি খামেনির অন্য সন্তানদের ঘর ও বক্তব্য দেওয়ার জন্য বড় একটি হল আছে। ২৮ ফেব্রুয়ারি খামেনি ও জ্যেষ্ঠ নিরাপত্তা কর্মকর্তারা সেখানে বৈঠকে বসেছিলেন। এসময় কম্পাউন্ডে ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে।
হামলায় আলি খামেনির পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি নিহত হন আইআরজিসি প্রধান মোহাম্মদ পাকপৌর ও ইরানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী আজিজ নাসিরজাদেহ।
মাজাহের হোসেইনি বলেন, সৃষ্টিকর্তার ইচ্ছায় মোজতবা কিছু একটা করার জন্য বাগানে গিয়েছিলেন এবং আবার ফিরে এসেছিলেন। যখন ভবনে ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত করে, তিনি তখন বাইরে থেকে ফিরে সিঁড়ি দিয়ে উপরে উঠছিলেন। তার স্ত্রী হাদ্দাদ তাৎক্ষণিকভাবে নিহত হন। মোজতবা পায়ে সামান্য আঘাত পেয়েছেন।
অডিওর বর্ণনা অনুযায়ী, একইসঙ্গে অফিস কমপ্লেক্সের একাধিক অবস্থানে হামলা চালায় ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র। তাদের উদ্দেশ্য ছিল এক ধাক্কায় পুরো খামেনি পরিবারকে নিশ্চিহ্ন করা।

ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রকে ‘শয়তান’ আখ্যা দিয়ে হোসেইনি জানান, আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি যেখানে ছিলেন, সে জায়গায় তিনটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে। ওপরের তলায় মোজতবার ঘরে হামলা হয়। পাশাপাশি, এর ঠিক নিচে মোজতবা খামেনির শ্যালক মিসবাহ আল-হুদা বাঘেরি কানি ও তার ভাই মোস্তাফার খামেনির ঘরেও হামলা হয়।
তিনি আরও বলেন, ক্ষেপণাস্ত্রটি এতোটাই শক্তিশালী ছিল যে এর আঘাতে নিচের তলার একটি কক্ষে অবস্থানরত মিসবাহর মাথা শরীর থেকে আলাদা হয়ে যায়। মোস্তাফা খামেনি ও তার স্ত্রীর ঘর সামান্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়। অক্ষত অবস্থায় সেখান থেকে তারা বের হয়ে আসেন।
আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মৃত্যুর পর মোজতবা খামেনিকে নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে বেছে নেয় দেশটির বিশেষজ্ঞ পরিষদ। গত ৯ মার্চ নিয়োগ পাওয়ার পর একবারও তিনি জনসমক্ষে আসেননি। এমনকী, সংঘাত শুরুর পর খামেনির অন্য সন্তানদের কাছ থেকেও কোনো বার্তা আসেনি।
জনসমক্ষে না এসে একটি লিখিত বার্তা পাঠান মোজতবা খামেনি। ১৩ মার্চ রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে ওই বার্তা পড়ে শোনানো হয়।
মোজতবা খামেনির এই ‘অনুপস্থিতি’ নানা জল্পনা-কল্পনার জন্ম দেয়। এমনকী, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও মত দেন, ইরান যতটুকু স্বীকার করছে, তার চেয়েও মোজতবা খামেনির আঘাত গুরুতর।
এমন সময় এই অডিও ফাঁস হলো যখন মোজতবা খামেনির আঘাতের ধরন ও তার নেতৃত্ব দেওয়ার সক্ষমতা নিয়ে পশ্চিমা গণমাধ্যমে প্রশ্ন তোলা হচ্ছে। সোমবার (১৬ মার্চ) ট্রাম্প বলেন, আমরা জানি না তিনি বেঁচে আছেন না মারা গেছেন।
মার্কিন গোয়েন্দাদের বিশ্লেষণ মতে, আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি চাননি মোজতবা খামেনি তার উত্তরসূরি হোক। তিনি তাকে ‘খুব বেশি প্রতিভাবান নয়’ এবং ‘নেতা হওয়ার অযোগ্য’ আখ্যা দেন।
তবে গোয়েন্দাদের এই দাবি সত্য হোক বা না হোক, বাস্তবতা এটাই যে মোজতবা খামেনিই এখন ইরানকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। তবে তিনি আদৌ সুস্থ আছেন কি না, এ প্রশ্নের জবাব এখনো পাওয়া যায়নি।

ইরানে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি হামলা শুরু করে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র। ইসরায়েলের অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে নিমিষেই নিহত হন দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি ও তার পরিবারের কয়েকজন সদস্য। তবে প্রাণে বেঁচে যান তার দ্বিতীয় ছেলে এবং দেশের বর্তমান নেতা মোজতবা খামেনি।
ইরানের রাজধানী তেহরানে আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির কম্পাউন্ডে এ হামলার ঘটনা ঘটে, যেটা একইসঙ্গে তার আবাস ও কর্মস্থল। তীব্র হামলার মাঝেও প্রাণে বেঁচে যান মোজতবা খামেনি। সেদিনের সেই শ্বাসরুদ্ধকর ঘটনা নিয়ে সোমবার (১৬ মার্চ) একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফ।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানার কয়েক মিনিট আগে দৈবক্রমে ঘর থেকে বের হয়ে বাগানে হাঁটতে গিয়েছিলেন মোজতবা খামেনি।
ফাঁস হওয়া একটি অডিও ফাইলের ভিত্তিতে এ প্রতিবেদন তৈরি করেছে দ্য টেলিগ্রাফ। অডিওতে আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির কার্যালয়ের প্রটোকল প্রধান মাজাহের হোসেইনি কথা বলেন।
অডিওতে মাজাহের হোসেইনি জানান, হামলা শুরুর ঠিক আগে ‘কিছু একটা করার জন্য’ কক্ষ থেকে বের হয়ে যান মোজতবা খামেনি। এর কিছুক্ষণ পরই, স্থানীয় সময় সকাল ৯টা বেজে ৩২ মিনিটে ইসরায়েলের ‘ব্লু স্প্যারো’ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র তার বাড়িতে আঘাত হানে।

হোসেইনি বলেন, সরাসরি হামলার শিকার না হলেও পায়ে আঘাত পান মোজতবা খামেনি। হামলায় তাৎক্ষণিকভাবে তার স্ত্রী ও সন্তান নিহত হয়। তার শ্যালকের মাথা দেহ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
তিনি আরও বলেন, খামেনির সামরিক ব্যুরোর প্রধান মোহাম্মদ সিরাজি এই হামলায় ‘ছিন্নভিন্ন হয়ে যান’। পরবর্তীতে তার মরদেহ শনাক্ত করার জন্য শুধু কয়েক কেজি মাংস অবশিষ্ট ছিল।
১২ মার্চ তেহরানের কিয়োলহাক মহল্লায় মাজাহের হোসেইনির সঙ্গে ধর্মীয় নেতা ও আইআরজিসির কমান্ডারদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানেই এসব কথা বলেন জ্যেষ্ঠ খামেনির প্রটোকল প্রধান।

তেহরানে বাবার সঙ্গে একই কম্পাউন্ডে বসবাস করতেন মোজতবা। সেখানে আলি খামেনির অন্য সন্তানদের ঘর ও বক্তব্য দেওয়ার জন্য বড় একটি হল আছে। ২৮ ফেব্রুয়ারি খামেনি ও জ্যেষ্ঠ নিরাপত্তা কর্মকর্তারা সেখানে বৈঠকে বসেছিলেন। এসময় কম্পাউন্ডে ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে।
হামলায় আলি খামেনির পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি নিহত হন আইআরজিসি প্রধান মোহাম্মদ পাকপৌর ও ইরানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী আজিজ নাসিরজাদেহ।
মাজাহের হোসেইনি বলেন, সৃষ্টিকর্তার ইচ্ছায় মোজতবা কিছু একটা করার জন্য বাগানে গিয়েছিলেন এবং আবার ফিরে এসেছিলেন। যখন ভবনে ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত করে, তিনি তখন বাইরে থেকে ফিরে সিঁড়ি দিয়ে উপরে উঠছিলেন। তার স্ত্রী হাদ্দাদ তাৎক্ষণিকভাবে নিহত হন। মোজতবা পায়ে সামান্য আঘাত পেয়েছেন।
অডিওর বর্ণনা অনুযায়ী, একইসঙ্গে অফিস কমপ্লেক্সের একাধিক অবস্থানে হামলা চালায় ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র। তাদের উদ্দেশ্য ছিল এক ধাক্কায় পুরো খামেনি পরিবারকে নিশ্চিহ্ন করা।

ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রকে ‘শয়তান’ আখ্যা দিয়ে হোসেইনি জানান, আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি যেখানে ছিলেন, সে জায়গায় তিনটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে। ওপরের তলায় মোজতবার ঘরে হামলা হয়। পাশাপাশি, এর ঠিক নিচে মোজতবা খামেনির শ্যালক মিসবাহ আল-হুদা বাঘেরি কানি ও তার ভাই মোস্তাফার খামেনির ঘরেও হামলা হয়।
তিনি আরও বলেন, ক্ষেপণাস্ত্রটি এতোটাই শক্তিশালী ছিল যে এর আঘাতে নিচের তলার একটি কক্ষে অবস্থানরত মিসবাহর মাথা শরীর থেকে আলাদা হয়ে যায়। মোস্তাফা খামেনি ও তার স্ত্রীর ঘর সামান্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়। অক্ষত অবস্থায় সেখান থেকে তারা বের হয়ে আসেন।
আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মৃত্যুর পর মোজতবা খামেনিকে নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে বেছে নেয় দেশটির বিশেষজ্ঞ পরিষদ। গত ৯ মার্চ নিয়োগ পাওয়ার পর একবারও তিনি জনসমক্ষে আসেননি। এমনকী, সংঘাত শুরুর পর খামেনির অন্য সন্তানদের কাছ থেকেও কোনো বার্তা আসেনি।
জনসমক্ষে না এসে একটি লিখিত বার্তা পাঠান মোজতবা খামেনি। ১৩ মার্চ রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে ওই বার্তা পড়ে শোনানো হয়।
মোজতবা খামেনির এই ‘অনুপস্থিতি’ নানা জল্পনা-কল্পনার জন্ম দেয়। এমনকী, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও মত দেন, ইরান যতটুকু স্বীকার করছে, তার চেয়েও মোজতবা খামেনির আঘাত গুরুতর।
এমন সময় এই অডিও ফাঁস হলো যখন মোজতবা খামেনির আঘাতের ধরন ও তার নেতৃত্ব দেওয়ার সক্ষমতা নিয়ে পশ্চিমা গণমাধ্যমে প্রশ্ন তোলা হচ্ছে। সোমবার (১৬ মার্চ) ট্রাম্প বলেন, আমরা জানি না তিনি বেঁচে আছেন না মারা গেছেন।
মার্কিন গোয়েন্দাদের বিশ্লেষণ মতে, আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি চাননি মোজতবা খামেনি তার উত্তরসূরি হোক। তিনি তাকে ‘খুব বেশি প্রতিভাবান নয়’ এবং ‘নেতা হওয়ার অযোগ্য’ আখ্যা দেন।
তবে গোয়েন্দাদের এই দাবি সত্য হোক বা না হোক, বাস্তবতা এটাই যে মোজতবা খামেনিই এখন ইরানকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। তবে তিনি আদৌ সুস্থ আছেন কি না, এ প্রশ্নের জবাব এখনো পাওয়া যায়নি।

মোজতবা খামেনি সেদিন বাগানে হাঁটতে গিয়ে প্রাণে বেঁচে যান
সিটিজেন ডেস্ক

ইরানে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি হামলা শুরু করে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র। ইসরায়েলের অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে নিমিষেই নিহত হন দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি ও তার পরিবারের কয়েকজন সদস্য। তবে প্রাণে বেঁচে যান তার দ্বিতীয় ছেলে এবং দেশের বর্তমান নেতা মোজতবা খামেনি।
ইরানের রাজধানী তেহরানে আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির কম্পাউন্ডে এ হামলার ঘটনা ঘটে, যেটা একইসঙ্গে তার আবাস ও কর্মস্থল। তীব্র হামলার মাঝেও প্রাণে বেঁচে যান মোজতবা খামেনি। সেদিনের সেই শ্বাসরুদ্ধকর ঘটনা নিয়ে সোমবার (১৬ মার্চ) একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফ।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানার কয়েক মিনিট আগে দৈবক্রমে ঘর থেকে বের হয়ে বাগানে হাঁটতে গিয়েছিলেন মোজতবা খামেনি।
ফাঁস হওয়া একটি অডিও ফাইলের ভিত্তিতে এ প্রতিবেদন তৈরি করেছে দ্য টেলিগ্রাফ। অডিওতে আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির কার্যালয়ের প্রটোকল প্রধান মাজাহের হোসেইনি কথা বলেন।
অডিওতে মাজাহের হোসেইনি জানান, হামলা শুরুর ঠিক আগে ‘কিছু একটা করার জন্য’ কক্ষ থেকে বের হয়ে যান মোজতবা খামেনি। এর কিছুক্ষণ পরই, স্থানীয় সময় সকাল ৯টা বেজে ৩২ মিনিটে ইসরায়েলের ‘ব্লু স্প্যারো’ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র তার বাড়িতে আঘাত হানে।

হোসেইনি বলেন, সরাসরি হামলার শিকার না হলেও পায়ে আঘাত পান মোজতবা খামেনি। হামলায় তাৎক্ষণিকভাবে তার স্ত্রী ও সন্তান নিহত হয়। তার শ্যালকের মাথা দেহ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
তিনি আরও বলেন, খামেনির সামরিক ব্যুরোর প্রধান মোহাম্মদ সিরাজি এই হামলায় ‘ছিন্নভিন্ন হয়ে যান’। পরবর্তীতে তার মরদেহ শনাক্ত করার জন্য শুধু কয়েক কেজি মাংস অবশিষ্ট ছিল।
১২ মার্চ তেহরানের কিয়োলহাক মহল্লায় মাজাহের হোসেইনির সঙ্গে ধর্মীয় নেতা ও আইআরজিসির কমান্ডারদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানেই এসব কথা বলেন জ্যেষ্ঠ খামেনির প্রটোকল প্রধান।

তেহরানে বাবার সঙ্গে একই কম্পাউন্ডে বসবাস করতেন মোজতবা। সেখানে আলি খামেনির অন্য সন্তানদের ঘর ও বক্তব্য দেওয়ার জন্য বড় একটি হল আছে। ২৮ ফেব্রুয়ারি খামেনি ও জ্যেষ্ঠ নিরাপত্তা কর্মকর্তারা সেখানে বৈঠকে বসেছিলেন। এসময় কম্পাউন্ডে ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে।
হামলায় আলি খামেনির পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি নিহত হন আইআরজিসি প্রধান মোহাম্মদ পাকপৌর ও ইরানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী আজিজ নাসিরজাদেহ।
মাজাহের হোসেইনি বলেন, সৃষ্টিকর্তার ইচ্ছায় মোজতবা কিছু একটা করার জন্য বাগানে গিয়েছিলেন এবং আবার ফিরে এসেছিলেন। যখন ভবনে ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত করে, তিনি তখন বাইরে থেকে ফিরে সিঁড়ি দিয়ে উপরে উঠছিলেন। তার স্ত্রী হাদ্দাদ তাৎক্ষণিকভাবে নিহত হন। মোজতবা পায়ে সামান্য আঘাত পেয়েছেন।
অডিওর বর্ণনা অনুযায়ী, একইসঙ্গে অফিস কমপ্লেক্সের একাধিক অবস্থানে হামলা চালায় ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র। তাদের উদ্দেশ্য ছিল এক ধাক্কায় পুরো খামেনি পরিবারকে নিশ্চিহ্ন করা।

ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রকে ‘শয়তান’ আখ্যা দিয়ে হোসেইনি জানান, আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি যেখানে ছিলেন, সে জায়গায় তিনটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে। ওপরের তলায় মোজতবার ঘরে হামলা হয়। পাশাপাশি, এর ঠিক নিচে মোজতবা খামেনির শ্যালক মিসবাহ আল-হুদা বাঘেরি কানি ও তার ভাই মোস্তাফার খামেনির ঘরেও হামলা হয়।
তিনি আরও বলেন, ক্ষেপণাস্ত্রটি এতোটাই শক্তিশালী ছিল যে এর আঘাতে নিচের তলার একটি কক্ষে অবস্থানরত মিসবাহর মাথা শরীর থেকে আলাদা হয়ে যায়। মোস্তাফা খামেনি ও তার স্ত্রীর ঘর সামান্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়। অক্ষত অবস্থায় সেখান থেকে তারা বের হয়ে আসেন।
আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মৃত্যুর পর মোজতবা খামেনিকে নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে বেছে নেয় দেশটির বিশেষজ্ঞ পরিষদ। গত ৯ মার্চ নিয়োগ পাওয়ার পর একবারও তিনি জনসমক্ষে আসেননি। এমনকী, সংঘাত শুরুর পর খামেনির অন্য সন্তানদের কাছ থেকেও কোনো বার্তা আসেনি।
জনসমক্ষে না এসে একটি লিখিত বার্তা পাঠান মোজতবা খামেনি। ১৩ মার্চ রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে ওই বার্তা পড়ে শোনানো হয়।
মোজতবা খামেনির এই ‘অনুপস্থিতি’ নানা জল্পনা-কল্পনার জন্ম দেয়। এমনকী, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও মত দেন, ইরান যতটুকু স্বীকার করছে, তার চেয়েও মোজতবা খামেনির আঘাত গুরুতর।
এমন সময় এই অডিও ফাঁস হলো যখন মোজতবা খামেনির আঘাতের ধরন ও তার নেতৃত্ব দেওয়ার সক্ষমতা নিয়ে পশ্চিমা গণমাধ্যমে প্রশ্ন তোলা হচ্ছে। সোমবার (১৬ মার্চ) ট্রাম্প বলেন, আমরা জানি না তিনি বেঁচে আছেন না মারা গেছেন।
মার্কিন গোয়েন্দাদের বিশ্লেষণ মতে, আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি চাননি মোজতবা খামেনি তার উত্তরসূরি হোক। তিনি তাকে ‘খুব বেশি প্রতিভাবান নয়’ এবং ‘নেতা হওয়ার অযোগ্য’ আখ্যা দেন।
তবে গোয়েন্দাদের এই দাবি সত্য হোক বা না হোক, বাস্তবতা এটাই যে মোজতবা খামেনিই এখন ইরানকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। তবে তিনি আদৌ সুস্থ আছেন কি না, এ প্রশ্নের জবাব এখনো পাওয়া যায়নি।




