শিরোনাম

যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ইরানের বিধ্বংসী যুদ্ধ পরিকল্পনা

যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ইরানের বিধ্বংসী যুদ্ধ পরিকল্পনা
ছবি: সংগৃহীত

পরমাণু চুক্তি ইস্যুতে ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের উত্তেজনা চরম আকার ধারণ করেছে। দুই দেশের মধ্যে আলোচনা ভেঙে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিলেও শেষ পর্যন্ত শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) ওমানে বৈঠকে বসতে রাজি হয়েছে উভয় পক্ষ। তবে বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) রাতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির ‘খুব চিন্তিত হওয়া উচিত’, যা নতুন করে উত্তেজনা বৃদ্ধির আশঙ্কা তৈরি করেছে।

এর মধ্যেই ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্ভাব্য যুদ্ধের একটি রূপরেখা প্রকাশ করেছে। যেখানে বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী সামরিক শক্তিকে কীভাবে মোকাবিলা করা হবে এবং বিশ্ব অর্থনীতিকে কীভাবে চাপে রাখা হবে তার বিস্তারিত তুলে ধরা হয়েছে। দেশটির প্রভাবশালী ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি) সংশ্লিষ্ট সংবাদ সংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সিতে প্রকাশিত এই পরিকল্পনায় ৫টি সুনির্দিষ্ট ধাপের কথা তুলে ধরা হয়েছে।

তেহরানের দাবি, তাদের এই কৌশল কেবল সামরিক নয় বরং বিশ্ব অর্থনীতিকে পঙ্গু করে দেওয়ার সক্ষমতা রাখে।

শুক্রবার ওমানে দুই দেশের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও তার আগেই এই রণকৌশল প্রকাশ করায় মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে চিন্তিত হওয়া উচিত বলে যুদ্ধের আশঙ্কা আরও উসকে দিয়েছেন।

ইরানের এই যুদ্ধ পরিকল্পনার প্রথম ধাপটি সম্ভাব্য মার্কিন বিমান হামলাকে ঘিরে সাজানো হয়েছে। দেশটির পারমাণবিক স্থাপনা ও গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে আমেরিকা যদি হামলা চালায়, তবে ইরান তা প্রতিহত করার চেয়ে বরং পাল্টা আঘাত হানার জন্য নিজেদের সক্ষমতা টিকিয়ে রাখাকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। তারা তাদের অধিকাংশ গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ মাটির গভীরে অত্যন্ত সুরক্ষিত বাঙ্কারে সরিয়ে নিয়েছে।

দ্বিতীয় ধাপে ইরান যুদ্ধের পরিধি নিজ ভূখণ্ডের বাইরে ছড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করেছে। এই পর্যায়ে কাতার, কুয়েত ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে শত শত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার রূপরেখা তৈরি করা হয়েছে। একইসঙ্গে লেবাননের হিজবুল্লাহ, ইয়েমেনের হুথি এবং ইরাকের শিয়া মিলিশিয়াদের সক্রিয় করে ইসরায়েলসহ যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রদের বিরুদ্ধে বহুমুখী হামলা চালানোর কথা ভাবছে তেহরান।

এই সংঘাতে সাইবার যুদ্ধকে তৃতীয় গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র হিসেবে দেখছে ইরান। যুক্তরাষ্ট্রের পরিবহন ব্যবস্থা, বিদ্যুৎ গ্রিড, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও সামরিক যোগাযোগ ব্যবস্থায় ধস নামিয়ে দিয়ে মার্কিনিদের মনোবল ভেঙে দেওয়াই তাদের মূল লক্ষ্য। তবে ইরানের সবচেয়ে বড় সুবিধা তাদের ভূ-রাজনৈতিক অবস্থান।

পরিকল্পনার চতুর্থ ধাপে ইরান বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি নৌপথ হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেওয়ার বিষয় রয়েছে। প্রতিদিন বৈশ্বিক তেল সরবরাহের প্রায় ২১ শতাংশ এই পথ দিয়ে হয়ে থাকে। ইরানের ধারণা, এই প্রণালী বন্ধ করা গেলে তেলের দাম প্রতি ব্যারেল ২০০ ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে, যা বিশ্ব অর্থনীতিতে মারাত্মক বিপর্যয় সৃষ্টি করবে। ইরানি কৌশলবিদদের মতে, এমন তীব্র অর্থনৈতিক চাপই শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রকে পিছু হটতে বাধ্য করবে।

পরিকল্পনার শেষ বা পঞ্চম ধাপে ইরান দীর্ঘস্থায়ী মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধের ছক কষেছে। তাদের বিশ্বাস, আফগানিস্তান ও ইরাক যুদ্ধের তিক্ত অভিজ্ঞতার পর মার্কিন জনতা বা প্রশাসন কোনো দীর্ঘমেয়াদী এবং ব্যয়বহুল যুদ্ধে জড়িয়ে থাকতে চাইবে না। যদিও আমেরিকার অত্যাধুনিক সামরিক প্রযুক্তির সামনে ইরানের টিকে থাকা কঠিন। তবুও তেহরানের মূল লক্ষ্য হলো এই যুদ্ধকে এতটাই ব্যয়বহুল ও ঝুঁকিপূর্ণ করে তোলা যেন ওয়াশিংটন শেষ পর্যন্ত আলোচনার টেবিলে ফিরতে বাধ্য হয়।

সূত্র: দ্য টেলিগ্রাফ

/জেএইচ/