শিরোনাম

কবে স্বাভাবিক হবে হরমুজ প্রণালি

সিটিজেন ডেস্ক
কবে স্বাভাবিক হবে হরমুজ প্রণালি
হরমুজ প্রণালীতে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস কর্তৃক জাহাজ জব্দ করার দৃশ্য। সূত্র: আল জাজিরা

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে প্রায় দুই মাস আগে শুরু হওয়া সংঘাতের পর থেকে হরমুজ প্রণালি কার্যত বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য একটি বড় প্রতিবন্ধকে পরিণত হয়েছে। স্বভাবিক সময়ে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ অপরিশোধিত তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হলেও বর্তমানে এর কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত।

উপসাগরীয় তেল ও গ্যাস উৎপাদনকারী অঞ্চলগুলোর সঙ্গে উন্মুক্ত সমুদ্রের সংযোগ স্থাপনকারী এই সংকীর্ণ পথটি প্রায় অচল হয়ে পড়ায় এর প্রভাব বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে। সরবরাহ শৃঙ্খলে বিঘ্ন এবং জ্বালানি বাজারে অস্থিরতার কারণে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দার আশঙ্কাও বাড়ছে।

বর্তমানে উপসাগরীয় এলাকায় প্রায় ২ হাজার বাণিজ্যিক জাহাজ আটকা পড়ে আছে, যারা প্রণালি দিয়ে চলাচলের অনুমতির অপেক্ষায় রয়েছে। এমনকি প্রণালিটি আনুষ্ঠানিকভাবে খুলে দেওয়া হলেও স্বাভাবিক নৌচলাচল দ্রুত ফিরে আসবে না বলেই ধারণা করা হচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের মতে, ইরানের পেতে রাখা সামুদ্রিক মাইন অপসারণ করতে অন্তত ছয় মাস সময় লাগতে পারে। এই দীর্ঘ সময়ের ঝুঁকি বিবেচনায় নিয়েই মার্চ মাসে বিভিন্ন সামুদ্রিক বীমা প্রতিষ্ঠান হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজগুলোর জন্য ‘যুদ্ধ ঝুঁকি’ বীমা সুবিধা বাতিল করে দেয়।

বিশ্লেষকদের মতে, নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ পুরোপুরি ‘নিরাপদ’ হয়ে উঠবে না। ফলে জ্বালানি সরবরাহ, বাণিজ্য এবং বৈশ্বিক অর্থনীতির ওপর এর প্রভাব আরও কিছু সময় থাকতে পারে।

সূত্র: আল জাজিরা

/এমআর/