শিরোনাম

ব্যাটিং ব্যর্থতায় প্রথম টি-টোয়েন্টিতে হারলো বাংলাদেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
ব্যাটিং ব্যর্থতায় প্রথম টি-টোয়েন্টিতে হারলো বাংলাদেশ
উইকেট হারিয়ে মাঠ ছাড়ছেন তাওহীদ হৃদয়।

ব্যাটিং ব্যর্থতায় অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম টি-টোয়েন্টিতে পেরে উঠল না বাংলাদেশ। বাংলাদেশের দেওয়া ১৩২ রানের জবাব দিতে নেমে ৬ উইকেট হারিয়ে ১০ বল হাতে রেখে লক্ষ্যে পৌঁছে যায় অস্ট্রেলিয়া। ৪ উইকেটের জয়ে তিন ম্যাচ টি-টোয়েন্টি সিরিজে অস্ট্রেলিয়া ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে।

বুধবার (১৭ জুন) চট্টগ্রামে টসে জিতে শুরুতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন নতুন টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক তাওহীদ হৃদয়। কিন্তু উইকেট পতনের মিছিলে ইনিংসটা বড় করতে পারেননি টাইগাররা। শেখ মেহেদীর অপরাজিত ২৯ রানে ১৯ ওভারে সব উইকেট হারিয়ে ১৩১ করে বাংলাদেশ। ছোট লক্ষ্যের জবাবে ১০ বল ও ৪ উইকেট হাতে নিয়ে জয় নিশ্চিত করে সফরকারীরা।

ব্যাট হাতে অস্ট্রেলিয়ার শুরুটা তেমন একটা আশাব্যঞ্জক ছিল না। মাত্র ১৩ রানের মাথায় অস্ট্রেলিয়ার ওয়ানডে অধিনায়কে জশ ইংলিসকে প্যাভিলিয়নে ফেরত পাঠান পেসার শরিফুল। তবে উইকেট হারালেও রানের গতি বাড়াতে থাকে অজি ব্যাটাররা। পঞ্চম ওভারে মোস্তাফিজের বলে মিচেল মার্শ আউট হলেও পাওয়ার প্লেতে ৪৭ রান তুলে শক্ত ভিত গড়েন সফরকারীরা।

এদিকে, ওয়ানডে সিরিজের ফর্মটা যেন টি-টোয়েন্টিতেও টেনে এনেছেন কুপার কনোলি। সবশেষ ওয়ানডেতে সেঞ্চুরি হাঁকানো এই ব্যাটার প্রথম টি-টোয়েন্টিতে করেছেন ২৭ বলে ৪৭ রান। ফিফটি না পেলেও দলের জয়ে তার বড় অবদান। তবে বাঁহাতি এই ব্যাটারকে আউট করে উইকেট শিকারের যাত্রা শুরু করেন আবদুল গাফফার সাকলাইন।

এক ওভারের ব্যবধানে টিম ডেভিডকে ফাঁদে ফেলে লং অনে ক্যাচ বানান শেখ মেহেদী। এরপর অভিষিক্ত নিখিল চৌধুরীকে রিশাদ এবং মন্থর গতির ব্যাটিং করা রেনশোকে ফেরান সাকলাইন। তবে এসব উইকেট কেবল ব্যবধানই কমিয়েছে। শেষ পর্যন্ত ১০ বল ও ৪ উইকেট হাতে রেখেই টি-টোয়েন্টি সিরিজের প্রথম ম্যাচে জিতেছে অস্ট্রেলিয়া। বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ দুটি উইকেট নেন সাকলাইন। একটি করে উইকেট শিকার করেন শরিফুল ইসলাম, মোস্তাফিজুর রহমান, শেখ মেহেদী এবং রিশাদ হোসেন।

এর আগে, তাওহীদ হৃদয়ের নেতৃত্বের শুরুটা ভালো হয়নি বাংলাদেশের। দলীয় ২৬ রানের মাথায় ওপেনার তানজিদ হাসান তামিমের বিদায়ের মাধ্যমে ভাঙন ধরে বাংলাদেশের উদ্বোধনী জুটিতে। ৯ বলে ১০ রান করে তামিম ক্যাচ দিয়ে ফেরার পর ওয়ানডের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে টি-টোয়েন্টিতেও ব্যর্থ হন আরেক ওপেনার সাইফ হাসান। স্পিন বোলার রেনশোর বলে মুখস্থ শট খেলতে গিয়ে মিডঅফে সহজ ক্যাচ দেন ১৪ বলে ২০ রান করা এই ব্যাটার।

দুই ওপেনার বিদায় নিলে মাঠে নামেন বাংলাদেশের ১৩তম টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক তাওহীদ হৃদয়। প্রথম বলেই ছক্কা হাঁকিয়ে নেতৃত্বের দুর্দান্ত সূচনা করলেও ইনিংসটি দীর্ঘায়িত করতে পারেননি তিনি। অ্যাডাম জাম্পার গুগলিতে বোল্ড হন মাত্র ৮ রানে। হৃদয়ের বিদায়ের পর জাম্পার বলেই প্যাভিলিয়নের পথ ধরেন ১৮ বলে ১৭ রান করা সৌম্য সরকার। এরপর ক্রিজে এসে দ্রুত রান তোলার চেষ্টায় ডিপ মিডউইকেটে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন পারভেজ হোসেন ইমন। মাত্র ৭৫ রানে ৫ উইকেট হারানোর পর শামীম পাটোয়ারীও দায়িত্বহীন শটে আউট হলে ৭৮ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে ১০০ রানের নিচে অলআউট হওয়ার শঙ্কায় পড়ে বাংলাদেশ।

বিপর্যয়ের এ মুহূর্তে অভিষেক ম্যাচ খেলতে নামা অলরাউন্ডার সাকলাইন একটি ছক্কা মেরে কিছুটা প্রতিরোধের আভাস দিয়েছিলেন। তবে ১০ বলে ১০ রান করে তিনিও সাজঘরে ফিরলে ভেঙে পড়ে লোয়ার অর্ডার। এরপর রিশাদ হোসেন মাত্র ৩ রান করে ডাগআউটে ফিরলে ১০০ রানের আগেই ৮ উইকেট হারিয়ে বসে টাইগাররা। শেষ পর্যন্ত লোয়ার অর্ডার ব্যাটারদের কল্যাণে নির্ধারিত ওভারের কিছু আগেই ১৩১ রানে থামে বাংলাদেশের ইনিংস।

/এসবি/