ইরান যুদ্ধ যেভাবে ডেমোক্র্যাটদের জয়ের পথ সহজ করল

ইরান যুদ্ধ যেভাবে ডেমোক্র্যাটদের জয়ের পথ সহজ করল
সিটিজেন জার্নাল ডেস্ক

ট্রাম্পের লক্ষ্য ছিল ইরানকে নতজানু করা। কিন্তু পাল্টা পদক্ষেপে তেহরান যুদ্ধের অর্থনৈতিক চাপ পৌঁছে দিয়েছে সাধারণ আমেরিকানদের ঘরে ঘরে। এতে ক্ষোভ বেড়েছে ট্রাম্প ও তার দলের বিরুদ্ধে।
মধ্যবর্তী নির্বাচনে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষমতাসীন রিপাবলিকান পার্টিকে বড় ব্যবধানে হারিয়ে সিনেট ও প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে ডেমোক্র্যাটরা। এই জয়ের পেছনে ইরান যুদ্ধ বড় ভূমিকা রেখেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। তবে শুধু যুদ্ধের ব্যর্থতাই নয়, যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি, অর্থনৈতিক সংকট এবং সরকারের বিভিন্ন নীতির প্রতি মানুষের অসন্তোষও নির্বাচনের ফলাফলে প্রভাব ফেলেছে।
আমেরিকান ইউনিভার্সিটি অব বৈরুতের জননীতি ফেলো এবং ওয়াশিংটন ডিসির আরব সেন্টারের জ্যেষ্ঠ অনাবাসিক ফেলো রামি জি খৌরি আল–জাজিরায় প্রকাশিত এক বিশ্লেষণে এসব বিষয় তুলে ধরেছেন।
ট্রাম্প প্রশাসন ধারণা করেছিল, ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালিয়ে দেশটির সামরিক সক্ষমতা ধ্বংস করা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে তেহরানকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের শর্ত মেনে নিতে বাধ্য করা যাবে। কিন্তু বাস্তবে তেমনটি হয়নি। ইরান পাল্টা হামলা চালিয়ে নিজেদের অবস্থান ধরে রাখে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে হামলা চালিয়ে যুদ্ধের খরচ বাড়িয়ে দেয়।
এর প্রভাব পড়ে যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ মানুষের জীবনেও। জ্বালানি থেকে শুরু করে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বেড়ে যায়। এতে যুদ্ধের প্রতি মানুষের অসন্তোষ আরও বাড়ে।
যুদ্ধের অর্থনৈতিক চাপ পৌঁছে যায় সাধারণ মানুষের ঘরে
ইরান যুদ্ধের সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়ে হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ দিয়ে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি ও পণ্য পরিবহন করা হয়। ইরান এই পথে জাহাজ চলাচলে বাধা সৃষ্টি করায় আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটে।
এর প্রভাব পড়ে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারেও। পেট্রল, ডিজেল, খাদ্যপণ্য, ভ্রমণ এবং আমদানিনির্ভর বিভিন্ন পণ্যের দাম বেড়ে যায়। ফলে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়ে। নির্বাচনের আগে পরিচালিত জরিপে প্রায় ৯০ শতাংশ ভোটার জানিয়েছেন, ভোট দেওয়ার সিদ্ধান্তে জীবনযাত্রার ব্যয় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
অন্যদিকে ইরানের পাল্টা হামলায় আরব উপদ্বীপ ও জর্ডানে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটিগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়। কিছু ঘাঁটি অকার্যকর হয়ে পড়ে বা সেখান থেকে সেনা সরিয়ে নিতে হয়। পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশের জ্বালানি ও পরিবহন অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এর প্রভাব পড়ে বিশ্ববাজারে জ্বালানির সরবরাহ ও দামে।
অর্থাৎ ইরানকে দুর্বল করতে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদেরও বড় ধরনের অর্থনৈতিক ক্ষতির মুখে পড়তে হয়। যুদ্ধের এই চাপ শেষ পর্যন্ত সাধারণ আমেরিকানদের জীবনযাত্রাকে কঠিন করে তোলে।
ট্রাম্পের যুদ্ধনীতি নিয়ে অসন্তোষ
ইরানকে আত্মসমর্পণে বাধ্য করতে না পারার পাশাপাশি যুদ্ধ নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের সিদ্ধান্তও ভোটারদের ক্ষুব্ধ করেছে। বিশ্লেষক রামি জি খৌরি এ ক্ষেত্রে কয়েকটি বিষয় তুলে ধরেছেন।
প্রথমত, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরুর আগে সাধারণ মানুষের মতামতকে গুরুত্ব দেননি ট্রাম্প। একই সঙ্গে যুদ্ধের জন্য কংগ্রেসের অনুমোদন নেওয়ার সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতাও উপেক্ষা করেছেন বলে সমালোচনা রয়েছে।
নির্বাচনের পর প্রকাশিত সিবিএসের এক্সিট পোলেও দেখা যায়, যুদ্ধের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে ভোটারদের মধ্যে অসন্তোষ ছিল। অর্থনীতির ওপর এর নেতিবাচক প্রভাব নিয়েও তারা উদ্বিগ্ন ছিলেন। ২০২৪ সালের নির্বাচনে ট্রাম্প বিদেশে অপ্রয়োজনীয় যুদ্ধ বন্ধ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। কিন্তু ইরানে সামরিক অভিযান চালানোর সিদ্ধান্ত তার সেই প্রতিশ্রুতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে মনে করেছেন অনেক ভোটার।
দ্বিতীয়ত, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধের পেছনে ট্রাম্পের সুস্পষ্ট কোনো কৌশলগত পরিকল্পনা ছিল না বলে মনে করেন বিশ্লেষকেরা। তিনি দাবি করেছিলেন, ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি থেকে বিরত রাখতেই এই অভিযান। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের বিভিন্ন মূল্যায়নে ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির আসন্ন কোনো উদ্যোগের প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে নিবন্ধে উল্লেখ করা হয়েছে।
তৃতীয়ত, ইসরায়েলের প্ররোচনায় ট্রাম্প এই যুদ্ধে জড়িয়েছেন, এমন ধারণাও অনেক আমেরিকানের মধ্যে তৈরি হয়। এতে তাদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ে। তাদের প্রশ্ন ছিল, যুক্তরাষ্ট্রের বিপুল সামরিক শক্তি ব্যবহারের পরও কেন যুদ্ধের ঘোষিত লক্ষ্য অর্জিত হলো না? আরেকটি দেশের স্বার্থে কেন আমেরিকান পরিবারগুলোকে অর্থনৈতিক ক্ষতির মুখে পড়তে হবে?
বিশ্লেষকের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের মতো শক্তিশালী একটি দেশ কীভাবে ইসরায়েলের মতো মিত্রের প্রভাবে এমন একটি যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ল, তা নিয়েও ভোটারদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়।

আগে থেকেই জমে ছিল ক্ষোভ
তবে ডেমোক্র্যাটদের বিজয়ের পেছনে শুধু ইরান যুদ্ধই দায়ী নয়। যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতি ও অর্থনীতি নিয়ে মানুষের মধ্যে আগে থেকেই নানা অসন্তোষ ছিল। যুদ্ধ সেই ক্ষোভকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ওয়াশিংটনের দুর্নীতি, ধনী ব্যবসায়ী ও রাজনৈতিক প্রভাবশালীদের বাড়তি সুবিধা এবং করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোর মুনাফাকেন্দ্রিক কর্মকাণ্ড নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ রয়েছে। সামরিক ও প্রযুক্তি খাতের প্রভাব, অভিবাসনবিরোধী পুলিশের কঠোর অভিযান এবং সংবাদমাধ্যমের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
অনেক ভোটারের ধারণা, সরকার ও প্রভাবশালী প্রতিষ্ঠানগুলো সাধারণ মানুষের স্বার্থের চেয়ে নিজেদের স্বার্থকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। ফলে ইরান যুদ্ধের অর্থনৈতিক চাপ এসব অসন্তোষকে আরও তীব্র করে তোলে।
ভ্যান্সের স্বীকারোক্তি ও ইসরায়েল প্রসঙ্গ
নির্বাচনে হারের পর ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, ‘আমরা যুদ্ধের কারণে হেরেছি।’ তিনি রিপাবলিকানদের কাছ থেকে মুখ ফিরিয়ে নেওয়া ভোটারদের অসন্তোষের চারটি কারণও তুলে ধরেন। সেগুলো হলো যুদ্ধ বন্ধ করা, জীবনযাত্রার ব্যয় ও মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে মনোযোগ দেওয়া, আমেরিকার স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়া এবং ইসরায়েলের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক পুনর্বিবেচনা করা।
বিশ্লেষকের মতে, এবারের নির্বাচনে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল ফিলিস্তিনে ইসরায়েলের সামরিক অভিযান এবং তাতে যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন। বিশেষ করে তরুণ ও প্রগতিশীল ডেমোক্র্যাটদের নির্বাচনী প্রচারে এই বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে।
দীর্ঘদিন ধরে মধ্যপ্রাচ্য নীতিতে ইসরায়েলের প্রভাব নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে আলোচনা থাকলেও এবারের নির্বাচনে বিষয়টি আরও স্পষ্টভাবে সামনে এসেছে। ভ্যান্সের বক্তব্যেও ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক পরিবর্তনের প্রসঙ্গ উঠে এসেছে।
নির্বাচনের দিন ট্রাম্পও ইসরায়েলকে দেওয়া প্রায় ৪০০ কোটি ডলারের মার্কিন সামরিক সহায়তা বন্ধ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। তবে বিশ্লেষক রামি জি খৌরির মতে, ভোটারদের প্রভাবিত করতেই ট্রাম্প এমন প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। এতে সহায়তা বন্ধ হওয়ার বদলে অর্থ দেওয়ার পদ্ধতিতে পরিবর্তন আসত।
সব মিলিয়ে এবারের মধ্যবর্তী নির্বাচন শুধু যুদ্ধের পক্ষে বা বিপক্ষে ভোট দেওয়ার বিষয় ছিল না। অর্থনৈতিক চাপ, জীবনযাত্রার ব্যয়, সরকারের নীতি, রাজনৈতিক দুর্নীতি এবং মধ্যপ্রাচ্য নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান, সবকিছুই ভোটারদের সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলেছে।
ট্রাম্প ইরানকে সামরিকভাবে পরাস্ত করে নিজের অবস্থান শক্ত করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু যুদ্ধের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক মূল্য শেষ পর্যন্ত তার দলকেই দিতে হয়েছে। বিশ্লেষকের মতে, এই পরিস্থিতিই ডেমোক্র্যাটদের নির্বাচনী জয়ের পথ অনেকটা সহজ করে দিয়েছে।

ট্রাম্পের লক্ষ্য ছিল ইরানকে নতজানু করা। কিন্তু পাল্টা পদক্ষেপে তেহরান যুদ্ধের অর্থনৈতিক চাপ পৌঁছে দিয়েছে সাধারণ আমেরিকানদের ঘরে ঘরে। এতে ক্ষোভ বেড়েছে ট্রাম্প ও তার দলের বিরুদ্ধে।
মধ্যবর্তী নির্বাচনে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষমতাসীন রিপাবলিকান পার্টিকে বড় ব্যবধানে হারিয়ে সিনেট ও প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে ডেমোক্র্যাটরা। এই জয়ের পেছনে ইরান যুদ্ধ বড় ভূমিকা রেখেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। তবে শুধু যুদ্ধের ব্যর্থতাই নয়, যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি, অর্থনৈতিক সংকট এবং সরকারের বিভিন্ন নীতির প্রতি মানুষের অসন্তোষও নির্বাচনের ফলাফলে প্রভাব ফেলেছে।
আমেরিকান ইউনিভার্সিটি অব বৈরুতের জননীতি ফেলো এবং ওয়াশিংটন ডিসির আরব সেন্টারের জ্যেষ্ঠ অনাবাসিক ফেলো রামি জি খৌরি আল–জাজিরায় প্রকাশিত এক বিশ্লেষণে এসব বিষয় তুলে ধরেছেন।
ট্রাম্প প্রশাসন ধারণা করেছিল, ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালিয়ে দেশটির সামরিক সক্ষমতা ধ্বংস করা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে তেহরানকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের শর্ত মেনে নিতে বাধ্য করা যাবে। কিন্তু বাস্তবে তেমনটি হয়নি। ইরান পাল্টা হামলা চালিয়ে নিজেদের অবস্থান ধরে রাখে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে হামলা চালিয়ে যুদ্ধের খরচ বাড়িয়ে দেয়।
এর প্রভাব পড়ে যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ মানুষের জীবনেও। জ্বালানি থেকে শুরু করে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বেড়ে যায়। এতে যুদ্ধের প্রতি মানুষের অসন্তোষ আরও বাড়ে।
যুদ্ধের অর্থনৈতিক চাপ পৌঁছে যায় সাধারণ মানুষের ঘরে
ইরান যুদ্ধের সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়ে হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ দিয়ে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি ও পণ্য পরিবহন করা হয়। ইরান এই পথে জাহাজ চলাচলে বাধা সৃষ্টি করায় আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটে।
এর প্রভাব পড়ে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারেও। পেট্রল, ডিজেল, খাদ্যপণ্য, ভ্রমণ এবং আমদানিনির্ভর বিভিন্ন পণ্যের দাম বেড়ে যায়। ফলে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়ে। নির্বাচনের আগে পরিচালিত জরিপে প্রায় ৯০ শতাংশ ভোটার জানিয়েছেন, ভোট দেওয়ার সিদ্ধান্তে জীবনযাত্রার ব্যয় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
অন্যদিকে ইরানের পাল্টা হামলায় আরব উপদ্বীপ ও জর্ডানে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটিগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়। কিছু ঘাঁটি অকার্যকর হয়ে পড়ে বা সেখান থেকে সেনা সরিয়ে নিতে হয়। পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশের জ্বালানি ও পরিবহন অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এর প্রভাব পড়ে বিশ্ববাজারে জ্বালানির সরবরাহ ও দামে।
অর্থাৎ ইরানকে দুর্বল করতে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদেরও বড় ধরনের অর্থনৈতিক ক্ষতির মুখে পড়তে হয়। যুদ্ধের এই চাপ শেষ পর্যন্ত সাধারণ আমেরিকানদের জীবনযাত্রাকে কঠিন করে তোলে।
ট্রাম্পের যুদ্ধনীতি নিয়ে অসন্তোষ
ইরানকে আত্মসমর্পণে বাধ্য করতে না পারার পাশাপাশি যুদ্ধ নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের সিদ্ধান্তও ভোটারদের ক্ষুব্ধ করেছে। বিশ্লেষক রামি জি খৌরি এ ক্ষেত্রে কয়েকটি বিষয় তুলে ধরেছেন।
প্রথমত, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরুর আগে সাধারণ মানুষের মতামতকে গুরুত্ব দেননি ট্রাম্প। একই সঙ্গে যুদ্ধের জন্য কংগ্রেসের অনুমোদন নেওয়ার সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতাও উপেক্ষা করেছেন বলে সমালোচনা রয়েছে।
নির্বাচনের পর প্রকাশিত সিবিএসের এক্সিট পোলেও দেখা যায়, যুদ্ধের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে ভোটারদের মধ্যে অসন্তোষ ছিল। অর্থনীতির ওপর এর নেতিবাচক প্রভাব নিয়েও তারা উদ্বিগ্ন ছিলেন। ২০২৪ সালের নির্বাচনে ট্রাম্প বিদেশে অপ্রয়োজনীয় যুদ্ধ বন্ধ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। কিন্তু ইরানে সামরিক অভিযান চালানোর সিদ্ধান্ত তার সেই প্রতিশ্রুতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে মনে করেছেন অনেক ভোটার।
দ্বিতীয়ত, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধের পেছনে ট্রাম্পের সুস্পষ্ট কোনো কৌশলগত পরিকল্পনা ছিল না বলে মনে করেন বিশ্লেষকেরা। তিনি দাবি করেছিলেন, ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি থেকে বিরত রাখতেই এই অভিযান। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের বিভিন্ন মূল্যায়নে ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির আসন্ন কোনো উদ্যোগের প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে নিবন্ধে উল্লেখ করা হয়েছে।
তৃতীয়ত, ইসরায়েলের প্ররোচনায় ট্রাম্প এই যুদ্ধে জড়িয়েছেন, এমন ধারণাও অনেক আমেরিকানের মধ্যে তৈরি হয়। এতে তাদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ে। তাদের প্রশ্ন ছিল, যুক্তরাষ্ট্রের বিপুল সামরিক শক্তি ব্যবহারের পরও কেন যুদ্ধের ঘোষিত লক্ষ্য অর্জিত হলো না? আরেকটি দেশের স্বার্থে কেন আমেরিকান পরিবারগুলোকে অর্থনৈতিক ক্ষতির মুখে পড়তে হবে?
বিশ্লেষকের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের মতো শক্তিশালী একটি দেশ কীভাবে ইসরায়েলের মতো মিত্রের প্রভাবে এমন একটি যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ল, তা নিয়েও ভোটারদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়।

আগে থেকেই জমে ছিল ক্ষোভ
তবে ডেমোক্র্যাটদের বিজয়ের পেছনে শুধু ইরান যুদ্ধই দায়ী নয়। যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতি ও অর্থনীতি নিয়ে মানুষের মধ্যে আগে থেকেই নানা অসন্তোষ ছিল। যুদ্ধ সেই ক্ষোভকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ওয়াশিংটনের দুর্নীতি, ধনী ব্যবসায়ী ও রাজনৈতিক প্রভাবশালীদের বাড়তি সুবিধা এবং করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোর মুনাফাকেন্দ্রিক কর্মকাণ্ড নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ রয়েছে। সামরিক ও প্রযুক্তি খাতের প্রভাব, অভিবাসনবিরোধী পুলিশের কঠোর অভিযান এবং সংবাদমাধ্যমের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
অনেক ভোটারের ধারণা, সরকার ও প্রভাবশালী প্রতিষ্ঠানগুলো সাধারণ মানুষের স্বার্থের চেয়ে নিজেদের স্বার্থকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। ফলে ইরান যুদ্ধের অর্থনৈতিক চাপ এসব অসন্তোষকে আরও তীব্র করে তোলে।
ভ্যান্সের স্বীকারোক্তি ও ইসরায়েল প্রসঙ্গ
নির্বাচনে হারের পর ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, ‘আমরা যুদ্ধের কারণে হেরেছি।’ তিনি রিপাবলিকানদের কাছ থেকে মুখ ফিরিয়ে নেওয়া ভোটারদের অসন্তোষের চারটি কারণও তুলে ধরেন। সেগুলো হলো যুদ্ধ বন্ধ করা, জীবনযাত্রার ব্যয় ও মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে মনোযোগ দেওয়া, আমেরিকার স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়া এবং ইসরায়েলের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক পুনর্বিবেচনা করা।
বিশ্লেষকের মতে, এবারের নির্বাচনে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল ফিলিস্তিনে ইসরায়েলের সামরিক অভিযান এবং তাতে যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন। বিশেষ করে তরুণ ও প্রগতিশীল ডেমোক্র্যাটদের নির্বাচনী প্রচারে এই বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে।
দীর্ঘদিন ধরে মধ্যপ্রাচ্য নীতিতে ইসরায়েলের প্রভাব নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে আলোচনা থাকলেও এবারের নির্বাচনে বিষয়টি আরও স্পষ্টভাবে সামনে এসেছে। ভ্যান্সের বক্তব্যেও ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক পরিবর্তনের প্রসঙ্গ উঠে এসেছে।
নির্বাচনের দিন ট্রাম্পও ইসরায়েলকে দেওয়া প্রায় ৪০০ কোটি ডলারের মার্কিন সামরিক সহায়তা বন্ধ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। তবে বিশ্লেষক রামি জি খৌরির মতে, ভোটারদের প্রভাবিত করতেই ট্রাম্প এমন প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। এতে সহায়তা বন্ধ হওয়ার বদলে অর্থ দেওয়ার পদ্ধতিতে পরিবর্তন আসত।
সব মিলিয়ে এবারের মধ্যবর্তী নির্বাচন শুধু যুদ্ধের পক্ষে বা বিপক্ষে ভোট দেওয়ার বিষয় ছিল না। অর্থনৈতিক চাপ, জীবনযাত্রার ব্যয়, সরকারের নীতি, রাজনৈতিক দুর্নীতি এবং মধ্যপ্রাচ্য নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান, সবকিছুই ভোটারদের সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলেছে।
ট্রাম্প ইরানকে সামরিকভাবে পরাস্ত করে নিজের অবস্থান শক্ত করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু যুদ্ধের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক মূল্য শেষ পর্যন্ত তার দলকেই দিতে হয়েছে। বিশ্লেষকের মতে, এই পরিস্থিতিই ডেমোক্র্যাটদের নির্বাচনী জয়ের পথ অনেকটা সহজ করে দিয়েছে।

ইরান যুদ্ধ যেভাবে ডেমোক্র্যাটদের জয়ের পথ সহজ করল
সিটিজেন জার্নাল ডেস্ক

ট্রাম্পের লক্ষ্য ছিল ইরানকে নতজানু করা। কিন্তু পাল্টা পদক্ষেপে তেহরান যুদ্ধের অর্থনৈতিক চাপ পৌঁছে দিয়েছে সাধারণ আমেরিকানদের ঘরে ঘরে। এতে ক্ষোভ বেড়েছে ট্রাম্প ও তার দলের বিরুদ্ধে।
মধ্যবর্তী নির্বাচনে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষমতাসীন রিপাবলিকান পার্টিকে বড় ব্যবধানে হারিয়ে সিনেট ও প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে ডেমোক্র্যাটরা। এই জয়ের পেছনে ইরান যুদ্ধ বড় ভূমিকা রেখেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। তবে শুধু যুদ্ধের ব্যর্থতাই নয়, যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি, অর্থনৈতিক সংকট এবং সরকারের বিভিন্ন নীতির প্রতি মানুষের অসন্তোষও নির্বাচনের ফলাফলে প্রভাব ফেলেছে।
আমেরিকান ইউনিভার্সিটি অব বৈরুতের জননীতি ফেলো এবং ওয়াশিংটন ডিসির আরব সেন্টারের জ্যেষ্ঠ অনাবাসিক ফেলো রামি জি খৌরি আল–জাজিরায় প্রকাশিত এক বিশ্লেষণে এসব বিষয় তুলে ধরেছেন।
ট্রাম্প প্রশাসন ধারণা করেছিল, ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালিয়ে দেশটির সামরিক সক্ষমতা ধ্বংস করা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে তেহরানকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের শর্ত মেনে নিতে বাধ্য করা যাবে। কিন্তু বাস্তবে তেমনটি হয়নি। ইরান পাল্টা হামলা চালিয়ে নিজেদের অবস্থান ধরে রাখে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে হামলা চালিয়ে যুদ্ধের খরচ বাড়িয়ে দেয়।
এর প্রভাব পড়ে যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ মানুষের জীবনেও। জ্বালানি থেকে শুরু করে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বেড়ে যায়। এতে যুদ্ধের প্রতি মানুষের অসন্তোষ আরও বাড়ে।
যুদ্ধের অর্থনৈতিক চাপ পৌঁছে যায় সাধারণ মানুষের ঘরে
ইরান যুদ্ধের সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়ে হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ দিয়ে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি ও পণ্য পরিবহন করা হয়। ইরান এই পথে জাহাজ চলাচলে বাধা সৃষ্টি করায় আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটে।
এর প্রভাব পড়ে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারেও। পেট্রল, ডিজেল, খাদ্যপণ্য, ভ্রমণ এবং আমদানিনির্ভর বিভিন্ন পণ্যের দাম বেড়ে যায়। ফলে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়ে। নির্বাচনের আগে পরিচালিত জরিপে প্রায় ৯০ শতাংশ ভোটার জানিয়েছেন, ভোট দেওয়ার সিদ্ধান্তে জীবনযাত্রার ব্যয় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
অন্যদিকে ইরানের পাল্টা হামলায় আরব উপদ্বীপ ও জর্ডানে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটিগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়। কিছু ঘাঁটি অকার্যকর হয়ে পড়ে বা সেখান থেকে সেনা সরিয়ে নিতে হয়। পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশের জ্বালানি ও পরিবহন অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এর প্রভাব পড়ে বিশ্ববাজারে জ্বালানির সরবরাহ ও দামে।
অর্থাৎ ইরানকে দুর্বল করতে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদেরও বড় ধরনের অর্থনৈতিক ক্ষতির মুখে পড়তে হয়। যুদ্ধের এই চাপ শেষ পর্যন্ত সাধারণ আমেরিকানদের জীবনযাত্রাকে কঠিন করে তোলে।
ট্রাম্পের যুদ্ধনীতি নিয়ে অসন্তোষ
ইরানকে আত্মসমর্পণে বাধ্য করতে না পারার পাশাপাশি যুদ্ধ নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের সিদ্ধান্তও ভোটারদের ক্ষুব্ধ করেছে। বিশ্লেষক রামি জি খৌরি এ ক্ষেত্রে কয়েকটি বিষয় তুলে ধরেছেন।
প্রথমত, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরুর আগে সাধারণ মানুষের মতামতকে গুরুত্ব দেননি ট্রাম্প। একই সঙ্গে যুদ্ধের জন্য কংগ্রেসের অনুমোদন নেওয়ার সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতাও উপেক্ষা করেছেন বলে সমালোচনা রয়েছে।
নির্বাচনের পর প্রকাশিত সিবিএসের এক্সিট পোলেও দেখা যায়, যুদ্ধের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে ভোটারদের মধ্যে অসন্তোষ ছিল। অর্থনীতির ওপর এর নেতিবাচক প্রভাব নিয়েও তারা উদ্বিগ্ন ছিলেন। ২০২৪ সালের নির্বাচনে ট্রাম্প বিদেশে অপ্রয়োজনীয় যুদ্ধ বন্ধ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। কিন্তু ইরানে সামরিক অভিযান চালানোর সিদ্ধান্ত তার সেই প্রতিশ্রুতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে মনে করেছেন অনেক ভোটার।
দ্বিতীয়ত, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধের পেছনে ট্রাম্পের সুস্পষ্ট কোনো কৌশলগত পরিকল্পনা ছিল না বলে মনে করেন বিশ্লেষকেরা। তিনি দাবি করেছিলেন, ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি থেকে বিরত রাখতেই এই অভিযান। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের বিভিন্ন মূল্যায়নে ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির আসন্ন কোনো উদ্যোগের প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে নিবন্ধে উল্লেখ করা হয়েছে।
তৃতীয়ত, ইসরায়েলের প্ররোচনায় ট্রাম্প এই যুদ্ধে জড়িয়েছেন, এমন ধারণাও অনেক আমেরিকানের মধ্যে তৈরি হয়। এতে তাদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ে। তাদের প্রশ্ন ছিল, যুক্তরাষ্ট্রের বিপুল সামরিক শক্তি ব্যবহারের পরও কেন যুদ্ধের ঘোষিত লক্ষ্য অর্জিত হলো না? আরেকটি দেশের স্বার্থে কেন আমেরিকান পরিবারগুলোকে অর্থনৈতিক ক্ষতির মুখে পড়তে হবে?
বিশ্লেষকের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের মতো শক্তিশালী একটি দেশ কীভাবে ইসরায়েলের মতো মিত্রের প্রভাবে এমন একটি যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ল, তা নিয়েও ভোটারদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়।

আগে থেকেই জমে ছিল ক্ষোভ
তবে ডেমোক্র্যাটদের বিজয়ের পেছনে শুধু ইরান যুদ্ধই দায়ী নয়। যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতি ও অর্থনীতি নিয়ে মানুষের মধ্যে আগে থেকেই নানা অসন্তোষ ছিল। যুদ্ধ সেই ক্ষোভকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ওয়াশিংটনের দুর্নীতি, ধনী ব্যবসায়ী ও রাজনৈতিক প্রভাবশালীদের বাড়তি সুবিধা এবং করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোর মুনাফাকেন্দ্রিক কর্মকাণ্ড নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ রয়েছে। সামরিক ও প্রযুক্তি খাতের প্রভাব, অভিবাসনবিরোধী পুলিশের কঠোর অভিযান এবং সংবাদমাধ্যমের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
অনেক ভোটারের ধারণা, সরকার ও প্রভাবশালী প্রতিষ্ঠানগুলো সাধারণ মানুষের স্বার্থের চেয়ে নিজেদের স্বার্থকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। ফলে ইরান যুদ্ধের অর্থনৈতিক চাপ এসব অসন্তোষকে আরও তীব্র করে তোলে।
ভ্যান্সের স্বীকারোক্তি ও ইসরায়েল প্রসঙ্গ
নির্বাচনে হারের পর ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, ‘আমরা যুদ্ধের কারণে হেরেছি।’ তিনি রিপাবলিকানদের কাছ থেকে মুখ ফিরিয়ে নেওয়া ভোটারদের অসন্তোষের চারটি কারণও তুলে ধরেন। সেগুলো হলো যুদ্ধ বন্ধ করা, জীবনযাত্রার ব্যয় ও মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে মনোযোগ দেওয়া, আমেরিকার স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়া এবং ইসরায়েলের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক পুনর্বিবেচনা করা।
বিশ্লেষকের মতে, এবারের নির্বাচনে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল ফিলিস্তিনে ইসরায়েলের সামরিক অভিযান এবং তাতে যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন। বিশেষ করে তরুণ ও প্রগতিশীল ডেমোক্র্যাটদের নির্বাচনী প্রচারে এই বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে।
দীর্ঘদিন ধরে মধ্যপ্রাচ্য নীতিতে ইসরায়েলের প্রভাব নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে আলোচনা থাকলেও এবারের নির্বাচনে বিষয়টি আরও স্পষ্টভাবে সামনে এসেছে। ভ্যান্সের বক্তব্যেও ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক পরিবর্তনের প্রসঙ্গ উঠে এসেছে।
নির্বাচনের দিন ট্রাম্পও ইসরায়েলকে দেওয়া প্রায় ৪০০ কোটি ডলারের মার্কিন সামরিক সহায়তা বন্ধ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। তবে বিশ্লেষক রামি জি খৌরির মতে, ভোটারদের প্রভাবিত করতেই ট্রাম্প এমন প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। এতে সহায়তা বন্ধ হওয়ার বদলে অর্থ দেওয়ার পদ্ধতিতে পরিবর্তন আসত।
সব মিলিয়ে এবারের মধ্যবর্তী নির্বাচন শুধু যুদ্ধের পক্ষে বা বিপক্ষে ভোট দেওয়ার বিষয় ছিল না। অর্থনৈতিক চাপ, জীবনযাত্রার ব্যয়, সরকারের নীতি, রাজনৈতিক দুর্নীতি এবং মধ্যপ্রাচ্য নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান, সবকিছুই ভোটারদের সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলেছে।
ট্রাম্প ইরানকে সামরিকভাবে পরাস্ত করে নিজের অবস্থান শক্ত করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু যুদ্ধের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক মূল্য শেষ পর্যন্ত তার দলকেই দিতে হয়েছে। বিশ্লেষকের মতে, এই পরিস্থিতিই ডেমোক্র্যাটদের নির্বাচনী জয়ের পথ অনেকটা সহজ করে দিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন কেন গুরুত্বপূর্ণ
যুক্তরাষ্ট্রে ইতিহাস গড়লেন আবদুল এল-সায়েদ







